ওয়া ক-লাল মালিকু’তূনী বিহী ফালাম্মা-জাআহুর রছূলুক-লারজি‘ ইলা-রব্বিকা ফাছআলহু মা-বা-লুন নিছওয়াতিল্লা-তী কাত্তা‘না আইদিয়াহুন্না ইন্না রববী বিকাইদিহিন্না ‘আলীম।উচ্চারণ
বাদশাহ বললো, “তাঁকে আমার কাছে আনো।” কিন্তু বাদশাহর দূত যখন ইউসুফের কাছে পৌঁছল তখন সে বললো, ৪২ তোমার প্রভুর কাছে ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস করো, যে মহিলারা হাত কেটে ফেলেছিল তাদের ব্যাপারটা কি? আমার রব তো তাদের চক্রান্ত সম্পর্কে অবগত।” ৪৩ তাফহীমুল কুরআন
বাদশাহ বলল, তাকে (অর্থাৎ ইউসুফকে) আমার কাছে নিয়ে এসো। সেমতে যখন তার কাছে দূত উপস্থিত হল, সে বলল, নিজ প্রভুর কাছে ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস কর, যে নারীগণ নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল তাদের অবস্থা কী? আমার প্রতিপালক তাদের ছলনা সম্পর্কে বেশ অবগত। #%৩৩%#মুফতী তাকী উসমানী
বাদশাহ বললঃ তোমরা ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এসো। যখন দূত তার কাছে উপস্থিত হল তখন সে বললঃ তুমি তোমার প্রভুর কাছে ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস করঃ যে নারীরা তাদের হাত কেটে ফেলেছিল তাদের অবস্থা কি? আমার রাব্ব তাদের ছলনা সম্যক অবগত।মুজিবুর রহমান
বাদশাহ বললঃ ফিরে যাও তোমাদের প্রভুর কাছে এবং জিজ্ঞেস কর তাকে ঐ মহিলার স্বরূপ কি, যারা স্বীয় হস্ত কর্তন করেছিল! আমার পালনকর্তা তো তাদের ছলনা সবই জানেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
রাজা বলল, ‘তোমরা ইউসুফকে আমার নিকট নিয়ে আস।’ যখন দূত তার নিকট উপস্থিত হল তখন সে বলল, ‘তুমি তোমার প্রভুর নিকট ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞাসা কর, যে নারীগণ হাত কেটে ফেলেছিল তাদের অবস্থা কী! নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক তাদের ছলনা সম্যক অবগত।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর বাদশাহ বলল, ‘তোমরা তাকে আমার কাছে নিয়ে আস’। অতঃপর যখন দূত তার কাছে আসল তখন, সে বলল, তুমি তোমার মনিবের নিকট ফিরে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা কর, যে সব মহিলা নিজ নিজ হাত কেটে ফেলেছিল তাদের অবস্থা কী? নিশ্চয় আমার রব তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত’।আল-বায়ান
রাজা বলল, ‘তোমরা তাকে (ইউসুফকে) আমার কাছে নিয়ে এসো।’ দূত যখন তার কাছে আসলো তখন ইউসুফ বলল, ‘তোমার প্রভুর কাছে ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস কর, সেই মহিলাদের ব্যাপারটি কী যারা তাদের হাত কেটে ফেলেছিল? আমার প্রতিপালক অবশ্যই তাদের কৌশল সম্পর্কে অবগত।’তাইসিরুল
আর রাজা বললেন -- "তাকে আমার কাছে নিয়ে এস।" সুতরাং যখন দূত তাঁর কাছে এল, তিনি বললেন -- "তোমার মনিবের কাছে ফিরে যাও এবং তাঁকে জিজ্ঞেস কর সেই নারীদের কি হল যারা তাদের হাত কেটেছিল। নিঃসন্দেহ আমাব প্রভু, তাদের ফন্দিফিকির সন্বন্ধে পূর্ণ ওয়াকিফহাল।"মাওলানা জহুরুল হক
