ওয়া মিনহুম মাইঁ ইয়ানজু রু ইলাইকা আফাআনতা তাহদিল ‘উমইয়া ওয়ালাও ক-নূলাইউবসিরূন।উচ্চারণ

তাদের মধ্যে বহু লোক আছে যারা তোমাকে দেখে। কিন্তু তুমি কি অন্ধদের পথ দেখাবে, তারা কিছু না দেখতে পেলেও? ৫১ তাফহীমুল কুরআন

তাদের মধ্যে কতক এমন, যারা তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে (কিন্তু অন্তরে ন্যায়নিষ্ঠতা না থাকার কারণে তারা অন্ধতুল্য)। তুমি কি অন্ধকে পথ দেখাবে যদিও তারা কিছুই উপলব্ধি করে না? #%২৭%#মুফতী তাকী উসমানী

আর তাদের কতক এমনও আছে যারা তোমাকে দেখছে; তুমি কি অন্ধকে পথ দেখাতে পারবে, যদি তাদের অর্ন্তদৃষ্টি না থাকে?মুজিবুর রহমান

আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমাদের প্রতি দৃষ্টিনিবদ্ধ রাখে; তুমি অন্ধদেরকে কি পথ দেখাবে যদি তারা মোটেও দেখতে না পারে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এদের মধ্যে কেউ কেউ তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে। তুমি কি অন্ধকে পথ দেখাবে, তারা না দেখলেও? ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তাদের মধ্যে কেউ আছে এমন, যে তোমার দিকে তাকায়। তবে কি তুমি অন্ধকে পথ দেখাবে, তারা না দেখলেও?আল-বায়ান

তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমার দিকে তাকায়, তুমি কি অন্ধকে পথ দেখাবে, তারা না দেখলেও?তাইসিরুল

আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে। তুমি কি অন্ধকে পথ দেখতে পারো, -- পরন্ত তারা দেখতে পায় না?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫১

ওপরের বাক্যাংশে যে কথা বলা হয়েছে এখানেও সেই একই কথা বলা হয়েছে। চোখের দৃষ্টি উন্মুক্ত থাকলে কোন লাভ নেই, চোখ দিয়ে তো পশুরাও দেখে। আসল জিনিস হচ্ছে মনের দৃষ্টি উন্মুক্ত থাকা। এ জিনিসটি যদি কারোর অর্জিত না হয়ে থাকে তাহলে সে সবকিছু দেখেও কিছুই দেখে না।

এ আয়াত দু’টিতে নবী (সা.) কে সম্বোধন করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু তিনি যাদের সংশোধন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাদের বিরুদ্ধে নিন্দাবাদ উচ্চারণ করা হচ্ছে। আর এ নিন্দাবাদের উদ্দেশ্য নিছক নিন্দাবাদ নয় বরং বিদ্রুপবানে বিদ্ধ করে তাদের সুপ্ত মনুষ্যত্বকে জাগিয়ে তোলা এবং চোখ ও কানের মাধ্যমে তাদের মনের ভেতরে প্রবেশ করার পথ খুলে দেয়াই এর উদ্দেশ্য এভাবে যুক্তিসঙ্গত কথা ও সমবেদনা পূর্ণ উপদেশ সেখানে পৌঁছবে পারবে। এ বর্ণনা পদ্ধতিটি কিছুটা এমনি ধরনের যেমন কোন সৎ লোক অসৎ লোকদের মাঝে উন্নত চারিত্রিক গুণাবলী সহকারে বাস করতে থাকে এবং অত্যন্ত আন্তরিকতা ও দরদ সহকারে তারা যে পতনশীল অবস্থার মধ্যে পড়ে আছে সে সম্পর্ক তাদের মনে অনুভূতি জাগাতে থাকে। তাদের জীবনযাপন প্রণালীতে কি কি গলদ আছে এবং সঠিক জীবনযাপন প্রণালী কি তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে ও যুক্তিসঙ্গত পদ্ধতিতে সে তাদেরকে বুঝাবার চেষ্টা করছে। কিন্তু তার পূত-পবিত্র জীবন থেকে কেউ এ শিক্ষা নিচ্ছে না এবং তার এ শুভাকাংখামূলক উপদেশকেও কেউ গ্রাহ্য করছে না। এ অবস্থায় যখন সে তাদেরকে বুঝাবার কাজে ব্যস্ত রয়েছে এবং তারা তার কথাগুলোর প্রতি কর্ণপাত করছে না ঠিক এমন সময় তার কোন বন্ধু এসে তাকে তাকে বলে, আরে ভাই এ তুমি কি করছো? তুমি এমন লোকদের শুনাচ্ছো যারা কানে শুনে না এবং এমন লোকদের পথ দেখাচ্ছো যারা চোখ দেখে না। এদের মনের কানে তালা লেগেছে এবং এদের হৃদয়ের চোখ কানা হয়ে গেছে। এ সৎ লোককে তার সংস্কার প্রচেষ্টা থেকে বিরত রাখা তার বন্ধুর একথা বলার উদ্দেশ্য নয়। বরং তার উদ্দেশ্য হল, হয়তো এ বিদ্রূপ ও তিরস্কারের ফলে অচেতন লোকদের কিছুটা চেতন ফিরে আসবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

