ইয়াহযারুল মুনা-ফিকূনা আন তুনাঝঝালা ‘আলাইহিম ছূরতুন তুনাব্বিউহুম বিমা-ফী কুলূবিহিম কুলিছ তাহঝিঊ ইন্নাল্লা-হা মুখরিজুম মা-তাহযারুন।উচ্চারণ
এ মুনাফিকরা ভয় করেছে, মুসলমানদের ওপর এমন একটি সূরা না নাযিল হয়ে যায়, যা তাদের মনের গোপন কথাপ্রকাশ করে দেবে। ৭২ হে নবী! তাদের বলে দাও, “বেশ ঠাট্টা করতেই থাকো, তবে তোমরা যে জিনিসটির প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয় করছো আল্লাহ তা প্রকাশ করে দেবেন।” তাফহীমুল কুরআন
মুনাফিকগণ ভয় পায় যে, পাছে মুসলিমদের প্রতি এমন কোনও সূরা নাযিল হয়, যা তাদেরকে তাদের (অর্থাৎ মুনাফিকদের) মনের কথা জানিয়ে দিবে। #%৫৮%# বলে দাও, তোমরা ঠাট্টা করতে থাক। তোমরা যা ভয় কর আল্লাহ তা প্রকাশ করেই দিবেন।মুফতী তাকী উসমানী
মুনাফিকরা আশংকা করে যে, তাদের (মুসলিমদের) প্রতি না জানি এমন কোন সূরা নাযিল হয় যা তাদের (মুনাফিকদের) অন্তরের কথা অবহিত করে দেয়। তুমি বলে দাওঃ হ্যাঁ, তোমরা বিদ্রুপ করতে থাক, নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই বিষয়কে প্রকাশ করেই দিবেন যে সম্বন্ধে তোমরা আশংকা করছিলে।মুজিবুর রহমান
মুনাফেকরা এ ব্যাপারে ভয় করে যে, মুসলমানদের উপর না এমন কোন সূরা নাযিল হয়, যাতে তাদের অন্তরের গোপন বিষয় অবহিত করা হবে। সুতরাং আপনি বলে দিন, ঠাট্টা-বিদ্রপ করতে থাক; আল্লাহ তা অবশ্যই প্রকাশ করবেন যার ব্যাপারে তোমরা ভয় করছ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মুনাফিকেরা ভয় করে, তাদের সম্পর্কে এমন এক সূরা না অবতীর্ণ হয়, যা তাদের অন্তরের কথা ব্যক্ত করে দিবে ! বল, ‘বিদ্রুপ করতে থাক ; তোমরা যা ভয় কর আল্লাহ্ তা প্রকাশ করে দিবেন।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মুনাফিকরা ভয় করে যে, তাদের বিষয়ে এমন একটি সূরা অবতীর্ণ হবে, যা তাদের অন্তরের বিষয়গুলি জানিয়ে দেবে। বল, ‘তোমরা উপহাস করতে থাক। নিশ্চয় আল্লাহ বের করবেন, তোমরা যা ভয় করছ’।আল-বায়ান
মুনাফিকরা ভয় পায় তাদের মনের কথা প্রকাশ করে তাদের ব্যাপারে কোন সূরাহ নাযিল হয়ে যায় নাকি। বল, ‘ঠাট্টা করতে থাক, তোমরা যে ব্যাপারে ভয় পাও, আল্লাহ তা প্রকাশ করে দিবেন’।তাইসিরুল
মুনাফিকরা ভয় করে পাছে তাদের সংক্রান্তে এমন কোনো সূরা অবতীর্ণ হয়ে যায় যা ওদের অন্তরে যা-কিছু আছে তা তাদের ব্যক্ত করে দেবে! বলো -- "বিদ্রূপ ক’রে যাও, নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ বের করে আনবেন তোমরা যা ভয় করো তা।"মাওলানা জহুরুল হক
৭২
তারা নবী (সা.) এর নবুওয়াতে সঠিক অর্থে বিশ্বাসী ছিল না। কিন্তু বিগত আট নয় বছরের অভিজ্ঞতায় তারা বিশ্বাস করতে বাধ্য হয়েছিল যে, তার কাছে নিশ্চয়ই এমন কোন না কোন অতি প্রাকৃতিক তথ্য-মাধ্যম আছে, যার সাহায্যে তিনি তাদের গোপন কথা জানতে পারেন এবং এভাবে অনেক সময় কুরআনে (যাকে তারা রসূলের নিজের রচনা বলে মনে করতো) তাদের মুনাফিকী ও চক্রান্তসমূহ প্রকাশ করে দেন।
