ওয়া ক-লাল্লাযীনাজা-মিনহুমা-ওয়াদ্দাকার বা‘দা উম্মাতিন আনা-উনাব্বিউকুম বিতাবীলিহী ফাআরছিলূন।উচ্চারণ
সেই দু’জন কয়েদীর মধ্য থেকে যে বেঁচে গিয়েছিল এবং দীর্ঘকাল পরে এখন যার মনে পড়েছিল, সে বললো, “আমি আপনাদের এর তা’বীর বলে দিচ্ছি, আমাকে একটু (কারাগারে ইউসুফের কাছে) পাঠিয়ে দিন।” ৩৮ তাফহীমুল কুরআন
সেই দুই কয়েদীর মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল এবং দীর্ঘকাল পর যার (ইউসুফের কথা) স্মরণ হয়েছিল, সে বলল, আমি আপনাদেরকে এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানিয়ে দিচ্ছি। সুতরাং আপনারা আমাকে (কারাগারে ইউসুফের কাছে) পাঠিয়ে দিন। #%৩০%#মুফতী তাকী উসমানী
দু’জন কারারুদ্ধের মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল এবং দীর্ঘকাল পরে তার স্মরণ হলে সে বললঃ আমি এর তাৎপর্য তোমাদেরকে জানিয়ে দিব, সুতরাং তোমরা আমাকে পাঠিয়ে দাও।মুজিবুর রহমান
দু’জন কারারুদ্ধের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি মুক্তি পেয়েছিল এবং দীর্ঘকাল পর স্মরণ হলে, সে বলল, আমি তোমাদেরকে এর ব্যাখ্যা বলছি। তোমরা আমাকে প্রেরণ কর।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
দু’জন কারারুদ্ধের মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল এবং দীর্ঘকাল পরে যার স্মরণ হল সে বলল, ‘আমি এটার তাৎপর্য তোমাদেরকে জানিয়ে দিব। সুতরাং তোমরা আমাকে পাঠাও।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর সে দু’জনের মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল, সে বলল এবং দীর্ঘ দিন পর তার স্মরণ হল, ‘আমি তোমাদেরকে এর ব্যাখ্যা জানিয়ে দিচ্ছি, অতএব তোমরা আমাকে পাঠিয়ে দাও’।আল-বায়ান
দু’জনের মধ্যে যে জন জেল থেকে মুক্তি পেয়েছিল আর দীর্ঘকাল পর যার স্মরণ হল সে বলল, ‘আমি তোমাদেরকে তার ব্যাখ্যা বলে দেব, তবে তোমরা আমাকে (জেলখানায় ইউসুফের কাছে) পাঠাও।তাইসিরুল
আর সেই দুইজনের যে মুক্তি পেয়েছিল ও দীর্ঘকাল পরে যার মনে পড়ল সে বললে -- "আমিই এর তাৎপর্য আপনাদের জানিয়ে দেব, সেজন্যে আমাকে পাঠিয়ে দিন।"মাওলানা জহুরুল হক
৩৮
কুরআন এখানে ঘটনার আলোচনা সংক্ষেপে সেরে দিয়েছে। বাইবেল ও তালমূদে এর যে বিস্তারিত বিবরণ এসেছে (বস্তুত যুক্তির আলোকে এ বিবরণই সঠিক মনে হয়।) তা হচ্ছে এইঃ মদ পরিবেশকদের সরদার ইউসুফ আলাইহিস সালামের অবস্থা বাদশাহর কাছে বর্ণনা করে এবং এ সঙ্গে জেলখানায় তাদের স্বপ্ন এবং হযরত ইউসুফ (আ) তার যে তা’বীর করেছিলেন আর এ তা’বীর যেভাবে সত্য প্রমাণিত হয়েছে তা সবই তার সামনে তুলে ধরে। শেষে সে বাদশাহর কাছে আবেদন করে, আমি জেলখানায় গিয়ে তাঁর কাছ থেকে এর তা’বীর জিজ্ঞেস করে আসবো, আমাকে সেখানে যাবার অনুমতি দেয়া হোক।
