হাত্তা ইযাছতাইআছাররুছুলুওয়া জান্নূআন্নাহুম কাদ কুযিবূজাআহুম নাসরুনা- ফানুজ্জিয়া মান্নাশাউ ওয়ালা-ইউরদ্দুবা’ছুনা-‘আনিল কাওমিল মুজরিমীন।উচ্চারণ
(আগের নবীদের সাথেও এমনটি হতে থেকেছে। অর্থাৎ তাঁরা দীর্ঘদিন উপদেশ দিয়ে গেছেন কিন্তু লোকেরা তাঁদের কথা শোনেনি।) এমনকি যখন নবীরা লোকদের থেকে হতাশ হয়ে গেলো এবং লোকেরাও ভাবলো তাদেরকে মিথ্যা বলা হয়েছিল তখন অকস্মাত আমার সাহায্য নবীদের কাছে পৌঁছে গেলো। তারপর এ ধরনের সময় যখন এসে যায় তখন আমার নিয়ম হচ্ছে, যাকে আমি চাই তাকে রক্ষা করি এবং অপরাধীদের প্রতি আমার আযাব তো রদ করা যেতে পারে না। তাফহীমুল কুরআন
(পূর্ববর্তী নবীদের ক্ষেত্রেও এমনই হয়েছিল যে, তাদের সম্প্রদায়ের উপর আযাব আসতে কিছুটা সময় লেগেছিল) পরিশেষে যখন নবীগণ মানুষের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেল এবং কাফেরগণ মনে করতে লাগল তাদেরকে মিথ্যা হুমকি দেওয়া হয়েছিল, তখন নবীদের কাছে আমার সাহায্য পৌঁছল #%৭১%# (অর্থাৎ কাফেরদের উপর আযাব আসে) এবং আমি যাকে ইচ্ছা করেছিলাম তাকে রক্ষা করলাম। অপরাধী সম্প্রদায় হতে আমার শাস্তি টলানো যায় না।মুফতী তাকী উসমানী
অবশেষে যখন রাসূলগণ নিরাশ হল এবং লোকে ভাবল যে, রাসূলদেরকে মিথ্যা আশ্বাস দেয়া হয়েছে তখন তাদের কাছে আমার সাহায্য এলো। এভাবে আমি যাকে ইচ্ছা করি সে উদ্ধার পায়, আর অপরাধী সম্প্রদায় হতে আমার শাস্তি রদ করা হয়না।মুজিবুর রহমান
এমনকি যখন পয়গম্বরগণ নৈরাশ্যে পতিত হয়ে যেতেন, এমনকি এরূপ ধারণা করতে শুরু করতেন যে, তাদের অনুমান বুঝি মিথ্যায় পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন তাদের কাছে আমার সাহায্য পৌছে। অতঃপর আমি যাদের চেয়েছি তারা উদ্ধার পেয়েছে। আমার শাস্তি অপরাধী সম্প্রদায় থেকে প্রতিহত হয় না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
অবশেষে যখন রাসূলগণ নিরাশ হল এবং লোকে ভাবল যে, রাসূলগণকে মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া হয়েছে তখন তাদের নিকট আমার সাহায্য এলো। এইভাবে আমি যাকে ইচ্ছা করি সে উদ্ধার পায়। অপরাধী সম্প্রদায় হতে আমার শাস্তি রদ করা যায় না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অবশেষে যখন রাসূলগণ (কওমের ঈমান থেকে) নিরাশ হয়ে গেল এবং তারা* মনে করল তাদের সাথে মিথ্যা বলা হয়েছে, তখন তাদের কাছে আমার সাহায্য আসল, অতঃপর আমি যাকে ইচ্ছা নাজাত দেই, আর অপরাধী কওম থেকে আমার শাস্তি ফেরানো হয় না।আল-বায়ান
(হে নাবী! তোমার পূর্বেও এমন ঘটেছে যে,) শেষ পর্যন্ত রসূলগণ নিরাশ হয়েছে, আর লোকেরা মনে করেছে যে, তাদেরকে মিথ্যে কথা বলা হয়েছে, তখন তাদের (রাসূলদের) কাছে আমার সাহায্য এসে পৌঁছেছে, এভাবেই আমি যাকে ইচ্ছে রক্ষা করি। অপরাধী সম্প্রদায় থেকে আমার শাস্তি কক্ষনো ফিরিয়ে নেয়া হয় না।তাইসিরুল
অবশেষে যখন রসূলগণ হতাশ হয়েছিলেন, আর তারা ভেবেছিল যে তাদের নিশ্চয়ই মিথ্যা বলা হয়েছে, তখনই এসে পৌঁছাল। কাজেই যাদের আমরা ইচ্ছা করলাম তাদের উদ্ধার করলাম। আর অপরাধী সম্প্রদায় থেকে আমাদের শাস্তি প্রতিহত হয় না।মাওলানা জহুরুল হক
