ওয়া মা-ক-নান্না-ছুইল্লাউম্মাতাওঁ ওয়া হিদাতান ফাখতালাফূ ওয়া লাওলা-কালিমাতুন ছাবাকাত মির রব্বিকা লাকুদিয়া বাইনাহুম ফীমা-ফীহি ইয়াখতালিফূন।উচ্চারণ
শুরুতে সমস্ত মানুষ ছিল একই জাতি। পরবর্তীকালে তারা বিভিন্ন আকীদা-বিশ্বাস ও মত-পথ তৈরী করে নেয়। ২৫ আর যদি তোমার রবের পক্ষ থেকে আগেভাগেই একটি কথা স্থিরীকৃত না হতো তাহলো যে বিষয়ে তারা পরস্পর মতবিরোধ করছে তার মীমাংসা হয়ে যেতো ২৬ তাফহীমুল কুরআন
(প্রথমে) সমস্ত মানুষ কেবল একই দীনের অনুসারী ছিল। তারপর তারা (পরস্পরে মতভেদে লিপ্ত হয়ে) আলাদা-আলাদা হয়ে যায়। তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে পূর্ব থেকেই একটা কথা স্থিরীকৃত না থাকলে তারা যে বিষয়ে মতভেদ করছে (দুনিয়াতেই) তার মীমাংসা করে দেওয়া হত। #%১০%#মুফতী তাকী উসমানী
আর সমস্ত মানুষ (প্রথম) এক উম্মাতই ছিল, অতঃপর তারা মতভেদ সৃষ্টি করল। আর যদি তোমার রবের পক্ষ হতে এক নির্দেশ বাণী প্রথমে সাব্যস্ত হয়ে না থাকত তাহলে যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে তার চূড়ান্ত মীমাংসা হয়ে যেত।মুজিবুর রহমান
আর সমস্ত মানুষ একই উম্মতভুক্ত ছিল, পরে পৃথক হয়ে গেছে। আর একটি কথা যদি তোমার পরওয়ারদেগারের পক্ষ থেকে পূর্ব নির্ধারিত না হয়ে যেত; তবে তারা যে বিষয়ে বিরোধ করছে তার মীমাংসা হয়ে যেত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মানুষ ছিল একই উম্মত, পরে তারা মতভেদ সৃষ্টি করে। তোমার প্রতিপালকের পূর্ব-ঘোষণা না থাকলে তারা যে বিষয়ে মতভেদ ঘটায় তার মীমাংসা তো হয়েই যেত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর মানুষ তো এক উম্মতই ছিল। পরে তারা বিভক্ত হয়ে পড়ল। আর তোমার রবের পক্ষ থেকে বাণী বিগত না হলে তাদের মধ্যে মীমাংসা হয়ে যেত, যা নিয়ে তারা মতবিরোধ করে।আল-বায়ান
মানুষ ছিল এক উম্মতভুক্ত। পরে তারা মতভেদ সৃষ্টি করল। তোমার প্রতিপালক পূর্বেই যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করতেন, তাহলে যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে তার মীমাংসা অবশ্যই করে দেয়া হত।তাইসিরুল
মানবগোষ্ঠী একই জাতি বইতো নয়, তারপর তারা মতপার্থক্য করলো। আর যদি তোমার প্রভুর কাছ থেকে ঘোষণাটি বলা না হতো তাহলে যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে তা তাদের মধ্যে মীমাংসা হয়ে যেতো।মাওলানা জহুরুল হক
২৫
ব্যাখ্যার জন্য দেখুন সূরা আল বাকারার ২৩০ এবং সূরা আল আন আমের ২৪ টীকা।
২৬
অর্থাৎ মহান আল্লাহ যদি পূর্বাহ্নেই ফয়সালা না করে নিতেন যে, প্রকৃত সত্যকে মানুষের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য না করে তাদের বুদ্ধি, জ্ঞান, বিবেক ও স্বতঃস্ফূর্ত অনুভূতিকে পরীক্ষার সম্মুখীন করবেন এবং যে ব্যক্তি এ পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে ভুল পথে যেতে চাইবে তাকে সে পথে যাবার ও চলার সুযোগ দেয়া হবে, তাহলে প্রকৃত সত্যকে আজই প্রকাশ ও উন্মুক্ত করে দিয়ে সমস্ত মতবিরোধের অবসান ঘটানো যেতে পারতো।
