وَإِنَّهَا لَبِسَبِيلٖ مُّقِيمٍ

ওয়া ইন্নাহা-লাবিছাবীলিম মুকীম।উচ্চারণ

আর সেই এলাকাটি (যেখানে এটা ঘটেছিল) লোক চলাচলের পথের পাশে অবস্থিত। ৪২ তাফহীমুল কুরআন

এ জনপদটি এমন এক পথের উপর অবস্থিত, যাতে সর্বদা লোক চলাচল রয়েছে। #%২৭%#মুফতী তাকী উসমানী

ওটা লোক চলাচলের পথপার্শ্বে এখনও বিদ্যমান।মুজিবুর রহমান

জনপদটি সোজা পথে অবস্থিত রয়েছে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তা তো লোক চলাচলের পথিপার্শ্বে এখনও বিদ্যমান। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর নিশ্চয়ই তা পথের পাশেই বিদ্যমান ।আল-বায়ান

এটি মানুষের চলাচল পথের পাশেই বিদ্যমান।তাইসিরুল

আর নিঃসন্দেহ এটি একটি সড়কের উপরে অবস্থিত।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪২

অর্থাৎ হেজায থেকে সিরিয়া এবং ইরাক থেকে মিসর যাবার পথে এই ধ্বংসপ্রাপ্ত এলাকাটি পড়ে। সাধারণত বাণিজ্য যাত্রীদল এ ধ্বংসের নিদর্শনগুলো দেখে থাকে। আজও সমগ্র এলাকা জুড়ে এ ধ্বংসাবশেষগুলো ছড়িয়ে আছে। এ এলাকাটির অবস্থান লূত সাগরের (Dead sea) পূর্বে ও দক্ষিণে। বিশেষ করে এর দক্ষিণ অংশ সম্পর্কে ভূগোলবিদগণের বর্ণনা হচ্ছে, এ এলাকাটি এতবেশী বিধ্বস্ত যার নজীর দুনিয়ার আর কোথাও পাওয়া যায় না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

হযরত লূত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় জর্ডানের মৃত সাগরের আশেপাশে বাস করত। আরবের লোক যখন শামের সফর করত, তখন তাদের যাতায়াত পথে সে সম্প্রদায়ের ধ্বংসাবশেষ পড়ত।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭৬. আর নিশ্চয় তা লোক চলাচলের পথের পাশেই বিদ্যমান।(১)

(১) এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা সেসব জনপদের অবস্থা বর্ণনা করেছেন। (لَبِسَبِيلٍ مُقِيمٍ) শব্দটির কয়েকটি অর্থ হতে পারে। এক. মুজাহিদ ও দাহহাক বলেন, এর অর্থ চিহ্নিত জনপদে পরিণত হয়েছে। কাতাদা বলেন, স্পষ্ট পথে। কাতাদা থেকে অপর বর্ণনায় এসেছে, যমীনের এক প্রান্তে। (ইবন কাসীর) ইবনে কাসীর আরও বলেন, এই সাদূম জনপদটিতে যে বিপদ ঘটে গেছে, যে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীন পরিবর্তন ঘটেছে, পাথর নিক্ষিপ্ত হয়েছে, এমনকি শেষ পর্যন্ত তা পচা দুৰ্গন্ধময় খারাপ সাগরে পরিণত হয়েছে, যা আজও একই অবস্থায় বিদ্যমান। যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “তোমরা তো তাদের ধ্বংসাবশেষগুলো অতিক্রম করে থাক সকালে ও সন্ধ্যায়। তবুও কি তোমরা বোঝ না?” (সূরা আস-সাফফাত: ১৩৭–১৩৮) কারণ, আরব থেকে সিরিয়া যাওয়ার পথে এ জনপদ অবস্থিত। আল্লাহ তা'আলা আরও বলেন, এগুলোতে চক্ষুষ্মান ব্যক্তিদের জন্য আল্লাহ তা'আলার অপার শক্তির বিরাট নিদর্শনাবলী রয়েছে। অন্য এক আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা এসব জনপদ সম্পর্কে আরো বলেছেন যে, (لَمْ تُسْكَن مِّن بَعْدِهِمْ إِلَّا قَلِيلًا) অর্থাৎ এসব জনপদ আল্লাহর আযাবের ফলে জনশূন্য হওয়ার পর সামান্য কিছু ছাড়া বাকীগুলো পুনর্বার আবাদ হয়নি। (সূরা কাসাসঃ ৫৮)

