আল্লাযীনা ইযাআসা-বাতহুম মুসীবাতুন ক-লূইন্না-লিল্লা-হি ওয়াইন্না-ইলাইহি রজি‘ঊন।উচ্চারণ
এবং যখনই কোন বিপদ আসে বলেঃ “আমরা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর দিকে আমাদের ফিরে যেতে হবে, ১৫৬ — তাদেরকে সুসংবাদ দিয়ে দাও। তাফহীমুল কুরআন
যারা তাদের কোনও মুসিবত দেখা দিলে বলে ওঠে, ‘আমরা সকলে আল্লাহরই এবং আমাদেরকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে। #%১১১%#মুফতী তাকী উসমানী
যাদের উপর কোন বিপদ নিপতিত হলে তারা বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।মুজিবুর রহমান
যখন তারা বিপদে পতিত হয়, তখন বলে, নিশ্চয় আমরা সবাই আল্লাহর জন্য এবং আমরা সবাই তাঁরই সান্নিধ্যে ফিরে যাবো।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যারা তাদের ওপর বিপদ আপতিত হলে বলে, ‘আমরা তো আল্লাহ্ র ই এবং নিশ্চিতভাবে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যারা, তাদেরকে যখন বিপদ আক্রান্ত করে তখন বলে, নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।আল-বায়ান
নিশ্চয়ই যারা বিপদকালে বলে থাকে, ‘আমরা আল্লাহরই আর আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী’।তাইসিরুল
যারা তাদের উপরে কোনো আপদ-বিপদ ঘটলে বলে -- “নিঃসন্দেহ আমরা আল্লাহ্র জন্যে, আর অবশ্যই আমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তনকারী।”মাওলানা জহুরুল হক
১৫৬
বলার অর্থ কেবল মুখে বলা নয় বরং মনে মনে একথা স্বীকার করে নেয়া যে, “আমরা আল্লাহর কর্তত্বাধীন।” তাই আল্লাহর পথে আমাদের যে কোন জিনিস কুরবানী করা হয়, তা ঠিক তার সঠিক ক্ষেত্রেই ব্যয়িত হয়। যার জিনিস ছিল তার কাজেই ব্যয়িত হয়েছে। আর “আল্লাহ্রই দিকে আমাদের ফিরে যেতে হবে”---এর অর্থ হচ্ছে, চিরকাল আমাদের এ দুনিয়ায় থাকতে হবে না। অবশেষে একদিন আল্লাহরই কাছে যেতে হবে। কাজেই তাঁর পথে লড়াই করে প্রাণ দান করে তাঁর কাছে চলে যাওয়াটাই তো ভালো। এভাবে মৃত্যুবরণ করে তাঁর কাছে চলে যাওয়াটা আমাদের স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করে কোন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে বা রোগে ভুগে মৃত্যুবরণ করে তাঁর কাছে চলে যাওয়ার চাইতে লাখো গুণে শ্রেয়।
এ বাক্যের ভেতর প্রথমত এই সত্যের স্বীকারোক্তি রয়েছে যে, আমরা সকলেই যেহেতু আল্লাহর মালিকানাধীন তাই আমাদের ব্যাপারে তাঁর যে-কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার আছে। আবার আমরা যেহেতু তাঁরই, আর কেউ নিজের জিনিসের অমঙ্গল চায় না তাই আমাদের সম্পর্কে তাঁর যে-কোনও ফায়সালা আমাদের কল্যাণার্থেই হবে; হতে পারে তাৎক্ষণিকভাবে সে কল্যাণ আমাদের বুঝে আসছে না। দ্বিতীয়ত এর মধ্যে এই সত্যেরও প্রকাশ রয়েছে যে, একদিন আমাকেও আল্লাহ তাআলার কাছে সেই জায়গায় যেতে হবে যেখানে আমার আত্মীয় বা প্রিয়জন চলে গেছে। কাজেই এ বিচ্ছেদ সাময়িক, স্থায়ী নয়। আর আমি যখন তাঁর কাছে ফিরে যাব তখন এই আঘাত বা কষ্টের কারণে ইনশাআল্লাহ সওয়াবও লাভ করব। অন্তরে যদি এ বিশ্বাস থাকে, তবে এটাই হয় সবর, তাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়ুক না কেন!
১৫৬. যারা তাদের উপর বিপদ আসলে বলে, আমরা তো আল্লাহরই। আর নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী(১)।
(১) সবরকারীগণের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা বিপদের সম্মুখীন হলে – ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পাঠ করে। এর দ্বারা প্রকৃতপক্ষে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে যে, কেউ বিপদে পড়লে যেন এ দোআটি পাঠ করে। কেননা, এরূপ বলাতে একাধারে যেমন অসীম সওয়াব পাওয়া যায়, ঠিক তেমনি যদি এ বাক্যের অর্থের প্রতি যথার্থ লক্ষ্য রেখে তা পাঠ করা হয়, তবে বিপদে আন্তরিক শান্তি লাভ এবং তা থেকে উত্তরণও সহজতর হয়ে যায়। দোআটির অর্থ হচ্ছে, “নিশ্চয় আমরা তো আল্লাহরই। আর আমরা তার দিকেই প্রতীবর্তন করব।” সুতরাং আল্লাহ্ তা'আলা যদি আমাদের কোন কষ্ট দেন তবে তাতে কোন না কোন মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। তার উদ্দেশ্যকে সম্মান করতে পারা একটি মহৎ কাজ। আর এটাই হচ্ছে, সবর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুমিনের কর্মকাণ্ড আশ্চর্যজনক। তার সমস্ত কাজই ভাল।
মুমিন ছাড়া আর কারও জন্য এমনটি হয় না। যদি তার কোন খুশীর বিষয় সংঘটিত হয় তবে সে শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তা তার জন্য কল্যাণের হয়। আর যদি তার কোন ক্ষতিকর কিছু ঘটে যায় তবে সে সবর করে, ফলে তাও তার জন্য কলাণকর হয়।” (মুসলিম: ২৯৯৯) অপর হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে কেউ বিপদ-মুসিবতে পড়ে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন’ বলবে, এবং বলবে, হে আল্লাহ আমাকে এ মুসিবত থেকে উদ্ধার করুন এবং এর থেকে উত্তম বস্তু ফিরিয়ে দিন” অবশ্যই আল্লাহ তাকে উত্তম কিছু ফিরিয়ে দিবেন।” (মুসলিম ৯১৮)
(১৫৬) যারা তাদের উপর কোন বিপদ এলে বলে, ‘নিশ্চয় আমরা আল্লাহর এবং নিশ্চিতভাবে তারই দিকে ফিরে যাব।’