ওয়া মিনাল আ‘র-বি মাইঁ ইয়াত্তাখিযুমা-ইউনফিকু মাগরমাওঁ ওয়া ইয়াতারব্বাসু বিকুমু দ দাওয়াইর ‘আলাইহিম দাইরতুছছাওই ওয়াল্লা-হু ছামী‘উন আলীম।উচ্চারণ
এ গ্রামীণদের মধ্যে এমন এমন লোকও রয়েছে যারা আল্লাহর পথে কিছু ব্যয় করলে তাকে নিজেদের ওপর জোরপূর্বক চাপানো অর্থদণ্ড মনে করে ৯৬ এবং তোমাদের ব্যাপারে কালের আবর্তনের প্রতীক্ষা করছে (অর্থাৎ তোমরা কোন বিপদের মুখে পড়লে যে শাসন ব্যবস্থার আনুগত্যের শৃংখল তোমরা তাদের গলায় বেঁধে দিয়েছ তা তারা গলা থেকে নামিয়ে ফেলবে। ) অথচ মন্দের আবর্তন তাদের ওপরই চেপে বসেছে। আল্লাহ সবকিছু শুনেন ও জানেন। তাফহীমুল কুরআন
সেই দেহাতীদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা (আল্লাহর নামে) ব্যয়িত অর্থকে এক জরিমানা গণ্য করে #%৮০%# এবং তোমাদের ব্যাপারে কালচক্রের অপেক্ষা করে, #%৮১%# (অথচ প্রকৃত ব্যাপার হল,) নিকৃষ্টতম কালচক্র তাদেরই উপর গড়িয়েছে। আল্লাহ সকল কথা শোনেন, সবকিছু জানেন।মুফতী তাকী উসমানী
আর এই গ্রামবাসীদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যে, তারা যা কিছু ব্যয় করে তা জরিমানা মনে করে এবং তোমাদের জন্য দুর্দিনের প্রতীক্ষায় থাকে; (বস্তুতঃ) অশুভ আবতর্ন তাদের উপরই পতিত প্রায়, আর আল্লাহ খুব শোনেন, খুব জানেন ।মুজিবুর রহমান
আবার কোন কোন বেদুইন এমন ও রয়েছে যারা নিজেদের ব্যয় করাকে জরিমানা। বলে গন্য করে এবং তোমার উপর কোন দুর্দিন আসে কিনা সে অপেক্ষায় থাকে। তাদেরই উপর দুর্দিন আসুক। আর আল্লাহ হচ্ছেন শ্রবণকারী, পরিজ্ঞাত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মরুবাসীদের কেউ কেউ, যা তারা আল্লাহ্ র পথে ব্যয় করে তা অর্থদণ্ড বলে গণ্য করে এবং তোমাদের ভাগ্য বিপর্যয়ের প্রতীক্ষা করে। মন্দ ভাগ্যচক্র তাদেরই হোক। আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর বেদুঈনদের কেউ কেউ যা (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে, তা জরিমানা গণ্য করে এবং তোমাদের দুর্বিপাকের প্রতীক্ষায় থাকে। দুর্বিপাক তাদের উপরই এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।আল-বায়ান
কতক বেদুঈন যা তারা আল্লাহর পথে ব্যয় করে তাকে জরিমানা বলে গণ্য করে আর তোমাদের দুঃখ মুসিবতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে, মন্দের চক্র তাদেরকেই ঘিরে ধরুক। আর আল্লাহ তো সব কিছুই শুনেন, সব কিছু জানেন।তাইসিরুল
আর বেদুইনদের মধ্যে কেউ-কেউ ধরে নেয় যে সে যা খরচ করে তা জরিমানা, আর তোমাদের জন্য প্রতীক্ষা করে বিপর্যয়ের। তাদেরই উপরে ঘটবে অশুভ বিপর্যয়, আর আল্লাহ্ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।মাওলানা জহুরুল হক
৯৬
