আলাম ইয়া’তিহিম নাবাউল্লাযীনা মিন কাবলিহিম কাওমি নূহিওঁ ওয়া ‘আ-দিওঁ ওয়া ছামূদা ওয়া কাওমি ইবর-হীমা ওয়া আসহা-বি মাদইয়ানা ওয়াল মু’তাফিক-তি আতাতহুম রুছুলুহুম বিলবাইয়িনা-তি ফামা-ক-নাল্লা-হু লিইয়াজলিমাহুম ওয়ালা-কিন ক-নূআনফুছাহুম ইয়াজলিমূন।উচ্চারণ
তাদের ৭৭ কাছে কি তাদের পূর্ববর্তীদের ইতিহাস পৌঁছেনি? নূহের জাতির, আদ, সামূদ ও ইবরাহীমের জাতির, মাদইয়ানের অধিবাসীদের এবং যে জনবসতিগুলো উল্টে দেয়া হয়েছিল সেগুলোর? ৭৮ তাদের রসূলগণ সুস্পষ্ট নিশানীসহ তাদের কাছে এসেছিলেন। এরপর তাদের ওপর জুলুম করা আল্লাহর কাজ ছিল না বরং তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছিলেন। ৭৯ তাফহীমুল কুরআন
তাদের (অর্থাৎ মুনাফিকদের) কাছে কি তাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে তাদের সংবাদ পৌঁছেনি? নূহের কওম, আদ, ছামুদ, ইবরাহীমের কওম, মাদয়ানবাসী এবং সেই সকল জনপদ, যা উল্টিয়ে দেওয়া হয়েছে! #%৬৩%# তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট দলীল-প্রমাণ নিয়ে এসেছিল। অতঃপর আল্লাহ এমন নন যে, তাদের উপর জুলুম করবেন; বস্তুত তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল।মুফতী তাকী উসমানী
তাদের কাছে কি ঐ সব লোকের সংবাদ পৌঁছেনি যারা তাদের পূর্বে গত হয়েছে, নূহ সম্প্রদায় এবং আদ ও ছামূদ সম্প্রদায়, আর ইবরাহীমের সম্প্রদায় এবং মাদইয়ানের অধিবাসীরা এবং বিধ্বস্ত জনপদগুলির? তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছিল। বস্তুতঃ আল্লাহ তাদের প্রতি অত্যাচার করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অত্যাচার করেছিল।মুজিবুর রহমান
তাদের সংবাদ কি এদের কানে এসে পৌঁছায়নি, যারা ছিল তাদের পূর্বে; নূহের আ’দের ও সামুদের সম্প্রদায় এবং ইব্রাহীমের সম্প্রদায়ের এবং মাদইয়ানবাসীদের? এবং সেসব জনপদের যেগুলোকে উল্টে দেয়া হয়েছিল? তাদের কাছে এসেছিলেন তাদের নবী পরিষ্কার নির্দেশ নিয়ে। বস্তুতঃ আল্লাহ তো এমন ছিলেন না যে, তাদের উপর জুলুম করতেন, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করতো।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তাদের পূর্ববর্তী নূহ্্, ‘আদ ও সামূদের সম্প্রদায়, ইব্রাহীমের সম্প্রদায় এবং মাদ্ইয়ান ও বিধ্বস্ত নগরের অধিবাসীদের সংবাদ কি তাদের নিকট আসে নাই ? এদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শনসহ তাদের রাসূলগণ এসেছিল। আল্লাহ্ এমন নন যে, তাদের ওপর জুলুম করেন, কিন্তু এরা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তাদের কাছে কি তাদের পূর্বের লোকদের সংবাদ পৌঁছেনি, নূহের কওম, আদ, সামূদ, ইবরাহীমের কওম, মাদায়েনবাসী ও বিধ্বস্ত নগরীর? তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ প্রমাণসমূহ নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। অতএব আল্লাহ তাদের উপর যুলম করার নন, বরং তারাই তাদের নিজদের উপর যুলম করছিল।আল-বায়ান
তাদের কাছে কি তাদের আগের লোকদের সংবাদ আসেনি, নূহের জাতি, ‘আদ, সামূদ, ইব্রাহীমের সম্প্রদায় এবং মাদ্য়্যানের অধিবাসীবৃন্দ আর উল্টে দেয়া নগরসমূহের? তাদের কাছে তাদের রসূলগণ স্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিল, আল্লাহ তাদের উপর যুলম করেননি, আসলে (তারাই তাদের অন্যায় কার্যকলাপের মাধ্যমে) নিজেদের আত্মার উপর যুলম করেছিল।তাইসিরুল
তাদের কাছে কি তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের সংবাদ আসে নি -- নূহ্-এর লোকদের ও 'আদ-এর ও ছামূদের, আর ইব্রাহীমের সম্প্রদায়ের ও মাদয়ানের বাসিন্দাদের ও বিধবস্ত শহরগুলোর? ওদের কাছে ওদের রসূলগণ এসেছিলেন স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে। কাজেই আল্লাহ্ তো ওদের উপরে অবিচার করার জন্য নন, কিন্তু ওরা ওদের নিজেদেরই প্রতি জুলুম করেছিল।মাওলানা জহুরুল হক
৭৭
