ٱلَّذِينَ ءَاتَيۡنَٰهُمُ ٱلۡكِتَٰبَ يَتۡلُونَهُۥ حَقَّ تِلَاوَتِهِۦٓ أُوْلَـٰٓئِكَ يُؤۡمِنُونَ بِهِۦۗ وَمَن يَكۡفُرۡ بِهِۦ فَأُوْلَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡخَٰسِرُونَ

আল্লাযীনা আ-তাইনা-হুমুল কিতা-বা ইয়াতলূনাহূ হাক্কা তিলা-ওয়াতিহী উলাইকা ইউ’মিনূনা বিহী ওয়া মাইঁ ইয়াকফুর বিহী ফাউলাইকা হুমুল খা-ছিরূন।উচ্চারণ

যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি তারা ১২২ তাকে যথাযথভাবে পাঠ করে। তারা তার ওপর সাচ্চা দিলে ঈমান আনে। আর যারা তার সাথে কুফরীর নীতি অবলম্বন করে তারাই আসলে ক্ষতিগ্রস্ত। তাফহীমুল কুরআন

যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি তারা যখন তা তিলাওয়াত করে, যেভাবে তিলাওয়াত করা উচিত তখন তারাই তার প্রতি (প্রকৃত) ঈমান রাখে। #%৮৫%# আর যারা তা অস্বীকার করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত লোক।মুফতী তাকী উসমানী

আমি যাদেরকে যে ধর্মগ্রন্থ দান করেছি তা যারা সঠিকভাবে সত্য বুঝে পাঠ করে তারাই এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী, এবং যে কেহ এটা অবিশ্বাস করে ফলতঃ তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।মুজিবুর রহমান

আমি যাদেরকে গ্রন্থ দান করেছি, তারা তা যথাযথভাবে পাঠ করে। তারাই তৎপ্রতি বিশ্বাস করে। আর যারা তা অবিশ্বাস করে, তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি তারা যথাযথভাবে তা তিলাওয়াত করে তারাই এতে বিশ্বাস করে; আর যারা তা প্রত্যাখ্যান করে তারা ক্ষতিগ্রস্ত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাদেরকে আমি কিতাব দিয়েছি, তারা তা পাঠ করে যথার্থভাবে। তারাই তার প্রতি ঈমান আনে। আর যে তা অস্বীকার করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।আল-বায়ান

আমি যাদেরকে কিতাব দিয়েছি, তারা যথাযথভাবে কিতাব তিলাওয়াত করে, তারাই এতে বিশ্বাস পোষণ করে আর যারা এর প্রতি অবিশ্বাস করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।তাইসিরুল

যাদের আমরা গ্রন্থ দিয়েছি তারা উহার তিলাওতের ন্যায্যতা মোতাবেক উহা অধ্যয়ন করে। তারাই এতে ঈমান এনেছে। আর যারা এতে অবিশ্বাস পোষণ করে তারা নিজেরাই হয় ক্ষতিগ্রস্ত।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১২২

এখানে আহ্‌লি কিতাবদের অন্তর্গত সৎলোকদের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তারা সততা ও দায়িত্বশীলতার সাথে আল্লাহর কিতাব পড়ে। তাই আল্লাহর কিতাবের দৃষ্টিতে যা সত্য তাকেই তারা সত্য বলে মেনে নেয়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

বনী ইসরাঈলের মধ্যে যদিও বেশির ভাগ লোক অবাধ্য ও অহংকারী ছিল, কিন্তু তাদের মধ্যে অনেক মুখলিস ও নিষ্ঠাবান লোকও ছিল। তারা তাওরাত ও ইনজীল কেবল পড়েই শেষ করত না; বরং তার দাবী অনুযায়ী কাজ করত। তারা প্রতিটি সত্য কথা গ্রহণ করার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিল। সুতরাং যখন তাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াত পৌঁছল, তখন তারা কোনরূপ হঠকারিতা ছাড়া অকুণ্ঠচিত্তে তা গ্রহণ করে নিল। এ আয়াতে সেই সকল লোকের প্রশংসা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সবক দেওয়া হয়েছে যে, কোনও আসমানী কিতাব তিলাওয়াতের দাবী হচ্ছে তার সমস্ত হুকুম মনে-প্রাণে স্বীকার করে নিয়ে তা তামিল করা। প্রকৃতপক্ষে তাওরাতের প্রতি বিশ্বাসী লোক তারাই, যারা তার বিধানাবলী পালনে ব্রতী থাকে এবং সে অনুযায়ী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ঈমান আনে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১২১. যাদেরকে আমরা কিতাব দিয়েছি(১), তাদের মধ্যে যারা যথাযথভাবে তা তিলাওয়াত করে(২), তারা তাতে ঈমান আনে। আর যারা তার সাথে কুফরী করে, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

