ওয়া লাম্মা-জাহহাঝাহুম বিজাহা-ঝিহিম ক-লা’তূনী বিআখিল্লাকুম মিন আবীকুম আলাতারওনা আন্নী ঊফিল কাইলা ওয়া আনা-খাইরুল মুনঝিলীন।উচ্চারণ
তারপর সে যখন তাদের জিনিসপত্র তৈরী করালো তখন চলার সময় তাদেরকে বললো, “তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইকে আমাদের কাছে আনবে, দেখছো না আমি কেমন পরিমাপ পাত্র ভরে দেই এবং আমি কেমন ভালো অতিথিপরায়ণ? তাফহীমুল কুরআন
ইউসুফ যখন তাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল, তখন সে তাদেরকে বলল, (আগামীতে) তোমরা তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইকেও আমার কাছে নিয়ে এসো। #%৪০%# তোমরা কি দেখছ না আমি পরিমাপ-পাত্র ভরে ভরে দেই এবং আমি উত্তম অতিথিপরায়ণও বটে?মুফতী তাকী উসমানী
আর সে যখন তাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল তখন সে বললঃ তোমরা আমার নিকট তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইকে নিয়ে এসো; তোমরা কি দেখছনা যে, আমি মাপে পূর্ণ মাত্রায় দিই? এবং আমি উত্তম মেযবান?মুজিবুর রহমান
এবং সে যখন তাদেরকে তাদের রসদ প্রস্তুত করে দিল, তখন সে বললঃ তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইকে আমার কাছে নিয়ে এসো। তোমরা কি দেখ না যে, আমি পুরা মাপ দেই এবং মেহমানদেরকে উত্তম সমাদার করি?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এবং সে যখন এদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল তখন সে বলল, ‘তোমরা আমার নিকট তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইকে নিয়ে আস। তোমরা কি দেখছ না যে, আমি মাপে পূর্ণমাত্রায় দেই এবং আমি উত্তম অতিথিপরায়ণ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর সে যখন তাদেরকে তাদের রসদসামগ্রী প্রস্তুত করে দিল, তখন বলল, ‘তোমরা তোমাদের পিতার পক্ষ হতে তোমাদের এক ভাইকে আমার কাছে নিয়ে আস, তোমরা কি দেখ না, আমি পরিমাপে পূর্ণমাত্রায় দেই এবং আমি উত্তম অতিথিপরায়ণ?আল-বায়ান
সে যখন তাদের দ্রব্য সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল তখন সে বলল, ‘তোমরা তোমাদের সৎ ভাইকে আমার কাছে নিয়ে আসবে, তোমরা কি দেখছ না, আমি কীভাবে পাত্র ভরে দেই, আর আমি উত্তম অতিথি সেবক।তাইসিরুল
আর তিনি যখন তাদের পরিবেশন করলেন তাদের রসদের দ্বারা তখন তিনি বললেন, "তোমরা তোমাদের পিতার তরফের তোমাদের ভাইকে আমার কাছে নিয়ে এস। তোমরা কি দেখো নি যে আমি আলবৎ পুরো মাপ দিই এবং আমি ভাল আপ্যায়ণকারী।মাওলানা জহুরুল হক
ঘটনা হয়েছিল এই যে, দশ ভাইয়ের প্রত্যেকে যখন মাথাপিছু একেক উট বোঝাই রসদ পেয়ে গেল, তখন তারা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামকে বলল, আমাদের একজন বৈমাত্রেয় ভাই আছে। আমাদের পিতার সেবার জন্য তার থাকার দরকার ছিল। তাই সে এখানে আসতে পারেনি। আপনি তার ভাগের রসদও আমাদেরকে দিয়ে দিন। এর জবাবে হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম বললেন, রেশন বণ্টনের জন্য যে নীতিমালা স্থির করা হয়েছে, সে অনুসারে আমি এরূপ করতে পারি না। বরং পরের বার আপনারা যখন আসবেন, তখন তাকেও সঙ্গে নিয়ে আসবেন। তখন আমি প্রত্যেককে তার অংশ পুরোপুরি দিয়ে দেব। তখন যদি তাকে সঙ্গে না আনেন, তবে নিজেদের অংশও পাবেন না। কেননা তখন বোঝা যাবে আপনারা মিথ্যা দাবী করেছেন যে, আপনাদের আরও এক ভাই আছে। যারা এরূপ মিথ্যা বলে ধোঁকা দেয় তারা রেশন পেতে পারে না।
