ওয়া ক-লা লিফিতইয়া-নিহিজ‘আলূ বিদা-‘আতাহুম ফী রিহা-লিহিম লা‘আল্লাহুম ইয়া‘রিফূনাহা ইযানকালাবূ ইলাআহলিহিম লা‘আল্লাহুম ইয়ারজি‘উন।উচ্চারণ
ইউসুফ নিজের গোলামদেরকে ইশারা করে বললো, “ওরা শস্যের বিনিময়ে যে অর্থ দিয়েছে তা চুপিসারে ওদের জিনিসপত্রের মধ্যেই রেখে দাও।” ইউসুফ এটা করলো এ আশায় যে, বাড়িতে পৌঁছে তারা নিজেদের ফেরত পাওয়া অর্থ চিনতে পারবে (অথবা এ দানশীলতার ফলে তারা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হবে) এবং বিচিত্র নয় যে, তারা আবার ফিরে আসবে। তাফহীমুল কুরআন
ইউসুফ তার ভৃত্যদেরকে বলে দিল, তারা যেন তাদের (অর্থাৎ ভাইদের) পণ্যমূল্য (যার বিনিময়ে তারা খাদ্য কিনেছে) তাদের মালপত্রের মধ্যে রেখে দেয়, #%৪১%# যাতে তারা নিজেদের পরিবারবর্গের কাছে ফিরে যাওয়ার পর তাদের পণ্যমূল্য চিনতে পারে। হয়ত (এই অনুগ্রহের কারণে) তারা পুনরায় আসবে।মুফতী তাকী উসমানী
ইউসুফ তার ভৃত্যদেরকে বললঃ তারা যে পণ্য মূল্য দিয়েছে তা তাদের মালপত্রের মধ্যে রেখে দাও, যাতে স্বজনদের কাছে প্রত্যাবর্তনের পর তারা বুঝতে পারে যে, ওটা প্রত্যর্পন করা হয়েছে, তা হলে তারা পুনরায় আসতে পারে।মুজিবুর রহমান
এবং সে ভৃত্যদেরকে বললঃ তাদের পণ্যমূল্য তাদের রসদ-পত্রের মধ্যে রেখে দাও-সম্ভবতঃ তারা গৃহে পৌঁছে তা বুঝতে পারবে, সম্ভবতঃ তারা পুনর্বার আসবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
ইউসুফ তার ভৃত্য-গণকে বলল, ‘এরা যে পণ্যমূল্য দিয়েছে তা এদের মালপত্রের মধ্যে রেখে দাও-যাতে স্বজনদের নিকট প্রত্যাবর্তনের পর এরা তা চিনতে পারে, তা হলে এরা পুনরায় আসতে পারে।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর সে তার যুবক কর্মচারীদেরকে বলল, ‘তাদের পণ্যমূল্য তাদের মালপত্রের মধ্যে রেখে দাও, যাতে পরিবারের নিকট ফিরে গিয়ে তারা তা চিনতে পারে। আশা করি তারা ফিরে আসবে’।আল-বায়ান
সে (ইউসুফ) তার খাদেমদেরকে বলল, ‘তারা যে পণ্যমূল্য দিয়েছে তা তাদের মাল পত্রের মধ্যে গোপনে রেখে দাও, যাতে তারা তাদের পরিবারবর্গের কাছে ফিরে গিয়ে তা জানতে পারে, তাহলে তারা আবার আসবে।’তাইসিরুল
আর তিনি তাঁর জোয়ানদের বললেন -- "তাদের দ্রব্যমূল্য তাদের মালপত্রের ভিতরে রেখে দাও যেন তাদের পরিবারবর্গের কাছে যখন তারা ফিরে যাবে তখন তারা এটা চিনতে পারে, তাহলে তারা ফিরে আসবে।"মাওলানা জহুরুল হক
হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম ভাইদের প্রতি এই অনুকম্পা দেখালেন যে, তারা খাদ্য ক্রয়ের জন্য যে মূল্য দিয়েছিল, তা তাদের মালপত্রের মধ্যে ফেরত রেখে দিলেন। সেকালে সোনা-রুপার মুদ্রার প্রচলন ছিল না। পণ্যমূল্য হিসেবে বিভিন্ন মালামাল ব্যবহৃত হত। কোন কোন রিওয়ায়াত দ্বারা জানা যায়, তারা কিনআন থেকে কিছু চামড়া ও জুতা নিয়ে এসেছিল। পণ্যমূল্য হিসেবে তারা সেগুলোই পেশ করল। হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম সেগুলোই তাদের মালপত্রের মধ্যে ফেরত রাখলেন। আর তিনি সম-পরিমাণ মূল্য যে নিজ পকেট থেকে সরকারি কোষাগারে জমা করেছিলেন, তা এমনিতেই বুঝে আসে।
৬২. ইউসুফ তাঁর কর্মচারীদেরকে বললেন, তারা যে পণ্যমূল্য দিয়েছে তা তাদের মালপত্রের মধ্যে রেখে দাও, যাতে স্বজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার পর তারা তা চিনতে পারে, যাতে তারা আবার ফিরে আসে।(১)
(১) এর কারণ কারও কারও মতে, ইউসুফ আলাইহিস সালাম ভয় পাচ্ছিলেন যে, তাদের সম্ভবত: পুনরায় ক্রয় করার মত অর্থ-কড়ি থাকবে না। ফলে তারা আর আসবে না। কারও কারও মতে, তিনি ভাইদের কাছ থেকে টাকা নিতে অস্বস্তি বোধ করছিলেন। কারও কারও মতে, তিনি জানতেন যে, তারা যখন দেখবে যে এ টাকা তাদেরই, যা তারা পণ্যের বিনিময়ে দিয়েছিল, তখন সেটা ফেরৎ দেয়ার জন্য হলেও মিশর আসবে। (ইবন কাসীর)
(৬২) ইউসুফ তার (কর্মচারী) যুবকদেরকে(1) বলল, ‘তাদের দেওয়া পণ্যমূল্য তাদের মালপত্রের মধ্যে রেখে দাও;(2) যাতে ওরা স্বজনগণের নিকট ফিরে যাওয়ার পর তারা তা চিনতে পারে, তাহলে সম্ভবতঃ তারা পুনরায় ফিরে আসবে।’
(1) فِتْيَانٌ (যুবকগণ) শব্দ থেকে এখানে তাদেরকে বোঝানো হয়েছে, যারা রাজদরবারে ভৃত্য-চাকর এবং খাদেম-সেবক ও গোলাম-দাস হিসেবে নিযুক্ত ছিল।
(2) এর অর্থ সেই পণ্যমূল্য বা পুঁজি যা ইউসুফ (আঃ)-এর ভায়েরা শস্য ক্রয় করার জন্য সঙ্গে নিয়ে এসেছিল। رِحَالٌ (সফর সামান বা মালপত্র)-এর অর্থ তাদের ঐসব সরঞ্জাম যা তাদের সফরের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। ‘পুঁজি’ গুপ্তভাবে তাদের সরঞ্জামে রেখে দেয়ার আদেশ এ জন্য দিয়েছিলেন যে, হয়তো দ্বিতীয়বার আসার জন্য তাদের কাছে পুঁজি না থাকলে এই পুঁজি নিয়েই চলে আসবে।