এর অর্থ হচ্ছে তাদের থেকে যে যাকাত আদায় করা হয় তারা তাকে একটা জরিমান মনে করে। মুসাফিরদের আহার করাবার ও মেহমানদারীর যে দায়িত্ব তাদের ওপর অর্পিত হয়েছে, তা তাদের কাছে অসহনীয় বোঝা মনে হয়। আর যদি কোন যুদ্ধ উপলক্ষে তারা কোন চাঁদা দেয় তাহলে আন্তরিকভাবে আবেগ আপ্লুত হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে দেয় না। বরং নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও শুধুমাত্র নিজেদের বিশ্বস্ততা প্রমাণ করার জন্য দিয়ে থাকে।
অর্থাৎ তাদের একান্ত কামনা মুসলিমগণ কোনও মুসিবতের চক্রে পতিত হোক। তাহলে শরীয়তের যে সব বিধান তাদের দৃষ্টিতে কঠিন মনে হয়, সে ব্যাপারে তারা স্বাধীন হয়ে যেতে পারবে। বিশেষত তাবুকের যুদ্ধকালে তারা বড় আশা করছিল, এবার যেহেতু বিশাল রোমান শক্তির সাথে মুসলিমদের মুকাবিলা হতে যাচ্ছে, তাই যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে রোমানদের হাতে এবার তাদের চূড়ান্ত পতন ঘটবে। আল্লাহ তাআলা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেরা মুনাফিকীর চক্রে নিপতিত আছে, যা তাদেরকে দুনিয়া আখিরাত উভয় স্থানে লাঞ্ছিত করে ছাড়বে।
৯৮. আর মরুবাসীদের কেউ কেউ, যা তারা আল্লাহর পথে ব্যয় করে তা জরিমানা গণ্য করে এবং তোমাদের বিপর্যয়ের প্রতীক্ষা করে। তাদের উপরই হোক নিকৃষ্টতম বিপর্যয়(১)। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
(১) এ আয়াতেও এ সমস্ত বেদুঈনেরই একটি অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে যে, এরা যাকাত, জিহাদ প্রভৃতিতে যে অর্থ ব্যয় করে, তাকে এক প্রকার জরিমানা বলে মনে করে। তার কারণ, তাদের অন্তরে তো ঈমান নেই, শুধু নিজেদের কুফরীকে লুকাবার জন্য সালাতও পড়ে নেয় এবং ফরয যাকাতও দিয়ে দেয়। কিন্তু মনে এ কালিমা থেকেই যায় যে, এ অর্থ অনর্থক খরচ হয়ে গেল। আর সেজন্য অপেক্ষায় থাকে যে, কোন রকমে মুসলিমদের উপর কোন বিপদ নেমে আসুক এবং তারা পরাজিত হয়ে থাক; তাহলেই আমাদের এহেন অর্থদণ্ড থেকে মুক্তিলাভ হবে। আল্লাহ তা'আলা তাদের উত্তরে বলছেন, তাদেরই উপর মন্দ অবস্থা আসবে। আর এরা নিজেদের সেসব কাজ কর্ম ও কথাবার্তার কারণে অধিকতর অপমানিত। মুমিনদের জন্য রয়েছে তাদের শক্ৰদের বিপরীতে উত্তম ফলাফল। (দেখুন, আইসারুত তাফসীর; সা’দী)
(৯৮) আর মরুবাসীদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে(1) যে, তারা যা কিছু ব্যয় করে তা জরিমানা মনে করে(2) এবং তোমাদের প্রতি (কালের) আবর্তন (দুঃসময়)এর প্রতীক্ষায় থাকে; (3) (বস্তুতঃ) অশুভ আবর্তন তাদের উপরই পতিত হোক।(4) আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।
(1) এখন সেই দুই শ্রেণী বেদুঈনদের কথা বর্ণনা করা হচ্ছে, এরা প্রথম শ্রেণীর বেদুঈন।
(2) غُرْمٌ অর্থ জরিমানা। অর্থাৎ এমন ব্যয় যা মানুষকে একদম অনিচ্ছার সাথে নিরুপায় হয়ে করতে হয়।
(3) - دَوَائِرُ– دَائِرَةٌ এর বহুবচন অর্থঃ কালের আবর্তন, বিপদাপদ। অর্থাৎ তারা মুসলিমদের উপর দুর্দিন ও বিপদ আসার অপেক্ষায় থাকে।
(4) এটা বদ্দুআ। (অর্থাৎ, অশুভ আবর্তন তাদের উপরই পতিত হোক।) অথবা সংবাদ দেওয়া হচ্ছে যে, তাদেরই দুর্দিন আসবে। কারণ তারাই দুর্দশাগ্রস্ত হওয়ার উপযুক্ত।