এ বিবরণ থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তা'আলা এসব জনপদ ও তাদের ঘর-বাড়ীকে ভবিষ্যৎ বংশধরদের জন্য শিক্ষার উপকরণ করেছেন। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এসব স্থান অতিক্রম করেছেন, তখন আল্লাহ্‌র ভয়ে তার মস্তক নত হয়ে গেছে এবং তিনি সওয়ারীর উটকে দ্রুত হাঁকিয়ে সেসব স্থান পার হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। (দেখুন, ইবন হিব্বান: ৬১৯৯) তার এ কর্মের ফলে একটি সুন্নত প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। তা এই যে, যেসব স্থানে আল্লাহ তা'আলার আযাব এসেছে, সেগুলোকে তামাশার ক্ষেত্রে পরিণত করা খুবই পাষাণ হৃদয়ের কাজ। বরং সেগুলো থেকে শিক্ষা লাভ করার পস্থা এই যে, সেখানে পৌছে আল্লাহ তা'আলার অপার শক্তির কথা চিন্তা করতে হবে এবং অন্তরে তার আযাবের ভীতি সঞ্চার করতে হবে।

কুরআনুল কারীমের বক্তব্য অনুযায়ী লুত আলাইহিস সালামের ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদসমূহ আজো আরব থেকে সিরিয়াগামী রাস্তার পার্শ্বে জর্দানের এলাকায় সমুদ্রের উপরিভাগ থেকে যথেষ্ট নীচের দিকে একটি বিরাট এলাকা নিয়ে রয়েছে। এর একটি বিরাট পরিধিতে বিশেষ এক প্রকার পানি সাগরের আকার ধারণ করে আছে। এ পানিতে কোন মাছ, ব্যাঙ ইত্যাদি প্রাণী জীবিত থাকতে পারে না। এ জন্যেই একে ‘মৃত সাগর’ ও ‘লুত সাগর’ নামে অভিহিত করা হয়। অনুসন্ধানের পর জানা গেছে যে, এতে পানির অংশ খুব কম এবং তেল জাতীয় উপাদান অধিক পরিমাণে বিদ্যমান এবং লবনের পরিমাণও; তাই এতে কোন সামুদ্রিক প্রাণী জীবিত থাকতে পারে না।

আজকাল প্রত্নতত্ত্ববিভাগের পক্ষ থেকে এখানে কিছুসংখ্যক আবাসিক দালান-কোঠা ও হোটেল নির্মাণ করা হয়েছে। আখেরাত থেকে উদাসীন বস্তুবাদী মানুষ একে পর্যটন ক্ষেত্রে পরিণত করে রেখেছে। তারা নিছক তামাশা হিসেবে এসব এলাকা দেখার জন্য গমন করে। এহেন উদাসীনতার প্রতিকারার্থে কুরআনুল কারীম অবশেষে বলেছেঃ (إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِلْمُتَوَسِّمِينَ) অর্থাৎ, এসব ঘটনা ও ঘটনাস্থল প্রকৃতপক্ষে অন্তদৃষ্টিসম্পন্ন মুমিনদের জন্য শিক্ষাদায়ক। একমাত্র ঈমানদাররাই এ শিক্ষা দ্বারা উপকৃত হয় এবং অন্যরা এসব স্থানকে নিছক তামাশার দৃষ্টিতে দেখে চলে যায়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭৬) নিশ্চয় তা (ঐ জনপদের ধ্বংসস্তূপ) চালু পথের পাশে বিদ্যমান। (1)

(1) অর্থাৎ, চলাচলের সাধারণ রাস্তার ধারে। লূত-সম্প্রদায়ের জনপদ মদীনা হতে সিরিয়া যাওয়ার পথে পড়ে। প্রত্যেক যাতায়াতকারীকে তাদের জনপদের উপর দিয়েই পার হতে হয়। বলা হয় যে, তাদের মোট পাঁচটি জনবসতি ছিল। সাদুম, এটিই ছিল সবের কেন্দ্রস্থল, স্বাবাহ, সা’ওয়াহ, আসরাহ ও দূমা। বলা হয় যে, জিব্রীল (আঃ) নিজ বাহুতে ঐ সকল জনপদকে নিয়ে আকাশে চড়েন, এমনকি আসমানবাসিগণ তাদের কুকুর ও মোরগের আওয়াজ শুনতে পান। তারপর সেই জনপদকে (উষ্ট্রী দিয়ে) পৃথিবীতে নিক্ষেপ করা হয়। (ইবনে কাসীর) তবে এ কথার কোন সূত্র নেই।