ওয়া ইম্মা-নুরিইয়ান্নাকা বা‘দাল্লাযীনা‘ইদুহুম আও নাতাওয়াফফাইয়ান্নাকা ফাইলাইনামারজি‘উহুম ছু ম্মাল্লা-হু শাহীদুন ‘আলা-মা-ইয়াফ‘আলূন।উচ্চারণ
তাদেরকে যেসব খারাপ পরিণামের ভয় দেখাচ্ছি সেগুলোর কোন অংশ যদি তোমার জীবদ্দশায় দেখিয়ে দেই অথবা এর আগেই তোমাকে উঠিয়ে নেই, সর্বাবস্থায় তাদের আমারই দিকে ফিরে আসতে হবে এবং তারা যা কিছু করছে আল্লাহ তার সাক্ষী। তাফহীমুল কুরআন
(হে নবী!) আমি তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) যেসব বিষয়ে ভীতি প্রদর্শন করেছি, তার কোনও বিষয় আমি তোমাকে (তোমার জীবদ্দশায়) দেখিয়ে দেই অথবা (তার আগে) তোমার রূহ কবয করে নেই, সর্বাবস্থায়ই তো তাদেরকে শেষ পর্যন্ত আমার কাছেই ফিরতে হবে। #%২৯%# অতঃপর (এটা তো সুস্পষ্ট যে,) তারা যা-কিছু করছে, আল্লাহ তা সম্যক প্রত্যক্ষ করছেন (সুতরাং তখন তিনি এর শাস্তি দেবেন)।মুফতী তাকী উসমানী
আর আমি তাদের সাথে যে শাস্তির অঙ্গীকার করছি, যদি ওর সামান্য অংশও তোমাকে দেখিয়ে দিই, অথবা তোমাকে মৃত্যু দান করি, সর্বাবস্থায় তাদেরকে আমারই পানে আসতে হবে, আর আল্লাহ তাদের সকল কৃতকর্মেরই খবর রাখেন।মুজিবুর রহমান
আর যদি আমি দেখাই তোমাকে সে ওয়াদাসমূহের মধ্য থেকে কোন কিছু যা আমি তাদের সাথে করেছি, অথবা তোমাকে মৃত্যুদান করি, যাহোক, আমার কাছেই তাদেরকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। বস্তুতঃ আল্লাহ সে সমস্ত কর্মের সাক্ষী যা তারা করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আমি এদেরকে যে ভীতি প্রদর্শন করেছি তার কিছু যদি তোমাকে দেখিয়ে দেই বা তোমার কাল পূর্ণ করে দেই, এদের প্রত্যাবর্তন তো আমারই নিকট; এবং এরা যা করে আল্লাহ্ তার সাক্ষী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর আমি তাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার কিছু যদি তোমাকে দেখিয়ে দেই, অথবা তোমাকে মৃত্যু দেই, তবে আমার কাছেই তাদের প্রত্যাবর্তন। তারপর তারা যা করে আল্লাহ তার সাক্ষী।আল-বায়ান
আমি তাদেরকে যে পরিণতির ভয় দেখিয়েছি তার কিছু অংশ আমি যদি তোমাকে দেখিয়ে দেই, কিংবা (তার পূর্বেই) তোমাকে যদি উঠিয়ে দেই, (অবস্থা যেটাই হোক না কেন) তাদের প্রত্যাবর্তন তো আমার কাছেই, (সর্বোপরি) তারা যা কিছু করছে আল্লাহ হচ্ছেন তার সাক্ষী।তাইসিরুল
আর তোমাকে যদি আমরা দেখিয়ে দিই ওদের যা আমরা ওয়াদা করেছিলাম তার কিছুটা, অথবা তোমার মৃত্যু ঘটিয়ে দিই, তা হলেও আমাদের কাছেই তাদের প্রত্যাবর্তন, তার উপর আল্লাহ্ সাক্ষী রয়েছেন যা তারা করে তার।মাওলানা জহুরুল হক
