تِلۡكَ أُمَّةٞ قَدۡ خَلَتۡۖ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَلَكُم مَّا كَسَبۡتُمۡۖ وَلَا تُسۡـَٔلُونَ عَمَّا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ

তিলকা উম্মাতুন কাদ খালাত লাহা-মা-কাছাবাত ওয়া লাকুম মা-কাছাবতুম ওয়ালা-তুছআলূনা ‘আম্মা-ক-নূইয়া‘মালূন।উচ্চারণ

এরা ছিল কিছু লোক। এরা তো অতীত হয়ে গেছে। তারা যা কিছু উপার্জন করেছে, তা তাদের নিজেদের জন্যই আর তোমরা যা উপার্জন করবে, তা তোমাদের জন্য। তারা কি করতো সে কথা তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে না। ১৩৪ তাফহীমুল কুরআন

তারা ছিল একটি উম্মত, যা গত হয়েছে। তারা যা-কিছু অর্জন করেছে তা তাদেরই এবং তোমরা যা-কিছু অর্জন করেছ তা তোমাদেরই। তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে না যে, তারা কি কাজ করত।মুফতী তাকী উসমানী

ওটি একটি দল ছিল, যা অতীত হয়ে গেছে; তারা যা অর্জন করেছিল তা তাদের জন্য এবং তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের জন্য এবং তারা যা করে গেছে তজ্জন্য তোমরা জিজ্ঞাসিত হবেনা।মুজিবুর রহমান

আমরা সবাই তাঁর আজ্ঞাবহ। তারা ছিল এক সম্প্রদায়-যারা গত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদেরই জন্যে। তারা কি করত, সে সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সেই ছিল এক উম্মত, তা অতীত হয়েছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের। তোমরা যা অর্জন কর তা তোমাদের। তারা যা করত সে সম্বন্ধে তোমাদের কোন প্রশ্ন করা হবে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সেটা এমন এক উম্মত যা বিগত হয়েছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের জন্যই, আর তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের জন্যই। আর তারা যা করত সে সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে না।আল-বায়ান

এ লোকেরা গত হয়ে গেছে, তাদের জন্য তাদের কৃতকর্ম এবং তোমাদের জন্য তোমাদের কৃতকর্ম এবং তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে না।তাইসিরুল

এরা ঐসব লোক যারা গত হয়ে গেছে। তাদের জন্য আছে যা তারা অর্জন করেছিল আর তোমাদের জন্য যা তোমরা অর্জন করছ, আর তোমাদের জবাবদিহি করতে হবে না ওরা যা করছিল সে সন্বন্ধে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৩৪

অর্থাৎ যদিও তোমরা তাদেরই সন্তান তবুও প্রকৃতপক্ষে তাদের সাথে তোমাদের কোন যোগাযোগ নেই। তোমরা তাদের পথ থেকেই যখন সরে গিয়েছো তখন তাদের নাম নেয়ার তোমাদের কি অধিকার আছে? আল্লাহর ওখানে একথা জিজ্ঞেস করা হবে না যে, তোমাদের বাপ-দাদারা কি করতো? বরং জিজ্ঞেস করা হবে তোমরা কি করেছো?

আর “তারা যা কিছু উপার্জন করেছে, তা তাদের নিজেদের জন্যই আর তোমরা যা উপার্জন করবে তা তোমাদের জন্য”---এ বর্ণনাভংগীটি কুরআনের একান্ত নিজস্ব। আমরা যে জিনিসটিকে কাজ বা আমল বলি কুরআন নিজের ভাষায় তাকে বলে উপার্জন বা রোজগার। আমাদের প্রত্যেকটি আমলের একটি ভালো বা মন্দ ফলাফল আছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টির আকারে এর প্রকাশ ঘটবে। এ ফলাফলই হচ্ছে আমাদের উপার্জন। যেহেতু কুরআনের দৃষ্টিতে ঐ ফলাফলই মূল গুরুত্বের অধিকারী তাই সেখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমাদের কাজকে ‘আমল’ ও ‘কাজ’ শব্দ দ্বারা চিহ্নিত না করে তাকে ‘উপার্জন’ শব্দ দিয়ে সুস্পষ্ট করা হয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩৪. তারা ছিল এমন এক জাতি, যারা অতীত হয়ে গেছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের, তোমরা যা অর্জন করেছো তা তোমাদের। আর তারা যা করত সে সম্বন্ধে তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে না।(১)

(১) আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, বাপ-দাদার সৎকর্ম সন্তানদের উপকারে আসে না - যতক্ষণ না তারা নিজেরা সৎকর্ম সম্পাদন করবে। এমনিভাবে বাপ-দাদার কুকর্মের শাস্তিও সন্তানরা ভোগ করবে না, যদি তারা সৎকর্মশীল হয়। কুরআন এ বিষয়টি বারবার বিভিন্ন ভঙ্গিতে বর্ণনা করেছে। বিভিন্ন আয়াতে বলা হয়েছেঃ “একজনের বোঝা অন্যজন বহন করবে না”। (সূরা আল-আনআমঃ ১৬৪, আল-ইসরাঃ ১৫, ফাতিরঃ ১৮, আয-যুমারঃ ৭, আন-নাজমঃ ৩৮)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে বনী-হাশেম! এমন যেন না হয় যে, কেয়ামতের দিন অন্যান্য লোকজন নিজ নিজ সৎকর্ম নিয়ে আসবে আর তোমরা আসবে সৎকর্ম থেকে উদাসীন হয়ে শুধু বংশ গৌরব নিয়ে এবং আমি বলব যে, আল্লাহর আযাব থেকে আমি তোমাদের বাচাতে পারব না। (মুসলিমঃ ২৫৪৩) অন্য এক হাদীসে আছে, ‘আমল যাকে পিছনে ফেলে দেয়, বংশ তাকে এগিয়ে নিতে পারে না’। (মুসলিম: ২৬৯৯, আবু দাউদ: ১৪৫৫)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১৩৪। সেই উম্মত (দল) গত হয়ে গেছে; তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের; তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের। আর তারা যা করত, সে সম্বন্ধে তোমাদেরকে কোন প্রশ্ন করা হবে না। (1)

(1) এ কথাও ইয়াহুদীদেরকে বলা হচ্ছে যে, তোমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে যারা আম্বিয়া ও সৎলোক ছিলেন, তাঁদের সাথে সম্পর্ক জুড়ে তোমাদের কোন লাভ নেই। তাঁরা যা কিছু করেছেন, তার ফল তাঁরাই পাবেন, তোমরা পাবে না। আর তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের ফল পাবে। এ থেকে জানা যায় যে, পূর্বপুরুষদের নেকীর উপর ভরসা করা ভুল। আসল জিনিস হল ঈমান ও নেক আমল। পূর্বের পুণ্যবান ব্যক্তিদের এটাই ছিল পুঁজি এবং কিয়ামত পর্যন্ত আগত মানুষের মুক্তির একমাত্র অসীলা বা মাধ্যমও এটাই।