ক-লূইয়া আইয়ুহাল ‘আঝীঝুইন্না লাহূ আবান শাইখান কাবীরন ফাখুযআহাদানা-মাকানাহূ ইন্না-নার-কা মিনাল মুহছিনীন।উচ্চারণ
তারা বললো, “হে ক্ষমতাসীন সরদার (আযীয)! ৬২ এর বাপ অত্যন্ত বৃদ্ধ, এর জায়গায় আপনি আমাদের কাউকে রেখে দিন। আমরা আপনাকে বড়ই সদাচারী ব্যক্তি হিসেবে পেয়েছি।” তাফহীমুল কুরআন
(এবার) তারা বলতে লাগল, হে আযীয! এর অতিশয় বৃদ্ধ এক পিতা আছেন। কাজেই তার পরিবর্তে আমাদের মধ্য হতে কাউকে আপনার কাছে রেখে দিন। যারা সদয় আচরণ করে আমরা আপনাকে তাদের একজন মনে করি।মুফতী তাকী উসমানী
তারা বললঃ হে আযীয! এর পিতা আছেন অতিশয় বৃদ্ধ, সুতরাং এর স্থলে আপনি আমাদের একজনকে রাখুন! আমরাতো আপনাকে দেখছি মহানুভব ব্যক্তিদের একজন।মুজিবুর রহমান
তারা বলতে লাগলঃ হে আযীয, তার পিতা আছেন, যিনি খুবই বৃদ্ধ বয়স্ক। সুতরাং আপনি আমাদের একজনকে তার বদলে রেখে দিন। আমরা আপনাকে অনুগ্রহশীল ব্যক্তিদের একজন দেখতে পাচ্ছি।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরা বলল, ‘হে ‘আযীয! এর পিতা তো অতিশয় বৃদ্ধ; সুতরাং এর স্থলে আপনি আমাদের একজনকে রাখুন। আমরা তো আপনাকে দেখছি মহানুভব ব্যক্তিদের একজন।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারা বলল, ‘হে আযীয, তার পিতা বড় বৃদ্ধ, আপনি তার স্থলে আমাদের একজনকে নিন, আমরা তো আপনাকে দেখছি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।আল-বায়ান
তারা বলল, ‘হে ‘আযীয! এর পিতা আছেন যিনি খুবই বৃদ্ধ, কাজেই তার স্থলে আমাদের একজনকে রাখুন, আমরা তো আপনাকে বড়ই সদাচারী লোকদের অন্তর্ভুক্ত দেখছি।’তাইসিরুল
ওরা বললে -- "ওহে প্রধান! এর পিতা আছেন, অত্যন্ত বুড়ো মানুষ, অতএব তার জায়গায় আমাদের একজনকে রেখে নিন, যেহেতু আমরা আপনাকে দেখছি মহানুভবদের মধ্যেকার।"মাওলানা জহুরুল হক
৬২
এখানে “আযীয” শব্দটি হযরত ইউসুফের জন্য ব্যবহার করার কারণে তাফসীরকারগণ ধারণা করে নিয়েছেন যে, যুলায়খার স্বামী ইতিপূর্বে যে পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন হযরত ইউসুফ সেই পদেই অধিষ্ঠিত হন। এরপর আরো ধারণা করা হয়েছে যে, পূর্ববর্তী আযীয মারা গিয়েছিল এবং হযরত ইউসুফ তার স্থলাভিষিক্ত হন। যুলায়খাকে নতুন করে অলৌকিকভাবে যুবতী বানিয়ে দেয়া হয় এবং মিসরের বাদশাহ হযরত ইউসুফের সাথে তার বিয়ে দেন। এমন কি বাসর রাতে হযরত ইউসুফের সাথে যুলায়খার যে কথাবার্তা হয় তাও পর্যন্ত আমাদের একশ্রেণীর তাফসীরকারগণের কাছে পৌঁছে যায়। অথচ একথাগুলো সবই কাল্পনিক। “আযীয” শব্দটি সম্পর্কে আমি আগেই একথা বলে এসেছি যে, মিসরে এটি কোন বিশেষ পদবী হিসেবে চিহ্নিত ছিল না বরং ছিক “কর্তৃত্বশালী” অর্থে শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। সম্ভবত মিসরে বড় বড় লোকদের