উম্মতের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মমতা ছিল অসাধারণ, যে কারণে কাফেরগণ ঈমান না আনায় তিনি অধিকাংশ সময় দুঃখ ভারাক্রান্ত থাকতেন। এ আয়াত তাঁকে সান্তনা দিচ্ছে, আপনি তো সঠিক পথে আনতে পারবেন কেবল তাকেই, যার অন্তরে সত্য জানার আগ্রহ আছে। যাদের অন্তরে এ আগ্রহই নেই, তারা তো অন্ধ ও বধিরতুল্য। আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেন তাদেরকে কোন কথা শোনাতে পারবেন না এবং কোনও পথও দেখাতে পারবেন না। তাদের কোনও দায়-দায়িত্ব আপনার উপর নয়। তারা নিজেরাই নিজেদের জিম্মাদার এবং আল্লাহ তাআলা তাদের উপর কোনও জুলুম করেননি; বরং তারা জাহান্নামের পথ অবলম্বন করে নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৩. আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ আপনার দিকে তাকিয়ে থাকে। তবে কি আপনি অন্ধকে পথ দেখাবেন, তারা না দেখলেও?(১)

(১) তাদের এ তাকানোর দ্বারা তারা আপনার কাছে নবুওয়াতের যে দলীল-প্রমাণাদি আছে তা দেখতে পায়, কিন্তু তারা এর দ্বারা উপকৃত হয় না। পক্ষান্তরে মুমিনগণ আপনার প্রতি দৃষ্টিপাত করেই আপনার সততার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হতে পারে। তাই আপনার প্রতি সম্মানে তাদের চোখ ভরে যায়। কাফেরগণ আপনার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেও সম্মানের সাথে দেখে না। (ইবন কাসীর) আর যারা সম্মানের সাথে দেখবে না তাদের হিদায়াত তাওফীক হবে না। (কুরতুবী) আল্লাহ্ তা'আলা অন্য আয়াতে আরও বলেনঃ “তারা যখন আপনাকে দেখে তখন তারা আপনাকে শুধু ঠাট্টা-বিদ্রুপের পাত্ররূপে গণ্য করে এবং বলে, এই-ই কি সে, যাকে আল্লাহ রাসূল করে পাঠিয়েছেন? সে তো আমাদেরকে আমাদের দেবতাগণ হতে দূরে সরিয়ে দিত, যদি না আমরা তাদের আনুগত্যে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকতাম। যখন তারা শাস্তি দেখতে পাবে তখন তারা জানবে কে বেশী পথভ্রষ্ট।” (সূরা আল-ফুরকানঃ ৪১–৪২)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৩) আর তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে, যারা তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে। তবে কি তুমি অন্ধকে পথ দেখাবে; যদিও তাদের দৃষ্টিশক্তি না থাকে?(1)

(1) অনুরূপ কিছু মানুষ তোমার দিকে তাকিয়ে দেখে, কিন্তু যেহেতু তাদের উদ্দেশ্য অন্য কিছু থাকে, ফলে তাদেরও অন্ধ ব্যক্তিদের মত কোন লাভ হয় না। বিশেষ করে সেই অন্ধ ব্যক্তি, যে চোখ থাকতেও অন্ধ হয়। কারণ অনেক অন্ধ লোক আছে, যারা অন্তর-দৃষ্টি দ্বারা দেখে। তারা চোখের দেখা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পরেও, অনেক কিছু বুঝে নিতে পারে। কিন্তু এরা সেই অন্ধের মত যে অন্ধ অন্তর-দৃষ্টি থেকেও বঞ্চিত। এসব কথার উদ্দেশ্য হল, নবী (সাঃ)-কে সান্তনা দেওয়া। যেমন একজন ডাক্তার যখন জেনে নেন যে, রোগী চিকিৎসা করানোর ব্যাপারে অধৈর্য এবং সে আমার নির্দেশনা ও চিকিৎসার কোন পরোয়া করে না, তখন তিনি তার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেন না এবং তার জন্য সময় নষ্ট করতে পছন্দ করেন না।