يَٰبَنِيَّ ٱذۡهَبُواْ فَتَحَسَّسُواْ مِن يُوسُفَ وَأَخِيهِ وَلَا تَاْيۡـَٔسُواْ مِن رَّوۡحِ ٱللَّهِۖ إِنَّهُۥ لَا يَاْيۡـَٔسُ مِن رَّوۡحِ ٱللَّهِ إِلَّا ٱلۡقَوۡمُ ٱلۡكَٰفِرُونَ

ইয়া-বানিইইয়াযহাবূফাতাহাছছাছূমিইঁ ইঊছুফা ওয়া আখীহি ওয়ালা-তাইআছূমির রওহিল্লা-হি; ইন্নাহূলা-ইয়াইআছুমিররওহিল্লা-হি ইল্লাল কাওমুল ক-ফিরূন।উচ্চারণ

হে আমার ছেলেরা! তোমরা যাও এবং ইউসুফ ও তাঁর ভাইয়ের ব্যাপারে কিছু অনুসন্ধান চালাও। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। তাঁর রহমত থেকে তো একমাত্র কাফেররাই নিরাশ হয়।” তাফহীমুল কুরআন

ওহে আমার পুত্রগণ! তোমরা যাও এবং ইউসুফ ও তার ভাইয়ের সন্ধান চালাও। তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, জেনে রেখ আল্লাহর রহমত থেকে কেবল তারাই নিরাশ হয়, যারা কাফের। #%৫৬%#মুফতী তাকী উসমানী

হে আমার পুত্রগণ! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তার সহোদরের অনুসন্ধান কর এবং আল্লাহর করুণা হতে তোমরা নিরাশ হয়োনা, কারণ কাফির ব্যতীত কেহই আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয়না।মুজিবুর রহমান

বৎসগণ! যাও, ইউসুফ ও তার ভাইকে তালাশ কর এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায়, ব্যতীত অন্য কেউ নিরাশ হয় না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘হে আমার পুত্রগণ! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তার সহোদরের অনুসন্ধান কর এবং আল্লাহ্ র আশিস হতে তোমরা নিরাশ হয়ো না। কারণ আল্লাহ্ র আশিস্ হতে কেউই নিরাশ হয় না, কাফির সম্প্রদায় ব্যতীত।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘হে আমার ছেলেরা, তোমরা যাও এবং ইউসুফ ও তার ভাইয়ের খোঁজ খবর নাও। আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, কেননা কাফির কওম ছাড়া কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না’।আল-বায়ান

হে আমার ছেলেরা! তোমরা যাও, গিয়ে ইউসুফ আর তার ভাইয়ের খোঁজ খবর লও, আল্লাহর রহমাত থেকে নিরাশ হয়ো না, কেননা কাফির সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর রহমাত হতে কেউ নিরাশ হয় না।’তাইসিরুল

হে আমার ছেলেরা! তোমরা যাও এবং ইউসুফ ও তার ভাইয়ের খোঁজ কর, আর আল্লাহ্‌র আশিস সন্বন্ধে নিরাশ হয়ো না। নিঃসন্দেহ অবিশ্বাসী লোকেরা ছাড়া অন্য কেউ আল্লাহ্‌র আশিস সন্বন্ধে নিরাশ হয় না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

হযরত ইয়াকুব আলাইহিস সালাম নিশ্চিত ছিলেন যে, ইউসুফ আলাইহিস সালামও কোথাও না কোথাও জীবিত আছেন। আর বিনইয়ামীন তো আটক রয়েছে। তাই তিনি কিছু দিন পর পূর্ণ আস্থার সাথে হুকুম দিলেন, ‘তোমরা গিয়ে তাদের দু’জনকে খোঁজ কর। ইত্যবসরে তাদের আনা খাদ্যও ফুরিয়ে গিয়েছিল। আর দুর্ভিক্ষ তো চলছিলই। সুতরাং ভাইয়েরা পুনরায় মিসর যেতে মনস্থ করল। কেননা বিনইয়ামীন তো নিশ্চিতভাবেই সেখানে আছে। প্রথমে তাকে মুক্ত করে আনার চেষ্টা করা চাই। তারপর ইউসুফ আলাইহিস সালামেরও খোঁজ-খবর নেওয়ার চেষ্টা করা যাবে। কাজেই তারা মিসর গেল এবং প্রথমে হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের সাথে রসদের ব্যাপারে কথা বলল, যাতে তার মনটা কিছুটা নরম হয় এবং বিনইয়ামীনকে ফেরত নেওয়া সম্পর্কে কথা বলা সহজ হয়। পরবর্তী আয়াতসমূহে হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের সাথে তাদের সেই কথোপকথনের বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৮৭. হে আমার পুত্ৰগণ! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তার সহোদরের সন্ধান কর এবং আল্লাহর রহমত হতে তোমরা নিরাশ হয়ো না। কারণ আল্লাহর রহমত হতে কেউই নিরাশ হয় না, কাফির সম্প্রদায় ছাড়া।(১)

