ওয়া লাম্মা-ফাতাহূমাতা-‘আহুম ওয়াজাদূবিদা-‘আতাহুম রুদ্দাত ইলাইহিম ক-লূ ইয়াআবা-না-মা-নাবগী হা-যিহী বিদা-‘আতুনা-রুদ্দাত ইলাইনা- ওয়া নামীরু আহলানা-ওয়া নাহফাজুআখা-না-ওয়া নাঝদা-দুকাইলা বা‘ঈরিন যা-লিকা কাইলুইঁ ইয়াছীর।উচ্চারণ
তারপর যখন তারা নিজেদের জিনিসপত্র খুললো, তারা দেখলো তাদের অর্থও তাদেরকে ফেরত দেয়া হয়েছে। এ দৃশ্য দেখে তারা চিৎকার করে উঠলো, “আব্বাজান, আমাদের আর কী চাই! দেখুন এই আমাদের অর্থও আমাদের ফেরত দেয়া হয়েছে। ব্যস্ এবার আমরা যাবো আর নিজেদের পরিজনদের জন্য রসদ নিয়ে আসবো, নিজেদের ভাইয়ের হেফাজতও করবো এবং অতিরিক্ত একটি উট বোঝাই করে শস্যও আনবো, এ পরিমাণ শস্য বৃদ্ধি অতি সহজেই হয়ে যাবে।” তাফহীমুল কুরআন
যখন তারা তাদের মালপত্র খুলল, তখন দেখল, তাদের পণ্যমূল্যও ফেরত দেওয়া হয়েছে। তারা বলে উঠল, আব্বাজী! আমাদের আর কী চাই? এই যে আমাদের পণ্যমূল্যও আমাদেরকে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং (এবার) আমরা আমাদের পরিবারবর্গের জন্য (আরও) খাদ্য-সামগ্রী নিয়ে আসব, আমাদের ভাইকে হেফাজত করব এবং অতিরিক্ত এক উটের বোঝাও নিয়ে আসব। (এভাবে) এই অতিরিক্ত খাদ্য অতি সহজ। #%৪৩%#মুফতী তাকী উসমানী
যখন তারা তাদের মালপত্র খুলল তখন তারা দেখতে পেল, তাদের পণ্যমূল্য তাদেরকে প্রত্যর্পন করা হয়েছে। তারা বললঃ হে আমাদের পিতা! আমরা আর কি প্রত্যাশা করতে পারি? এটা আমাদের প্রদত্ত পণ্যমূল্য, আমাদেরকে প্রত্যর্পন করা হয়েছে; পুনরায় আমরা আমাদের পরিবারবর্গকে খাদ্যসামগ্রী এনে দিব এবং আমরা আমাদের ভাইয়ের রক্ষণাবেক্ষণ করব এবং আমরা অতিরিক্ত আর এক উট বোঝাই পণ্য আনব, যা এনেছি তা পরিমাণে অল্প।মুজিবুর রহমান
এবং যখন তারা আসবাবপত্র খুলল, তখন দেখতে পেল যে, তাদেরকে তাদের পন্যমুল্য ফেরত দেয়া হয়েছে। তারা বললঃ হে আমাদের পিতা, আমরা আর কি চাইতে পারি। এই আমাদের প্রদত্ত পন্যমূল্য, আমাদেরকে ফেরত দেয়া হয়েছে। এখন আমরা আবার আমাদের পরিবারবর্গের জন্যে রসদ আনব এবং আমাদের ভাইয়ের দেখাশোনা করব এবং এক এক উটের বরাদ্দ খাদ্যশস্য আমরা অতিরিক্ত আনব। ঐ বরাদ্দ সহজ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যখন এরা এদের মালপত্র খুলল তখন এরা দেখতে পেল এদের পণ্যমূল্য এদেরকে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। এরা বলল, ‘হে আমাদের পিতা! আমরা আর কি প্রত্যাশা করতে পারি ? এটা আমাদের প্রদত্ত পণ্যমূল্য, আমাদেরকে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। পুনরায় আমরা আমাদের পরিবারবর্গকে খাদ্য-সামগ্রী এনে দিব এবং আমরা আমাদের ভাইর রক্ষণাবেক্ষণ করব এবং আমরা অতিরিক্ত আর এক উষ্ট্রবোঝাই পণ্য আনব; যা এনেছি তা পরিমাণে অল্প।