ওয়ালা-তু‘জিবকা আমওয়া-লুহুম ওয়াআওলা-দুহুম ইন্নামা-ইউরীদুল্লা-হু আইঁ ইউ‘আযযিবাহুম বিহা-ফিদদুনইয়া-ওয়া তাঝহাকা আনফুছুহুম ওয়া হুম ক-ফিরূন।উচ্চারণ
তাদের ধনাঢ্যতা ও তাদের অধিক সংখ্যক সন্তান সন্ততি তোমাকে যেন প্রতারিত না করে। আল্লাহ তো তাদেরকে এ ধন ও সম্পদের সাহায্যে এ দুনিয়ায়ই সাজা দেবার সংকল্প করে ফেলেছেন এবং কাফের থাকা অবস্থায় তাদের মৃত্যু হোক-এটাই চেয়েছেন। তাফহীমুল কুরআন
তাদের অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি (-এর প্রাচুর্য) দেখে তোমার বিস্মিত হওয়া উচিত নয়। আল্লাহ তো এসব জিনিস দ্বারা তাদেরকে পার্থিব জীবনে শাস্তি দিতে চান #%৭৩%# এবং (আরও চান) যেন কাফির অবস্থায়ই তাদের প্রাণপাত হয়।মুফতী তাকী উসমানী
আর তাদের ধন-সস্পদ ও সন্তান-সন্ততি তোমাকে যেন বিস্মিত না করে; আল্লাহ শুধু এটাই চাচ্ছেন যে, এ সমস্ত বস্তুর কারণে দুনিয়ায় তাদেরকে শাস্তিতে আবদ্ধ রাখেন এবং তাদের প্রাণবায়ু কুফরী অবস্থায়ই বের হয়ে যায়।মুজিবুর রহমান
আর বিস্মিত হয়ো না তাদের ধন সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতির দরুন। আল্লাহ তো এই চান যে, এ সবের কারণে তাদেরকে আযাবের ভেতরে রাখবেন দুনিয়ায় এবং তাদের প্রাণ নির্গত হওয়া পর্যন্ত যেন তারা কাফেরই থাকে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সুতরাং তাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তোমাকে যেন বিমুগ্ধ না করে ; আল্লাহ্ তো এটা দিয়েই তাদেরকে পার্থিব জীবনে শাস্তি দিতে চান ; তারা কাফির থাকা অবস্থায় এদের আত্মা দেহত্যাগ করবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর তোমাকে যেন মুগ্ধ না করে তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি, আল্লাহ এর দ্বারা কেবল তাদের দুনিয়ার জীবনে আযাব দিতে চান এবং কাফির অবস্থায় তাদের জান বের হয়ে যাবে।আল-বায়ান
তাদের মালধন আর সন্তান-সন্ততি তোমার যেন চোখ ধাঁধিয়ে না দেয়, দুনিয়াতে আল্লাহ সে সব দিয়েই তাদেরকে শাস্তি দেয়ার ইচ্ছে করেন আর কাফির অবস্থায় যেন তাদের প্রাণবায়ু নির্গত হয়।তাইসিরুল
আর তাদের ধনসম্পত্তি ও তাদের সন্তানসন্ততি তোমাকে যেন তাজ্জব না করে। আল্লাহ্ অবশ্যই চান এ-সবের দ্বারা পার্থিব জীবনে তাদের শাস্তি দিতে, আর যেন তাদের আত্মা চলে যায় ওদের অবিশ্বাসী থাকা অবস্থায়।মাওলানা জহুরুল হক
এর জন্য পেছনে ৫৫নং আয়াতের টীকা দেখুন।
৮৫. আর তাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আপনাকে যেন বিমুগ্ধ না করে; আল্লাহ তো এগুলোর দ্বারাই তাদেরকে পার্থিব জীবনে শাস্তি দিতে চান; আর তারা কাফের থাকা অবস্থায় তাদের আত্মা দেহ-ত্যাগ করে।(১)
(১) আয়াতে সেসব মুনাফিকের কথাই বর্ণনা করা হয়েছে যারা তাবুক যুদ্ধে অংশগ্রহণে নানা রকম ছলনার আশ্রয়ে বিরত থেকেছিল। সেসব মুনাফিকের মাঝে কেউ কেউ সম্পদশালী লোকও ছিল। তাদের অবস্থা থেকে মুসলিমদের ধারণা হতে পারত যে, এরা যখন আল্লাহর নিকট ধিকৃত, তখন দুনিয়াতে এরা কেন এসব নেয়ামত পাবে? এর উত্তরে এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, যদি লক্ষ্য করে দেখা যায়, তবে দেখা যাবে, তাদের এ ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন রহমত ও নেয়ামত নয়; বরং পার্থিবজীবনেও এগুলো তাদের জন্য আযাব বিশেষ। আখেরাতের আযাব তো এর বাইরে আছেই। দুনিয়াতে আযাব হওয়ার ব্যাপারটি এভাবে যে, ধন-সম্পদের মহব্বত, তার রক্ষণাবেক্ষণ ও বৃদ্ধির চিন্তা-ভাবনা তাদেরকে এমন কঠিনভাবে পেয়ে বসে যে, কোন সময় কোন অবস্থাতেই স্বস্তি পেতে দেয় না।
আরাম আয়েশের যত উপকরণই তাদের কাছে থাক না কেন, তাদের ভাগ্যে সে আরাম জুটে না যা মনের শান্তি ও স্বস্তি হিসাবে গণ্য হতে পারে। এছাড়া দুনিয়ার এসব ধন-সম্পদ যেহেতু তাদেরকে আখেরাত সম্পর্কে গাফেল করে দিয়ে কুফর ও পাপে নিমজ্জিত করে রাখার কারণ হয়ে থাকে, সেহেতু আযাবের কারণ হিসাবেও এগুলোকে আযাব বলা যেতে পারে। তারা যখন মারা যায় তখনো এগুলোর ভালবাসা তাদের অন্তরে বেশী থাকার কারণে তাদের মৃত্যু হলেও সম্পদ হারানের কারণে ভীষণ কষ্টে থাকে। এ কারণেই কুরআনের ভাষায় لِيُعَذِّبَهُمْ بِهَا বলা হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা এ সমস্ত ধন সম্পদের মাধ্যমেই তাদেরকে শাস্তি দিতে চান। সুতরাং এ কথা কক্ষনো ভাবা যাবে না যে, তাদেরকে এগুলো দিয়ে আল্লাহ তা'আলা সম্মানিত করছেন। বরং এগুলো দিয়ে তিনি তাদেরকে অপমানিত করেছেন। (সা'দী; ইগাসাতুল লাহফান)
(৮৫) তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি যেন তোমাকে বিস্মিত না করে; আল্লাহ তো শুধু এই চান যে, তিনি সে সবের মাধ্যমে দুনিয়ায় তাদেরকে শাস্তি দেবেন এবং কুফরী অবস্থাতেই তাদের প্রাণবায়ু বের হয়ে যাবে।