আয়াতের এ তরজমা করা হয়েছে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু তাআলা আনহু, হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের রহমাতুল্লাহি আলাইহি ও অন্যান্য তাবেয়ীদের থেকে বর্ণিত তাফসীর অনুযায়ী। আল্লামা আলূসী (রহ.) দীর্ঘ আলোচনা-পর্যালোচনার পর এটাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে আয়াতের আরও বিভিন্ন ব্যাখ্যা করা সম্ভব। অন্যান্য মুফাসসিরগণ সেগুলোও গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তরজমা যে তাফসীরের ভিত্তিতে করা হয়েছে, সর্ববিচারে সেটিই বেশি নিখুঁত বলে মনে হয়। বোঝানো হচ্ছে যে, পূর্ববর্তী নবীগণের আমলেও ঘটনা একই রকম ঘটেছে। যখন কাফেরদেরকে প্রদত্ত অবকাশকাল দীর্ঘ হয়ে গেছে এবং এর ভেতর তাদের উপর কোন আযাব আসেনি, তখন একদিকে নবীগণ তাদের ঈমানের ব্যাপারে হতাশ হয়ে গেছেন এবং অন্যদিকে কাফেরগণ মনে করে বসেছে নবীগণ তাদেরকে আল্লাহ তাআলার আযাবের যে হুমকি দিয়েছিলেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল (নাউযুবিল্লাহ)। অবস্থা যখন এ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, তখন সহসা নবীগণের কাছে আল্লাহ তাআলার সাহায্য এসে পৌঁছে এবং অবিশ্বাসীদের উপর আযাব নাযিল হয় আর এভাবে তাঁদের কথা সত্যে পরিণত হয়।
১১০. অবশেষে যখন রাসূলগণ (তাদের সম্প্রদায়ের ঈমান থেকে) নিরাশ হলেন এবং লোকেরা মনে করল যে, রাসূলগণকে মিথ্যা আশ্বাস দেয়া হয়েছে তখন তাদের কাছে আমাদের সাহায্য আসল। এভাবে আমরা যাকে ইচ্ছে করি সে নাজাত পায়। আর অপরাধী সম্প্রদায় হতে আমাদের শাস্তি প্রতিরোধ করা হয় না।
(১১০) অবশেষে যখন রসূলগণ নিরাশ হল(1) এবং (লোকে) ভাবল যে, তাদেরকে মিথ্যা (প্রতিশ্রুতি) দেওয়া হয়েছে,(2) তখন তাদের কাছে আমার সাহায্য এল।(3) অতঃপর আমি যাকে ইচ্ছা করলাম, তাকে উদ্ধার করা হল।(4) আর অপরাধী সম্প্রদায় হতে আমার শাস্তি রদ করা হয় না।
(1) এ নৈরাশ্য স্বীয় সম্প্রদায়ের ঈমান নিয়ে আসার ব্যাপারে ছিল।
(2) ক্বিরাআত হিসেবে এই আয়াতের কয়েকটা অর্থ করা হয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে উপযুক্ত অর্থ এই যে, ظَنُّوا এর কর্তা القوم অর্থাৎ কাফেরদেরকে করা হোক। অর্থাৎ কাফেররা প্রথমে তো শাস্তির ধমক পেয়ে ভয় করল; কিন্তু যখন বেশি দেরী হল তখন ধারণা করল যে, পয়গম্বরের দাবি অনুসারে আযাব তো আসছে না, আর না আসবে বলে মনে হচ্ছে, সেহেতু বলা যায় যে, নবীদের সাথেও মিথ্যা ওয়াদা করা হয়েছে। উদ্দেশ্য নবী করীম (সাঃ)-কে সান্ত¸না প্রদান করা যে, তোমার সম্প্রদায়ের উপর আযাব আসতে দেরী হওয়ার কারণে ঘাবড়ানোর দরকার নেই, পূর্বের সম্প্রদায়সমূহের উপর আযাব আসতে অনেকানেক বিলম্ব হয়েছে এবং আল্লাহর ইচ্ছা ও হিকমত অনুসারে তাদেরকে অনেক অবকাশ দেওয়া হয়েছে, এমনকি রসূলগণ স্বীয় সম্প্রদায়ের ঈমানের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গেছেন এবং লোকেরা ধারণা করতে লেগেছে যে, তাদের সাথে আযাবের মিথ্যা ওয়াদা করা হয়েছে।
(3) এতে বাস্তবে মহান আল্লাহর অবকাশ দানের সেই নীতির কথা বর্ণনা করা হয়েছে, যা তিনি অবাধ্যদেরকে দিয়ে থাকেন, এমনকি এ সম্পর্কে তিনি স্বীয় নবীদের ইচ্ছার বিপরীতও অধিকাধিক অবকাশ দেন, তাড়াহুড়া করেন না। ফলে অনেক সময়ে নবীদের অনুবর্তীরাও আযাব থেকে নিরাশ হয়ে বলতে শুরু করেন যে, তাদের সাথে এমনিই মিথ্যা ওয়াদা করা হয়েছে। স্মরণ থাকে যে, মনের মধ্যে শুধু এ ধরনের কুমন্ত্রণার উদ্রেক ঈমানের পরিপন্থী নয়।
(4) এ উদ্ধারের অধিকারী শুধু ঈমানদাররাই ছিল।