এ হচ্ছে সেই বন্দী, যার স্বপ্নের ব্যাখ্যায় হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম বলেছিলেন, সে জেল থেকে মুক্তি লাভ করবে। তিনি তাকে তার মুক্তিকালে একথাও বলেছিলেন যে, তুমি তোমার প্রভুর কাছে আমার কথা বলো। কিন্তু সে তা বলতে ভুলে গিয়েছিল। বাদশাহ যখন নিজ স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানতে চাইলেন, তখন তার মনে পড়ল যে, আল্লাহ তাআলা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামকে স্বপ্ন-ব্যাখ্যার বিশেষ জ্ঞান দান করেছেন। এই স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যাদান তাঁর পক্ষেই সম্ভব। তাই সে বাদশাহকে বলল, কারাগারে একজন লোক আছে। সে স্বপ্নের ভাল ব্যাখ্যা করতে পারে। আপনি আমাকে তার কাছে পাঠিয়ে দিন। কুরআন মাজীদ কোন গল্পগ্রন্থ নয়। এতে যে ঘটনা বর্ণিত হয়, তার বিশেষ কোন উদ্দেশ্য থাকে। এ কারণেই ঘটনা বর্ণনায় কুরআনী রীতি হয়, যেসব খুঁটিনাটি শ্রোতা নিজেই বুঝে নিতে সক্ষম, কুরআন তা বর্ণনা করে না। সুতরাং এখানেও পরিষ্কার শব্দে একথা বলার দরকার মনে করা হয়নি যে, তারপর বাদশাহ তাকে কারাগারে পাঠালেন। সেখানে হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের সঙ্গে তার সাক্ষাত হল এবং সে তাকে বলল...। বরং সরাসরি কথা শুরু করা হয়েছে এখান থেকে যে, ইউসুফ! ওহে সেই ব্যক্তি, যার সব কথা সত্য হয়।
৪৫. আর সে দুজন কারারুদ্ধের মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল এবং দীর্ঘকাল পরে যার স্মরণ হল সে বলল, আমি এর তাৎপর্য তোমাদেরকে জানিয়ে দেব। কাজেই তোমরা আমাকে পাঠাও।(১)
(১) এ ঘটনা দেখে দীর্ঘকাল পর ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর কথা মুক্তিপ্রাপ্ত সেই কয়েদীর মনে পড়ল। সে অগ্রসর হয়ে বললঃ আমি এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলতে পারব। তখন সে ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর গুণাবলী, স্বপ্ন ব্যাখ্যায় পারদর্শিতা এবং মজলুম হয়ে কারাগারে আবদ্ধ হওয়ার কথা বর্ণনা করে অনুরোধ করল যে, তাকে কারাগারে ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর সাথে সাক্ষাতের অনুমতি দেয়া হোক। বাদশাহ এ সাক্ষাতের ব্যবস্থা করলেন এবং সে ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর কাছে উপস্থিত হল। (ইবন কাসীর) কুরআনুল কারীম এসব ঘটনাকে একটি মাত্র শব্দ فَأَرْسِلُونِ দ্বারা বর্ণনা করেছে। এর অর্থ আমাকে পাঠিয়ে দিন। ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর নাম উল্লেখ, সরকারী মঞ্জুরী অতঃপর কারাগারে পৌছা এসব ঘটনা আপনা-আপনি বোঝা যায়।
(৪৫) দু’জন কারা-বন্দীর মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল এবং দীর্ঘকাল পরে তার স্মরণ হল সে বলল, ‘আমি এর তাৎপর্য তোমাদেরকে জানিয়ে দেব, সুতরাং তোমরা আমাকে পাঠিয়ে দাও।’ (1)
(1) এ ব্যক্তি জেলখানার সঙ্গীদ্বয়ের একজন ছিল, যে অবিলম্বে ছাড়া পাবে। তাকে ইউসুফ (আঃ) বলেছিলেন যে, ‘তুমি তোমার প্রভুর (মালিকের) নিকট আমার কথা বলবে, যাতে আমিও মুক্ত হতে পারি।’ সেই ব্যক্তির হঠাৎ স্মরণ হল এবং সে বলল, ‘আমাকে সময় দাও, আমি তোমাদেরকে এই স্বপ্নের তাৎপর্য বলে দেব।’ সুতরাং সেখান থেকে বের হয়ে সে সোজা ইউসুফ (আঃ)-এর নিকট গেল এবং স্বপ্নের বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে তার তাৎপর্য জানতে চাইল।