ওয়া ক-লা লিল্লাযী জান্না আন্নাহূনা-জিম মিনহুমাযকুরনী ‘ইনদা রব্বিকা ফাআনছাহুশশাইতা-নুযিকর রব্বিহী ফালাবিছা ফিছছিজনি বিদ‘আ ছিনীন।উচ্চারণ
আবার তাদের মধ্য থেকে যার সম্পর্কে ধারণা ছিল যে, সে মুক্তি পাবে ইউসুফ তাকে বললোঃ “তোমার প্রভুকে (মিসরের বাদশাহ) আমার কথা বলো।” কিন্তু শয়তান তাকে এমন গাফেল করে দিল যে, সে তার প্রভুকে (মিসরের বাদশাহ) তার কথা বলতে ভুলে গেলো। ফলে ইউসুফ কয়েক বছর কারাগারে পড়ে রইলো। ৩৫ তাফহীমুল কুরআন
সেই দু’জনের মধ্যে যার সম্পর্কে তার ধারণা ছিল যে, সে মুক্তি পাবে, ইউসুফ তাকে বলল, নিজ প্রভুর কাছে আমার কথাও বলো। #%২৮%# কিন্তু শয়তান তাকে নিজ প্রভুর কাছে ইউসুফের বিষয়ে বলার কথা ভুলিয়ে দিল। সুতরাং সে কয়েক বছর কারাগারে থাকল।মুফতী তাকী উসমানী
ইউসুফ তাদের মধ্যে যে মুক্তি পাবে মনে করল, তাকে বললঃ তোমার প্রভুর কাছে আমার কথা বল; কিন্তু শাইতান তাকে তার প্রভুর কাছে তার বিষয়ে বলার কথা ভুলিয়ে দিল। সুতরাং ইউসুফ কয়েক বছর কারাগারে রইল।মুজিবুর রহমান
যে ব্যক্তি সম্পর্কে ধারণা ছিল যে, সে মুক্তি পাবে, তাকে ইউসুফ বলে দিলঃ আপন প্রভুর কাছে আমার আলোচনা করবে। অতঃপর শয়তান তাকে প্রভুর কাছে আলোচনার কথা ভুলিয়ে দিল। ফলে তাঁকে কয়েক বছর কারাগারে থাকতে হল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
ইউসুফ এদের মধ্যে যে মুক্তি পাবে মনে করল, তাকে বলল, ‘তোমার প্রভুর নিকট আমার কথা বল’, কিন্তু শয়তান একে এর প্রভুর নিকট তার বিষয় বলার কথা ভুলিয়ে দিল; সুতরাং ইউসুফ কয়েক বৎসর কারাগারে রইল।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তাদের দু’জনের মধ্যে যে মুক্তি পাবে বলে সে ধারণা করল তাকে বলল, ‘তোমার মনিবের কাছে আমার কথা উল্লেখ করবে’। কিন্তু শয়তান তাকে স্বীয় মনিবের নিকট উল্লেখ করার বিষয়টি ভুলিয়ে দিল। ফলে সে কয়েক বছর কারাগারে অবস্থান করল।আল-বায়ান
তাদের দু’জনের মধ্যে যে জন মুক্তি পাবে ব’লে সে (ইউসুফ) মনে করল তাকে বলল, ‘তোমার প্রভুর কাছে আমার সম্পর্কে বলিও।’ কিন্তু শয়তান তাকে তার প্রভুর কাছে ইউসুফের কথা উল্লেখ করতে ভুলিয়ে দিল। ফলে ইউসুফ বেশ কয়েক বছর কারাগারে আটক থেকে গেল।তাইসিরুল
আর দুইজনের মধ্যে যাকে তিনি জানতেন যে সে মুক্তি পাবে তাকে তিনি বললেন, "তোমার প্রভুর কাছে আমার কথা বলো।" কিন্তু শয়তান তাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল তার প্রভুর কাছে স্মরণ করিয়ে দিতে, তাই তিনি কারাগারে থাকলেন আরো কয়েক বছর।মাওলানা জহুরুল হক
৩৫
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় কোন কোন মুফাসসির বলেছেন, “শয়তান হযরত ইউসুফকে তাঁর রবের (অর্থাৎ আল্লাহ) স্মরণ থেকে গাফেল করে দেয় এবং তিনি এক বান্দার কাছে চান যে, সে তার রবের (মিসরের বাদশাহর) কাছে তার কথা আলোচনা করে তার কারামুক্তির চেষ্টা করুক, তাই আল্লাহ তাঁকে কয়েক বছর জেলখানা পড়ে থাকার শাস্তি দেন।” মূলত এটি পুরোপুরি একটি ভুল ব্যাখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। এর সঠিক ব্যাখ্যা হচ্ছে, যেমন আল্লামা ইবনে কাসীর এবং প্রথম যুগের তাফসীরকারদের মধ্যে মুজাহিদ, মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক ইত্যাদি তাফসীরকারগণ বলেন, فَأَنْسَاهُ الشَّيْطَانُ ذِكْرَ رَبِّهِ (শয়তান তাকে ভুলিয়ে দেয় তার রবের বা প্রভুর স্মরণ) এর মধ্যে “তার” বলতে সেই ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে যার সম্পর্কে হযরত ইউসুফের ধারণা ছিল যে, সে মুক্তি পাবে এবং এ আয়াতের মানে হচ্ছে, “শয়তান তার প্রভুর কাছে হযরত ইউসুফের বিষয়টা উত্থাপন করার কথা ভুলিয়ে দিয়েছিল।” এ প্রসঙ্গে একটি হাদীসও পেশ করা হয়। হাদীসটিতে বলা