মুনাফিকগণ তাদের নিজেদের মধ্যকার আলাপ-আলোচনায় মুসলিমদেরকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। কেউ এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে বলত, আমরা এসব কথা কেবল ফূর্তি করেই বলেছিলাম, মনের থেকে বলিনি। (তারা মনের দিক থেকে যেহেতু দোদুল্যমান ছিল, যেমন কুফর পরিত্যাগ করতে পারছিল না, তেমনি চাক্ষুস প্রমাণাদি দেখে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াতকেও পুরোপুরি অগ্রাহ্য করতে পারছিল না, তাই হাজারও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ সত্ত্বেও মনের মধ্যে একটা খটকা তাদের লেগেই থাকত। মাঝে মধ্যে ওহীর মাধ্যমে তাদের কোন কোন গোপন কথা প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় সে খটকা আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে তারা শঙ্কিত হয়ে ওঠে, না জানি কুরআনের একটা পূর্ণাঙ্গ সূরাই তাদের সম্পর্কে নাযিল হয়ে যায় আর তা তাদের সব গোমর ফাঁস করে দেয় এবং সমস্ত মানুষের মধ্যে তাদেরকে লাঞ্ছিত করে ছাড়ে।-অনুবাদক) ৬৪ থেকে ৬৬ নং পর্যন্ত আয়াতসমূহে তাদের এসব কার্যকলাপের পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
৬৪. মুনাফেকরা ভয় করে, তাদের সম্পর্কে এমন এক সূরা না নাযিল হয়, যা ওদের অন্তরের কথা ব্যক্ত করে দেবে(১)! বলুন, ‘তোমরা বিদ্রুপ করতে থাক; তোমরা যা ভয় কর নিশ্চয় আল্লাহ তা বের করে দেবেন।
(১) আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতে জানাচ্ছেন যে, মুনাফিকরা এ ভয়ে থাকে যে, কখন আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন সূরা নাযিল হয়ে তাদের অপমানিত করবে, তাদের মনের অব্যক্ত কথা ব্যক্ত করে দিবে। তারপর আল্লাহ্ তা'আলা ঘোষণা দিলেন যে, তারা যতই গোপন করুক না কেন আল্লাহ তা অবশ্যই বের করে দেবেন। (আদওয়াউল বায়ান) মুজাহিদ বলেন, তারা নিজেদের মধ্যে কোন কথা বলে তারপর ভাবতে থাকে যে, এমনও তো হতে পারে যে, আল্লাহ আমাদের এ গোপন কথা তাদেরকে জানিয়ে দিবেন? কাতাদা বলেন, তাদের মনের গোপন কথাগুলো বলে দিয়ে আল্লাহ তাদেরকে অপমানিত করলেন। আর এ জন্যই এ সূরার অপর নাম আল-ফাদিহা বা অপদস্থকারী বা অপমানকারী। (ইবন কাসীর)
অন্য আয়াতেও তাদের এ আশঙ্কার কথা আল্লাহ জানিয়েছেন। যেমন, “যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা কি মনে করে যে, আল্লাহ কখনো তাদের বিদ্বেষভাব প্রকাশ করে দেবেন না, আর আমরা ইচ্ছে করলে আপনাকে তাদের পরিচয় দিতাম; ফলে আপনি তাদের লক্ষণ দেখে তাদেরকে চিনতে পারতেন। তবে আপনি অবশ্যই কথার ভংগিতে জানেন।” (সূরা মুহাম্মদঃ ২৯–৩০) অন্য আয়াতে তাদের ভীত-সন্ত্রস্ত ভাবের কথা অন্যভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। “তারা যে কোন আওয়াজকেই তাদের বিরুদ্ধে মনে করে। (সূরা আল-মুনাফিকুন: ৪)
(৬৪) মুনাফিকরা আশংকা করে যে, তাদের (মুসলমানদের) প্রতি এমন কোন সূরা নাযিল হয়ে পড়ে, যা তাদেরকে সেই মুনাফিকদের অন্তরের কথা অবহিত করে দেবে। তুমি বলে দাও, ‘তোমরা বিদ্রূপ করতে থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই বিষয়কে প্রকাশ করেই দিবেন, যে সম্বন্ধে তোমরা আশংকা করছিলে।’