وَإِن كَانَ قَمِيصُهُۥ قُدَّ مِن دُبُرٖ فَكَذَبَتۡ وَهُوَ مِنَ ٱلصَّـٰدِقِينَ

ওয়া ইন ক-না কামীসুহূকুদ্দা মিন দুবুরিন ফাকাযাবাত ওয়া হুওয়া মিনাসসা-দিকীন।উচ্চারণ

আর যদি তাঁর জামা পেছনের দিক থেকে ছেঁড়া থাকে তাহলে মহিলাটি মিথ্যা কথা বলেছে এবং সে সত্যবাদী।” ২৫ তাফহীমুল কুরআন

আর যদি তার জামা পেছন দিক থেকে ছিঁড়ে থাকে, তবে স্ত্রীলোকটি মিথ্যা বলেছে এবং সে সত্যবাদী। #%১৯%#মুফতী তাকী উসমানী

আর যদি তার জামা পিছন দিক হতে ছিন্ন করা হয়ে থাকে তাহলে স্ত্রী লোকটি মিথ্যা কথা বলেছে এবং পুরুষটি সত্যবাদী।মুজিবুর রহমান

এবং যদি তার জামা পেছনের দিক থেকে ছিন্ন থাকে, তবে মহিলা মিথ্যাবাদিনী এবং সে সত্যবাদী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘কিন্তু এর জামা যদি পিছন দিক হতে ছিন্ন করা হয়ে থাকে তবে স্ত্রীলোকটি মিথ্যা বলেছে এবং পুরুষটি সত্যবাদী।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘আর তার জামা যদি পেছন থেকে ছেঁড়া হয় তাহলে সে (মহিলা) মিথ্যা বলেছে এবং সে (পুরুষ) হচ্ছে সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত’।আল-বায়ান

আর যদি তার জামা পেছন হতে ছেঁড়া হয়ে থাকে, তবে মহিলাটি মিথ্যে বলেছে আর সে সত্যবাদীদের অন্তুর্ভক্ত।’তাইসিরুল

আর যদি তার সার্টটি পেছনের দিকে ছেঁড়া থাকে তবে ইনিই মিথ্যাবাদী আর ও সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৫

এর মানে হচ্ছে, ইউসুফের কাপড় যদি সামনের দিক থেকে ছেঁড়া থাকে তাহলে ইউসুফের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল এবং মহিলাটি নিজেকে বাঁচাবার জন্য ধস্তাধস্তিতে লিপ্ত হয়েছিল, এটা হবে তার স্পষ্ট আলামত। কিন্তু যদি ইউসুফের কাপড় পেছনের দিক থেকে ছেঁড়া থাকে তাহলে স্পষ্ট বুঝতে হবে, মহিলাটি তাঁর পেছনে লেগেছিল এবং ইউসুফ তার হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল। এছাড়াও আর একটি বাস্তব সাক্ষ্যও এ সাক্ষ্যের মধ্যে লুকিয়েছিল। সেটি হচ্ছে, এ সাক্ষী শুধুমাত্র ইউসুফ আলাইহিস সালামের কাপড়ের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়েছে। এ থেকে একথা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, মহিলাটির শরীরে বা পোশাকে আদতে বল প্রয়োগের কোন আলামতই ছিল না। অথচ যদি এটা বলাৎকারজনিত মামলা হতো তাহলে মহিলাটির শরীরে ও পোশাকে এর পরিষ্কার আলামত দেখা যেতো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম যে নির্দোষ, আল্লাহ তাআলা এটা আযীযের কাছে পরিষ্কার করে দিতে চাইলেন। আর এজন্য তিনি এই ব্যবস্থা করলেন যে, যুলায়খারই পরিবারের এক ব্যক্তিকে মীমাংসাকারী বানিয়ে দিলেন। সে সত্য-মিথ্যার মধ্যে প্রভেদ করার জন্য এমন এক আলামত বলে দিল যার যৌক্তিকতা অস্বীকার করার উপায় নেই। তার বক্তব্য ছিল, হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের জামা সম্মুখ দিক থেকে ছিঁড়ে থাকলে সেটা প্রমাণ করবে যে, তিনি স্ত্রীলোকটির দিকে এগোতে চাচ্ছিলেন আর স্ত্রীলোকটি হাত বাড়িয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিল। এই জোরাজুরির ভেতর তাঁর জামা ছিঁড়ে যায়। কিন্তু তাঁরা জামা যদি পিছন দিক থেকে ছিঁড়ে থাকে, তবে তার অর্থ হবে তিনি পালানোর চেষ্টা করছিলেন আর যুলায়খা পশ্চাদ্বাবন করে তাকে আটকাতে চাচ্ছিল। এক পর্যায়ে যুলায়খা তাঁর জামা ধরে তাঁকে নিজের দিকে টেনে নিতে চাইলে তাতে জামা ছিঁড়ে যায়। এক তো তার একথা অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ ছিল। দ্বিতীয়ত নির্ভরযোগ্য কিছু হাদীস দ্বারা জানা যায় এ সাক্ষ্য দিয়েছিল যুলায়খার পরিবারের একটি ছোট্ট শিশু, তখনও পর্যন্ত যার কথা বলার মত বয়স হয়নি। আল্লাহ তাআলা হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের পবিত্রতা প্রমাণ করার জন্য তখন তাকে কথা বলার শক্তি দান করেন, যেমন কথা বলার শক্তি হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে দান করেছিলেন। মোটকথা এই অনস্বীকার্য প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর আযীযের আর কোনও সন্দেহ থাকল না যে, সবটা দোষ তার স্ত্রীরই এবং ইউসুফ আলাইহিস সালাম এ ব্যাপারে সম্পূর্ণ নির্দোষ।

তাফসীরে জাকারিয়া

২৭. আর তার জামা যদি পিছন দিক থেকে ছিঁড়ে থাকে তবে স্ত্রীলোকটি মিথ্যা বলেছে এবং সে পুরুষটি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৭) আর যদি তার জামা পিছন দিক হতে ছিন্ন করা হয়ে থাকে, তাহলে মহিলাটি মিথ্যা কথা বলেছে এবং সে সত্যবাদী।’