۞سَيَقُولُ ٱلسُّفَهَآءُ مِنَ ٱلنَّاسِ مَا وَلَّىٰهُمۡ عَن قِبۡلَتِهِمُ ٱلَّتِي كَانُواْ عَلَيۡهَاۚ قُل لِّلَّهِ ٱلۡمَشۡرِقُ وَٱلۡمَغۡرِبُۚ يَهۡدِي مَن يَشَآءُ إِلَىٰ صِرَٰطٖ مُّسۡتَقِيمٖ

ছাইয়াকূলুছ ছুফাহাউ মিনান্না-ছি মা-ওয়াল্লা-হুম ‘আন কিবলাতিহিমুল্লাতী ক-নূ ‘আলাইহা-কুল লিল্লা-হিল মাশরিকু ওয়াল মাগরিবু ইয়াহদী মাইঁ ইয়াশাউ ইলা-সির-তিম মুছতাকীম।উচ্চারণ

অবশ্যি নির্বোধ লোকেরা বলবে, “এদের কি হয়েছে, প্রথমে এরা যে কিব্‌লার দিকে মুখ করে নামায পড়তো, তা থেকে হাঠৎ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে? ১৪২ হে নবী! ওদেরকে বলে দাও, “পূর্ব ও পশ্চিম সবই আল্লাহর। আল্লাহ‌ যাকে চান তাকে সোজা পথ দেখান।” ১৪৩ তাফহীমুল কুরআন

অচিরেই নির্বোধ লোকেরা বলবে, সেটা কী জিনিস, যা এদেরকে (মুসলিমদেরকে) তাদের সেই কিবলা থেকে অন্য দিকে মুখ ফিরাতে উদ্বুদ্ধ করল, যার অভিমুখী তারা এ যাবৎ ছিল? আপনি বলে দিন, পূর্ব ও পশ্চিম সব আল্লাহরই। তিনি যাকে চান সরল পথের হিদায়াত দান করেন। #%৯৮%#মুফতী তাকী উসমানী

মানবমন্ডলীর মধ্যস্থিত নির্বোধেরা অচিরেই বলবে, কিসে তাদেরকে সেই কিবলা হতে প্রত্যাবৃত্ত করল যার দিকে তারা ছিল? তুমি বলে দাওঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই জন্য, তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথ প্রদর্শন করেন।মুজিবুর রহমান

এখন নির্বোধেরা বলবে, কিসে মুসলমানদের ফিরিয়ে দিল তাদের ঐ কেবলা থেকে, যার উপর তারা ছিল? আপনি বলুনঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে চালান।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

নির্বোধ লোকেরা অচিরেই বলবে যে, তারা এ যাবত যে কিবলা অনুসরণ করে আসছিল তা হতে কিসে তাদেরকে ফিরিয়ে দিল? বল, ‘পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহ্ র ই। তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অচিরেই নির্বোধ লোকেরা বলবে, 'কীসে তাদেরকে তাদের কিবলা থেকে ফিরাল, যার উপর তারা ছিল?' বল, 'পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। তিনি যাকে চান সোজা পথ দেখান'।আল-বায়ান

শীঘ্রই এ নির্বোধেরা বলবে, কিসে তাদেরকে ফিরিয়ে দিল তাদের সেই ক্বিবলা হতে যা তারা অনুসরণ করে আসছিল। বল, পূর্ব এবং পশ্চিম আল্লাহরই, তিনি যাকে ইচ্ছে সরল পথ প্রদর্শন করেন।তাইসিরুল

লোকদের মধ্যের নির্বোধরা শীঘ্রই বলবে -- “তাদের যে কিবলাহ্‌তে তারা তাদের বদলালো কিসে?” তুমি বলো -- “পূর্ব ও পশ্চিমের মালিক আল্লাহ্‌, তিনি যাকে ইচ্ছা করেন তাকে সহজ-সঠিক পথের দিকে পরিচালিত করেন।”মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৪২

হিজরাতের পর নবী ﷺ মদীনা তাইয়েবায় ষোল সতের মাস পর্যন্ত বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে নামায পড়তে থাকেন। অতঃপর কা’বার দিকে মুখ করে নামায পড়ার নির্দেশ আসে। এর বিস্তারিত বিবরণ পরবর্তী পর্যায়ে আসবে।

