۞وَمَآ أُبَرِّئُ نَفۡسِيٓۚ إِنَّ ٱلنَّفۡسَ لَأَمَّارَةُۢ بِٱلسُّوٓءِ إِلَّا مَا رَحِمَ رَبِّيٓۚ إِنَّ رَبِّي غَفُورٞ رَّحِيمٞ

ওয়ামাউবাররিউ নাফছী ইন্নান্নাফছা লাআম্মা-রতুম বিছছূই ইল্লা-মা-রহিমা রববী ইন্না রববী গাফূরুর রহীম।উচ্চারণ

আমি নিজের নফ্‌সকে দোষমুক্ত করছি না। নফ্‌স তো খারাপ কাজ করতে প্ররোচিত করে, তবে যদি কারোর প্রতি আমার রবের অনুগ্রহ হয় সে ছাড়া। অবশ্যি আমার রব বড়ই ক্ষমাশীল ও মেহেরবান।” তাফহীমুল কুরআন

আমি এ দাবী করি না যে, আমার মন সম্পূর্ণ পাক পবিত্র। বস্তুত মন সর্বদা মন্দ কাজেরই আদেশ করে। অবশ্য আমার রব্ব যদি দয়া করেন সেটা ভিন্ন কথা (সে অবস্থায় মনের কোন চাতুর্য চলে না)। নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। #%৩৪%#মুফতী তাকী উসমানী

আমি নিজকে নির্দোষ মনে করিনা, মানুষের মন অবশ্যই মন্দ কর্ম-প্রবণ। কিন্তু সে নয় যার প্রতি আমার রাব্ব অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয়ই আমার রাব্ব অতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।মুজিবুর রহমান

আমি নিজেকে নির্দোষ বলি না। নিশ্চয় মানুষের মন মন্দ কর্মপ্রবণ কিন্তু সে নয়-আমার পালনকর্তা যার প্রতি অনুগ্রহ করেন। নিশ্চয় আমার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সে বলল, ‘আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না, মানুষের মন অবশ্যই মন্দ কর্মপ্রবণ, কিন্তু সে নয়, যার প্রতি আমার প্রতিপালক দয়া করেন। আমার প্রতিপালক তো অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর আমি আমার নাফ্সকে পবিত্র মনে করি না, নিশ্চয় নাফ্স মন্দ কজের নির্দেশ দিয়ে থাকে, আমার রব যাকে দয়া করেন সে ছাড়া। নিশ্চয় আমার রব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’।আল-বায়ান

(সে বলল), ‘আমি নিজেকে দোষমুক্ত মনে করি না, নফস্ তো মন্দ কাজে প্ররোচিত করতেই থাকে, আমার প্রতিপালক যার প্রতি দয়া করেন সে ছাড়া। আমার প্রতিপালক বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু।’তাইসিরুল

আমি আমার নিজেকে মুক্ত বলি না, নিঃসন্দেহ মানুষমাত্রেরই মন্দের দিকে প্রবণতা রয়েছে, শুধু যাদের প্রতি আমার প্রভুর করুণা রয়েছে তারা ভিন্ন। নিঃসন্দেহ আমার প্রভু পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম কোন পর্যায়ের বিনয়ী ছিলেন এবং কেমন ছিল তাঁর আবদিয়াত বা আল্লাহর প্রতি দাসত্ব-চেতনার মাত্রা, তা লক্ষ্য করুন। খোদ সেই নারীদের স্বীকারোক্তি দ্বারা যখন তাঁর নির্দোষিতা প্রমাণ হয়ে গেছে তখনও তিনি বিন্দুমাত্র নিজ মাহাত্ম্য প্রকাশ করছেন না; বরং কেমন বিনয়ের সঙ্গে বলছেন, আমি যে কঠিন ফাঁদ থেকে বেঁচে গেছি এটা আমার কিছু কৃতিত্ব নয়। মন তো আমারও আছে। মন সর্বদা মন্দ কাজেরই উস্কানি দেয়। প্রকৃতপক্ষে এটা আল্লাহ তাআলারই দয়া। তিনি যাকে চান তাকে মনের ছলনা থেকে রক্ষা করেন। অবশ্য অন্যান্য দলীল-প্রমাণ দ্বারা এটা স্পষ্ট যে, আল্লাহ তাআলার এ দয়া ও রহমত কেবল সেই ব্যক্তির উপরই হয়, যে গুনাহ থেকে আত্মরক্ষার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা চালায়, যেমন হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম চালিয়েছিলেন। তিনি দৌঁড় দিয়ে দরজা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। সেই সঙ্গে আল্লাহ তাআলার দিকে রুজু হয়ে তাঁর আশ্রয়ও প্রার্থনা করেছিলেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৩. আর আমি নিজকে নির্দোষ মনে করিনা, কেননা নিশ্চয় মানুষের নাফস খারাপ কাজের নির্দেশ দিয়েই থাকে(১), কিন্তু সে নয়, যার প্রতি আমার রব দয়া করেন(২)। নিশ্চয় আমার রব অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