৪২
এখান থেকে শুরু করে বাদশাহর সাথে সাক্ষাত পর্যন্ত আলোচনাটি এ কাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ সম্পর্কে যা কিছু কুরআনে বর্ণিত হয়েছে তার কোন উল্লেখ বাইবেল ও তালমূদে নেই। বাইবেলে বলা হয়েছে, বাদশাহর ডাকে হযরত ইউসুফ (আ) সঙ্গে সঙ্গেই চলে আসার জন্য প্রস্তুত হলেন। তিনি ক্ষৌরকর্ম শেষ করলেন, পোশাক বদলালেন এবং রাজ দরবারে হাযির হয়ে গেলেন। তালমূদ এর চাইতেও নিকৃষ্ট ভংগীতে এ ঘটনাকে পেশ করেছে। তার বর্ণনামতে, “বাদশাহ তার কর্মচারীদেরকে হুকুম দিলেন ইউসুফকে আমার সামনে হাজির করো এবং এ সঙ্গে এও নির্দেশ দিলেন যে, দেখো এমন কোন কাজ করো না যাতে ছেলেটি ভয় পেয়ে যায় এবং সঠিক তা’বীর দিতে না পারে। কাজেই রাজ কর্মচারীরা হযরত ইউসুফকে কারাগার থেকে বের করলো। তাঁর ক্ষৌরকর্ম সম্পন্ন করলো, পোশাক বদলালো এবং দরবারে নিয়ে এলো। বাদশাহ নিজের সিংহাসনে বসেছিলেন। সেখানে হীরা, মুক্তা, মনি-মাণিক্যের চোখ ধাঁধানো দৃশ্য ও দরবারের শান-শওকত দেখে ইউসুফ হতভম্ব হয়ে গেলেন এবং তাঁর দৃষ্টি বিস্ফারিত হয়ে গেলো। বাদশাহর সিংহাসনের সাতটি সিঁড়ি ছিল। নিয়ম ছিল, যখন কোন সম্মানিত ও মর্যাদাশালী ব্যক্তি কিছু বলতে চাইতেন তখন ছয়টি সিঁড়ি চড়ে ওপরে যেতেন এবং বাদশাহর সাথে কথা বলতেন। আর যখন নিম্ন শ্রেণীর কোন ব্যক্তিকে বাদশাহর সাথে কথা বলার জন্য ডাকা হতো তখন সে নিচে দাঁড়িয়ে থাকতো এবং বাদশাহ তৃতীয় সিঁড়িতে নেমে এসে তার সাথে কথা বলতেন। এ নিয়ম মোতাবেক ইউসুফ নীচে দাঁড়িয়ে ভূমি চুম্বন করে বাদশাহকে সালামী দিলেন এবং বাদশাহ তৃতীয় সিঁড়িতে নেমে এসে তাঁর সাথে কথা বললেন।” এ চিত্রে বনী ইসরাঈল তার মহান মর্যাদাশালী পয়গম্বরকে যেভাবে হেয় করে পেশ করেছে তা চোখের সামনে রেখে কুরআন তাঁর কারাগার থেকে বের হওয়া এবং বাদশাহর সাথে সাক্ষাত করার ঘটনাকে যে মর্যাদাপূর্ণ ও গৌরবময় ভংগীতে পেশ করেছে তা একবার পর্যালোচনা করে দেখুন। এখন একজন বিবেকবান ও বিচক্ষণ ব্যক্তি এ ফায়সালা করতে পারেন যে, এ দু’টি চিত্রের মধ্যে কোন্ চিত্রটি নবুওয়াতের মর্যাদার সাথে বেশী সামঞ্জস্যশীল। তাছাড়া সাধারণ বিচার বুদ্ধির দৃষ্টিতেও একথাটি ত্রুটিপূর্ণ মনে হয় যে, বাদশাহর সাথে সাক্ষাত করা পর্যন্ত যদি হযরত ইউসুফ এতই নিকৃষ্ট মর্যাদার অধিকারী থেকে থাকেন যেমন তালমূদের বর্ণনা থেকে জানা যায়, তাহলে স্বপ্নের তা’বীর শুনার পর অকস্মাৎ তাঁকে একেবারে সমগ্র রাজ্যের সার্বিক ক্ষমতার অধিকারী করে দেয়া হলো কেমন করে? একটি উন্নত ও সুসভ্য দেশে এতবড় মর্যাদা মানুষ তখনই লাভ করে যখন সে লোকদের কাছে নিজের নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে দেয়। কাজেই বুদ্ধিবৃত্তিক দিক দিয়েও বাইবেল ও তালমূদের তুলনায় কুরআনের বর্ণনাই বাস্তবতার সাথে বেশী সামঞ্জস্যশীল মনে হয়।
