خُذۡ مِنۡ أَمۡوَٰلِهِمۡ صَدَقَةٗ تُطَهِّرُهُمۡ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيۡهِمۡۖ إِنَّ صَلَوٰتَكَ سَكَنٞ لَّهُمۡۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ,

খুযমিন আমওয়া-লিহিম সাদাকাতান তুতাহহিরুহুম ওয়া তুঝাক্কীহিম বিহা-ওয়া সালিল ‘আলাইহিম ইন্না সালা-তাকা ছাকানুল্লাহুম ওয়াল্লা-হু ছামী‘উন ‘আলীম।উচ্চারণ

হে নবী! তাদের ধন-সম্পদ থেকে সদকা নিয়ে তাদেরকে পাক পবিত্র করো, (নেকীর পথে) তাদেরকে এগিয়ে দাও এবং তাদের জন্য রহমতের দোয়া করো। তোমার দোয়া তাদের সান্তনার কারণ হবে। আল্লাহ‌ সবকিছু শুনেন ও জানেন। তাফহীমুল কুরআন

(হে নবী!) তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ কর, যার মাধ্যমে তুমি তাদেরকে পবিত্র ও বরকতপূর্ণ করবে এবং #%৮৬%# তাদের জন্য দোয়া কর। নিশ্চয়ই তোমার দোয়া তাদের পক্ষে প্রশান্তিদায়ক। আল্লাহ সব কথা শোনেন, সবকিছু জানেন।মুফতী তাকী উসমানী

(হে নাবী!) তুমি তাদের ধন-সম্পদ হতে সাদাকাহ গ্রহণ কর, যদ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র করে দিবে, আর তাদের জন্য দু‘আ কর। নিঃসন্দেহে তোমার দু‘আ হচ্ছে তাদের জন্য শান্তির কারণ, আর আল্লাহ খুব শোনেন, খুব জানেন।মুজিবুর রহমান

তাদের মালামাল থেকে যাকাত গ্রহণ কর যাতে তুমি সেগুলোকে পবিত্র করতে এবং সেগুলোকে বরকতময় করতে পার এর মাধ্যমে। আর তুমি তাদের জন্য দোয়া কর, নিঃসন্দেহে তোমার দোয়া তাদের জন্য সান্ত্বনা স্বরূপ। বস্তুতঃ আল্লাহ সবকিছুই শোনেন, জানেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এদের সম্পদ হতে ‘সাদাকা’ গ্রহণ করবে। এটা দিয়ে তুমি তাদেরকে পবিত্র করবে এবং পরিশোধিত করবে। তুমি তাদেরকে দু‘আ করবে। তোমার দু‘আ তো তাদের জন্যে চিত্ত স্বস্তিকর। আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাদের সম্পদ থেকে সদাকা নাও। এর মাধ্যমে তাদেরকে তুমি পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে। আর তাদের জন্য দো‘আ কর, নিশ্চয় তোমার দো‘আ তাদের জন্য প্রশান্তিকর। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।আল-বায়ান

তাদের সম্পদ থেকে সদাকাহ গ্রহণ করবে যাতে তা দিয়ে তাদেরকে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করতে পার। তুমি তাদের জন্য দু‘আ করবে, বস্তুতঃ তোমার দু‘আ তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক, আর আল্লাহ সবকিছু শোনেন সব কিছু জানেন।তাইসিরুল

তাদের ধনসম্পত্তি থেকে দান গ্রহণ করো, এর দ্বারা তুমি তাদের পবিত্র করতে ও তাদের পরিশোধিত করতে পারবে, আর তাদের তুমি আশীর্বাদ করবে। নিঃসন্দেহ তোমার আশীর্বাদ তাদের জন্য প্রশান্তিকর। আর আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

চরম অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে যারা নিজেদেরকে খুটির সাথে বেঁধে ফেলেছিলেন, যখন আল্লাহ তাআলা তাদের তাওবা কবুল করলেন এবং তাদেরকে মুক্ত করে দেওয়া হল, তখন তাঁরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ নিজেদের সম্পদ সদকা করতে মনস্থ করলেন এবং তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এনে পেশ করলেন। তিনি প্রথমে বললেন, আমাকে তোমাদের থেকে কোনও সম্পদ গ্রহণের হুকুম দেওয়া হয়নি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়েছে এবং তাকে সদকা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আয়াতে সদকার দু’টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে। (এক) সদকা মন্দ চরিত্র ও পাপ-পঙ্কিলতা থেকে পবিত্রতা অর্জনের পক্ষে সহায়ক হয় এবং (খ) সদকা দ্বারা মানুষের সৎকার্যে বরকত ও উন্নতি লাভ হয়। প্রকাশ থাকে যে, এ আয়াত যদিও একটি বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নাযিল হয়েছিল, কিন্তু এর ভাষা যেহেতু সাধারণ, তাই এ বিষয়ে ফুকাহায়ে কিরামের ইজমা (ঐকমত্য) রয়েছে যে, এ আয়াতেরই আলোকে ইসলামী রাষ্ট্রের অধিনায়ক তার জনগণ থেকে যাকাত উসূল করার এবং যথাযথ খাতে তা ব্যয় করার অধিকার সংরক্ষণ করে। আর এ কারণেই হযরত সিদ্দীকে আকবার (রাযি.) নিজ খেলাফত আমলে যারা যাকাত দিতে অস্বীকার করেছিল, তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছিলেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