(১) এখানে আযীয-পত্নী কর্তৃক ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর নির্দোষিতা ঘোষিত হয়েছে। অর্থাৎ আযীয-পত্নী তখন বললেনঃ “এখন সত্য প্রকাশিত হয়েছে, আমিই তাকে ফুসলিয়েছিলাম, অবশ্যই সে (ইউসুফ) সত্যবাদীদের অন্তর্গত। আর এটা আমি এ জন্যই বলছি, যাতে করে সবাই জানতে পারে যে, আমি তার (ইউসুফের) অনুপস্থিতিতে তার প্রতি কোন মিথ্যা ও খেয়ানতের অপবাদ দিচ্ছি না। (ইবনুল কাইয়্যেম: রাওদাতুল মুহিব্বীন ২৯৯) আর অবশ্যই আল্লাহ তা'আলা যারা খেয়ানত করে তাদের চক্রান্ত সফল হতে দেন না। আর আমি আমার নিজ আত্মাকে নির্দোষ বলছি না। আত্মা তো খারাপ কাজের নির্দেশই দেয়, অবশ্য যাদেরকে আল্লাহ করুনা করেছেন, তাদের কথা ভিন্ন। নিঃসন্দেহে আমার রব অতীব ক্ষমাশীল, দয়াময়।” এ তিনটি আয়াতই আযীয-পত্নী বলেছিল। ইউসুফ আলাইহিস সালাম এর আত্মা নফসে আম্মারা বা খারাপ কাজের আদেশদানকারী আত্মা নয়। এ ব্যাপারে সত্যাম্বেষী আলেমগণ সবাই একমত। সুতরাং এখানে আযীয-পত্নী নিজ আত্মার কথাই বলেছে। আর তার আত্মা অবশ্যই নফসে আম্মারা ছিল, ইউসুফ 'আলাইহিস সালাম-এর আত্মা নয়। (দেখুন, ইবন কাসীর; ইবনুল কাইয়্যেম, রাওদাতুল মুহিববীন, ২৯৯-৩০০)

(২) মানব মন আপন সত্তার দিকে মন্দ কাজের আদেশদাতা। কিন্তু মানুষ যখন আল্লাহ ও আখেরাতের ভয়ে মনের আদেশ পালনে বিরত থাকে, তখন তা لَوَّامَة হয়ে যায়। অর্থাৎ মন্দ কাজের জন্য তিরস্কারকারী ও মন্দ কাজ থেকে তাওবাকারী এবং যখন কোন মানুষ নিজের মনের বিরুদ্ধে প্রচেষ্টা করতে করতে মনকে এ স্তরে পৌছিয়ে দেয় যে, তার মধ্যে মন্দ কাজের কোন স্পৃহাই অবশিষ্ট থাকে না, তখন তা مُطْمَئِنَّة হয়ে যায়। অর্থাৎ প্রশান্ত ও নিরুদ্বেগ মন। পুণ্যবানরা চেষ্টা-সাধনার মাধ্যমে এ স্তর অর্জন করতে পারে। (ইবনুল কাইয়্যেম, আর রূহ: ২২০)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৩) আমি নিজেকে নির্দোষ মনে করি না, (1) মানুষের মন অবশ্যই মন্দকর্ম প্রবণ, (2) কিন্তু সে নয় যার প্রতি আমার প্রতিপালক দয়া করেন।(3) নিশ্চয় আমার প্রতিপালক অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’

(1) এটা যদি ইউসুফ (আঃ)-এর উক্তি হয়, তাহলে এটা তাঁর পক্ষ থেকে আত্মবিনয়ের বহিঃপ্রকাশ। কেননা এটা সুস্পষ্ট যে, সব দিক থেকেই তাঁর পবিত্রতা সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছিল। পক্ষান্তরে এটা যদি মিশরের বাদশার স্ত্রীর কথা হয়, (যেমন ইবনে কাসীরের মত) তাহলে তা বাস্তবের উপরই প্রতিষ্ঠিত। কেননা সে নিজের অপরাধ এবং ইউসুফ (আঃ)-কে ফুসলানো ও ব্যভিচারে উদ্বুদ্ধ করানোর কথা স্বীকার করেছিল।

(2) এটা সে তার নিজের কৃত অপরাধের কারণ উল্লেখ করে বলছে যে, মানুষের মনের প্রবণতা এমন যে, সে তাকে মন্দ কর্মের প্রতি প্ররোচিত করে এবং খারাপ কাজের দিকে অগ্রসর করে।

(3) অর্থাৎ, মনের কুপ্রবণতা থেকে সেই বেঁচে থাকে, যার প্রতি আল্লাহর রহমত ও অনুকম্পা হয়। যেমন তিনি ইউসুফ (আঃ)-কে বাঁচিয়ে নিলেন।