لَقَدِ ٱبۡتَغَوُاْ ٱلۡفِتۡنَةَ مِن قَبۡلُ وَقَلَّبُواْ لَكَ ٱلۡأُمُورَ حَتَّىٰ جَآءَ ٱلۡحَقُّ وَظَهَرَ أَمۡرُ ٱللَّهِ وَهُمۡ كَٰرِهُونَ,

লাকাদিব তাগাউল ফিতনাতা মিন কাবলুওয়া কাল্লাবূলাকাল উমূর হাত্তা-জাআল হাক্কু ওয়া জাহার আমরুল্লা-হি ওয়া হুম ক-রিহূন।উচ্চারণ

এর আগেও এরা ফিতনা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে এবং তোমাদের ব্যর্থ করার জন্য ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিভিন্ন ধরনের কৌশল খাটিয়েছে। এ সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সত্য এসে গেছে এবং আল্লাহ‌ উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। তাফহীমুল কুরআন

তারা এর আগেও ফিতনা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। তোমার ক্ষতি করার লক্ষ্যে তারা বিষয়াবলীকে ওলট-পালট করে যাচ্ছিল। অবশেষে সত্য আসল এবং আল্লাহর হুকুম বিজয়ী হল অথচ তারা তা অপছন্দ করছিল। #%৪২%#মুফতী তাকী উসমানী

পূর্বেও তারা ফিতনা ফাসাদ সৃষ্টি করেছিল এবং তোমার কার্যক্রম ব্যর্থ করার চেষ্টায় রত ছিল। শেষ পর্যন্ত হক ও আল্লাহর নির্দেশ প্রকাশমান হল, যদিও তা তাদের মনঃপুত ছিলনা।মুজিবুর রহমান

তারা পূর্বে থেকেই বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ সন্ধানে ছিল এবং আপনার কার্যসমূহ উল্টা-পাল্টা করে দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিশ্রুতি এসে গেল এবং জয়ী হল আল্লাহর হুকুম, যে অবস্থায় তারা মন্দবোধ করল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

পূর্বেও এরা ফিত্না সৃষ্টি করতে চেয়েছিল ও এরা তোমার বহু কর্মে উলট-পালট করেছিল যতক্ষণ না এদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সত্য এলো আর আল্লাহ্ র আদেশ বিজয়ী হল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

অবশ্য তারা ইতঃপূর্বে ফিতনা অনুসন্ধান করেছিল এবং তোমার কাজগুলো পালটে দিয়েছিল, অবশেষে হকের আগমন ঘটল এবং আল্লাহর দীন বিজয়ী হল, অথচ তারা ছিল অপছন্দকারী।আল-বায়ান

আগেও তারা ফিতনা সৃষ্টি করতে চেয়েছে আর তোমার অনেক কাজ নষ্ট করেছে যতক্ষণ না প্রকৃত সত্য এসে হাজির হল আর আল্লাহর বিধান প্রকাশিত হয়ে গেল যদিও এতে তারা ছিল নাখোশ।তাইসিরুল

তারা বাস্তবিকই ইতিপূর্বে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, আর তারা তোমার জন্য কাজকর্ম পন্ড করতে যাচ্ছিল, যতক্ষণ না সত্য এসেছিল ও আল্লাহ্‌র আদেশ প্রকাশ পেলো, যদিও তারা অনিচ্ছুক ছিল।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এর দ্বারা মুসলিমদের বিজয়সমূহের প্রতি ইশারা করা হয়েছে। মক্কা বিজয় ও হুনায়নের বিজয় তার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। মুনাফিকদের সর্বাত্মক চেষ্টা ছিল মুসলিমগণ যাতে সফল না হতে পারে। তারা নানা রকম ষড়যন্ত্র করছিল। দ্বীনে ইসলামকে ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একেকবার একেক ফন্দী আঁটছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার হুকুম জয়ী হল আর তারা হা করে তাকিয়ে থাকল।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৮. অবশ্য তারা আগেও(১) ফিতনা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল এবং তারা আপনার বহু কাজে ওলট-পালট করেছিল, অবশেষে সত্যের আগমন ঘটল এবং আল্লাহর হুকুম বিজয়ী হল(২), অথচ তারা ছিল অপছন্দকারী।

(১) অর্থাৎ তারা চিন্তাশক্তি ও মতামতকে আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে খাটিয়েছিল। তারা প্রচেষ্টা চালিয়েছে আপনার দ্বীনকে অপমানিত করতে। যেমন প্রথম যখন আপনি মদীনায় আগমন করেছিলেন তখন আপনার বিরুদ্ধে ইয়াহুদী ও মুনাফিকরা যৌথ প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তারপর যখন বদরের যুদ্ধে মুসলিমরা জয়লাভ করল তখন আব্দুল্লাহ ইবন উবাই ও তার সাথীরা বলল, এ কাজ তো দেখি পথে উঠে এসেছে। তারপর তারা প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করে। তারপর যখনই কোথাও মুসলিমদের বিজয় দেখে তখনই তা তাদেরকে পীড়া দেয়। (ইবন কাসীর)

(২) অর্থাৎ “আল্লাহর আদেশ বিজয় হল”, যাতে মুনাফিকরা মর্মপীড়া বোধ করছিল। এর দ্বারা ইঙ্গিত দেয়া হয় যে, জয় বিজয় সবই আল্লাহর আয়ত্তে। যেমন ইতিপূর্বের যুদ্ধসমূহে আপনাকে জয়ী করা হয়েছে, তেমনি এ যুদ্ধেও জয়ী হবেন এবং মুনাফিকদের সমস্ত ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে পড়বে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৮) তারা তো পূর্বেও ফিতনা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল, আর তোমার (ক্ষতি সাধনের) জন্য কর্মসমূহ উলট-পালট করেছিল। পরিশেষে সত্য সমাগত হল এবং আল্লাহর দ্বীন বিজয় লাভ করল(1) অথচ তাদের কাছে এটা অপ্রীতিকরই ছিল। (2)

(1) এই জন্য অতীত ও ভবিষ্যৎ বিষয়ে তোমাকে অবহিত করা হয়েছে। আর এ কথাও বলা হয়েছে যে, এই মুনাফিক্বদল যে তোমাদের সাথে যায়নি তাতে তোমাদের জন্য মঙ্গলই হয়েছে। নচেৎ যদি তারা যেত, তাহলে তাদের কারণে এই সকল বিপর্যয় সৃষ্টি হত।

(2) অর্থাৎ, এই মুনাফিক্বরা যখন থেকে তুমি মদীনায় আমগন করেছ তখন থেকেই তোমার বিরুদ্ধে ফিতনা সৃষ্টি করতে এবং তোমার (ক্ষতি সাধনের) জন্য কর্মসমূহ উলট-পালট করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। পরিশেষে বদর যুদ্ধে আল্লাহ তাআলা তোমাকে বিজয় ও আধিপত্য দান করলেন; যা তাদের জন্য অসহনীয় ও অপছন্দনীয় ছিল। অনুরূপ উহুদ যুদ্ধেও ঐ মুনাফিক্বদল রাস্তা থেকেই ফিরে এসে সমস্যা সৃষ্টি করার এবং তারপরও প্রত্যেক জায়গাতে বিপর্যয় সৃষ্টি করার চেষ্টা করেই আসছিল। পরিশেষে মক্কা জয় হল এবং অধিকাংশ আরববাসীরা মুসলমান হয়ে গেল। যার কারণে তারা আক্ষেপ ও আফসোসে হাত মলতে থেকে গেল।