ফালইয়াওমা নুনাজজীকা ব্বিাদানিকা লিতাকূনা লিমান খালফাকা আ-য়াতাওঁ ওয়া ইন্না কাছীরম মিনান না-ছি ‘আন আ-য়া-তিনা-লাগা-ফিলূন।উচ্চারণ

এখন তো আমি কেবল তোমার লাশটাকেই রক্ষা করবো যাতে তুমি পরবর্তীদের জন্য শিক্ষণীয় নিদর্শন হয়ে থাকো। ৯২ যদিও অনেক মানুষ এমন আছে যারা আমার নিদর্শনসমূহ থেকে উদাসীন।" ৯৩ তাফহীমুল কুরআন

সুতরাং আজ আমি তোমার (কেবল) দেহটি বাঁচাব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তী কালের মানুষের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক। #%৪৭%# (কেননা) আমার নিদর্শন সম্পর্কে বহু লোক গাফেল হয়ে আছে।মুফতী তাকী উসমানী

অতএব আমি আজ তোমার লাশকে উদ্ধার করব, যেন তুমি তোমার পরবর্তী লোকদের জন্য উপদেশ গ্রহণের উপকরণ হয়ে থাক; আর প্রকৃত পক্ষে অনেক লোক আমার উপদেশাবলী হতে উদাসীন রয়েছে।মুজিবুর রহমান

অতএব আজকের দিনে বাঁচিয়ে দিচ্ছি আমি তোমার দেহকে যাতে তোমার পশ্চাদবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পারে। আর নিঃসন্দেহে বহু লোক আমার মহাশক্তির প্রতি লক্ষ্য করে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘আজ আমি তোমার দেহটি রক্ষা করব যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্যে নিদর্শন হয়ে থাক। অবশ্যই মানুষের মধ্যে অনেকে আমার নিদর্শন সম্বন্ধে গাফিল।’ইসলামিক ফাউন্ডেশন

‘সুতরাং আজ আমি তোমার দেহটি রক্ষা করব, যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক। আর নিশ্চয় অনেক মানুষ আমার নিদর্শনসমূহের ব্যাপারে গাফেল’।আল-বায়ান

আজ আমি তোমার দেহকে রক্ষা করব যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হতে পার।’ অধিকাংশ মানুষই আমার নিদর্শনাবলী সম্পর্কে নিশ্চিতই উদাসীন।’’তাইসিরুল

তবে আজকের দিনে আমরা উদ্ধার করব তোমার দেহ, যেন তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক। কিন্তু মানুষের মধ্যের অনেকেই আমাদের নিদর্শন সন্বন্ধে অবশ্যই বেখেয়াল।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৯২

সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিম সাগর তীরে সেখানে ফেরাউনের লাশ সাগরে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল আজো সে জায়গায়টি অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমান সময়ে এ জায়গাটির নাম জাবালে ফেরাউন বা ফেরাউন পর্বত। এরই কাছাকাছি আছে একটি গরম পানির ঝর্ণা। স্থানীয় লোকেরা এর নাম দিয়েছে হাম্মামে ফেরাউন। এর অবস্থান স্থল হচ্ছে আবু যানীমর কয়েক মাইল ওপরে উত্তরের দিকে। স্থানীয় লোকেরা এ জায়গাটি চিহ্নিত করে বলে, ফেরাউনের লাশ এখানে পড়ে থাকা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।

এ ডুবন্ত ব্যক্তি যদি মিনফাতাহ ফেরাউন হয়ে থাকে, যাকে আধুনিক গবেষণার মূসার আমলের ফেরাউন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাহলে এর লাশ এখনো কায়রোর যাদু ঘরে রয়েছে। ১৯০৭ সালে স্যার গ্রাফটিন এলিট স্মিথ তার মমির ওপর থেকে যখন পট্রি খুলেছিলেন তখন লাশের ওপর লবনের একটি স্তর জমাটবাঁধা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। এটি লবণাক্ত পানিতে তার ডুবে যাওয়ার একটি সুস্পষ্ট আলামত ছিল।

৯৩

অর্থাৎ আমি তো শিক্ষণীয় ও উপদেশমূলক নিদর্শনসমূহ দেখিয়েই যেতে থাকবো, যদিও বেশীর ভাগ লোকদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, বড় বড় শিক্ষণীয় নিদর্শন দেখেও তাদের চোখ খোলে না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

