লিল্লাযীনা আহছানুল হুছনা-ওয়া ঝিয়া-দাতুওঁ ওয়ালা ইয়ারহাকুউজূহাহুম কাতারুওঁ ওয়ালা-যিল্লাতুন উলাইকা আসহা-বুল জান্নাতি হুম ফীহা-খা-লিদূ ন।উচ্চারণ
যারা কল্যাণের পথ অবলম্বন করেছে তাদের জন্য আছে কল্যাণ এবং আরো বেশী। ৩৩ কলঙ্ক কালিম বা লাঞ্ছনা তাদের চেহারাকে আবৃত করবে না। তারা জান্নাতের হকদার, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল। তাফহীমুল কুরআন
যারা উৎকৃষ্ট কাজ করেছে তাদের জন্য রয়েছে উৎকৃষ্ট অবস্থা এবং বেশি আরও কিছু। #%১৬%# তাদের মুখমণ্ডলকে কোনও কালিমা আচ্ছন্ন করবে না এবং লাঞ্ছনাও নয়। তারা হবে জান্নাতবাসী। তারা তাতে সর্বদা থাকবে।মুফতী তাকী উসমানী
যারা সৎ কাজ করেছে তাদের জন্য উত্তম বস্তু (জান্নাত) রয়েছে; এবং অতিরিক্ত কিছুও বটে; আর না তাদের মুখমণ্ডলকে মলিনতা আচ্ছন্ন করবে, আর না অপমান; তারাই হচ্ছে জান্নাতের অধিবাসী, তারা ওর মধ্যে অনন্তকাল থাকবে।মুজিবুর রহমান
যারা সৎকর্ম করেছে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং তারও চেয়ে বেশী। আর তাদের মুখমন্ডলকে আবৃত করবে না মলিনতা কিংবা অপমান। তারাই হল জান্নাতবাসী, এতেই তারা বসবাস করতে থাকবে অনন্তকাল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যারা কল্যাণকর কাজ করে তাদের জন্যে আছে কল্যাণ এবং আরও অধিক। কালিমা ও হীনতা এদের মুখমণ্ডলকে আচ্ছন্ন করবে না। এরাই জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে এরা স্থায়ী হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যারা ভালো কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে শুভ পরিণাম (জান্নাত) এবং আরও বেশি। আর ধূলোমলিনতা ও লাঞ্ছনা তাদের চেহারাগুলোকে আচ্ছন্ন করবে না। তারাই জান্নাতবাসী। তারা তাতে স্থায়ী হবে।আল-বায়ান
যারা কল্যাণকর কাজ করে তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ এবং আরো অতিরিক্ত (পুরস্কার), কলংক ও লাঞ্ছনা তাদের মুখমণ্ডলকে মলিন করবে না, তারাই হল জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা থাকবে চিরকাল।তাইসিরুল
যারা ভালো করে তাদের জন্য রয়েছে ভালো এবং আরো বেশি। আর তাদের মুখমন্ডলকে আচ্ছাদন করবে না কোনো কালিমা এবং কোনো অপমানও নয়। এরাই হচ্ছে বেহেশতের অধিবাসী, তারা সেখানে থাকবে স্থায়ীভাবে।মাওলানা জহুরুল হক
৩৩
তারা কেবল তাদের নেকী অনুযায়ীই প্রতিদান পাবে না বরং আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে পুরস্কৃতও করবেন।
এটা প্রতিশ্রুতির এক সূক্ষ্ম ও কৌতূহলোদ্দীপক ভঙ্গি যে, ‘আরও কিছু’ যে কী তা আল্লাহ তাআলা খুলে বলেননি। বরং তা পর্দার আড়ালে রেখে দিয়েছেন। ব্যাপার এই যে, জান্নাতে উৎকৃষ্ট সব নিয়ামতের অতিরিক্ত এমন কিছু নিয়ামতও থাকবে, যা আল্লাহ তাআলা ব্যাখ্যা করে বললেও তার আসল মজা ও আস্বাদ ইহজগতে বসে উপলব্ধি করা মানুষের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়। কাজেই আপাতত মানুষের বোঝার জন্য যতটুকু দরকার আল্লাহ তাআলা ততটুকু বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ, তাঁর শান মোতাবেক হবে এমন কিছু আপেক্ষিক নিয়ামতের কথা উল্লেখ করে দিয়েছেন। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে যে, যখন সমস্ত জান্নাতবাসী জান্নাতের নিয়ামতসমূহ পেয়ে আনন্দাপ্লুত হয়ে যাবে ও তাতে সম্পূর্ণ মাতোয়ারা হয়ে পড়বে, তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, আমি তোমাদেরকে একটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, এখন আমি তা পূরণ করতে চাই। জান্নাতবাসীগণ বলবে, আল্লাহ তাআলা তো আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করে জান্নাত দান করেছেন এবং এভাবে নিজের সব ওয়াদা পূরণ করে ফেলেছেন। এরপর আবার কোন ওয়াদা বাকি আছে? এ সময় আল্লাহ তাআলা পর্দা সরিয়ে নিজ দীদার ও দর্শন দান করবেন। তখন জান্নাতবাসীদের মনে হবে, এ পর্যন্ত তাদেরকে যত নি‘আমত দেওয়া হয়েছে এই নি‘আমতের মজা ও আনন্দ সে সব কিছুর উপরে (রূহুল মাআনী সহীহ মুসলিম প্রভৃতির বরাতে)।
