কুল হাল মিন শুরকাইকুম মাইঁ ইয়াবদাউল খালকা ছুম্মা ইউ‘ঈদুহূ কুল্লিলা-হু ইয়াবদাউল খালকা ছুম্মা ইউ‘ঈদুহূফাআন্না-তু’ফাকূন।উচ্চারণ

তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, তোমাদের তৈরী করা, শরীকদের মধ্যে কেউ আছে কি যে সৃষ্টির সূচনা করে আবার তার পুনরাবৃত্তিও করে?-বলো, একমাত্র আল্লাহই সৃষ্টির সূচনা করে এবং তার পুনরাবৃত্তির ঘটনা, ৪১ কাজেই তোমরা কোন উল্টো পথে চলে যাচ্ছো? ৪২ তাফহীমুল কুরআন

বল, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত কর, তাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে সৃষ্টিরাজিকে প্রথমবার অস্তিত্ব দান করে, অতঃপর (তাদের মৃত্যুর পর) তাদেরকে পুনরায় অস্তিত্ব দান করে? বল, আল্লাহই সৃষ্টিরাজিকে প্রথমবার অস্তিত্ব দান করেন অতঃপর (তাদের মৃত্যুর পর) তাদেরকে পুনরায় অস্তিত্ব দান করবেন। এতদসত্ত্বেও তোমাদেরকে উল্টো কে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?মুফতী তাকী উসমানী

(হে নাবী) তুমি বলঃ তোমাদের (নিরূপিত) শরীকদের মধ্যে এমন কেহ আছে কি যে প্রথমবারও সৃষ্টি করে এবং পুনরাবর্তন করতে পারে? তুমি বলে দাওঃ আল্লাহই প্রথমবারও সৃষ্টি করেন, অতঃপর তিনিই পুনর্বারও সৃষ্টি করবেন, অতএব তোমরা (সত্য হতে) কোথায় ফিরে যাচ্ছ?মুজিবুর রহমান

বল, আছে কি কেউ তোমাদের শরীকদের মাঝে যে সৃষ্টি কে পয়দা করতে পারে এবং আবার জীবিত করতে পারে? বল, আল্লাহই প্রথমবার সৃষ্টি করেন এবং অতঃপর তার পুনরুদ্ভব করবেন। অতএব, কোথায় ঘুরপাক খাচ্ছে?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বল, ‘তোমরা যাদের শরীক কর তাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনয়ন করে ও পরে এর পুনরাবর্তন ঘটায় ?’ বল, ‘আল্লাহ্ই সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনয়ন করেন ও পরে এর পুনরাবর্তন ঘটান,’ সুতরাং তোমরা কেমন করে সত্য-বিচ্যুত হচ্ছো ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমাদের শরীকদের কেউ কি আছে, যে প্রথম সৃষ্টি করবে, অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি ঘটাবে’? বল, ‘আল্লাহই প্রথম সৃষ্টি করেন অতঃপর তার পুনরাবৃত্তি ঘটান’। অতএব তোমাদেরকে কোথায় ফিরানো হচ্ছে?আল-বায়ান

বল ‘‘তোমরা যাদেরকে শরীক কর তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি যে সৃষ্টির সূচনা করে এবং তার পুনরাবর্তনও ঘটাতে পারে?’’ বল ‘‘আল্লাহই সৃষ্টির সূচনা করেন এবং তার পুনরাবর্তন ঘটান।’’ তাহলে কীভাবে তোমরা বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছ (সত্য পথ থেকে)?তাইসিরুল

বলো -- "তোমাদের অংশীদের মধ্যে কেউ কি আছে যে আদি-সৃষ্টি আর করতে পারে, তারপর তা পুনরুৎপাদন করতে পারে?" তুমি বলো -- "আল্লাহ্‌ই সৃষ্টি শুরু করেন, তারপর তা পুনরুৎপাদন করেন। সুতরাং তোমরা কোথায় চলে যাচ্ছ?"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৪১

সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে মুশরিকরাও স্বীকার করতো যে, এটা একমাত্র আল্লাহরই কাজ। তার সাথে যাদেরকে তারা শরীক করে তাদের কারো এ কাজে কোন অংশ নেই। আর সৃষ্টির পুনরাবৃত্তির ব্যাপারটিও সুস্পষ্ট। অর্থাৎ প্রথমে যিনি সৃষ্টি করেন তার পক্ষেই দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করা সম্ভব। কিন্তু যে প্রথমবারই সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি সে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করতে পারে কেমন করে? এটি যদিও একটি অকাট্য যুক্তিসঙ্গত কথা এবং মুশরিকদের মন ও ভেতর থেকে এর সত্যতার সাক্ষ্য দিতো তবুও তারা শুধুমাত্র এ কারণে একথা স্বীকার করতে ইতস্তত করতো যে, এটা মেনে নিলে পরকাল অস্বীকার করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ কারণেই পূর্ববর্তী প্রশ্নের জবাবে তো আল্লাহ‌ বললেন যে, তারা নিজেরাই বলবে, যে এটা আল্লাহর কাজ। কিন্তু এখানে এর পরিবর্তে নবী (সা.) কে বলা হচ্ছে, তুমি জোরালো কণ্ঠে বলে দাও প্রথমবার সৃষ্টি এবং সৃষ্টির পুনরাবৃত্তি সবই একমাত্র আল্লাহর কাজ।

৪২

অর্থাৎ যখন তোমাদের জীবনের সূচনার প্রান্তভাগ আল্লাহর হাতে এবং শেষের প্রান্ত ভাগও তাঁরই হতে। তখন নিজেদের কল্যাণকামী হয়ে একবার ভেবে দেখো, তোমাদের কিভাবে একথা বুঝানো হয়েছে, এই দুই প্রান্তের মাঝখানে আল্লাহ‌ ছাড়া অন্য জন তোমাদের বন্দেগী ও নযরানা লাভের অধিকার লাভ করেছে?

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৪. বলুন, তোমরা যাদের শরীক কর তাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে, যে সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনে ও পরে সেটার পুনরাবৃত্তি ঘটায়? বলুন, ‘আল্লাহই সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনেন ও পরে সেটার পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন।(১) কাজেই (সত্য থেকে) তোমাদেরকে কোথায় ফেরানো হচ্ছে?

(১) সৃষ্টির সূচনা সম্পর্কে মুশরিকরাও স্বীকার করতো যে, এটা একমাত্র আল্লাহরই কাজ। তাঁর সাথে যাদেরকে তারা শরীক করে তাদের কারো এ কাজে কোন অংশ নেই। আর সৃষ্টির পুনরাবৃত্তির ব্যাপারটিও সুস্পষ্ট। অর্থাৎ প্রথমে যিনি সৃষ্টি করেন তাঁর পক্ষেই দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করা সম্ভব। কিন্তু যে প্রথমবারই সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়নি সে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করতে পারে কেমন করে? অন্য আয়াতেও আল্লাহ তা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, “আল্লাহ, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি তোমাদেরকে জীবিত করবেন। (আল্লাহর সাথে শরীক সাব্যস্তকৃত) তোমাদের মা’বুদগুলোর এমন কেউ আছে কি, যে এসবের কোন কিছু করতে পারে? তারা যাদেরকে শরীক করে, তিনি (আল্লাহ) সে সব (শরীক) থেকে মহিমাময়-পবিত্র ও অতি উর্ধ্বে। (সূরা আর-রুম ৪০) আরও বলেন, “আর তারা তার পরিবর্তে ইলাহরূপে গ্রহণ করেছে অন্যদেরকে, যারা কিছুই সৃষ্টি করে না, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট এবং তারা নিজেদের অপকার কিংবা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না এবং মৃত্যু, জীবন ও উত্থানের উপরও কোন ক্ষমতা রাখে না। (সূরা আল-ফুরকানঃ ৩)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩৪) তুমি বল, ‘তোমাদের নিরূপিত শরীকদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে প্রথমবারও সৃষ্টি করে, আবার পুনর্বারও সৃষ্টি করে?’ তুমি বল, ‘আল্লাহই প্রথমবারও সৃষ্টি করেন। অতঃপর তিনিই পুনর্বারও সৃষ্টি করবেন। অতএব তোমরা (সত্য হতে) কোথায় ফিরে যাচ্ছ?’ (1)

(1) মুশরিকদের শিরক কর্মের অসারতাকে পরিষফুটিত করার জন্য তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে যে, বল, ‘তোমরা যাদেরকে আল্লাহর সাথে শরীক করছ, তারা কি এই বিশ্বজগৎকে প্রথমে সৃষ্টি করেছে? অথবা পুনরায় তা সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখে?’ কক্ষনই না। প্রথম সৃষ্টিকারীও আল্লাহ এবং কিয়ামতের দিন তিনিই পুনরায় সকলকে জীবিত করবেন। সুতরাং তোমরা হিদায়াতের পথ ছেড়ে কোথায় ফিরে যাচ্ছ?