এটা এই খটকার জবাব যে, আল্লাহ তাআলা কাফেরদেরকে শাস্তি দানের ধমকি তো দিয়ে রেখেছেন, অথচ তাদের পক্ষ থেকে এতসব অবাধ্যতা ও মুসলিমদের সাথে তাদের ক্রমবর্ধমান শত্রুতা সত্ত্বেও তাদের উপর তো কোনও আযাব আসতে দেখা যাচ্ছে না! এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলছেন, আল্লাহ তাআলার হিকমত অনুযায়ী সময় মতই তাদের উপর শাস্তি আসবে। সে আযাব এমনও হতে পারে যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় দুনিয়াতেই তারা পেয়ে যাবে আবার এমনও হতে পারে যে, দুনিয়ায় তাঁর জীবদ্দশায় তাদের উপর কোনও আযাব আসবে না, কিন্তু আখেরাতের শাস্তি তো অবধারিত। তারা যখন আল্লাহ তাআলার কাছে ফিরে যাবে তখন অনন্তকালীন শাস্তি ভোগ করতেই হবে।
৪৬. আর আমরা তাদেরকে যে (শাস্তির) প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তার কিছু যদি আপনাকে (দুনিয়াতে) দেখিয়ে দেই অথবা (তাদের উপর তা আসার আগেই) আপনার মৃত্যু দিয়ে দেই, তাহলে তাদের ফিরে আসা তো আমাদেরই কাছে; তদুপরি তারা যা করে আল্লাহই তার সাক্ষী।(১)
(১) অর্থাৎ যদি আপনার জীবদ্দশায়ই তাদের উপর কোন প্রতিশ্রুত শাস্তি এসে পড়ে অথবা আপনাকে তার পূর্বেই মৃত্যু দিয়ে দেই তারপরও তো তাদেরকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। অর্থাৎ সর্বাবস্থায় তাদের প্রত্যাবর্তন স্থল আমার কাছেই। আমি তাদের কাজ-কর্মের সাক্ষী। সে অনুসারেই তাদের বিচার করব।
(৪৬) আর আমি তাদের সাথে যে শাস্তির অঙ্গীকার করছি, যদি ওর কিছু অংশ তোমাকে দেখিয়ে দিই, অথবা তোমাকে মৃত্যু দান করি, সর্বাবস্থায় তাদেরকে আমারই কাছে ফিরে আসতে হবে। আর আল্লাহ তাদের সকল কৃতকর্মেরই সাক্ষী।(1)
(1) এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলছেন, আমি সেই কাফেরদের ব্যাপারে অঙ্গীকার করছি যে, যদি তারা কুফরী ও শিরকের উপর অনড় থাকে, তবে তাদের উপরেও আল্লাহর ঐরূপ শাস্তি আসতে পারে, যেরূপ পূর্ববর্তী জাতির উপর এসেছে। সেই শাস্তির কিছু অংশ তোমার জীবদ্দশায় প্রেরণ করাও সম্ভব, যা দেখে তোমার চক্ষু শীতল হবে। কিন্তু যদি তার পূর্বেও তোমাকে উঠিয়ে নেওয়া হয়, তবুও কোন ব্যাপার নয়। কারণ সেই সকল কাফেরদেরকে অবশেষে আমার নিকটেই ফিরে আসতে হবে। তাদের সকল আমল ও অবস্থা আমার জানা আছে। সেখানে তারা আমার শাস্তি থেকে কিভাবে রক্ষা পাবে? অর্থাৎ, পৃথিবীতে আমার বিশেষ হিকমতের ফলে ওরা শাস্তি থেকে বেঁচে যেতে পারে। কিন্তু আখেরাতে আমার শাস্তি থেকে বাঁচার কোন উপায় তাদের থাকবে না। কারণ কিয়ামত অনুষ্ঠিত হওয়ার উদ্দেশ্যই হল, সেখানে অনুগতকে তার আনুগত্যের প্রাপ্য এবং অবাধ্যকে তার অবাধ্যতার শাস্তি প্রদান করা হবে।