৫৯. আর তিনি যখন তাদেরকে তাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিলেন তখন তিনি বললেন(১), তোমরা আমার কাছে তোমাদের পিতার পক্ষ থেকে বৈমাত্রেয় ভাইকে নিয়ে আস।(২) তোমরা কি দেখছ না যে, আমি মাপে পূর্ণ মাত্রায় দেই এবং আমি উত্তম অতিথিপরায়ণ।(৩)
(১) ভাইদের কাছে সব বিবরণ জানার পর তার মনে এরূপ আকাঙ্খার উদয় হওয়া স্বাভাবিক যে, তারা পুনর্বার আসুক। এজন্যে একটি প্রকাশ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করে তিনি স্বয়ং ভাইদেরকে বললেন, তোমরা যখন পুনর্বার আসবে, তখন তোমাদের সে ভাইকেও সঙ্গে নিয়ে এসো। তোমরা দেখতেই পাচ্ছ যে, আমি কিভাবে পুরোপুরি খাদ্যশস্য প্রদান করি এবং কিভাবে অতিথি আপ্যায়ন করি। এরপর একটি সাবধান বাণীও শুনিয়ে দিলেন, তোমরা যদি ভাইকে সাথে না আন, তবে আমি তোমাদের কাউকেই খাদ্যশস্য দেব না। কেননা, আমি মনে করব যে, তোমরা আমার সাথে মিথ্যা বলেছ। এভাবে তোমরা আমার কাছে আসবে না।
অপর একটি গোপন ব্যবস্থা এই করলেন যে, তারা খাদ্যশস্যের মূল্যবাবদ যে নগদ অর্থকড়ি কিংবা অলংকার জমা দিয়েছিল, সেগুলো গোপনে তাদের আসবাবপত্রের মধ্যে রেখে দেয়ার জন্য কর্মচারীদেরকে আদেশ দিলেন, যাতে বাড়ী পৌছে যখন তারা আসবাবপত্র খুলবে এবং নগদ অর্থ ও অলংকার পাবে, তখন যেন পুনর্বার খাদ্যশস্য নেয়ার জন্য আসতে পারে। মোটকথা, ইউসুফ 'আলাইহিস সালাম কর্তৃক এসব ব্যবস্থা সম্পন্ন করার কারণ ছিল এই যে, ভবিষ্যতেও ভাইদের আগমন যেন অব্যাহত থাকে এবং ছোট সহোদর ভাইয়ের সাথেও তার সাক্ষাত ঘটার সুযোগ উপস্থিত হয়। (দেখুন, কুরতুবী; ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)
(২) এ আয়াতাংশের দুটি অর্থ হতে পারে। এক. তোমরা তোমাদের পিতার কাছ থেকে আরেকজনকে নিয়ে আস, যাতে তোমরা আরও এক বোঝা বেশী নিতে পার। তোমরা কি দেখতে পাওনা যে, মিশরে আমি সুন্দরভাবে সওদার ওজন প্রদান করে থাকি। (তাবারী) তাছাড়া আরেকটি অনুবাদ হচ্ছে, তোমরা তোমাদের পিতার পক্ষীয় ভাই অর্থাৎ তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইকে নিয়ে আস। তোমরা তো দেখছ যে আমি পূর্ণ মাপ প্রদান করে থাকি। মাপে কম দেই না। (তাবারী; আত-তাফসীরুস সহীহ) কোন কোন তাফসীরে এসেছে যে, তারা কথায় কথায় তাদের অপর ভাইয়ের কথা ইউসুফের কাছে বর্ণনা করেছিল। তিনি তাদেরকে সেটার সত্যতা নিরূপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। যাতে করে তার আপন ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ হয়ে যায় (যামাখশারী; ফাতহুল কাদীর)
(৩) এর দুই অর্থ হতে পারে, এক. আমি সুন্দর অতিথি পরায়ণ। দুই. আমার এখানে মানুষ নিরাপদ। (কুরতুবী)
(৫৯) আর সে যখন তাদের খাদ্য-সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিল, তখন বলল, ‘তোমরা আমার নিকট তোমাদের বৈমাত্রেয় ভাইকে নিয়ে এস। তোমরা কি দেখছ না যে, আমি মাপে পূর্ণ মাত্রায় দিই এবং আমিই উত্তম অতিথিপরায়ণ? (1)
(1) ইউসুফ (আঃ) অপরিচিত থেকে স্বীয় ভাইদেরকে কিছু কথা জিজ্ঞেস করলে তারা অন্যান্য কথা বলার সাথে সাথে এটাও বলে ফেলল যে, আমরা দশ ভাই এখানে উপস্থিত রয়েছি, কিন্তু আরো দুজন বৈমাত্রেয় ভাই আছে, তাদের একজন তো জঙ্গলে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দ্বিতীয়জনকে আববা সান্ত্বনা স্বরূপ নিজের কাছে রেখে নিয়েছেন, আমাদের সাথে পাঠাননি। তখন ইউসুফ (আঃ) বললেন, আগামীতে তাকেও নিয়ে আসবে, তোমরা কি দেখ না যে, আমি মাপও পরিপূর্ণ দিচ্ছি এবং চমৎকাররূপে আতিথ্যও করছি।