ফালাম্মাআ-তা-হুম মিন ফাদলিহী বাখিলূবিহী ওয়া তাওয়াল্লাওঁ ওয়াহুম মু‘রিদূন।উচ্চারণ
কিন্তু যখন আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে বিত্তশালী করে দিলেন তখন তারা কার্পণ্য করতে লাগলো এবং নিজেদের অঙ্গীকার থেকে এমনভাবে পিছটান দিল যে, তার কোন পরোয়াই তাদের রইল না। ৮৬ তাফহীমুল কুরআন
কিন্তু আল্লাহ যখন তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে দান করলেন, তখন তারা তাতে কার্পণ্য করল এবং মুখ ফিরিয়ে চলে গেল। #%৬৯%#মুফতী তাকী উসমানী
কার্যতঃ যখন আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহ প্রদান করলেন, তখন তারা তাতে কার্পণ্য করতে লাগল এবং (আনুগত্য করা হতে) মুখ ফিরিয়ে নিল, আর তারাতো মুখ ফিরিয়ে রাখতেই অভ্যস্ত।মুজিবুর রহমান
অতঃপর যখন তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহের মাধ্যমে দান করা হয়, তখন তাতে কার্পণ্য করেছে এবং কৃত ওয়াদা থেকে ফিরে গেছে তা ভেঙ্গে দিয়ে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
অতঃপর যখন তিনি নিজ কৃপায় তাদেরকে দান করলেন, তখন তারা এই বিষয়ে কার্পণ্য করল এবং বিরুদ্ধভাবাপন্ন হয়ে মুখ ফিরাইল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ দান করলেন, তারা তাতে কার্পণ্য করল এবং বিমুখ হয়ে ফিরে গেল।আল-বায়ান
অতঃপর আল্লাহ যখন তাদেরকে স্বীয় করুণার দানে ধন্য করলেন, তখন তারা দান করার ব্যাপারে কার্পণ্য করল আর বে-পরোয়াভাবে মুখ ফিরিয়ে নিল।তাইসিরুল
কিন্তু যখন তিনি তাদের দিলেন তাঁর করুণাভান্ডার থেকে, তারা এতে কার্পণ্য করলো ও ফিরে গেল আর তারা হলো বিমুখ।মাওলানা জহুরুল হক
৮৬
উপরের আয়াতে মুনাফিকদের যে অকৃতজ্ঞতা ও কৃতঘ্ন আচরণের নিন্দা করা হয়েছিল তার আর একটি প্রমাণ তাদের নিজেদেরই জীবন থেকে পেশ করে এখানে সুস্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে যে, আসলে এরা দাগী অপরাধী। এদের নৈতিক বিধানে কৃতজ্ঞতা, অনুগ্রহের স্বীকৃতি ও অঙ্গীকার পালন ইত্যাদি গুণাবলীর নামগন্ধও পাওয়া যায় না।
হযরত আবু উমামা রাযিয়াল্লাহু আনহুর এক বর্ণনায় আছে, সালাবা নামক জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে আরজ করল, আপনি দোয়া করুন, আল্লাহ তাআলা যেন আমাকে ধনী বানিয়ে দেন। তিনি প্রথমে তাকে বুঝালেন যে, বেশী ধনবান হওয়াকে তো আমি নিজের জন্যও পছন্দ করি না। কিন্তু সে পীড়াপীড়ি করতে থাকল এবং এই ওয়াদাও করল যে, আমি ধনবান হলে সকল হকদারকে তাদের হক আদায় করে দেব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে লক্ষ্য করে এই প্রাজ্ঞজনোচিত কথা বললেন, দেখ, যেই অল্প সম্পদের শুকর আদায় করতে পারবে, সেটা ওই বেশি সম্পদ অপেক্ষা শ্রেয়, যার শুকর আদায় করতে পারবে না। কিন্তু তথাপি সে পীড়াপীড়ি করতে লাগল। অগত্যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দোয়া করলেন। ফলে বাস্তবিকই সে ধনবান হয়ে গেল। তার মূল সম্পদ ছিল গবাদি পশু। তা অল্প দিনের ভেতর এত বেড়ে গেল যে, তার দেখাশোনায় ব্যস্ত থাকার ফলে নামায ছুটে যেতে লাগল। সে এক পর্যায়ে তার পশুগুলো নিয়ে মদীনা মুনাওয়ারার বাইরে গিয়ে থাকতে শুরু করল। কেননা ভিতরে তার স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। প্রথম দিকে তো জুমুআর দিন মসজিদে আসত। কিন্তু এক পর্যায়ে জুমুআয় আসাও ছেড়ে দিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতিনিধি যখন তার কাছে যাকাত আদায়ের জন্য গেল, তখন সে যাকাত নিয়েও পরিহাস করল এবং টালবাহানা করে তাকে ফেরত পাঠাল। এ আয়াতে সেই ঘটনার দিকে ইশারা করা হয়েছে। (রূহুল মাআনী, তাবারানী ও বায়হাকীর বরাতে)।
৭৬. অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে নিজ অনুগ্রহ হতে দান করলেন, তখন তারা এ বিষয়ে কার্পণ্য করল এবং বিমুখ হয়ে ফিরে গেল।
(৭৬) অতঃপর যখন আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহ দান করলেন, তখন তারা তাতে কার্পণ্য করতে লাগল এবং বিমুখ হয়ে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করল। (1)
(1) এই আয়াতটি সাহাবী সা’লাবাহ বিন হাত্বেব আনসারী (রাঃ)-এর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে বলে কোন কোন মুফাসসির উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সনদের দিক থেকে এটা শুদ্ধ নয়। সঠিক মত হল এই যে, এতেও মুনাফিক্বদের আরো একটি মন্দ আচরণ বর্ণনা করা হয়েছে।