এখান থেকে আবার তাদের আলোচনা শুরু হয়েছে প্রথম পুরুষে।
৭৮
লূত জাতির জনবসতিগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
৭৯
অর্থাৎ তাদের সাথে আল্লাহর কোন শত্রুতা ছিল এবং তিনি তাদেরকে ধ্বংস করতে চাচ্ছিলেন বলে তারা ধ্বংস হয়নি। বরং প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেরাই এমন ধরনের জীবন যাপন প্রণালী পছন্দ করে নিয়েছিল যা তাদেরকে ধ্বংসের দিকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল। আল্লাহ তাদের চিন্তা-ভাবনা করারও সামলে নেবার পূর্ণ সুযোগ দিয়েছিলেন। তাদেরকে উপদেশ দেবার ও পরিচালনা করার জন্য রসূল পাঠিয়েছিলেন। রসূলদের মাধ্যমে ভুল পথে অবলম্বন করার অনিষ্টকর ফলাফল সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন এবং কোন প্রকার রাখ ঢাক না করে অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে তাদেরকে সাফল্য ও ধ্বংসের পথ বাতলে দিয়েছিলেন। কিন্তু যখন তারা অবস্থার সংশোধনের কোন একটি সুযোগেরও সদ্ব্যবহার করলো না এবং ধ্বংসের পথে চলার ওপর অবিচল থাকলো তখন তাদের অনিবার্য পরিণতির সম্মুখীন হতেই হলো। তাদের ওপর এ জুলুম আল্লাহ করেননি বরং তারা নিজেরাই নিজেদের ওপর জুলুম করেছিল।
এদের ঘটনাবলীর জন্য দেখুন সূরা আরাফের ৭ : ৫৯ থেকে ৭ : ৯২ আয়াত ও সংশ্লিষ্ট টীকাসমূহ।
৭০. তাদের পূর্ববতী নূহ, আদ ও সামূদের সম্প্রদায়, ইবরাহীমের সম্প্রদায় এবং মাদইয়ান ও বিধ্বস্ত নগরের অধিবাসীদের সংবাদ কি তাদের কাছে আসেনি? তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তাদের রাসূলগণ এসেছিলেন। অতএব, আল্লাহ এমন নন যে, তাদের উপর যুলুম করেন, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করছিল।
(৭০) তাদের কাছে কি তাদের পূর্ববর্তী নূহ সম্প্রদায় এবং আদ ও সামূদ সম্প্রদায়, ইব্রাহীমের সম্প্রদায় এবং মাদয়্যানের অধিবাসিগণ এবং বিধ্বস্ত জনপদের অধিবাসিগণের সংবাদ কি আসেনি?(1) তাদের কাছে তাদের রসূলগণ স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছিল।(2) বস্তুতঃ আল্লাহ তো তাদের প্রতি অত্যাচার করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অত্যাচার করত। (3)
(1) এখানে সেই ছয় সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত পেশ করা হচ্ছে যাদের বাসস্থান ছিল শাম দেশে। এ দেশ আরব দেশের সন্নিকটেই অবস্থিত। আর তাদের কিছু কথা হতে পারে তারা তাদের বাপ-দাদাদের কাছ থেকে শুনেও ছিল। নূহ নবী (আঃ)-এর সম্প্রদায়; যাদেরকে তুফানে ডুবিয়ে মারা হয়েছিল। আ’দ সম্প্রদায়; যাদেরকে বল ও শক্তিতে প্রবল থাকা সত্ত্বেও প্রচন্ড ঝড় দ্বারা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। সামূদ সম্প্রদায়; যাদেরকে এক আসমানী গর্জন দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল। ইবরাহীম (আঃ)-এর সম্প্রদায়; যাদের বাদশাহ নমরূদ বিন কিনআন বিন কূশকে মশা দ্বারা মারা হয়েছিল। মাদয়্যানবাসী (শুআইব (আঃ)-এর সম্প্রদায়); যাদেরকে বিকট শব্দ ও ভূমিকম্প দ্বারা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। মু’তাফিকাতবাসী (বিধ্বস্ত জনপদের অধিবাসী) লূত (আঃ)-এর সম্প্রদায়’ যাদের জনপদের নাম ছিল ‘সাদুম’। ‘মু’তাফিকাত’এর অর্থ হল, উল্টো-পাল্টাকৃত। এদের উপরে প্রথমতঃ আসমান থেকে পাথর বর্ষণ করা হয়েছিল, আর দ্বিতীয়তঃ তাদের জনপদকে উল্টো-পাল্টা করে দেওয়া হয়েছিল। যার কারণে বস্তিটার উপরিভাগ নিম্নে এবং নিম্নভাগ উপরে হয়ে গিয়েছিল। এই কারণেই তাদেরকে ‘আসহাবে মু’তাফিকাত’ বলা হয়।
(2) এ সকল সম্প্রদায়ের কাছে তাদেরই মধ্য হতে একজন করে পয়গম্বর এসেছিলেন, কিন্তু তারা তাঁদের কথার গুরুত্ব দেয়নি। বরং মিথ্যাজ্ঞান ও শত্রুতার পথ অবলম্বন করেছিল। যার পরিণামে আল্লাহর আযাব এসেছিল।
(3) অর্থাৎ, এই আযাব ছিল তাদের যুলুম, অত্যাচার ও সীমালংঘনে অবিচল থাকার পরিণাম। এমনি অকারণে কেউ আল্লাহর আযাবের শিকার হয়নি।