একটি মারাত্মক বিভ্রান্তি দূর করার জন্য এখানে একথাটি বলা হয়েছে। সাধারণভাবে আজো লোকেরা এ বিভ্রান্তিজনিত জটিল সমস্যায় ভুগছে। কুরআন নাযিল হবার সময়ও এ সমস্যাটি তাদের সামনে ছিল। সমস্যাটি হচ্ছে, দুনিয়ায় বহু ধর্ম রয়েছে এবং প্রত্যেক ধর্মের লোকেরা তাদের নিজেদের ধর্মকে সত্য মনে করে। এ অবস্থায় এগুলোর মধ্যে কোন ধর্মটি সত্য এবং কোনটি মিথ্যা তাকে কেমন করে যাচাই করা যাবে? এ সম্পর্কে বলা হচ্ছে, এ ধর্ম বিরোধ ও মতপার্থক্য আসলে পরবর্তীকালের সৃষ্টি। শুরুতে সমগ্র মানব গোষ্ঠী একই ধর্মের আওতাভুক্ত ছিল। সেটিই ছিল সত্য ধর্ম। তারপর এ সত্যের ব্যাপারে মতবিরোধ করে লোকেরা বিভিন্ন আকীদা-বিশ্বাস ও ধর্ম গড়ে যেতে থাকে। এখন যদি ধর্ম-বৈষম্য ও ধর্ম-বিরোধ দূর করার জন্য তোমাদের মতে বুদ্ধি ও চেতনার সঠিক ব্যবহারের পরিবর্তে শুধুমাত্র আল্লাহর নিজেকে সামনে এসে সত্যকে উন্মুক্ত ও আবরণমুক্ত করে তুলে ধরতে হয়, তাহলে বর্তমান পার্থিব জীবনে তা সম্ভব নয়। দুনিয়ার এ জীবনটাতো পরীক্ষার জন্য। এখানে সত্যকে না দেখে বুদ্ধি ও বিবেচনার সাহায্যে তাকে চিনে নেয়ার পরীক্ষা হয়ে থাকে।
অর্থাৎ শুরু শুরুতে হযরত আদম আলাইহিস সালাম যখন পৃথিবীতে আগমন করেন, তখন সমস্ত মানুষ তাওহীদ ও সত্য-সঠিক দীনেরই অনুসরণ করত। পরবর্তীকালে কিছু লোক পরস্পর মতভেদে লিপ্ত হয়ে ভিন্ন-ভিন্ন ধর্ম সৃষ্টি করে নেয়। আল্লাহ তাআলা এ দুনিয়াতেই তাদের মতভেদের মীমাংসা করে দিতে পারতেন, কিন্তু তা করেননি এ কারণে যে, তা দুনিয়া সৃষ্টির উদ্দেশ্যের পরিপন্থী হত। আল্লাহ তাআলা জগত সৃষ্টির পূর্বেই স্থির করে রেখেছিলেন যে, দুনিয়া সৃষ্টি করা হবে মানুষকে পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে। সে পরীক্ষাকে সকলের জন্য সহজ করার লক্ষ্যে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নবী-রাসূল পাঠানো হবে। তারা মানুষকে দুনিয়ায় তাদের আগমনের উদ্দেশ্য স্মরণ করিয়ে দেবে এবং তারা অকাট্য দলীল-প্রমাণ দ্বারা সত্য দীনকে মানুষের সামনে স্পষ্ট করে দেবে। তারপর তারা স্বেচ্ছায় যে পথ ইচ্ছা অবলম্বন করবে। কে সঠিক ও পুরস্কারযোগ্য পথ অবলম্বন করেছে এবং কে ভ্রান্ত ও শাস্তিযোগ্য পথ, তার মীমাংসা হবে আখেরাতে।
১৯. আর মানুষ ছিল একই উম্মত, পরে তারা মতভেদ সৃষ্টি করে(১)। আর আপনার রবের পূর্ব ঘোষণা না থাকলে তারা যে বিষয়ে মতভেদ ঘটায় তার মীমাংসা তো হয়েই যেত।(২)
(১) অর্থাৎ সমস্ত আদম সন্তান প্রথমে একত্ববাদে বিশ্বাসী একই উম্মত ও একই জাতি ছিল। শির্ক ও কুফরের নামও ছিল না। পরে একত্ববাদে মতবিরোধ সৃষ্টি করে বিভিন্ন জাতি ও বিভিন্ন সম্পপ্রদায়ে বিভক্ত হয়ে যায়। একই উম্মত এবং সবার মুসলিম থাকার সময়কাল কতদিন এবং কবে ছিল তা বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, নূহ আলাইহিস সালাম-এর যুগ পর্যন্ত এমনি অবস্থা ছিল।