(১) অর্থাৎ বৎসরা, যাও। ইউসুফ ও তার ভাইকে খোঁজ কর এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। কেননা, কাফের ছাড়া কেউ তার রহমত থেকে নিরাশ হয় না। ইয়াকুব 'আলাইহিস সালাম এতদিন পর ছেলেদেরকে আদেশ দিলেন যে, যাও ইউসুফ ও তার ভাইয়ের খোঁজ কর এবং তাদেরকে পাওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে না। ইতিপূর্বে কখনো তিনি এমন আদেশ দেননি। এটা তাকদীরেরই ব্যাপার। ইতিপূর্বে তাদেরকে পাওয়া তাকদীরে ছিল না। তাই এরূপ কোন কাজও করা হয়নি। এখন মিলনের মূহুর্ত ঘনিয়ে এসেছিল।

তাই আল্লাহ্ তা'আলা এর উপযুক্ত তদবীরও মনে জাগিয়ে দিলেন। উভয়কেই খোঁজ করার স্থান মিসরই সাব্যস্ত করা হল। এটা বিনইয়ামীনের বেলায় নির্দিষ্টই ছিল; কিন্তু ইউসুফ আলাইহিস সালাম-কে মিসরে খোঁজ করার বাহ্যতঃ কোন কারণ ছিল না। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা যখন কোন কাজের ইচ্ছা করেন, তখন এর উপযুক্ত কারণাদিও উপস্থিত করে দেন। তাই এবার ইয়াকুব আলাইহিস সালাম সবাইকে খোঁজ করার জন্য ছেলেদেরকে আবার মিসর যেতে নির্দেশ দিলেন। সুদ্দী বলেন, যখন তার ছেলেরা তাকে বাদশার বিভিন্ন গুণাগুণ বর্ণনা করল তখন তিনি আশা করলেন যে, এটা যদি তার ছেলে ইউসুফ হতো! (বাগভী; কুরতুবী)

ইয়াকুব আলাইহিস সালামের ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, জান, মাল ও সন্তান-সন্তুতির ব্যাপারে কোন বিপদ ও কষ্ট দেখা দিলে প্রত্যেক মুসলিমের উপর ওয়াজিব হচ্ছে সবর ও আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকার মাধ্যমে এর প্রতিকার করা এবং ইয়াকুব আলাইহিস সালাম ও অন্যান্য নবীগণের অনুসরণ করা।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮৭) হে আমার পুত্রগণ! তোমরা যাও, ইউসুফ ও তাঁর সহোদরের অনুসন্ধান কর(1) এবং আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয়ো না, কারণ অবিশ্বাসী সম্প্রদায় ব্যতীত কেউই আল্লাহর করুণা হতে নিরাশ হয় না।’(2)

(1) অতএব তিনি উক্ত বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করেই স্বীয় পুত্রদেরকে এই আদেশ করলেন।

(2) যেমন মহান আল্লাহ অন্যত্র বলেন: ﴿وَمَن يَقْنَطُ مِن رَّحْمَةِ رَبِّهِ إِلاَّ الضَّآلُّونَ﴾ ‘‘কেবল ভ্রষ্ট লোকরাই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে থাকে।’’ (সূরা হিজরঃ ৫৬) এর অর্থ এই যে, মুমিনদেরকে চরম কঠিন পরিস্থিতিতেও ধৈর্যহারা ও সংযমহীন হতে নেই এবং আল্লাহর অসীম কৃপার আশা ছাড়তে নেই।