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যখন তারা তাদের মাল-পত্র খুলল, তখন তারা দেখতে পেল তাদের পণ্যমূল্য তাদের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছে। তারা বলল, ‘হে আমাদের পিতা, আমরা আর কী চাই? এই আমাদের পণ্যমূল্য, তা আমাদেরকে ফেরৎ দেয়া হয়েছে। আর আমরা আমাদের পরিবারবর্গের জন্য খাদ্যসামগ্রী নিয়ে আসব, আমাদের ভাইকে হেফাযত করব এবং আরো এক উট বোঝাই রসদ বেশি আনব, (বাদশাহ্র জন্য) ঐ রসদ (প্রদান) খুবই সহজ’।আল-বায়ান
তারা যখন তাদের মাল-পত্র খুলল তখন দেখতে পেল যে, তাদেরকে তাদের পণ্যমূল্য ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা বলল, ‘হে আমাদের আব্বাজান! আমরা আর কী চাই। এই দেখুন, আমাদের পণ্যমূল্য আমাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে, আমরা আমাদের পরিবারের জন্য (আরো) খাদ্য আনব, আমাদের ভাইয়ের হিফাযাতও করব, আরো এক উট-বোঝাই মাল বেশি আনব, এ পরিমাণ সহজেই পাওয়া যাবে।’তাইসিরুল
আর যখন তারা তাদের জিনিসপত্র খুললো তারা দেখতে পেল তাদের দ্রব্যমূল্য তাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা বললে -- "হে আমাদের আব্বা! কী আমরা প্রত্যাশা করি? এই তো আমাদের দ্রব্যমূল্য আমাদের ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে, আর আমাদের পরিজনবর্গের জন্য আমরা রসদ আনতে পারব, আর আমাদের ভাইয়ের আমরা হেফাজত করব, আর আমরা এক উটের পরিমাপ অতিরিক্ত আনব। এটি তো এক সামান্য পরিমাপ।"মাওলানা জহুরুল হক
অর্থাৎ ভাইয়ের জন্য যে অতিরিক্ত এক বোঝা পাওয়া যাবে তা দেওয়া মিসর রাজের পক্ষে অতি সহজ। অনেকে এর অর্থ করেছেন ‘আমরা যে রসদ নিয়ে এসেছি তা অতি সামান্য’ আমাদের প্রয়োজন অপেক্ষা কম। এই দুর্ভিক্ষের সময়ে এতে আমাদের কতদিন চলবে? আমাদের আরও অনেক রসদ দরকার, সেজন্য বিনইয়ামীনকে সঙ্গে যেতে হবে, নয়ত তারটা তো পাবই না, আমাদেরকেও নতুন কোন রসদ দেওয়া হবে না। -অনুবাদক
৬৫. আর যখন তারা তাদের মালপত্র খুলল তখন তারা দেখতে পেল তাদের পণ্যমূল্য তাদেরকে ফেরত দেয়া হয়েছে। তারা বলল, হে আমাদের পিতা! আমরা আর কি প্রত্যাশা করতে পারি? এটা আমাদের দেয়া পণ্যমূল্য, আমাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। আর আমরা আমাদের পরিবারবর্গকে খাদ্য-সামগ্রী এনে দেব এবং আমরা আমাদের ভাইয়ের রক্ষণাবেক্ষণ করব এবং আমরা অতিরিক্ত আরো এক উট বোঝাই পণ্য আনব; ঐ পরিমাণ শস্য অতি সহজ।(১)
