ওয়া ইযাআযাকনান্না-ছা রহমাতাম মিম বা‘দি দাররআ মাছছাতহুম ইযা-লাহুম মাকরুন ফী-আ-য়া-তিনা- কুল্লিলা-হু আছর‘উ মাকর- ইন্না রুছুলানাইয়াকতুবূনা মা-তামকুরূন।উচ্চারণ
লোকদের অবস্থা হচ্ছে, বিপদের পরে যখন আমি তাদের রহমতের স্বাদ ভোগ করতে দেই তখনই তারা আমার নিদর্শনের ব্যাপারে ধড়িবাজী শুরু করে দেয়। ২৯ তাদেরকে বলো, আল্লাহ তার চালাকিতে তোমাদের চেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন। তাঁর ফেরেশতারা তোমাদের সমস্ত চালাকী লিখে রাখছে।" ৩০ তাফহীমুল কুরআন
আমি যখন মানুষকে রহমত আস্বাদন করাই তাদেরকে দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করার পর, তখন সহসাই তারা আমার নিদর্শনসমূহের ব্যাপারে চালাকি শুরু করে দেয়। #%১২%# বলে দাও, আল্লাহ আরও দ্রুত কোনও চাল দেখাতে পারেন। #%১৩%# নিশ্চয়ই আমার ফিরিশতাগণ তোমাদের সমস্ত চালাকি লিপিবদ্ধ করছে।মুফতী তাকী উসমানী
আর যখন আমি মানুষকে কোন নি‘আমাতের স্বাদ উপভোগ করাই তাদের উপর কোন বিপদ পতিত হওয়ার পর, তখনই তারা আমার আয়াতসমূহ সম্বন্ধে দুরভিসন্ধি করতে থাকে। তুমি বলে দাওঃ আল্লাহ অতি দ্রুত কলাকৌশল তৈরী করতে পারেন। নিশ্চয়ই আমার মালাইকা/ফেরেশতাগণ তোমাদের সকল দুরভিসন্ধি লিপিবদ্ধ করছে।মুজিবুর রহমান
আর যখন আমি আস্বাদন করাই স্বীয় রহমত সে কষ্টের পর, যা তাদের ভোগ করতে হয়েছিল, তখনই তারা আমার শক্তিমত্তার মাঝে নানা রকম ছলনা তৈরী করতে আরম্ভ করবে। আপনি বলে দিন, আল্লাহ সবচেয়ে দ্রুত কলা-কৌশল তৈরী করতে পারেন। নিশ্চয়ই আমাদের ফেরেশতারা লিখে রাখে তোমাদের ছল-চাতুরী।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আর দুঃখ-দৈন্য তাদেরকে স্পর্শ করার পর, যখন আমি মানুষকে অনুগ্রহের আস্বাদন করাই তারা তখনই আমার নিদর্শনের বিরুদ্ধে অপকৌশল করে। বল, ‘আল্লাহ্ অপকৌশলের শাস্তিদানে দ্রুততর।’ তোমরা যে অপকৌশল কর তা অবশ্যই আমার ফেরেশতাগণ লিখে রাখে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর যখন আমি মানুষকে দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করার পর রহমতের স্বাদ আস্বাদন করাই, তখন তারা আমার আয়াতসমূহের ব্যাপারে কূট-কৌশলের আশ্রয় নেয়। বল, ‘আল্লাহ কৌশলকারী হিসেবে অধিক দ্রুত’। নিশ্চয় আমার ফেরেশতারা তোমাদের কুট-কৌশল লিখে রাখে।আল-বায়ান
দুঃখ কষ্ট মানুষকে স্পর্শ করার পর আমি যখন তাদেরকে অনুগ্রহ আস্বাদন করতে দেই, তখন তারা আমার নিদর্শনগুলোর ব্যাপারে কুট কৌশলের আশ্রয় নেয়। বল, ‘কৌশল গ্রহণে আল্লাহ হলেন ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন, তোমরা যে সব কূটচাল গ্রহণ কর আমার ফেরেশতাগণ তা লিপিবদ্ধ করে রাখে।’তাইসিরুল