১৪৩

এটি হচ্ছে নির্বোধদের অভিযোগের প্রথম জবাব। তাদের চিন্তার পরিসর ছিল সংকীর্ণ। তাদের দৃষ্টি ছিল সীমাবদ্ধ। স্থান ও দিক তাদের কাছে ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান। তাদের ধারণা ছিল আল্লাহ‌ কোন বিশেষ দিকে সীমাবদ্ধ। তাই সর্বপ্রথম তাদের এই মূর্খতাপ্রসূত অভিযোগের জবাবে বলা হয়েছে, পূর্ব ও পশ্চিম সবই আল্লাহর দিক। কোন বিশেষ দিককে কিব্‌লায় পরিণত করার অর্থ এ নয় যে, আল্লাহ‌ সেই দিকে আছেন। আল্লাহ‌ যাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন তারা এ ধরনের সংকীর্ণ দৃষ্টির ও সংকীর্ণ মতবাদের ঊর্ধ্বে অবস্থান করে এবং তাদের জন্য বিশ্বজনীন সত্য উপলব্ধির দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায়। (এ সম্পর্কে আরো জানার জন্য ১১৫ ও ১১৬ নম্বর টীকা দু’টিও দেখে নিন।)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এখান থেকে কিবলা পরিবর্তন ও তা থেকে সৃষ্ট মাসাইল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হচ্ছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা মুকাররমায় থাকাকালে বাইতুল্লাহর দিকে ফিরে সালাত আদায় করতেন। মদীনা মুনাওয়ারায় আসার পর তাঁকে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করতে আদেশ দেওয়া হয়। তিনি প্রায় সতের মাস সে আদেশ পালন করতে থাকেন। অতঃপর পুনরায় বাইতুল্লাহকেই কিবলা বানিয়ে দেওয়া হয়। সামনে ১৪৪ নং আয়াতে কিবলা পরিবর্তনের এ আদেশ বর্ণিত হয়েছে। আলোচ্য আয়াত ভবিষ্যদ্বাণী করছে যে, ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানগণ এ পরিবর্তনের কারণে হইচই শুরু করে দেবে। অথচ যারা আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমান রাখে এ সত্যের জন্য তাদের কোনও দলীল-প্রমাণের দরকার পড়ে না যে, বিশেষ কোনও দিককে কিবলা স্থির করার অর্থ আল্লাহ সেই দিকে অবস্থান করছেন- এমন নয়। তিনি তো সকল দিকে ও সর্বত্রই আছেন। পূর্ব-পশ্চিম ও উত্তর-দক্ষিণ সকল দিক তাঁরই সৃষ্টি। তবে সামগ্রিক কল্যাণ বিবেচনায় বিশেষ একটা দিক স্থির করে দেওয়া সমীচীন ছিল, যে দিকে ফিরে সমস্ত মুমিন আল্লাহ তাআলার ইবাদত করবে। তাই আল্লাহ তাআলা স্বয়ং নিজ হিকমত অনুযায়ী একটা দিক ঠিক করে দেন। আর তার অর্থ এ নয় যে, সেই বিশেষ দিকটি সত্তাগতভাবে পবিত্র ও কাঙ্খিত। কোনও কিবলা বা দিকের যদি কোনও মর্যাদা লাভ হয়ে থাকে, তবে কেবল আল্লাহ তাআলার হুকুমের কারণেই তা লাভ হয়েছে। সুতরাং তিনি স্বীয় প্রজ্ঞা অনুযায়ী যখন চান ও যে দিককে চান কিবলা স্থির করতে পারেন। একজন মুমিনের জন্য সরল পথ এটাই যে, সে এই সত্য উপলব্ধি করত আল্লাহর প্রতিটি আদেশ শিরোধার্য করে নেবে। আয়াতের শেষে যে সরল পথের হিদায়াত দানের কথা বলা হয়েছে তা দ্বারা এই সত্যের উপলব্ধিকেই বোঝানো হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৪২. মানুষের মধ্য হতে নির্বোধরা অচিরেই বলবে যে, এ যাবত তারা যে কেবলা অনুসরণ করে আসছিল তা থেকে কিসে তাদেরকে ফিরালো? বলুন, পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের হিদায়াত করেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৪২) নির্বোধ লোকেরা বলবে যে, ‘তারা এ যাবৎ যে ক্বিবলার অনুসরণ করে আসছিল, তা হতে কিসে তাদেরকে ফিরিয়ে দিল?’ বল, ‘পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই।(1) তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।’

(1) যখন রসূল (সাঃ) হিজরত করে মক্কা থেকে মদীনায় যান, তখন প্রায় ১৬-১৭ মাস পর্যন্ত বায়তুল মুক্বাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামায পড়েন। তবে তাঁর ইচ্ছা এটাই হত যে, কাবা শরীফের দিকে মুখ করে নামায পড়া হোক যা ইবরাহীম (আঃ)-এর ক্বিবলা। আর এর জন্য তিনি দু'আও করতেন এবং বারবার আসমানের দিকে দৃষ্টিপাত করতেন। শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহ ক্বিবলা পরিবর্তনের নির্দেশ দিলেন। তা দেখে ইয়াহুদী ও মুনাফিকরা হাঙ্গামা শুরু করে দিল। অথচ নামায আল্লাহর এক ইবাদত। আর ইবাদতে আবেদ (ইবাদতকারী)-কে যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়, সেইভাবে সে করতে বাধ্য। কাজেই যে দিকে আল্লাহ ফিরিয়ে দিয়েছেন, সে দিকে ফিরে যাওয়া তাঁর জন্য জরুরী ছিল। তাছাড়া যে আল্লাহর ইবাদত করা হয়, পূর্ব ও পশ্চিম সব দিকই তাঁর; অতএব দিকের কোন গুরুত্ব নেই। প্রত্যেক দিকেই আল্লাহর ইবাদত হতে পারে। কেবল শর্ত হল, সেই দিকটা নির্বাচন করার নির্দেশ যেন আল্লাহ দিয়ে থাকেন। ক্বিবলা পরিবর্তনের এ নির্দেশ আসরের সময় এসেছিল। ফলে (সর্বপ্রথম) আসরের নামায কাবা শরীফের দিকে মুখ করে পড়া হয়েছে।