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আদম ও নৃহের মধ্যে দশ প্রজন্ম ছিল যারা তাওহীদের উপর ছিল। (তাবারী; ইবন কাসীর)। এরপর মানুষের মধ্যে মতভেদ সৃষ্টি হয় এবং ঈমানের বিরুদ্ধে কুফর ও শির্কী বিস্তার লাভ করে, তখন আল্লাহ্ তা'আলা তার নবী-রাসূলদেরকে ভীতিপ্রদর্শনকারী ও সুসংবাদদানকারী হিসেবে কিতাবসহ প্রেরণ করেন। “যাতে যে কেউ ধ্বংস হবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর ধ্বংস হয় এবং যে জীবিত থাকবে সে যেন সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পর জীবিত থাকে।” (সূরা আল-আনফাল ৪২) (ইবন কাসীর)
(২) কোন কোন মুফাসসির বলেন, সে কলেমাটি হচ্ছে এই যে, তিনি এ উম্মতকে সবশেষে আনবেন এবং তাদেরকে দুনিয়াতে আযাব না দিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দিবেন। যদি এ অবকাশ না থাকত তবে অবশ্যই তাদের আযাব দিয়ে শেষ করে দেয়া হতো অথবা কিয়ামত অনুষ্ঠিত হয়ে যেত। (কুরতুবী) কোন কোন তাফসীরবিদ বলেন, এখানে ‘কালেমা’ বলে এটাই বোঝানো হয়েছে যে, তিনি কাউকে দলীল-প্রমাণাদি ছাড়া পাকড়াও করবেন না। আর সেটা হচ্ছে, রাসূল প্রেরণ। যেমন অন্য আয়াতে বলেছেন, “আর আমরা রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত শাস্তি প্রদানকারী নই।” (সূরা আল-ইসরাঃ ১৫)
কারও কারও মতে, এখানে কালেমা বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসে বর্ণিত একটি কালেমাকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে এসেছে, আমার রহমত আমার ক্রোধের উপর প্রাধান্য পাবে’। (বুখারী: ৭৫৫৩; মুসলিম: ২৭৫১) যদি তা না হতো তবে তিনি অপরাধীদেরকে তাওবার সময় দিতেন না। (কুরতুবী)
(১৯) সমস্ত মানুষ (প্রথমে) এক জাতিই ছিল, অতঃপর তারা মতভেদ সৃষ্টি করল।(1) যদি তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে পূর্ব-ঘোষণা না থাকত, তাহলে যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে, তার চূড়ান্ত মীমাংসা হয়ে যেত। (2)
(1) অর্থাৎ শিরক হল মানুষের নিজেদের মনগড়া কর্ম। কেননা, প্রথমে এর কোন অস্তিতত্ত্বই ছিল না। সকল মানুষ একই দ্বীন ও একই পথের পথিক ছিল। আর সে পথ হল ইসলামের পথ, যার আসল ভিত্তি হল তাওহীদ। নূহ (আঃ) পর্যন্ত মানুষ সেই তাওহীদের উপর অটল ছিল। পরবর্তীতে তাদের মাঝে একতত্ত্ববাদে মতবিরোধ সৃষ্টি হয় এবং কিছু মানুষ আল্লাহর সাথে, অন্যদেরকেও উপাস্য, প্রয়োজন পূরণকারী এবং দুঃখ-কষ্ট মোচনকারী ভাবতে আরম্ভ করে।
(2) অর্থাৎ যদি আল্লাহর এই ফায়সালা না হত যে, ‘‘পূর্ণ প্রমাণ সাব্যস্ত হওয়ার পূর্বে কাউকে শাস্তি দিব না’’, অনুরূপ তিনি সৃষ্টি-জগতের (হিসাব-নিকাশের) জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত না করে থাকতেন, তাহলে অবশ্যই তিনি তাদের মাঝে ঘটিত মতবিরোধের ফায়সালা করে দিতেন এবং মু’মিনদেরকে বড় সুখী ও কাফেরদেরকে শাস্তি ও কষ্টের সম্মুখীন করতেন।