হয়েছেঃ নবী ﷺ বলেছেন, “ইউসুফ আলাইহিস সালাম যে কথা বলেছিলেন সে কথা যদি তিনি না বলতেন তাহলে তিনি কয়েক বছর কারাগারে আটক থাকতেন না।” কিন্তু আল্লামা ইবনে কাসীর বলেছেনঃ “এ হাদীস যে ক’টি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে সব কটিই দুর্বল। কোন কোন সূত্রে এটি “মরফূ” হাদীস। সেখানে বর্ণনাকারী হচ্ছে সুফিয়ান ইবন ওয়াকী’ ও ইবরাহীম ইবনে ইয়াযীদ। এরা উভয়ই অনির্ভরযোগ্য। আবার কোন কোন সূত্রে এটি “মুরসাল” হাদীস। কিন্তু এ ধরনের বিষয়ে মুরসাল হাদীসের ওপর ভরসা করা যেতে পারে না।” এছাড়া একজন মজলুম ব্যক্তি নিজের মুক্তির জন্য পার্থিব পন্থা অবলম্বন করাকে আল্লাহ থেকে গাফলতির ও তাঁর প্রতি অনির্ভরশীলতার প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হবে---একথা যুক্তির দিক দিয়েও গ্রহণযোগ্য নয়।
‘প্রভু’ বলে বাদশাহকে বোঝানো হয়েছে। হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম যে বন্দী সম্পর্কে বলেছিলেন যে, সে মুক্তি লাভ করবে এবং ফিরে গিয়ে নিজ প্রভুকে যথারীতি মদ পান করাবে, তাকে বললেন, তুমি নিজ প্রভু অর্থাৎ, বাদশাহর কাছে আমার কথা বলো যে, একজন নিরপরাধ লোক জেলখানায় পড়ে রয়েছে। তার ব্যাপারে আপনার হস্তক্ষেপ করা উচিত। কিন্তু আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা যে, সেই লোক বাদশাহকে এ কথা বলতে ভুলে গেল, যে কারণে তাঁকে কয়েক বছর পর্যন্ত কারাগারে পড়ে থাকতে হল।
৪২. আর ইউসুফ তাদের মধ্যে যে মুক্তি পাবে মনে করলেন, তাকে বললেন, তোমার মনিবের কাছে আমার কথা বলো, কিন্তু শয়তান তাকে তার মনিবের কাছে তার বিষয় বলার কথা ভুলিয়ে দিল; কাজেই ইউসুফ কয়েক বছর কারাগারে রয়ে গেলেন।(১)
(১) এ আয়াতের দুটি অর্থ করা হয়ে থাকে,
এক. বন্দী দু'জনের মধ্যে যে ব্যক্তি সম্পর্কে ধারণা ছিল যে, সে রেহাই পাবে, তাকে ইউসুফ আলাইহিস সালাম বললেনঃ যখন তুমি মুক্ত হয়ে কারাগারের বাইরে যাবে এবং শাহী দরবারে পৌছবে, তখন বাদশাহর কাছে আমার বিষয়েও আলোচনা করবে যে, এ নিরপরাধ লোকটি কারাগারে পড়ে রয়েছে। কিন্তু মুক্ত হয়ে লোকটি ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর কথা ভুলে গেল। এ হিসাবে فَأَنْسَاهُ এর মধ্যে ব্যবহৃত সর্বনামটি দ্বারা সেই বন্দী লোকটিকে বুঝানো হবে। ফলে ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর মুক্তি আরো বিলম্বিত হয়ে গেল এবং এ ঘটনার পর আরো কয়েক বছর তাকে কারাগারে কাটাতে হল। (কুরতুবী; ইবন কাসীর)
দুই. মুজাহিদ রাহেমাহুল্লাহ বলেনঃ ইউসুফ আলাইহিসসালাম বন্দীর প্রভু বা রাজার কাছে তার কথা উল্লেখ করার কথা বলেছিলেন। এতে করে তিনি যেহেতু তার প্রভু রাব্বুল আলামিনকে ভুলে গিয়েছিলেন এর শাস্তি স্বরূপ তাকে বেশ কয়েক বছর জেলে কাটাতে হয়েছে। এ হিসাবে فَأَنْسَاهُ শব্দের মধ্যে ব্যবহৃত সর্বনামটি দ্বারা ইউসুফ আলাইহিস সালামকে বুঝানো হবে। (কুরতুবী; ইবন কাসীর)
আয়াতে (بِضْعَ سِنِينَ) বলা হয়েছে। শব্দটি তিন থেকে নয় পর্যন্ত সংখ্যা বোঝায়। কোন কোন মুফাসসির বলেনঃ এ ঘটনার পর আরো সাত বছর তাকে জেলে থাকতে হয়েছে। (কুরতুবী; ইবন কাসীর)
(৪২) ইউসুফ তাদের মধ্যে যে মুক্তি পাবে মনে করল, তাকে বলল, ‘তোমার প্রভুর কাছে আমার কথা বলো।’ কিন্তু শয়তান তাকে তার প্রভুর কাছে তার বিষয় বলবার কথা ভুলিয়ে দিল; সুতরাং ইউসুফ কয়েক বছর কারাগারে থেকে গেল। (1)
(1) بضع শব্দটি তিন থেকে নয় পর্যন্ত সংখ্যার জন্য ব্যবহার হয়। অহাব বিন মুনাব্বেহ বলেন, আইয়ুব (আঃ) তাঁর ব্যাধি অবস্থায় এবং ইউসুফ (আঃ) জেলখানায় সাত বছর ছিলেন। আর বুখতে নাসরের আযাবও সাত বছর ছিল। পক্ষান্তরে অনেকে বলেন, বারো বছর এবং অনেকের মতে চৌদ্দ বছর জেলখানাতে ছিলেন। আর আল্লাহই ভালো জানেন।