(১) কাতাদাহ বলেন, এখানে ইয়াহুদী ও নাসারাদের বুঝানো হয়েছে। পক্ষান্তরে অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীদের বুঝানো হয়েছে। (ইবনে কাসীর)

(২) যথাযথভাবে তিলাওয়াতের অর্থ, তিলাওয়াতের হক আদায় করা। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এর অর্থ যখন জান্নাতের বর্ণনা আসবে তখন আল্লাহ তা'আলার কাছে জান্নাত চাওয়া। আর জাহান্নামের বর্ণনা আসলে জাহান্নাম থেকে নিস্কৃতি চাওয়া। ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এর অর্থ, এগুলোর হালালকে হালাল হিসেবে নেয়া। আর হারামকে হারাম হিসেবে গ্রহণ করা। যেভাবে নাযিল হয়েছে সেভাবে পড়া। সেগুলোর কোন অংশকে বিকৃত না করা এবং সঠিক ব্যাখ্যার বিপরীতে কোন বাজে ব্যাখ্যা উপস্থাপন না করা।

মোটকথা: আল্লাহর আয়াতকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করাই এর যথাযথ তেলাওয়াত বলে বিবেচিত হবে। (ইবনে কাসীর) যথাযথ তেলাওয়াতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর ঈমান আনা এবং তার যাবতীয় আদেশ নিষেধ বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নেয়া। হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যার হাতে আমার প্রাণ, তার শপথ করে বলছি, ইয়াহুদী ও নাসারাদের যে কেউ আমার কথা শোনার পর আমার উপর ঈমান আনবে না, সে অবশ্যই জাহান্নামে যাবে”। (মুসলিম: ১১৫৩)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১২১। আমি যাদেরকে কিতাব (ধর্মগ্রন্থ) দান করেছি (1) তারা যথাযথভাবে তা (ধর্মগ্রন্থ) পাঠ করে থাকে। (2) তারাই তাতে (ধর্মগ্রন্থ) বিশ্বাস করে। আর যারা তা অমান্য করে, তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত। (3)

(1) আহলে-কিতাবের অযোগ্য উত্তরসুরিদের নিকৃষ্ট চরিত্র ও কর্মকান্ডের প্রয়োজনীয় আলোচনার পর তাদের মধ্যে যে কিছু সৎ ও উন্নত চরিত্রের লোক ছিল, এই আয়াতে তাদের গুণাবলী এবং তারা যে মুমিন ছিল সেই সংবাদ দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন সালাম এবং আরো কিছু অন্য লোক ছিলেন। ইয়াহুদীদের মধ্য থেকে এদেরকেই ইসলাম কবুল করার তাওফীক হয়েছিল।

(2) তারা যথাযথভাবে তা পাঠ করে (তারা তার হক আদায় করে তেলাঅত করে) এর কয়েকটি অর্থ বলা হয়েছে। যেমনঃ (ক) অত্যধিক একাগ্রতা ও মনোযোগের সাথে পড়ে। জান্নাতের কথা এলে জান্নাত কামনা করে এবং জাহান্নামের কথা এলে তা থেকে পানাহ চেয়ে নেয়। (খ) তার হালালকে হালাল ও হারামকে হারাম মনে করে এবং আল্লাহর কালামের কোন বিকৃতি ঘটায় না। (যেমন, ইয়াহুদীরা করত।) (গ) এতে যা কিছু লেখা আছে, তা সবই লোকমাঝে প্রচার করে, এর কোন কিছুই গোপন করে না। (৪) এর সুস্পষ্ট আয়াতগুলোর উপর আমল করে, অস্পষ্ট আয়াতগুলোর উপর ঈমান রাখে এবং যে কথাগুলো বুঝে আসে না, তা আলেমদের মাধ্যমে বুঝে নেয়। (ঘ) এর প্রত্যেকটি কথার অনুসরণ করে। (ফাতহুল ক্বাদীর) বস্তুতঃ (উল্লিখিত) সব অর্থই যথাযথভাবে তেলাঅতের আওতায় পড়ে। আর হিদায়াত এমন লোকদের ভাগ্যেই জুটে, যারা উল্লিখিত কথাগুলির প্রতি যত্ন নেয়।

(3) আহলে-কিতাবের মধ্যে যে নবী করীম (সাঃ)-এর উপর ঈমান আনবে না, সে জাহান্নামে যাবে। যেমন সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। (ইবনে কাসীর)