ওয়ামা-ইয়াত্তাবি‘উ আকছারুহুম ইল্লা-জান্নান ইন্নাজ্জান্না লা-ইউগনী মিনাল হাক্কিশাইআন ইন্নাল্লা-হা ‘আলীমুম বিমা-ইয়াফ‘আলূন।উচ্চারণ

আসলে তাদের বেশীরভাগ লোকই নিছক আন্দাজ-অনুমানের পেছনে চলছে। ৪৪ অথচ আন্দাজ-অনুমান দ্বারা সত্যের প্রয়োজন কিছুমাত্র মেটে না। তারা যা কিছু করছে তা আল্লাহ‌ ভালভাবেই জানেন। তাফহীমুল কুরআন

এবং (প্রকৃতপক্ষে) তাদের (অর্থাৎ মুশরিকদের) মধ্যে অধিকাংশ কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে থাকে, আর এটা তো নিশ্চিত যে, সত্যের বিপরীতে অনুমান কোনও কাজে আসে না। নিশ্চয়ই তারা যা-কিছু করে আল্লাহ তা ভালোভাবে জানেন।মুফতী তাকী উসমানী

আর তাদের অধিকাংশ লোক শুধু অলীক কল্পনার পিছনে চলছে; নিশ্চয়ই অলীক কল্পনা বাস্তব ব্যাপারে মোটেই ফলপ্রসু নয়; নিশ্চয়ই আল্লাহ সবই জানেন, যা কিছু তারা করছে ।মুজিবুর রহমান

বস্তুতঃ তাদের অধিকাংশই শুধু আন্দাজ-অনুমানের উপর চলে, অথচ আন্দাজ-অনুমান সত্যের বেলায় কোন কাজেই আসে না। আল্লাহ ভাল করেই জানেন, তারা যা কিছু করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এদের অধিকাংশ অনুমানেরই অনুসরণ করে, সত্যের পরিবর্তে অনুমান কোন কাজে আসে না, এরা যা করে নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তাদের অধিকাংশ কেবল ধারণার অনুসরণ করে। নিশ্চয় সত্যের বিপরীতে ধারণা কোন কার্যকারিতা রাখে না । নিশ্চয় আল্লাহ তারা যা করে সে সম্পর্কে সম্যক অবগত।আল-বায়ান

তাদের অধিকাংশই কেবল ধারণার অনুসরণ করে, সত্যের মুকাবালায় ধারণা কোন কাজে আসে না। তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ সর্বাধিক অবগত।তাইসিরুল

আর তাদের অধিকাংশই অনুমান ছাড়া আর কিছুই অনুসরণ করে না। নিঃসন্দেহ সত্যের পরিবর্তে অনুমানের কোনোই মূল্য নেই। ওরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ্ অবশ্যই সর্বজ্ঞাতা।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪৪

অর্থাৎ যারা বিভিন্ন ধর্ম প্রবর্তন করেছে, দর্শন রচনা করেছে এবং জীবন বিধান তৈরী করেছে, তারাও এসব কিছু জ্ঞানের ভিত্তিতে নয় বরং আন্দাজ অনুমানের ভিত্তিতে করেছে। আর যারা এসব ধর্মীয় ও দ্বীনি নেতৃবৃন্দের আনুগত্য করেছে তারাও জেনে বুঝে নয় বরং নিছক অনুমানের ভিত্তিতে তাদের পেছনে চলেছে। কারণ তরা মনে করে, এত বড় বড় লোকেরা যখন একথা বলেন এবং আমাদের বাপ দাদারা এসব মেনে আসছেন আবার এ সঙ্গে দুনিয়ার বিপুলসংখ্যক লোক এগুলো মেনে নিয়ে এ অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে তখন নিশ্চয়ই এই লোকেরা ঠিক কথাই বলে থাকবেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৬. আর তাদের অধিকাংশ কেবল অনুমানেরই অনুসরণ করে, সত্যের পরিবর্তে অনুমান তো কোন কাজে আসে না, তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে সবিশেষ অবগত।(১)

(১) অর্থাৎ তাদের নেতারা যারা বিভিন্ন ধর্ম প্রবর্তন করেছে, দর্শন রচনা করেছে তারাও এসব কিছু জ্ঞানের ভিত্তিতে নয় বরং আন্দাজ-অনুমানের ভিত্তিতে এগুলোকে ইলাহ সাব্যস্ত করে নিয়েছে। অনুমান করেই বলছে যে এগুলো শাফা’আত করবে। অথচ এ ব্যাপারে তাদের কোন দলীল-প্রমাণ নেই। আর যারা এসব ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের আনুগত্য করেছে তারাও জেনেবুঝে নয় বরং নিছক অন্ধ অনুকরণের ভিত্তিতে তাদের পেছনে চলেছে। (কুরতুবী)

কারণ তারা মনে করে, এত বড় বড় লোকেরা যখন একথা বলেন এবং আমাদের বাপ-দাদারা এসব মেনে আসছেন আবার এ সংগে দুনিয়ার বিপুল সংখ্যক লোক এগুলো মেনে নিয়ে এ অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে তখন নিশ্চয়ই এই লোকেরা ঠিক কথাই বলে থাকবেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩৬) আর তাদের অধিকাংশ লোক শুধু ধারণার অনুসরণ করে; নিশ্চয়ই বাস্তব ব্যাপারে ধারণা কোন কাজে আসে না।(1) তারা যা করছে নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে সুপরিজ্ঞাত। (2)

(1) সার কথা হল যে, মানুষ শুধু ধারণাবশে চলে অথচ তারা জানে যে, হক, সত্য, বাস্তব ও প্রমাণপুঞ্জের মোকাবেলায় খেয়াল-খুশি এবং অনুমান ও ধারণার কোন মূল্যই নেই। কুরআন শরীফে ظن শব্দটি একীন (দৃঢ়বিশ্বাস) এবং ধারণা দুই অর্থে ব্যবহার হয়েছে। এখানে উদ্দেশ্য হল, দ্বিতীয় অর্থ; অর্থাৎ (ধারণা)।

(2) অর্থাৎ, তিনি তাদের এই হঠকারিতার শাস্তি দেবেন। কারণ প্রমাণ না থাকার পরেও, তারা শুধু উদ্ভট কল্পনা ও বিকৃত ধারণার পিছনে পড়েছিল এবং জ্ঞান বুদ্ধি দ্বারা কোন কাজ নেয়নি ।