১০৩. আপনি তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন(১)। এর দ্বারা আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন। আর আপনি তাদের জন্য দো'আ করুন। আপনার দোআ তো তাদের জন্য প্রশান্তিকর(২)। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।

(১) মুফাসসিরগণ এ সাদকার প্রকৃতি নির্ধারণ নিয়ে দুটি মত দিয়েছেন। কারও কারও মতে, এ আয়াতে পূর্ববর্তী আয়াতে যাদের তাওবাহ কবুল করা হয়েছে তাদের সদকা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। সেটা ফরয বা নফল যে কোন সদকা হতে পারে। (ফাতহুল কাদীর) এ মতের সমর্থনে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত আছে যে, যখন পূর্বোক্ত লোকদের তাওবা কবুল করা হয়, তখন তারা তাদের সম্পদ নিয়ে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এগুলো আমাদের সম্পদ, এগুলো গ্রহণ করে আমাদের পক্ষ থেকে সদকা দিন এবং আমাদের জন্য ক্ষমার দো'আ করুন। তিনি বললেন, আমাকে এর নির্দেশ দেয়া হয়নি। তখন এ আয়াত নাযিল হয়। (আত-তাফসীরুস সহীহ) তবে অধিকাংশের মতে, নির্দেশটি ব্যাপক, সবার জন্যই প্রযোজ্য। তবে সেটা ফরয সদকা বা যাকাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (ফাতহুল কাদীর) এ মতের সমর্থনে বেশ কিছু হাদীস রয়েছে, যাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যাকাত প্রদানকারীদের জন্য দোআ করেছেন।

(২) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ নির্দেশ মোতাবেক সাহাবীদের মধ্যে কেউ যাকাত নিয়ে আসলে তাদের পরিবারের জন্য দো'আ করতেন। আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কোন সম্প্রদায়ের লোকেরা যাকাত নিয়ে আসলে তিনি বলতেন, ‘আল্লাহুম্মা সাল্লে ‘আলা আলে ফুলান’। (হে আল্লাহ! অমুকের বংশধরের জন্য সালাত প্রেরণ করুন) অতঃপর আমার পিতা তার কাছে যাকাত নিয়ে আসলে তিনি দো'আ করলেন, “আল্লাহুম্মা সাল্লে 'আলা আলে আবি আওফা”। হে আল্লাহ! আবু আওফার বংশধরের জন্য সালাত প্রেরণ করুন। (বুখারী: ১৪৯৭) অন্য বর্ণনায় এসেছে, জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এক মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আমার ও আমার স্বামীর জন্য দোআ করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘সাল্লাল্লাহু আলাইকে ওয়া 'আলা যাওজিকে’ (আল্লাহ তোমার ও তোমার স্বামীর জন্য সালাত প্রেরণ করুন)। (আবু দাউদ: ১৫৩৩)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১০৩) তুমি তাদের ধন-সম্পদ হতে সাদাকাহ গ্রহণ কর, যার দ্বারা তুমি তাদেরকে পবিত্র ও পরিশোধিত করে দেবে। আর তাদের জন্য দুআ কর,(1) নিঃসন্দেহে তোমার দুআ হচ্ছে তাদের জন্য শান্তির কারণ। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।

(1) এটা সাধারণ আদেশ। স্বাদাক্বাহ থেকে উদ্দেশ্য ফরযকৃত স্বাদাক্বাহ অর্থাৎ যাকাত হতে পারে, আবার নফল স্বাদাক্বাহও হতে পারে। এখানে নবী (সাঃ)-কে আদেশ দেওয়া হচ্ছে যে, স্বাদাক্বাহ দ্বারা তুমি মুসলিমদেরকে পবিত্র কর। এতে এই কথা পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে, যাকাত ও স্বাদাক্বাহ মানুষের আখলাক-চরিত্রকে পবিত্র করার একটি বড় উপায়। এ ছাড়া স্বাদাক্বাহ কে স্বাদাক্বাহ এই জন্য বলা হয় যে, স্বাদাক্বাহ দাতা নিজের ঈমানের দাবীতে সত্যবাদী। দ্বিতীয় বিষয় এটাও বুঝা যাচ্ছে যে, স্বাদাক্বাহ উসুলকারীর উচিত, স্বাদাক্বাহদাতার জন্য দু’আ করা। যেমন এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা নিজ পয়গম্বর (সাঃ)-কে দু’আ করার আদেশ দিয়েছেন এবং নবী (সাঃ) উক্ত আদেশ অনুযায়ী দু’আ করতেন। এই সাধারণ আদেশ থেকে এটাও দলীল নেওয়া হয়েছে যে, যাকাত উসূল করার দায়িতত্ত্ব সমসাময়িক বাদশা বা শাসকের। যদি কেউ তা প্রদান করতে অস্বীকার করে, তবে আবু বাকর (রাঃ) ও সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ)গণের আমল অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে জিহাদ করা অপরিহার্য। (ইবনে কাসীর)