৪৩
অর্থাৎ আমার রব আল্লাহ তো আগে থেকেই জানেন যে, আমি নিরপরাধ। কিন্তু তোমাদের রব অর্থাৎ বাদশাহের ও আমার মুক্তির পূর্বে যে কারণে আমাকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে সে ব্যাপারটির পুরোপুরি অনুসন্ধান করে নেয়া উচিত। কারণ আমি কোন সন্দেহ ও অপবাদের কলঙ্ক মাথায় নিয়ে মানুষের সামনে যেতে চাই না। আমাকে মুক্তি দিতে চাইলে আগে আমি যে নিরপরাধ ছিলাম একথাটি সর্বসমক্ষে প্রমাণিত হওয়া উচিত। আসল অপরাধী ছিল তোমাদের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ। তারা নিজেরদের স্ত্রীদের অসচ্চরিত্রতার বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে আমার নিরপরাধ সত্তা ও নিষ্কলঙ্ক চরিত্রের ওপর।
হযরত ইউসুফ (আ) তাঁর এ দাবীকে যে ভাষায় পেশ করেছেন তা থেকে সুস্পষ্টভাবে একথা প্রকাশিত হয় যে, আযীযের স্ত্রীর ভোজের মজলিসে যে ঘটনা ঘটেছিল সে সম্পর্কে মিসরের বাদশাহ পুরাপুরি অবগত ছিলেন। বরং সেটি এমনি একটি বহুল প্রচারিত ঘটনা ছিল যে, সেদিকে কেবলমাত্র একটি ইঙ্গিতই যথেষ্টে ছিল।
তারপর এ দাবীতে হযরত ইউসুফ (আ) আযীযের স্ত্রীকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র যে মহিলাগুলো আংগুল কেটে ফেলেছিল তাদের ব্যাপারটি উত্থাপন করেই ক্ষান্ত হয়েছেন। এটি তাঁর চরম ভদ্রতা ও উন্নত হৃদয়বৃত্তির আর একটি প্রমাণ। আযীযের স্ত্রী তাঁর সাথে যে পর্যায়ের অসদ্ব্যবহার করে থাকুক না কেন তবুও তার স্বামী তাঁর উপকার করেছিলেন। তাই তার ইজ্জত-আবরুর ওপর হামলা করে কোন কথা তিনি বলতে চাননি।
এস্থলে কুরআন মাজীদ ঘটনার যে অংশ আপনা-আপনি বুঝে আসে তা লুপ্ত রেখেছে। অর্থাৎ, হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম স্বপ্নের যে ব্যাখ্যা দিলেন, তা বাদশাহকে জানানো হল। বাদশাহ সে ব্যাখ্যা শুনে তাঁর মর্যাদা উপলব্ধি করলেন এবং তার নিদর্শনস্বরূপ তাঁকে নিজের কাছে ডেকে আনাতে চাইলেন। এতদুদ্দেশ্যে তিনি নিজের একজন দূতকে পাঠালেন। দূত হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের কাছে গিয়ে এ বার্তা পৌঁছালে তিনি চাইলেন প্রথমে তার উপর আরোপিত মিথ্যা অভিযোগের মীমাংসা হয়ে যাক এবং তিনি যে নির্দোষ এটা সকলের সামনে পরিষ্কার হয়ে যাক। সেমতে তিনি দূতের সঙ্গে না গিয়ে বরং বাদশাহর কাছে বার্তা পাঠালেন, যে সকল নারী নিজেদের হাত কেটে ফেলেছিল আপনি প্রথমে তাদের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিন। সেই নারীদের যেহেতু ঘটনার আদি-অন্ত জানা ছিল তাই প্রকৃত বিষয়টা তাদের মাধ্যমেই জানা সহজ ছিল। এ কারণেই হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম যুলায়খার পরিবর্তে তাদের কথা উল্লেখ করেছেন। যদিও এ সত্য জেল থেকে বের হওয়ার পরও উদ্ঘাটন করা যেত, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি এ পন্থা অবলম্বন করেছিলেন সম্ভবত এজন্য যে, তিনি