কুল ইন্নাল্লাযীনা ইয়াফতারূনা ‘আলাল্লা-হিল কাযিবা লা-ইউফলিহূন।উচ্চারণ

হে মুহাম্মাদ! বলো, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তারা কখনো সফলকাম হতে পারে না। তাফহীমুল কুরআন

বলে দাও, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে, তারা কৃতকার্য হবে না।মুফতী তাকী উসমানী

যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা রচনা করে নিশ্চয়ই তারা সফলকাম হবেনা।মুজিবুর রহমান

বলে দাও, যারা এরূপ করে তারা অব্যাহতি পায় না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বল, ‘যারা আল্লাহ্ সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করবে তারা সফলকাম হবে না।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘নিশ্চয় যারা আল্লাহর নামে মিথ্যা রটায়, তারা সফল হবে না’।আল-বায়ান

বল ‘‘যারা আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যে রচনা করে, তারা কক্ষনো কল্যাণ পাবে না।তাইসিরুল

বলো -- "নিঃসন্দেহ যারা আল্লাহ্‌র বিরুদ্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করে তারা সফলকাম হবে না।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৬৯. বলুন, যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা রটনা করবে তারা সফলকাম হবে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬৯) তুমি বলে দাও, ‘যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা রচনা করে(1) তারা সফলকাম হবে না।’ (2)

(1) افتراء এর অর্থ হল মিথ্যারোপ করা। এর পরেও বাড়তি كذب ‘মিথ্যা’ শব্দটি তাকীদের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।

(2) এখানে সফলকাম বা কৃতকার্য বলতে পরকালের কৃতকার্যতাকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহর ক্রোধ ও তাঁর শাস্তি থেকে নিষ্কৃতিলাভ। যেহেতু শুধু পার্থিব ক্ষণস্থায়ী সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য লাভ কৃতকার্যতা নয়। যেমন অনেকে কাফেরদের ক্ষণস্থায়ী সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দেখে ভুল ধারণা এবং সন্দেহ ও সংশয়ের শিকার হয়। এই জন্যই পরবর্তী আয়াতে বলেছেন যে, ‘‘দুনিয়ায় কিছু সুখ-সম্ভোগ; তারপর আমারই দিকে তাদেরকে ফিরে আসতে হবে।’’ অর্থাৎ, পৃথিবীর আরাম-আয়েশ আখেরাতের তুলনায় একেবারে নগণ্য, যার কোন গণনাই হয় না। তার পর তাদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করতে হবে। অতএব ভালভাবে জেনে রাখা দরকার যে, কাফের, মুশরিক এবং আল্লাহর অবাধ্যজনদের পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও অর্থনৈতিক উন্নতি এই কথার প্রমাণ নয় যে, এই জাতি সফলকাম ও কৃতকার্য এবং আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট। তাদের এই জাগতিক উন্নতি তাদের নিরলস প্রচেষ্টার ফল, যা বাহ্যিক উপায়-উপকরণ অনুযায়ী প্রত্যেক সেই জাতি অর্জন করতে পারে, যে উপায়-উপকরণ সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে তা অর্জনের জন্য তাদের মত চেষ্টা-চরিত্র করবে; তাতে সে জাতি মু’মিন হোক বা কাফের। তাছাড়া এই ক্ষণস্থায়ী সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অবকাশ ও ঢিল দেওয়ার ফলও হতে পারে। যার আলোচনা এর পূর্বে বিভিন্ন স্থানে করা হয়েছে।