মা-ক-না লিলমুশরিকীনা আইঁ ইয়া‘মুরূমাছা-জিদাল্লা-হি শা-হিদীনা ‘আলাআনফুছিহিম বিলকুফরি উলাইকা হাবিতাত আ‘মা-লুহুম ওয়াফিন্না-রি হুম খা-লিদূ ন।উচ্চারণ
মুশরিক যখন নিজেরাই নিজেদের কুফরীর সাক্ষ্য দিচ্ছে তখন আল্লাহর মসজিদসমূহের রক্ষণাবেক্ষণকারী ও খাদেম হওয়া তাদের কাজ নয়। ১৯ তাদের সমস্ত আমল বরবাদ হয়ে গেছে ২০ এবং তাদেরকে চিরকাল জাহান্নামে থাকতে হবে। তাফহীমুল কুরআন
আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করার কোন উপযুক্ততা মুশরিকদের নেই, #%১৬%# যখন তারা নিজেরাই নিজেদের কুফরের সাক্ষী। তাদের সমস্ত কর্মই নিষ্ফল হয়ে গেছে এবং তারা জাহান্নামেই স্থায়ীভাবে থাকবে।মুফতী তাকী উসমানী
মুশরিকরা যখন নিজেরাই নিজেদের কুফরী স্বীকার করে তখন তারা আল্লাহর মাসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে এমনতো হতে পারেনা। তারা এমন যাদের সমস্ত কাজ ব্যর্থ; এবং তারা জাহান্নামে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।মুজিবুর রহমান
মুশরিকরা যোগ্যতা রাখে না আল্লাহর মসজিদ আবাদ করার, যখন তারা নিজেরাই নিজেদের কুফরীর স্বীকৃতি দিচ্ছে। এদের আমল বরবাদ হবে এবং এরা আগুনে স্থায়ীভাবে বসবাস করবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মুশরিকরা যখন নিজেরাই নিজেদের কুফরী স্বীকার করে তখন তারা আল্লাহ্ র মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে- এমন হতে পারে না। এরা এমন, যাদের সমস্ত কর্ম ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা দোজখেই স্থায়িভাবে অবস্থান করবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মুশরিকদের অধিকার নেই যে, তারা আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, নিজদের উপর কুফরীর সাক্ষ্য দেয়া অবস্থায়। এদেরই আমলসমূহ বরবাদ হয়েছে এবং আগুনেই তারা স্থায়ী হবে।আল-বায়ান
মুশরিকদের এটা কাজ নয় যে, তারা আল্লাহর মাসজিদের রক্ষণাবেক্ষণকারী সেবক হবে যখন তারা নিজেরাই নিজেদের কুফরীর সাক্ষ্য দেয়, তাদের সমস্ত কাজ বরবাদ হয়ে গেছে, জাহান্নামেই তারা হবে চিরস্থায়ী।তাইসিরুল
মুশরিকদের কোনো অধিকার নেই যে তারা আল্লাহ্র মসজিদগুলো দেখাশোনা করবে যখন তারা তাদের নিজেদের বিরুদ্ধে অবিশ্বাসের সাক্ষ্য দেয়। এরাই তারা যাদের কাজকর্ম ব্যর্থ হয়েছে, আর আগুনের মধ্যে তারাই অবস্থান করবে।মাওলানা জহুরুল হক
১৯
অর্থাৎ এক আল্লাহর ইবাদাত করার জন্য যেসব মসজিদ তৈরী করা হয়েছে সেগুলোর মুতাওয়াল্লী, রক্ষণাবেক্ষণকারী ও সেবক এমন ধরনের লোক হতে পারে না যারা আল্লাহর গুণাবলী, অধিকারী ও ক্ষমতা-ইখতিয়ারের ক্ষেত্রে অন্যদের শরিক করে। তারপর তারা নিজেরাই যখন তাওহীদের দাওয়াত গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে এবং পরিষ্কার বলে দিয়েছে, আমরা নিজেদের ইবাদাত বন্দেগী এক আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করতে রাযী নই, তখন একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করার জন্য যে ইবাদাত গৃহ তৈরী করা হয়েছে তার মুতাওয়াল্লী হবার অধিকার তারা কোথা থেকে পায়?
