মা-নুনাঝঝিলুল মালাইকাতা ইল্লা-বিলহাক্কিওয়ামা-ক-নূ ইযাম মুনজারীন।উচ্চারণ
---আমি ফেরেশতাদেরকে এমনিই অবতীর্ণ করি না, তারা যখনই অবতীর্ণ হয় সত্য সহকারে অবতীর্ণ হয়, তারপর লোকদেরকে আর অবকাশ দেয়া হয় না। ৫ তাফহীমুল কুরআন
আমি তো ফিরিশতা অবতীর্ণ করি কেবল যথার্থ মীমাংসা দিয়ে আর তখন তাদেরকে কোন সুযোগ দেওয়া হয় না। মুফতী তাকী উসমানী
আমি মালাইকা/ফেরেশতাদেরকে যথার্থ কারণ ব্যতীত প্রেরণ করিনা; মালাইকা/ফেরেশতারা হাযির হলে তারা অবকাশ পাবেনা।মুজিবুর রহমান
আমি ফেরেশতাদেরকে একমাত্র ফায়সালার জন্যেই নাযিল করি। তখন তাদেরকে অবকাশ দেয়া হবে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আমি ফেরেশতাগণকে প্রেরণ করি না যথার্থ কারণ ব্যতীত; ফেরেশতাগণ উপস্থিত হলে এরা অবকাশ পাবে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আমি যথাযথ কারণ ছাড়া ফেরেশতাদের নাযিল করি না, আর (নাযিল করলে) তখন তারা অবকাশও পেত না।আল-বায়ান
যথাযথ কারণ ছাড়া আমি ফেরেশতা পাঠাই না, পাঠালে কাফিরদেরকে আর কোন অবকাশ দেয়া হবে না।তাইসিরুল
আমরা ফিরিশ্তাদের পাঠাই না সত্যের সাথে ছাড়া, আর তখন তারা অবকাশ প্রাপ্ত হবে না।মাওলানা জহুরুল হক
৫
অর্থাৎ নিছক তামাশা দেখাবার জন্য ফেরেশতাদেরকে অবতরণ করানো হয় না। কোন জাতি দাবী করলো, ডাকো ফেরেশতাদেরকে আর অমনি ফেরেশতারা হাযির হয়ে গেলেন, এমনটি হয় না। কারণ ফেরেশতারা এজন্য আসেন না যে, তারা লোকদের সামনে সত্যকে উন্মুক্ত করে দেবেন এবং গায়েবের পর্দা চিরে এমন সব জিনিস দেখিয়ে দেবেন যার প্রতি ঈমান আনার জন্য নবীগণ দাওয়াত দিয়েছেন। যখন কোন জাতির শেষ সময় উপস্থিত হয় এবং তার ব্যাপারে চূড়ান্ত ফায়সালা করার সংকল্প করে নেয়া হয় তখনই ফেরেশতাদেরকে পাঠানো হয়। তখন কেবলমাত্র ফায়সালা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে ফেলা হয়। তখন আর একথা বলা হয় না যে, এখন ঈমান আনলে ছেড়ে দেয়া হবে। যতক্ষণ সত্য আবরণ মুক্ত না হয়ে যায়, কেবল ততক্ষণ পর্যন্তই ঈমান আনার অবকাশ থাকে। তার আবরণ মুক্ত হয়ে যাওয়ার পর আর ঈমান আনার কি অর্থ থাকে?
“সত্য সহকারে অবতীর্ণ হওয়ার” মানে হচ্ছে সত্য নিয়ে অবতীর্ণ হওয়া। অর্থাৎ তারা মিথ্যাকে মিটিয়ে দিয়ে তার জায়গায় সত্যকে কায়েম করার জন্যই আসেন। অথবা অন্য কথায় বুঝে নিন, তারা আল্লাহর ফায়সালা নিয়ে আসেন এবং তা প্রতিষ্ঠিত করেই ক্ষান্ত হন।
তারা আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে ফিরিশতা পাঠানোর যে ফরমায়েশ করত এটা তার উত্তর। উত্তরের সারমর্ম হল, যে সম্প্রদায়ের কাছে আমি কোন নবী পাঠিয়েছি তাদের কাছে সহসা ফিরিশতা অবতীর্ণ করি না। তা করি কেবল সেই সময় যখন সে সম্প্রদায়ের নাফরমানী সকল সীমা ছাড়িয়ে যায়। ফলে তাদের উপর শাস্তি অবতীর্ণ করার ফায়সালা হয়ে যায়। সে ফায়সালার অধীনে ফিরিশতা পাঠিয়ে দেওয়া হলে তখন আর তারা ঈমান আনার ফুরসত পায় না। এ দুনিয়া তো এক পরীক্ষার জায়গা। এখানে যে ঈমান গ্রহণযোগ্য, সেটা হল ঈমান বিল গায়েব বা না দেখে বিশ্বাস। অর্থাৎ, মানুষ নিজ জ্ঞান-বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে আল্লাহ তাআলার সত্তা ও তাঁর একত্ববাদকে শিরোধার্য করে নেবে। যদি গায়েবের সবকিছু চাক্ষুষ দেখিয়ে দেওয়া হয়, তবে পরীক্ষা হল কিসের?
৮. আমরা ফেরেশতাদেরকে যথার্থ কারণ ছাড়া প্রেরণ করি না; আর (ফেরেশতারা উপস্থিত হলে) তখন তারা আর অবকাশ পেত না।(১)
(১) অর্থাৎ নিছক তামাশা দেখাবার জন্য ফেরেশতাদেরকে অবতরণ করানো হয় না। কোন জাতি দাবি করলো, ডাকো ফেরেশতাদেরকে আর অমনি ফেরেশতা হাযির হয়ে গেলেন, এমনটি হয় না। যখন কোন জাতির শেষ সময় উপস্থিত হয় এবং তার ব্যাপারে চুড়ান্ত ফায়সালা করার সংকল্প করে নেয়া হয় তখনই ফেরেশতাদেরকে পাঠানো হয়। তখন কেবলমাত্র ফায়সালা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করে ফেলা হয়। মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এর অর্থ ফেরেশতাগণ রিসালত ও শাস্তি নিয়েই নাযিল হয়ে থাকেন। (আত-তাফসীরুস সহীহ)
(৮) আমি ফিরিশতাদেরকে যথার্থ কারণ ব্যতীত অবতীর্ণ করি না; আর (ফিরিশতা অবতীর্ণ করলে) তখন তারা অবকাশ পাবে না। (1)
(1) মহান আল্লাহ বলেন, আমি ফিরিশতা যথার্থ কারণে পাঠিয়ে থাকি। অর্থাৎ যখন আমার ইচ্ছা ও হিকমত আযাব পাঠানোর হয়, তখন ফিরিশতা অবতীর্ণ করে থাকি, আর তখন অবকাশ দেওয়া হয় না বরং ধ্বংস করে দেওয়া হয়।