ٱلَّذِينَ جَعَلُواْ ٱلۡقُرۡءَانَ عِضِينَ

আল্লাযীনা জা‘আলুল কুরআ-না ‘ইদীন।উচ্চারণ

যারা নিজেদের কুরআনকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলে। ৫২ তাফহীমুল কুরআন

যারা (তাদের) পাঠ্য কিতাবকে খন্ড-বিখণ্ড করেছিল। #%৩৪%#মুফতী তাকী উসমানী

যারা কুরআনকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করেছে।মুজিবুর রহমান

যারা কোরআনকে খন্ড খন্ড করেছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা কুরআনকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যারা কুরআনকে বিভিন্ন অংশে ভাগ করেছিল।*আল-বায়ান

যারা কুরআনকে (নিজেদের খেয়াল খুশিমত) ভাগ ভাগ করে ফেলেছে (যেটা ইচ্ছে মানছে, যেটা ইচ্ছে অমান্য করছে)।তাইসিরুল

যারা কুরআনকে করে ছিন্নভিন্ন।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫২

সেই বিভক্তকারী দল বলতে এখানে ইহুদীদেরকে বুঝানো হয়েছে। তাদেরকে বিভক্তকারী এ অর্থে বলা হয়েছে যে, তারা আল্লাহর দ্বীনকে বিভক্ত করে ফেলেছে। তার কিছু কথা মেনে নিয়েছে এবং কিছু কথা মেনে নেয়নি। এছাড়া তার মধ্যে বিভিন্ন প্রকার কাটছাঁট ও পরিবর্তন-পরিবর্ধন করে অসংখ্য ফের্কার জন্ম দিয়েছে। তাদের “কুরআন” বলতে তাওরাতকে বুঝানো হয়েছে। এ কিতাবটি তাদেরকে ঠিক তেমনিভাবে দেওয়া হয়েছিল যেমন উম্মতে মুহাম্মাদীয়াকে কুরআন দেয়া হয়। আর এ কুরআনকে খণ্ড বিখণ্ড করে ফেলার কথা বলে ঠিক এমন ধরনের একটি কর্মের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে যেমন সূরা আল বাকারার ৮৫ আয়াতে বলা হয়েছেঃ

أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ

তোমরা কি আল্লাহর কিতাবের কিছু কথা মেনে নেবে এবং কিছু কথা অস্বীকার করবে?

তারপর যে কথা বলা হয়েছে যে, তোমাদেরকে আজ এই যে সতর্ক করা হচ্ছে এটা ঠিক তেমনি ধরনের সতর্কীকরণ যেমন ইতিপূর্বে ইহুদীদেরকে করা হয়েছিল, -----মূলত ইহুদীদের অবস্থা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করানোই এর উদ্দেশ্য এবং ইহুদীরা আল্লাহর পাঠানো সতর্ক সংকেত থেকে গাফেল থাকার ফলে যে পরিণামের সম্মুখীন হয়েছে তা তোমাদের চোখের সামনে রয়েছে। এখন ভেবে দেখো, তোমরাও কি এই একই পরিণাম দেখতে চাও?

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এর দ্বারা ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদেরকে বোঝানো হয়েছে। তারা তাদের কিতাবকে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলেছিল। অর্থাৎ, কিতাবের যে বিধান তাদের ইচ্ছামত হত তা মানত এবং যে বিধান ইচ্ছামত হত না, তা অমান্য করত।

তাফসীরে জাকারিয়া

৯১. যারা কুরআনকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করেছে।(১)

(১) عضين শব্দের অর্থ করা হয়েছে, বিভক্ত। শব্দটির অন্য অর্থঃ জাদু, গল্প। (বাগভী) এ অর্থের সমর্থনে সীরাত গ্রন্থে এসেছে যে, ওয়ালীদ ইবনে মুগীরাহ কুরাইশের এক সমাবেশে হাজির হয়ে বললঃ হজ্জের মওসুম শুরু হয়ে গেছে। চতুর্দিক থেকে মানুষ এখন তোমাদের কাছে আসবে। এদিকে তোমাদের সাথী (মুহাম্মদ) সম্পর্কে তারা জেনে গেছে। তাই তোমরা তার ব্যাপারে একজোট হয়ে একটি মত পোষণ কর। তারা বললঃ তুমিই বল। সে বললঃ তোমরাই বল। তখন তারা বললঃ আমরা বলব সে গণক। তখন সে বললঃ সে গণক নয়।

তখন তারা বললঃ আমরা বলব সে পাগল। সে বললঃ না, সে তো পাগল নয়। তারা বললঃ আমরা বলব সে কবি। সে বলল, না সে কবিও নয়। তারা বললঃ আমরা বলব সে যাদুকর। সে বললঃ না, সে যাদুকরও নয়। তখন তারা বললঃ তাহলে আমরা কি বলব? সে বললঃ আল্লাহর শপথ তার কথায় আছে মাধুর্য, তোমরা যা-ই বল না কেন বুঝা যাবে যে তোমাদের কথাই বাতিল। তবে তার কথা যাদুকরের কাছাকাছি। এ কথার উপরই সবাই সেখান থেকে চলে গেল। আর এদিকে আল্লাহ তা'আলা তাদের সম্পর্কে নাযিল করলেনঃ “যারা কুরআন সম্পর্কে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়েছে, কাজেই শপথ আপনার রবের! আমরা তাদের সবাইকে প্রশ্ন করবই, সে বিষয়ে, যা তারা করে।” (বাগভী; সীরাতে ইবনে হিশাম)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৯১) যারা কুরআনকে বিভিন্নভাবে বিভক্ত করেছে।