এখানে যদিও কথাটা সাধারণভাবেই বলা হয়েছে এবং তাৎপর্যের দিক দিয়েও এটি সর্বক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, তবুও বিশেষভাবে এখানে এর উল্লেখের উদ্দেশ্য হচ্ছে, কাবাঘর ও মসজিদে হারামের ওপর থেকে মুশরিকদের মুতাওয়াল্লীগিরির পাট একেবারে চুকিয়ে দিয়ে সেখানে চিরকালের জন্য তাওহীদবাদীদের অভিভাবকত্ব প্রতিষ্ঠিত করা।
২০
অর্থাৎ প্রকৃত অর্থে বায়তুল্লাহর যে সামান্য কিছু সেবা তারা করেছিল তাও বরবাদ হয়ে গেছে। কারণ এ সেবা কাজের সাথে তারা শিরকও জাহেলী পদ্ধতি মিশিয়ে একাকার করে ফেলেছিলো। তাদের সেই সামান্য পরিমাণ ভাল কাজকে নস্যাৎ করে দিয়েছে, তাদের অনেক বড় আকারের অসৎকাজ।
মক্কার মুশরিকগণ এই বলে গর্ব করত যে, তারা মসজিদুল হারামের তত্ত্বাবধায়ক। তারা এ পবিত্র মসজিদের খেদমত ও দেখাশোনা করে এবং এর নির্মাণকার্যের মত গৌরবময় দায়িত্ব পালন করে। এ হিসেবে তাদের মর্যাদা মুসলিমদের উপরে। এ আয়াত তাদের সে ভ্রান্ত ধারণা রদ করছে। বলা হচ্ছে যে, মসজিদুল হারাম বা অন্য যে-কোনও মসজিদের খেদমত করা নিঃসন্দেহে এক বড় ইবাদত, কিন্তু এর জন্য ঈমান থাকা শর্ত। কেননা মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্যই হল আল্লাহ তাআলার এমন ইবাদত প্রতিষ্ঠা করা, যাতে আল্লাহ তাআলার সাথে অন্য কাউকে শরীক করা হবে না। এই বুনিয়াদী উদ্দেশ্য যদি অনুপস্থিত থাকে, তবে মসজিদ নির্মাণের সার্থকতা কী? সুতরাং কুফর ও শিরকে লিপ্ত কোনও ব্যক্তি মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার উপযুক্ত নয়। সামনে ২৮নং আয়াতে মুশরিকদেরকে এই বিধান জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে তারা এসব কাজের জন্য মসজিদুল হারামের কাছেও আসতে পারবে না।
১৭. মুশরিকরা যখন নিজেরাই নিজেদের কুফরী স্বীকার করে তখন তারা আল্লাহর মসজিদসমূহের আবাদ করবে—এমন হতে পারে না।(১) তারা এমন যাদের সব কাজই নষ্ট হয়েছে(২) এবং তারা আগুনেই স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।
(১) অর্থাৎ যে মসজিদ একমাত্র আল্লাহর বন্দেগীর জন্য নির্মিত হয়েছে, তার মুতাওয়াল্লী, রক্ষণাবেক্ষণকারী, খাদেম ও আবাদকারী হওয়ার জন্য সেই লোকেরা কখনই যোগ্য বিবেচিত হতে পারে না, যারা আল্লাহর সাথে আল্লাহর গুণাবলী, হক-হুকুক ও ক্ষমতা-ইখতিয়ারের ব্যাপারে অন্যদের শরীক করে। আল্লাহর ইবাদাতের সাথে অন্যদেরও ইবাদত করে। তাছাড়া তারা নিজেরাই যখন তাওহীদের দাওয়াত কবুল করতে অস্বীকার করছে এবং নিজেদের দাসত্ব-বন্দেগীকে একনিষ্ঠভাবে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট করতে প্রস্তুত নয় বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে, তখন যে ইবাদতখানার নির্মাণই হয়েছে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের জন্য তার মুতাওয়াল্লী হওয়ার তাদের কি অধিকার থাকতে পারে? (তাবারী; ফাতহুল কাদীর; সা’দী; আইসারুত তাফসীর)
(২) অর্থাৎ তারা আল্লাহর ঘরের যে সামান্য কিছু খেদমত করেছে বলে যে অহঙ্কার করছে, তাও বিনষ্ট ও নিস্ফল হয়ে গেছে (ফাতহুর কাদীর) এই কারণে যে, তারা এ খেদমতের সঙ্গে সঙ্গে শির্কের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। (আইসারুত তাফসীর) তাদের সামান্য পরিমাণ ভালো কাজকে তাদের বড় আকারের মন্দ কাজ নিস্ফল করে দিয়েছে।
(১৭) অংশীবাদীরা যখন নিজেরাই নিজেদের কুফরী (অবিশ্বাস) স্বীকার করে, তখন তারা আল্লাহর মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে এমন হতে পারে না।(1) ওরা এমন যাদের সকল কর্ম ব্যর্থ (2) এবং ওরা জাহান্নামেই স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।
(1) مساجد الله থেকে মাসজিদুল হারাম উদ্দেশ্য। বহুবচন শব্দ ব্যবহার হয়েছে এই জন্য যে, এটা হল সমস্ত মসজিদের কিবলা এবং কেন্দ্রস্থল। অথবা আরবী ভাষায় একবচনের জায়গায় বহুবচন ব্যবহার করা বৈধ। উদ্দেশ্য হল যে, আল্লাহর ঘর (অর্থাৎ, মাসজিদুল হারাম) নির্মাণ বা আবাদ করা হল ঈমানদারদের কাজ; যারা শিরক ও কুফরী করে এবং সে কথা স্বীকারও করে, তাদের কাজ নয়। যেমন তালবিয়াতে তারা বলত, لبيك! لا شريك لك، إلا شريكًا هو لك، تملكه وما ملك। অর্থাৎ, আমি তোমার জন্য হাযির, তোমার কোন শরীক নেই। তবে সেই শরীক যা তোমার আছে। তুমি তার ও তার মালিকানাভুক্ত সবকিছুর মালিক। (মুসলিমঃ তালবিয়া পরিচ্ছেদ) কিম্বা এ থেকে উদ্দেশ্য সেই স্বীকার যা প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীরা করে থাকে ও বলে যে, আমি ইয়াহুদী, আমি খ্রিষ্টান, আমি অগ্নিপূজক বা আমি পৌত্তলিক ইত্যাদি। (ফাতহুল ক্বাদীর)
(2) অর্থাৎ, তাদের সেই আমল যা বাহ্যতঃ ভাল মনে হয়; যেমন, কা’বাগৃহের তওয়াফ, উমরাহ, হাজীদের খিদমত প্রভৃতি সবই ব্যর্থ। কেননা, ঈমানবিহীন এই সমস্ত আমল ফলহীন বৃক্ষের মত (নিষ্ফল) অথবা সেই ফুলের মত যার কোন সৌরভ নেই।