জন্য এ ধরনের কিছু শব্দ পারিভাষিক অর্থে প্রচলিত ছিল, যেমন আমাদের দেশে “সরকার” শব্দটির প্রচলন দেখা যায়। এরই অনুবাদ কুরআনে “আযীয” শব্দের মাধ্যমে করা হয়েছে। আর যুলায়খার সাথে হযরত ইউসুফের বিয়ের যে গল্প ফাঁদা হয়েছে এর ভিত্তি শুধু এতটুকুই যে, বাইবেল ও তালমূদে পোটিফেরের মেয়ে আস্নাত এর সাথে তার বিয়ের ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। ওদিকে যুলায়খার স্বামীর নামও ছিল পোটিফর। এ ঘটনাগুলো ইসরাঈলী বর্ণনা থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে উদ্ধৃত হতে হতে মুফাস্সিরগণের কাছে পৌঁছে যায়। তারপর গুজব ও জনশ্রুতির বিস্তার লাভের প্রচলিত রীতি অনুযায়ী। পোটিফের সহজেই পোটিফর হয়ে গেছে। মেয়ে হয়ে গেছে স্ত্রী। আর এ স্ত্রী নিশ্চিতভাবেই হয়ে গেছে যুলায়খা। কাজেই তার সাথে হযরত ইউসুফের বিয়ে দেবার জন্য পোটিফরকে হত্যা করা হয়েছে। এভাবেই “ইউসুফ যুলায়খার” উপাখ্যান পূর্ণতা লাভ করেছে।
৭৮. তারা বলল, হে আযীয, এর পিতা তো অত্যন্ত বৃদ্ধ; কাজেই এর জায়গায় আপনি আমাদের একজনকে রাখুন। আমরা তো আপনাকে দেখছি মুহসিন ব্যক্তিদের একজন।(১)
(১) ইউসুফ ভ্রাতারা যখন দেখল যে, কোন চেষ্টাই সফল হচ্ছে না এবং বিনইয়ামীনকে এখানে ছেড়ে যাওয়া ব্যতীত গত্যন্তর নেই; তখন তারা প্রার্থনা জানাল যে, এর পিতা নিরতিশয় বয়োবৃদ্ধ ও দুর্বল। এর বিচ্ছেদের যাতনা সহ্য করা তার পক্ষে সম্ভবপর নয়। তাই আপনি এর পরিবর্তে আমাদের কাউকে গ্রেফতার করে নিন। আমরা দেখছি, আপনি খুবই অনুগ্রহশীল। এ ভরসায়ই আমরা এ প্রার্থনা জানাচ্ছি। অথবা অর্থ এই যে, আপনি পূর্বেও আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। অথবা এ অনুগ্রহ আমাদের উপর আপনার থাকবে। (কুরতুবী)
(৭৮) তারা বলল, ‘হে আযীয!(1) এর পিতা আছেন অতিশয় বৃদ্ধ, সুতরাং এর স্থলে আপনি আমাদের একজনকে রাখুন! আমরা তো আপনাকে দেখছি মহানুভব ব্যক্তিদের একজন।’ (2)
(1) তাঁরা ইউসুফ (আঃ)-কে ‘আযীয’ (মিসরের রাজা) এ জন্য বলেছিলেন যে, সেই সময় সমস্ত মৌলিক এখতিয়ার ও শক্তি ইউসুফ (আঃ)-এর হাতেই ছিল। আর মিসরের আসল রাজা শুধু নামমাত্র রাজা ছিলেন।
(2) পিতা তো অবশ্যই বৃদ্ধ ছিলেন, কিন্তু এখানে তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিনয়্যামীনকে মুক্ত করা। তাঁদের মাথায় ইউসুফ (আঃ) সংক্রান্ত কথা স্মরণ হচ্ছিল যে, এমন আবার না হয় যে, বিনয়্যামীনকে ছেড়ে পিতার কাছে আমাদেরকে ফিরে যেতে হয় এবং তিনি আমাদেরকে বলেন যে, তোমরা আমার বিনয়্যামীনকে ইউসুফের মত হারিয়ে এলে। তাই ইউসুফ (আঃ)-এর মহানুভবতা ও অনুগ্রহের প্রশংসা করে এই কথা বললেন, হয়তো তিনি এ অনুগ্রহটুকুও করবেন যে, বিনয়্যামীনকে ছেড়ে দিয়ে তাঁর স্থলে অন্য কোন ভাইকে রেখে নেবেন।