وَسۡـَٔلِ ٱلۡقَرۡيَةَ ٱلَّتِي كُنَّا فِيهَا وَٱلۡعِيرَ ٱلَّتِيٓ أَقۡبَلۡنَا فِيهَاۖ وَإِنَّا لَصَٰدِقُونَ

ওয়াছ আলিল কারয়াতাল্লাতী কুন্না-ফীহা-ওয়াল ‘ঈরল্লাতী আকবালনা-ফীহা- ওয়া ইন্না-লাসা-দিকূন।উচ্চারণ

আমরা যে পল্লীতে ছিলাম সেখানকার লোকজনদেরকে জিজ্ঞেস করে দেখুন এবং যে কাফেলার সাথে আমরা ছিলাম তাকে জিজ্ঞেস করে দেখুন, আমরা যা বলছি সত্য বলছি।” তাফহীমুল কুরআন

আমরা যে জনপদে ছিলাম তাকে জিজ্ঞেস করুন এবং আমরা যে যাত্রী দলের সাথে এসেছি তাদের থেকে যাচাই করে নিন। নিশ্চয়ই আমরা সত্যবাদী।মুফতী তাকী উসমানী

যে জনপদে আমরা ছিলাম ওর অধিবাসীদেরকে জিজ্ঞেস করুন এবং যে যাত্রীদলের সাথে আমরা এসেছি তাদেরকেও, আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।মুজিবুর রহমান

জিজ্ঞেস করুন ঐ জনপদের লোকদেরকে যেখানে আমরা ছিলাম এবং ঐ কাফেলাকে, যাদের সাথে আমরা এসেছি। নিশ্চিতই আমরা সত্য বলছি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘যে জনপদে আমরা ছিলাম এর অধিবাসীগণ কে জিজ্ঞাসা করুন এবং যে যাত্রীদলের সঙ্গে আমরা এসেছি তাদেরকেও। আমরা অবশ্যই সত্য বলছি।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর যে জনপদে আমরা ছিলাম তাকে জিজ্ঞাসা করুন এবং যে কাফেলার সাথে আমরা এসেছি তাদেরকেও, আর অবশ্যই আমরা সত্যবাদী’।আল-বায়ান

আমরা যে জনপদে ছিলাম তার বাসিন্দাদের জিজ্ঞেস করুন আর যে কাফেলার সঙ্গে আমরা এসেছি তাদেরকেও, আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।’তাইসিরুল

আর আমরা যেখানে ছিলাম সেই শহরবাসীদের জিজ্ঞাসা কর, আর যাদের সঙ্গে আমরা এসেছি সেই যাত্রীদলকেও। আর আমরা তো অবশ্যই সত্যবাদী।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৮২. আর যে জনপদে আমরা ছিলাম সেখানকার অধিবাসীদেরকে জিজ্ঞেস করুন এবং যে যাত্রীদলের সাথে আমরা এসেছি তাদেরকেও। আমরা অবশ্যই সত্য বলছি।(১)

(১) ইউসুফ-ভ্রাতারা ইতিপূর্বে একবার পিতাকে ধোঁকা দিয়েছিল। ফলে তারা জানত যে, এ বর্ণনায় পিতা কিছুতেই আশ্বস্ত হবেন না এবং তাদের কথা বিশ্বাস করবেন না। তাই অধিক জোর দেয়ার জন্য বললঃ আপনি যদি আমাদের কথা বিশ্বাস না করেন, তবে যে শহরে আমরা ছিলাম (অর্থাৎ মিসর), তথাকার লোকদেরকে জিজ্ঞেস করে দেখুন এবং আপনি ঐ কাফেলার লোকজনকেও জিজ্ঞেস করতে পারেন যারা আমাদের সাথেই মিসর থেকে কেনান এসেছে। আমরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সত্যবাদী।

আলোচ্য আয়াতসমূহ থেকে আরো প্রমাণিত হয় যে, কোন ব্যক্তি যদি সৎ ও সঠিক পথে থাকে; কিন্তু ক্ষেত্র এমন যে, অন্যরা তাকে অসৎ কিংবা পাপকাজে লিপ্ত বলে সন্দেহ করতে পারে তবে তার পক্ষে এ সন্দেহের কারণ দূর করা উচিত, যাতে অন্যরা কু-ধারণার গোনাহয় লিপ্ত না হয়। ইউসুফ আলাইহিস সালাম এর সাথে কৃত পূর্ববর্তী আচরণের আলোকে বিনইয়ামীনের ঘটনায় ভাইদের সম্পর্কে এরূপ সন্দেহ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক ছিল যে, এবারও তারা মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করেছে। তাই এ সন্দেহ দূরীকরণের জন্য জনপদ অর্থাৎ মিসরবাসীদের এবং যুগপৎ কাফেলার লোকজনের সাক্ষ্য উপস্থিত করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যক্তিগত আচরণের মাধ্যমেও এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

একবার তিনি উম্মুল-মু'মিনীন সাফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে সাথে নিয়ে মসজিদ থেকে এক গলি দিয়ে যাচ্ছিলেন। গলির মাথায় দু'জন লোককে দেখে তিনি দূর থেকেই বলে দিলেনঃ আমার সাথে সাফিয়্যা বিনতে হুযাই রয়েছে। ব্যক্তিদ্বয় আরয করলঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনার সম্পর্কেও কেউ কু-ধারণা করতে পারে কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, শয়তান মানুষের শিরা-উপশিরায় গমন করে। কাজেই কারো মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে দেয়া বিচিত্র নয়। (বুখারীঃ ৭১৭১, মুসলিমঃ ২১৭৪)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮২) যে জনপদে আমরা ছিলাম ওর অধিবাসীদেরকে এবং যে যাত্রীদলের সাথে আমরা এসেছিলাম তাদেরকেও জিজ্ঞাসা করুন; আমরা অবশ্যই সত্যবাদী।’ (1)

(1) الْقَرْيَة অর্থাৎ মিসর যেখানে তাঁরা শস্য নেওয়ার জন্য গিয়েছিলেন। এখানে মিসর বলতে মিসরবাসীদেরকে বুঝানো হয়েছে। অনুরূপ الْعِيْر (কাফেলা) বলতে কাফেলার যাত্রীদেরকে বুঝানো হয়েছে। আপনি মিসরে গিয়ে মিসরবাসীদেরকে এবং কাফেলার যাত্রীদেরকে যারা আমাদের সাথে এসেছে জিজ্ঞেস করে নিন যে, আমরা যা বলছি তাই সত্য; এতে মিথ্যার কোন মিশ্রণ (অবকাশ) নেই।