আর যখন আমরা লোকদের করুণার আস্বাদ দিই কোনো দুঃখ-দুর্দশা তাদের স্পর্শ করার পরে, দেখো! তারা আমাদের নিদর্শনসমূহের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে। বলো -- "আল্লাহ্ পরিকল্পনা করায় অধিকতর তৎপর।" নিঃসন্দেহ আমাদের দূতরা লিখে রাখে যে ষড়যন্ত্র তোমরা করো।মাওলানা জহুরুল হক
২৯
১১-১২ আয়াতে যে দুর্ভিক্ষের কথা বলা হয়েছে এখানে আবার তারই প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এর মানে, তোমরা কোন্ মুখে নির্দশন চাইছো? এ কিছুদিন আগে তোমরা একটি দুর্ভিক্ষের করাল গ্রাসে পতিত হয়েছিলে। তাতে তোমরা নিজেদের মাবুদদের থেকে নিরাশ হয়ে গিয়েছিলে। তোমরা এ মাবুদদেরকে আল্লাহর কাছে নিজেদের সুপারিশকারী বানিয়ে রেখেছিলে। এদের সম্পর্কে তোমরা বলে বেড়াতেঃ "অমুক বেদী-মূলে অর্ঘ পেশ করা মাত্রই ফল পাওয়া যায়" এবং "অমুক দরগায় সিন্নি দিলে নির্ঘাত উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে যায়।" এবার তোমরা দেখে নিয়েছো, এসব তথাকথিত উপাস্য ও মাবুদদের হাতে কিছুই নেই। একমাত্র আল্লাহই সমস্ত ক্ষমতার মালিক। এ জন্যই তো তোমরা সর্বশেষ একমাত্র আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করতে শুরু করেছিলে। মুহাম্মাদ ﷺ তোমাদের যে শিক্ষা দিচ্ছেন তার সত্যতার প্রতি তোমাদের মনে বিশ্বাস জন্মাতো, এ নিদর্শনটিই কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল না? কিন্তু এ নিদর্শন দেখে তোমরা কি করছো? যখনই দুর্ভিক্ষের অবসান হয়েছে এবং আল্লাহর রহমতের বারি সিঞ্চনে তোমাদের বিপদ দূরীভূত হয়েছে তখনই তোমরা এ বিপদ আসার ও দূরীভূত হবার হাজারটা ব্যাখ্যা (চালাকী) করতে শুরু করেছো। এভাবে তোমরা তাওহীদকে মেনে নেয়া থেকে নিষ্কৃতি পেতে এবং নিজেদের শিরকের ওপর অবিচল থাকতে চাও। এখন যারা নিজেদের বিবেককে এভাবে নষ্ট করে দিয়েছে তাদেরকে কোন্ ধরনের নিদর্শন দেখানো হবে এবং তা দেখানোর ফায়দা বা কি হবে?
৩০
আল্লাহর চালাকি মানে হচ্ছে, যদি তোমরা সত্যকে না মেনে নাও এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের মনোভাবের পরিবর্তন না করো তাহলে তিনি তোমাদের এ বিদ্রোহাত্মক নীতি অবলম্বন করে চলার সুযোগ করে দেবেন। তোমরা যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন তিনি নিজের পক্ষ থেকে তোমাদের রিযিক ও অনুগ্রহ দান করতে থাকবেন। এর ফলে তোমাদের জীবন সামগ্রী এভাবেই তোমাদের মোহান্ধ করে রাখবে। এ মোহান্ধতার মধ্যে তোমরা যা কিছু করবে আল্লাহর ফেরেশতারা নীরবে বসে বসে তা লিখে নিতে থাকবেন। এভাবে এক সময় অকম্মাত মৃত্যুর পয়গাম এসে যাবে। তখন নিজেদের কৃতকর্মের হিসাব দেবার জন্য তোমাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হবে।
আল্লাহ তাআলার জন্য ‘চাল’ শব্দটি তাদের প্রতি ভর্ৎসনা স্বরূপ ব্যবহৃত হয়েছে। এর দ্বারা বোঝানো উদ্দেশ্য তাদের চালাকীর শাস্তি। অর্থাৎ আল্লাহ অতি দ্রুত তাদেরকে তাদের ছল-চাতুরির শাস্তি দিতে পারেন।
