قُلۡ أَنفِقُواْ طَوۡعًا أَوۡ كَرۡهٗا لَّن يُتَقَبَّلَ مِنكُمۡ إِنَّكُمۡ كُنتُمۡ قَوۡمٗا فَٰسِقِينَ,

কুল আনফিকূতাও‘আন আও কারহাল লাইঁ ইউতাকাব্বালা মিনকুম ইন্নাকুম কুনতুম কাওমান ফা-ছিকীন।উচ্চারণ

তাদের বলে দাও, “তোমরা নিজেদের ধন-সম্পদ স্বেচ্ছায় ও সানন্দে ব্যয় কর অথবা অনিচ্ছাকৃত ভাবে ব্যয় কর, ৫৩ তা গৃহীত হবে না। কারণ তোমরা ফাসেক গোষ্ঠী।” তাফহীমুল কুরআন

বলে দাও, তোমরা (নিজেদের সম্পদ থেকে) খুশী মনে চাঁদা দাও অথবা অসন্তোষের সাথে, তোমাদের পক্ষ হতে তা কিছুতেই কবুল করা হবে না। #%৪৫%# নিশ্চয়ই তোমরা ক্রমাগত অবাধ্যতাকারী সম্প্রদায়। মুফতী তাকী উসমানী

তুমি বলঃ তোমরা সন্তুষ্টির সাথে ব্যয় কর কিংবা অসন্তুষ্টির সাথে, তোমাদের পক্ষ থেকে তা কক্ষণই গৃহীত হবেনা; নিঃসন্দেহে তোমরা হচ্ছ আদেশ লংঘনকারী সম্প্রদায়।মুজিবুর রহমান

আপনি বলুন, তোমরা ইচ্ছায় অর্থ ব্যয় কর বা অনিচ্ছায়, তোমাদের থেকে তা কখনো কবুল হবে না, তোমরা নাফরমানের দল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

বল, ‘তোমরা স্বেচ্ছায় ব্যয় কর বা অনিচ্ছায়, তোমাদের নিকট হতে তা কিছুতেই গৃহীত হবে না ; তোমরা তো সত্যত্যাগী সম্প্রদায়।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বল, ‘তোমরা খুশি হয়ে দান কর অথবা বাধ্য হয়ে, তোমাদের থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না। নিশ্চয় তোমরা হচ্ছ ফাসিক কওম।আল-বায়ান

বল, ‘স্বেচ্ছায় দান কর আর অনিচ্ছায়, তোমাদের থেকে কক্ষনো তা গ্রহণ করা হবে না; তোমরা হলে এক ফাসিক সম্প্রদায়।’তাইসিরুল

বলো -- "তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে খরচ করো অথবা অনিচ্ছা-কৃতভাবে, তোমাদের কাছ থেকে তা কখনো কবুল করা হবে না। নিঃসন্দেহ তোমরা হচ্ছো একটি দুষ্কৃতিকারী সম্প্রদায়।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৫৩

কোন কোন মুনাফিক এমনও ছিল, যারা নিজেদেরকে বিপদের মধ্যে ঠেলে দিতে যদিও প্রস্তুত ছিল না, তবে তারা এ জিহাদ ও এ প্রচেষ্টা-সাধনা থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন থেকে মুসলমানদের দৃষ্টিতে নিজেদের সমস্ত মর্যাদা খুইয়ে ফেলতে এবং নিজেদের মুনাফিকীকে সর্বসম্মুখে প্রকাশ করে দিতেও চাচ্ছিল না। তাই তারা বলছিল, বর্তমানে আমরা যদিও অক্ষমতার কারণে যুদ্ধ থেকে অব্যাহতি চাচ্ছি। কিন্তু যুদ্ধের জন্য অর্থ সাহায্য করতে আমরা প্রস্তুত।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এ আয়াত নাযিল হয়েছে জাদ্দ ইবনে কায়েস প্রসঙ্গে, যার কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। এক রিওয়ায়াতে আছে, যুদ্ধে যাওয়ার ব্যাপারে একে তো সে পূর্বোক্ত বেহুদা ওজর পেশ করেছিল, সেই সঙ্গে সে প্রস্তাব করেছিল, তার বদলে (অর্থাৎ, যুদ্ধে যাওয়ার বদলে) আমি যুদ্ধের চাঁদা দেব (ইবেন জারীর, ১ম খণ্ড, ১৫২ পৃষ্ঠা)। তারই জবাবে এ আয়াত ঘোষণা করছে যে, মুনাফিকদের চাঁদা গ্রহণযোগ্য নয়।

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৩. বলুন, তোমরা ইচ্ছাকৃত ব্যয়কর অথবা অনিচ্ছাকৃত, তোমাদের কাছ থেকে তা কিছুতেই গ্রহণ করা হবে না; নিশ্চয় তোমরা হচ্ছ ফাসিক সম্প্রদায়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৩) তুমি (আরো) বলে দাও, ‘তোমরা সন্তুষ্টির সাথে ব্যয় কর কিংবা অসন্তুষ্টির সাথে, তোমাদের পক্ষ থেকে তা কখনই গৃহীত হবে না; (1) নিঃসন্দেহে তোমরা আদেশ লংঘনকারী সমাজ।’

(1) أنفِقُوا আদেশসূচক ক্রিয়া। কিন্তু এখানে শর্ত ও জাযার অর্থে ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ, যদি তোমরা ব্যয় কর, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। কিম্বা এখানে আদেশ খবরের অর্থে এসেছে। উদ্দেশ্য হল, উভয় কর্মই সমান; ব্যয় কর অথবা না কর। তোমরা সন্তুষ্টির সাথে আল্লাহর রাস্তায় খরচ করলেও তা অগ্রহণযোগ্য। কেননা, তা গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য শর্ত হল ঈমান। আর সেটাই তোমাদের মাঝে নেই। পক্ষান্তরে অসন্তুষ্টির সাথে খরচ করা মাল এমনিতেই আল্লাহর কাছে প্রত্যাখ্যাত। কেননা, এখানে সঠিক উদ্দেশ্য বিদ্যমান নেই, যা কবুল হওয়ার জন্য জরুরী। এই আয়াতটি সেইরূপ যেরূপ আল্লাহ পাক বলেন, {اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لاَ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ} ‘‘তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা না কর।’’ (সুরা তাওবাহ ৮০ আয়াত) অর্থাৎ, উভয়ই সমান।