২৬. যারা ইহসানের সাথে আমল করে (উত্তমরূপে কাজ করে) তাদের জন্য আছে জান্নাত এবং আরো বেশী(১)। কালিমা ও হীনতা তাদের মুখমন্ডলকে আচ্ছন্ন করবে না(২)। তারাই জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।
(১) এ আয়াতে أَحْسَنُوا বলে বুঝানো হয়েছে ঐ সমস্ত লোকদেরকে যারা ইহসানের সাথে তাদের সৎকাজ করেছে। আর ইহসানের অর্থ যা হাদীসে এসেছে তা হলো, এমনভাবে আল্লাহর ইবাদাত করা যেন সে আল্লাহকে দেখছে, যদি তা সম্ভব না হয় তবে এটা যেন বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তো তাকে দেখছেন। সুতরাং যারা ইহসানের সাথে তাদের ইবাদাত সম্পাদন করেছে তারা হলো পরিপূর্ণ তাওহীদ বাস্তবায়নকারী। তাদের জন্য দুটি পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে- (১) الْحُسْنَىٰ যার অর্থ জান্নাত। (২) زِيَادَةٌ যার অর্থ বাড়তি পাওনা। এর অর্থ এও হতে পারে যে, তাদেরকে শুধু তাদের কাজ অনুসারেই প্রতিফল দেয়া হবে না বরং তাদের আমলের সওয়াব দশগুণ ও ততোধিক বহুগুণ যেমন সত্তরগুণে বর্ধিত করে দেয়া হবে। এ ছাড়া তাদের জন্য সেখানে অট্টালিকা, উদ্যান ও সুন্দর সুন্দর স্ত্রীসমূহ থাকবে। (ইবন কাসীর)
তাছাড়া আরো থাকবে আল্লাহর দীদার। এ সম্পর্কে হাদীসে এসেছে যে, যখন জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং জাহান্নামবাসীগণ জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখন একজন আহবানকারী ডেকে বলবেঃ হে জান্নাতবাসীগণ! তোমাদের সাথে আল্লাহর একটি ওয়াদা রয়েছে যা তিনি পূরণ করতে চান। তারা বলবেঃ সেটা কি? তিনি কি আমাদের মীযানের পাল্লা ভারী করে দেননি? আমাদের চেহারা শুভ্র করে দেন নি? আমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করান নি? আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন নি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তারপর তাদের জন্য তাঁর পর্দা খুলে দেয়া হবে ফলে তারা তার দিকে তাকাবে। আল্লাহর শপথ করে বলছিঃ আল্লাহ তাদেরকে তাঁর দিকে তাকানোর চেয়ে প্রিয় এবং চক্ষু শীতলকারী আর কোন জিনিস দেননি। (সহীহ মুসলিমঃ ১৮১, তিরমিযীঃ ২৫৫২, মুসনাদে আহমাদ ৪/৩৩৩) সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে, এখানে زِيَادَةٌ বা বাড়তি পাওনার মধ্যে আল্লাহর দীদার তথা তার চেহারা মুবারকের দিকে তাকানো ও আল্লাহ্ তা'আলাকে দেখার সৌভাগ্যও শামিল। সাহাবা, তাবেয়ীন, তাবে-তাবেয়ীন, মুজতাহেদীনসহ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অনেক আলেম থেকে এ তাফসীর বর্ণিত হয়েছে। (তাবারী; বাগভী; কুরতুবী ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর)
(২) বরং তাদের চেহারা হবে শুভ্ৰ, মন হবে আনন্দে উদ্বেলিত। যেমনটি সূরা আল ইনসানের ১১ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
(২৬) যারা কল্যাণকর কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ (জান্নাত) এবং আরো অধিক (আল্লাহর দীদার)।(1) তাদের মুখমন্ডলকে মলিনতা আচ্ছন্ন করবে না এবং লাঞ্ছনাও না; তারাই হচ্ছে জান্নাতের অধিবাসী, তারা ওর মধ্যে অনন্তকাল বাস করবে।
(1) এই زِيَادَةٌ -‘অধিক’এর কয়েকটি অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু হাদীসে এর ব্যাখ্যা আল্লাহ তাআলার দীদার বা দর্শনসুখ বর্ণনা করা হয়েছে। জান্নাতীদেরকে জান্নাত ও জান্নাতের সকল নিয়ামত দান করার পর এই দীদার দ্বারা সম্মানিত করা হবে। (মুসলিম)