আল্লাহ তাআলার নীতি হল, যখন তাঁর আযাব কারও মাথার উপর এসে যায় এবং সে তা নিজ চোখে দেখতে পায় কিংবা কারও যখন মৃত্যু যন্ত্রণা শুরু হয়ে যায়, তখন তাওবার দুয়ার বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে সময় ঈমান আনলে তা গৃহীত হয় না। কাজেই ফির‘আউনের জন্য এখন আর শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনও উপায় ছিল না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তার লাশটি রক্ষা করলেন। তার লাশ সাগরের তলদেশে না গিয়ে পানির উপর ভাসতে থাকল, যাতে সকলে তাকে দেখতে পায়। এতটুকু বিষয় তো এ আয়াতে পরিষ্কার। আধুনিক কালের ঐতিহাসিকদের অনুসন্ধান ও গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, হযরত মূসা আলাইহিস সালামের আমলে যে ফির‘আউন ছিল তার নাম ছিল মিনিফতাহ এবং তার লাশটিও নিখুঁতভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। কায়রোর যাদুঘরে এখনও পর্যন্ত সে লাশ সংরক্ষিত আছে এবং তা মানুষের শিক্ষা গ্রহণের জন্য এক বিরাট নিদর্শন হয়ে আছে। এ গবেষণা সঠিক হলে এটা কুরআন মাজীদের সত্যতার যেন এক সবাক প্রমাণ। কেননা এ আয়াত যখন নাযিল হয়েছে তখন কারও জানা ছিল না যে, ফির‘আউনের লাশ এখনও সংরক্ষিত আছে। বৈজ্ঞানিকভাবে এটা উদঘাটিত হয়েছে তার বহুকাল পরে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৯২. সুতরাং আজ আমরা তোমার দেহটি রক্ষা করব যাতে তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক(১)। আর নিশ্চয় মানুষের মধ্যে অনেকেই আমাদের নিদর্শন সম্বন্ধে গাফিল।(২)

(১) এখানে ফিরআউনকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে যে, জলমগ্নতার পর আমি তোমার লাশ পানি থেকে বের করে দেব যাতে তোমার এই মৃতদেহটি তোমার পরবর্তী জনগোষ্ঠীর জন্য আল্লাহ তা'আলার মহাশক্তির নিদর্শন ও শিক্ষণীয় হয়ে থাকে। কাতাদা বলেন, সাগর পাড়ি দেবার পর মূসা আলাইহিস সালাম যখন বনী ইসরাঈলদেরকে ফিরআউনের নিহত হবার সংবাদ দেন, তখন তারা ফিরআউনের ব্যাপারে এতই ভীত-সন্ত্রস্ত ছিল যে, তা অস্বীকার করতে লাগল এবং বলতে লাগল যে, ফিরআউন ধ্বংস হয়নি। আল্লাহ তা'আলা তাদের সঠিক ব্যাপার প্রদর্শন এবং অন্যান্যদের শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে একটি ঢেউয়ের মাধ্যমে ফিরআউনের মৃতদেহটি তীরে এনে ফেলে রাখলেন, যা সবাই প্রত্যক্ষ করল। (তাবারী) তাতে তার ধ্বংসের ব্যাপারে তাদের নিশ্চিত বিশ্বাস এল এবং তার লাশ সবার জন্য নিদর্শন হয়ে গেল। লাশের কি পরিণতি হয়েছিল তা সঠিকভাবে জানা যায় না।

(২) অর্থাৎ আমি তো শিক্ষণীয় ও উপদেশমূলক নিদর্শনসমূহ দেখিয়েই যেতে থাকবো, যদিও বেশীর ভাগ লোকদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, বড় বড় শিক্ষণীয় নির্দশন দেখেও তাদের চোখ খোলে না। আর জানা কথা যে, ফিরআউন ও তার দলবলের ধ্বংস ও বনী ইসরাঈলের নাজাত ছিল আশুরার দিনে। (ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৯২) অতএব আজ আমি তোমার দেহকে রক্ষা করব, যেন তুমি তোমার পরবর্তীদের জন্য নিদর্শন হয়ে থাক;(1) আর নিঃসন্দেহে অনেক লোকই আমার নিদর্শনাবলী হতে উদাসীন।

(1) যখন ফিরআউন ডুবে মারা গেল, তখন তার মৃত্যুর কথা অনেক মানুষের বিশ্বাস হচ্ছিল না। আল্লাহ তাআলা সাগরকে আদেশ দিলেন, ফলে সাগর তার মৃত লাশকে উপকূলে ফেলে দিল এবং সকলে তাকে (মৃত) দেখল। প্রসিদ্ধি আছে যে, আজও তার মৃতদেহ মিসরের যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। (কিন্তু সে লাশ কি তারই?) আল্লাহই অধিক জানেন।