(১) এতক্ষন পর্যন্ত সফরের অবস্থা বর্ণনা প্রসঙ্গেই তাদের কথাবার্তা হচ্ছিল। আসবাবপত্র তখনও খোলা হয়নি। অতঃপর যখন আসবাবপত্র খোলা হল এবং দেখা গেল যে, খাদ্যশস্যের মূল্য বাবদ পরিশোধিত মূল্য আসবাবপত্রের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। তখন তারা অনুভব করতে পারল যে, এ কাজ ভুলবশতঃ হয়নি; বরং ইচ্ছাপূর্বক আমাদের পুঁজি আমাদেরকে ফেরত দেয়া হয়েছে। তাই (رُدَّتْ إِلَيْنَا) বলা হয়েছে। অতঃপর তারা পিতাকে বললঃ (مَا نَبْغِي) অর্থাৎ আমরা আর কি চাই? খাদ্যশস্যও এসে গেছে এবং এর মূল্যও ফেরত পাওয়া গেছে। এখন তো অবশ্যই ভাইকে নিয়ে পুনর্বার যাওয়া দরকার। কারণ, এ আচরণ থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, আযীযে মিসর আমাদের প্রতি খুবই সদয়।
কাজেই কোন আশঙ্কার কারণ নেই; আমরা পরিবারের জন্য খাদ্যশস্য আনব, ভাইকেও হেফাজতে রাখব এবং ভাইয়ের অংশের বরাদ্দ অতিরিক্ত পাব। ভাইকে নেয়ার বিনিময়ে যা পাব তা অত্যন্ত সহজেই পাচ্ছি। এ দুর্ভিক্ষের দিনে এত সহজে খাবার পাওয়া বিরাট ব্যাপার। (ইবন কাসীর) তাছাড়া এ বাড়তি পরিমাণ খাদ্যশস্য দেয়া আযীযের জন্যও কঠিন কিছু নয়। (ফাতহুল কাদীর; মুয়াসসার)। আবার আপনার জন্যও এ সামান্য সময় আমাদের ছোট ভাইটিকে ছেড়ে থাকা কষ্টের হবে না। আমাদের বর্তমান খাদ্য শস্যের পরিমাণও কম সুতরাং বাড়িয়ে আনতে পারলেই লাভ বেশী।
(৬৫) যখন তারা তাদের মালপত্র খুলল, তখন তারা দেখতে পেল তাদের পণ্যমূল্য তাদেরকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। তারা বলল, ‘হে আমাদের পিতা! আমরা আর কি প্রত্যাশা করতে পারি?(1) এই তো আমাদের দেওয়া পণ্যমূল্য আমাদেরকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। পুনরায় আমরা আমাদের পরিবারবর্গকে খাদ্য-সামগ্রী এনে দেব এবং আমরা আমাদের ভাইয়ের রক্ষণাবেক্ষণ করব এবং আমরা অতিরিক্ত আর এক উষ্ট্রী বোঝাই পণ্য আনব।(2) যা এনেছি তা পরিমাণে অল্প।’ (3)
(1) অর্থাৎ, বাদশাহ আমাদের যথারীতি আতিথ্যও করলেন এবং আমাদের পুঁজিও ফেরৎ দিলেন, তাঁর এই সদ্ব্যবহারের পর আর আমাদের কি চাই?
(2) কেননা প্রত্যেক ব্যক্তিকে ততটা পরিমাণ শস্য দেওয়া হতো যতটা তার উট বহন করতে পারতো, বিনয়্যামীনের কারণে একটি উটের বোঝ পরিমাণ শস্য আরো বেশি পাওয়া যেতো।
(3) يسير এর একটি ভাবার্থ এই যে, রাজার জন্য এক উটের বোঝা পরিমাণ শস্য দেয়া সহজ, কষ্টকর ব্যাপার নয়। দ্বিতীয় ভাবার্থ এই যে, ذلك দ্বারা ইঙ্গিত করা হয়েছে সেই শস্যের দিকে যা তারা সঙ্গে নিয়ে এসেছিল এবং يسير এর অর্থ অল্প, অর্থাৎ যে পরিমাণ শস্য আমরা সাথে নিয়ে এসেছি তা অল্প। বিন্য়্যামীনকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে যদি বেশি পরিমাণে শস্য পাওয়া যায়, তাহলে তো ভাল কথা, আমাদের প্রয়োজনাদি ভালোরূপে পূরণ হয়ে যাবে।