চাচ্ছিলেন, তিনি কতটা নির্দোষ তা বাদশাহ, আযীয ও অন্যান্যদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাক এবং তিনি যে নিজ নির্দোষিতার ব্যাপারে পরিপূর্ণ আত্মপ্রত্যয়ী, যদ্দরুণ নির্দোষিতা প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত জেল থেকে বের হতে পর্যন্ত রাজি নন এটাও তারা বুঝতে পারুক। দ্বিতীয়ত বাদশাহর ভাব-গতি দ্বারা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম অনুমান করতে পেরেছিলেন যে, তিনি তাকে বিশেষ কোন সম্মান দান করবেন। সেই সম্মান লাভের পর যদি ঘটনার তদন্ত করা হয়, তবে সে তদন্ত নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিতে পারে। এ কারণেই তিনি সমীচীন মনে করলেন, প্রথমে নিরপেক্ষ তদন্ত দ্বারা অভিযোগের সবটা কলঙ্ক ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাক, তারপরেই তিনি কারাগার থেকে বের হবেন। আল্লাহ তাআলা করলেনও তাই। বাদশাহর পরিপূর্ণ বিশ্বাস হয়ে গেল হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম নির্দোষ ও নিষ্কলুষ। অতঃপর তিনি যখন সেই নারীদের ডাকলেন এবং তিনি যেন সবকিছু জানেন এই ভাব নিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তারা প্রকৃত সত্য অস্বীকার করতে পারল না। বরং তারা পরিষ্কার ভাষায় সাক্ষ্য দিল হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম সম্পূর্ণ নির্দোষ। এ পর্যায়ে আযীয-পত্নী যুলায়খাকেও স্বীকার করতে হল যে, প্রকৃতপক্ষে ভুল তারই ছিল। সম্ভবত আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ছিল যুলায়খাকে এই সুযোগ দেওয়া, যাতে সে নিজের অপরাধ স্বীকার ও তাওবার মাধ্যমে নিজেকে পবিত্র ও শুদ্ধ করে নিতে পারে।
৫০. আর রাজা বলল, তোমরা ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে আস(১)। অতঃপর যখন দূত তার কাছে উপস্থিত হল তখন তিনি বললেন, তুমি তোমার মনিবের কাছে ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস কর, যে নারীরা হাত কেটে ফেলেছিল তাদের অবস্থা কি! নিশ্চয় আমার রব তাদের ছলনা সম্পর্কে সম্যক অবগত।(২)
(১) ঘটনার গতিধারা দেখে বোঝা যায় যে, এ ব্যক্তি স্বপ্নের ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে এসেছে এবং বাদশাহকে তা অবহিত করেছে। (কুরতুবী) বাদশাহ বৃত্তান্ত নিশ্চিন্ত ও ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর গুণ-গরিমায় মুগ্ধ হয়েছেন। (ইবন কাসীর) কিন্তু কুরআনুল কারীম এসব বিষয়ের উল্লেখ করা দরকার মনে করেনি। কারণ, এগুলো আপনা থেকেই বোঝা যায়। পরবর্তী ঘটনা বর্ণনা করে বলা হয়েছেঃ (وَقَالَ الْمَلِكُ ائْتُونِي بِهِ) অর্থাৎ বাদশাহ আদেশ দিলেন যে, ইউসুফ আলাইহিস সালাম-কে কারাগার থেকে বাইরে নিয়ে আসো। অতঃপর বাদশাহর জনৈক দূত এ বার্তা নিয়ে কারাগারে পৌছল। (ইবন কাসীর)