২১. আর দুঃখ-দৈন্য তাদেরকে স্পর্শ করার পর যখন আমরা মানুষকে অনুগ্রহের আস্বাদন করাই তারা তখনই আমাদের আয়াতসমূহের বিরুদ্ধে অপকৌশল করে।(১) বলুন, আল্লাহ কৌশল অবলম্বনে আরো বেশী দ্রুততর।(২) নিশ্চয় তোমরা যে অপকৌশল কর তা আমাদের ফিরিশতারা লিখে রাখে।
(১) অর্থাৎ যখনই আল্লাহর রহমতে তোমাদের বিপদ দূরীভূত হয়েছে তখনই তোমরা এ বিপদ আসার ও দূরীভূত হবার হাজারটা ব্যাখ্যা (চালাকি) করতে শুরু করে থাকো। এখানে বিপদ বলে সার্বিক বিপদ হলেও কোন কোন মুফাসসিরের মতে, অনাবৃষ্টির পরে বৃষ্টি, খরার পরে সতেজতা আসা। (কুরতুবী; ইবন কাসীর) এটা যে আমার নিদর্শন সেটা স্বীকার করতে চাও না। বরং তোমরা আমাদের নিদর্শন নিয়ে ঠাট্টাবিদ্রুপ করে থাক। (কুরতুবী) তারা তখন হককে প্রতিহত করার জন্য বাতিল নিয়ে আসে। (সা’দী) এভাবে তারা তাওহীদকে মেনে নেয়া থেকে নিস্কৃতি পেতে এবং নিজেদের শির্কের ওপর অবিচল থাকতে চায়।
(২) আয়াতে আল্লাহর ক্ষেত্রেও مكر শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। আরবী অভিধান অনুসারে مَكْر বলা হয় গোপন পরিকল্পনাকে, যা ভালও হতে পারে এবং মন্দও হতে পারে। এ ব্যাপারে সূরা বাকারার ১৫ নং আয়াতে বিস্তারিত টিকা দেয়া হয়েছে। এর বাইরেও তোমরা যা কিছু করবে আল্লাহর ফেরেশতারা তা লিখে নিতে থাকবেন। এভাবে এক সময় অকস্মাৎ মৃত্যুর পয়গাম এসে যাবে। তখন নিজেদের কৃতকর্মের হিসাব দেবার জন্য তোমাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন তিনি তোমাদের ছোট বড় সবকিছুর প্রতিদান দিবেন। (ইবন কাসীর)
(২১) মানুষকে কোন বিপদ স্পর্শ করার পর যখন আমি তাদেরকে কোন নিয়ামতের স্বাদ উপভোগ করাই,(1) তখনই তারা আমার আয়াতসমূহ সম্বন্ধে দূরভিসন্ধি (কুমতলব) করতে থাকে।(2) তুমি বলে দাও, ‘আল্লাহ দুরভিসন্ধিতে অধিক তৎপর।’(3) নিশ্চয়ই আমার ফিরিশতাগণ তোমাদের সকল দুরভিসন্ধি লিপিবদ্ধ করছে।
(1) মসীবতের পর নিয়ামত উপভোগ করার অর্থ হল, অভাব-অনটন, দুর্ভিক্ষ এবং কষ্ট ও মসীবতের পর পর্যাপ্ত পরিমাণে রুযী পাওয়া, জীবন-উপকরণের আতিশয্য ইত্যাদি।
(2) এর অর্থ এই যে, তারা আমার ঐ সকল নিয়ামতের কদর ও তার উপর আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করে না; বরং কুফরী ও শিরক করে। অর্থাৎ এটা তাদের নোংরা ষড়যন্ত্র যা তারা আল্লাহর নিয়ামতের পরিবর্তে বেছে নেয়।
(3) অর্থাৎ, আল্লাহ যে কৌশল অবলম্বন করেন, তা তাদের থেকে অনেক বেশি ত্রিুয়াশীল। আর তা এই যে, তিনি তাদেরকে পাকড়াও করার ক্ষমতা রাখেন, তিনি চাইলে অবিলম্বে তাদেরকে পাকড়াও করতে পারেন। আর যদি তাঁর হিকমতে বিলম্ব করার প্রয়োজন হয়, তবে বিলম্বে পাকড়াও করেন। আরবী ভাষায় مكر গুপ্ত ষড়যন্ত্র ও কৌশলের সাথে কাজ করাকে বলে; তা ভালও হতে পারে, আবার মন্দও হতে পারে। এখানে আল্লাহর (আচমকা) শাস্তি ও পাকড়াওকে ‘দুরভিসন্ধি বা ষড়যন্ত্র’ বলা হয়েছে।