ٱسۡتَغۡفِرۡ لَهُمۡ أَوۡ لَا تَسۡتَغۡفِرۡ لَهُمۡ إِن تَسۡتَغۡفِرۡ لَهُمۡ سَبۡعِينَ مَرَّةٗ فَلَن يَغۡفِرَ ٱللَّهُ لَهُمۡۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ كَفَرُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦۗ وَٱللَّهُ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلۡفَٰسِقِينَ,

ইছতাগফির লাহুম আও লা-তাছতাগফির লাহুম ইন তাছতাগফির লাহুম ছাব‘ঈনা মাররতান ফালাই ইয়াগফিরল্লা-হু লাহুম যা-লিকা বিআন্নাহুম কাফারূবিল্লা-হি ওয়া রছূলিহী ওয়াল্লা-হু লা-ইয়াহদিল কাওমাল ফা-ছিকীন।উচ্চারণ

হে নবী! তুমি এ ধরনের লোকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো বা না করো, তুমি যদি এদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা কর তাহলেও আল্লাহ‌ তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না। কারণ তারা আল্লাহ‌ ও তার রসূলের সাথে কুফরী করেছে। আর আল্লাহ‌ ফাসেকদেরকে মুক্তির পথ দেখান না। তাফহীমুল কুরআন

(হে নবী!) তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর বা না কর একই কথা। তুমি যদি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা কর, তবু আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না। তা এ কারণে যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরী করেছে। আল্লাহ অবাধ্য লোকদেরকে হিদায়াতপ্রাপ্ত করেন না।মুফতী তাকী উসমানী

(হে মুহাম্মাদ!) তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা না কর (উভয়ই সমান), যদি তুমি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা কর তবুও আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেননা। কারণ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরী করেছে। আর এরূপ সত্যত্যাগী সম্প্রদায়কে আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেননা।মুজিবুর রহমান

তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর। যদি তুমি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমাপ্রার্থনা কর, তথাপি কখনোই তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তা এজন্য যে, তারা আল্লাহকে এবং তাঁর রসূলকে অস্বীকার করেছে। বস্তুতঃ আল্লাহ না-ফারমানদেরকে পথ দেখান না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তুমি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা কর বা তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা না কর একই কথা; তুমি সত্তর বার তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আল্লাহ্ তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না। এটা এইজন্যে যে, তারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সঙ্গে কুফরী করেছে। আল্লাহ্ পাপাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তুমি তাদের জন্য ক্ষমা চাও, অথবা তাদের জন্য ক্ষমা না চাও। যদি তুমি তাদের জন্য সত্তর বার ক্ষমা চাও, তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। কারণ তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরী করেছে, আর আল্লাহ ফাসিক লোকদেরকে হিদায়াত দেন না ।আল-বায়ান

তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর বা না কর (উভয়ই সমান), তুমি তাদের জন্য সত্তর বার ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আল্লাহ কক্ষনো তাদেরকে ক্ষমা করবেন না। এটা এজন্য যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে কুফুরী করেছে। আর আল্লাহ ফাসিক লোকদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন না।তাইসিরুল

তুমি ওদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো অথবা ওদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করো, -- তুমি যদি ওদের জন্য সত্তরবারও ক্ষমা প্রার্থনা করো আল্লাহ্ কখনো ওদের ক্ষমা করবেন না। এটি এইজন্য যে তারা আল্লাহ্‌তে ও তাঁর রসূলের প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করে। আর আল্লাহ্ দুষ্কৃতিকারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

৮০. আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করুন একই কথা; আপনি সত্তর বার তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আল্লাহ তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না। এটা এ জন্যে যে, তারা আল্লাহ ও তার রাসূলের সাথে কুফরী করেছে। আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হিদায়াত দেন না।(১)

(১) তাফসীরবিদগণ বলেন, এ আয়াত তখন নাযিল হয়, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন কোন মুনাফিকের জন্য ক্ষমার দো'আ করছিলেন। (তাবারী; আত-তাফসীরুস সহীহ)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৮০) তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা না কর (উভয়ই সমান); যদি তুমি তাদের জন্য সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা কর, তবুও আল্লাহ তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না;(1) যেহেতু তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে কুফরী করেছে। (2) আর আল্লাহ অবাধ্য সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না। (3)

(1) সত্তরের সংখ্যা আধিক্য বর্ণনার জন্য ব্যবহূত হয়েছে। অর্থাৎ, তুমি যত বেশীই তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর না কেন, আল্লাহ তাআলা তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না। এটা উদ্দেশ্য নয় যে, ৭০ বারের অধিক ক্ষমা প্রার্থনা করলে তারা ক্ষমালাভ করবে।

(2) এখানে ক্ষমা না করার কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। যাতে মানুষ কারো সুপারিশের আশায় বসে না থাকে; বরং ঈমান ও নেক আমলের পুঁজি সংগ্রহ করে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হয়। যদি এই আখেরাতের পাথেয় কারো কাছে না থাকে, তাহলে এমন কাফের ও অবাধ্যদের জন্য কেউ সুপারিশ করবে না। যেহেতু আল্লাহ তাআলা এমন লোকদের জন্য সুপারিশের অনুমতিই দান করবেন না।

(3) এই হিদায়াত (পথপ্রদর্শন) থেকে সেই হিদায়াত উদ্দেশ্য যা মানুষকে তার অভীষ্ট (ঈমান) পর্যন্ত পৌঁছে দেয়। নতুবা হিদায়াত অর্থ হল, পথনির্দেশ করা। যার সুব্যবস্থা প্রত্যেক মু’মিন ও কাফেরের জন্য করে দেওয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘‘আমি তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি; হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় অকৃতজ্ঞ।’’ (সূরা দাহর ৩ আয়াত) তিনি আরো বলেছেন, ‘‘এবং আমি কি তাকে দু’টি পথ দেখাইনি?’’(সূরা বালাদ ১০ আয়াত)