(২) ইউসুফ আলাইহিস সালাম দীর্ঘ বন্দীজীবনের দুঃসহ যাতনায় অতিষ্ট হয়ে পড়েছিলেন এবং মনে মনে মুক্তি কামনা করছিলেন। কাজেই বাদশাহর প্রেরিত বার্তাকে সুবর্ণ সুযোগ মনে করে তিনি তৎক্ষণাৎ প্রস্তুত হয়ে বের হয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর কাজের প্রশংসা করে বলেনঃ যদি ইউসুফের মত আমি এত বছর জেল খাটতাম, তারপর আমার কাছে বের হওয়ার আহবান আসত তাহলে আমি সে ডাকে তৎক্ষণাৎ সাড়া দিতাম। (বুখারীঃ ৬৯৯২, মুসলিমঃ ১৫১) এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম মূলতঃ নিজেকে নম্রভাবে পেশ করে ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর মর্যাদা বৃদ্ধি করতে চেয়েছিলেন। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেও এর চেয়ে বেশী কষ্টের শি'আবে আবী তালেবে কাটিয়েছিলেন। কিন্তু তিনিও আপোষ করেননি।
আল্লাহ তা'আলা নবীগণকে যে উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন, তা অন্যের পক্ষে অনুধাবন করাও সম্ভব নয়। ইউসুফ আলাইহিস সালাম দূতকে উত্তর দিলেন, তুমি বাদশাহর কাছে ফিরে গিয়ে প্রথমে জিজ্ঞেস কর যে, আপনার মতে ঐ মহিলাদের ব্যাপারটি কিরূপ, যারা হাত কেটে ফেলেছিল? বাদশাহ এ ব্যাপারে আমাকে সন্দেহ করেন কি না এবং আমাকে দোষী মনে করেন কি না? এখানে এ বিষয়টিও প্রণিধানযোগ্য যে, ইউসুফ আলাইহিস সালাম এখানে হস্তকৰ্তনকারিণী মহিলাদের কথা উল্লেখ করেছেন, আযীয-পত্নীর নাম উল্লেখ করেননি; অথচ সে-ই ছিল ঘটনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। বলাবাহুল্য, এতে ঐ নিমকের কদর করা হয়েছে, যা ইউসুফ আলাইহিস সালাম আযীযের গৃহে লালিত-পালিত হয়ে খেয়েছিলেন। (কুরতুবী)
(৫০) রাজা বলল, ‘তোমরা ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এস।’(1) সুতরাং যখন দূত তার কাছে উপস্থিত হল, তখন সে বলল, ‘তুমি তোমার প্রভুর কাছে ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞাসা কর, যে মহিলারা তাদের হাত কেটে ফেলেছিল, তাদের অবস্থা কি?(2) আমার প্রতিপালক তাদের ছলনা সম্বন্ধে সম্যক অবগত।’
(1) উদ্দেশ্য এই যে, যখন সেই ব্যক্তি ব্যাখ্যা নিয়ে বাদশার নিকট গেল ও ব্যাখ্যা বর্ণনা করল, তখন সেই ব্যাখ্যা ও ইউসুফ (আঃ)-এর বলা তদবীর শ্রবণ করে বাদশাহ বড় প্রভাবিত হলেন এবং তিনি অনুমান করলেন যে, এই ব্যক্তি, যাঁকে বেশ কিছুদিন থেকে জেলে রাখা হয়েছে, তিনি অসাধারণ জ্ঞান, মর্যাদা ও উচ্চ যোগ্যতার অধিকারী। সুতরাং বাদশাহ তাঁকে দরবারে উপস্থিত করার জন্য আদেশ দিলেন।
(2) ইউসুফ (আঃ) যখন দেখলেন যে, এখন বাদশাহ সম্মান দিতে প্রস্তুত, তখন তিনি এইভাবে শুধু অনুগ্রহের পাত্র হয়ে জেল থেকে বের হওয়া পছন্দ করলেন না। বরং আপন চরিত্রকে উচ্চ এবং নিজের পবিত্রতাকে সাব্যস্ত করাকে প্রাধান্য দিলেন, যাতে পৃথিবীর সামনে তাঁর নির্মল চরিত্র ও সুউচ্চ মর্যাদা পরিষ্ফুটিত হয়ে যায়। কারণ একজন (দায়ী) আল্লাহর পথে আহবানকারীর জন্য এই পবিত্রতা ও মহান চরিত্র খুবই জরুরী।