ওয়া আযা-নুম মিনাল্লা-হি ওয়া রছূলিহীইলান্না-ছি ইয়াওমাল হাজ্জিল আকবারি আন্নাল্লাহা বারী-উম মিনাল মুশরিকীনা ওয়া রছূলুহূ ফাইন তুবতুম ফাহুওয়া খাইরুল্লাকুম ওয়া ইন তাওয়াল্লাইতুম ফা‘লামূআন্নাকুম গাইরু মু‘জিঝিল্লা-হি ওয়া বাশশিরিল্লাযীনা কাফারূবি‘আযা-বিন আলীম।উচ্চারণ
আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে বড় হজ্জের ৪ দিনে সমস্ত মানুষের প্রতি সাধারণ ঘোষণা করা হচ্ছেঃ “আল্লাহর মুশরিকদের থেকে দায়িত্বমুক্ত এবং তাঁর রসূলও। এখন যদি তোমরা তওবা করে নাও তাহলে তো তোমাদেরই জন্য ভাল। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে খুব ভাল করেই বুঝে নাও, তোমরা আল্লাহকে শক্তি সামর্থহীন করতে পারবে না। আর হে নবী! অস্বীকারকারীদের কঠিন আযাবের সুখবর দিয়ে দাও। তাফহীমুল কুরআন
বড় হজ্জের দিন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে সমস্ত মানুষের জন্য ঘোষণা করা যাচ্ছে যে, আল্লাহ মুশরিকদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করেছেন এবং তাঁর রাসূলও। সুতরাং (হে মুশরিকগণ!) তোমরা যদি তাওবা কর, তবে তা তোমাদের পক্ষে কল্যাণকর হবে। আর যদি (এখনও) তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে স্মরণ রেখ, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না এবং কাফেরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ শোনাও।মুফতী তাকী উসমানী
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে বড় হাজ্জের তারিখসমূহে জনগণের সামনে ঘোষণা করা হচ্ছে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল উভয়ই এই মুশরিকদের (নিরাপত্তা প্রদান করা) হতে নিঃসম্পর্ক হচ্ছেন; তবে যদি তোমরা তাওবাহ কর তাহলে তা তোমাদের জন্য উত্তম, আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে জেনে রেখ যে, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবেনা, আর (হে নাবী!) এই কাফিরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দাও।মুজিবুর রহমান
আর মহান হজ্বের দিনে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে লোকদের প্রতি ঘোষণা করে দেয়া হচ্ছে যে, আল্লাহ মুশরেকদের থেকে দায়িত্ব মুক্ত এবং তাঁর রসূলও। অবশ্য যদি তোমরা তওবা কর, তবে তা, তোমাদের জন্যেও কল্যাণকর, আর যদি মুখ ফেরাও, তবে জেনে রেখো, আল্লাহকে তোমরা পরাভূত করতে পারবে না। আর কাফেরদেরকে মর্মান্তিক শাস্তির সুসংবাদ দাও।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মহান হজ্জের দিবসে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে মানুষের প্রতি এটা এক ঘোষণা যে, নিশ্চয়ই মুশরিকদের সম্পর্কে আল্লাহ্ দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূলও। তোমরা যদি তওবা কর তবে তা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর। আর তোমরা যদি মুখ ফিরাও তবে জেনে রাখ, তোমরা আল্লাহ্কে হীনবল করতে পারবে না আর কাফিরদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর মহান হজ্জের দিন* মানুষের প্রতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে ঘোষণা, নিশ্চয় আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূলও। অতএব, যদি তোমরা তাওবা কর, তাহলে তা তোমাদের জন্য উত্তম। আর যদি তোমরা ফিরে যাও, তাহলে জেনে রাখ, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না। আর যারা কুফরী করেছে, তাদের তুমি যন্ত্রণাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও।আল-বায়ান
আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ হতে বড় হাজ্জের দিনে মানুষদের কাছে ঘোষণা দেয়া হল যে আল্লাহ মুশরিকদের সাথে সম্পর্কহীন এবং তাঁর রসূলও। কাজেই এখন যদি তোমরা তাওবাহ কর, তাতে তোমাদেরই ভাল হবে, আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তাহলে জেনে রেখ যে, তোমরা আল্লাহকে হীন-দুর্বল করতে পারবে না, আর যারা কুফরী করে চলেছে তাদেরকে ভয়াবহ শাস্তির সুসংবাদ শুনিয়ে দাও।তাইসিরুল
আর আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের তরফ থেকে জনগণের প্রতি এই মহান হজের দিনে এ এক ঘোষণা যে আল্লাহ্ মুশরিকদের কাছে দায়মুক্ত, আর তাঁর রসূলও। অতএব তোমরা যদি তওবা করো তবে সেটি হবে তোমাদের জন্য কল্যাণজনক, কিন্তু তোমরা যদি ফিরে যাও তাহলে জেনে রেখো -- তোমরা নিঃসন্দেহ আল্লাহ্র কাছ থেকে ফসকে যাবার পাত্র নও। আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও, --মাওলানা জহুরুল হক
৪
অর্থাৎ ১০ যিলহজ্জ। একে “ইয়াওমুন নহর” বা যবেহ করার দিন বলা হয়। সহীহ হাদীসে বলা হয়েছেঃ বিদায় হজ্জে ভাষণ দিতে গিয়ে নবী (সা.) উপস্থিত জনতাকে জিজ্ঞেস করেনঃ আজকের এ দিনটি কোন দিন? লোকেরা জবাব দেয়ঃ ইয়াওমুন নহর-আজ যবেহ করার দিন। তিনি বলেনঃ هَذَا يَوْمَ الْحَجِّ الْأَكْبَرِ অর্থাৎ আজ হজ্জে আকরব তথা বড় হজ্জের দিন। এখানে বড় হজ্জ শব্দটি এসেছে ছোট হজ্জের বিপরীত শব্দ হিসেবে। আরববাসীরা উমরাহ কে ছোট হজ্জ বলে থাকে। এর মোকাবিলায় যিলহজ্জের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে যে হজ্জ করা হয় তাকে বলা হয় বড় হজ্জ।
কুরআন মাজীদে মুশরিকদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের হুকুম এসে গেলেও ইনসাফের খাতিরে আল্লাহ তাআলা তাদের প্রত্যেক শ্রেণীকে যে মেয়াদে অবকাশ দিয়েছিলেন, তার শুরু ধরা হয় সেই সময় থেকে যখন তারা এ সকল বিধান সম্পর্কে অবগতি লাভ করেছিল। সমগ্র আরবে এ ঘোষণা পৌঁছানোর সর্বোত্তম মাধ্যম ছিল হজ্জের সময়ে ঘোষণা দান। কেননা তখন হিজাযে সারা আরব থেকে লোকজন একত্র হত এবং তখনও পর্যন্ত মুশরিকরাও হজ্জ করতে আসত। সুতরাং মক্কা বিজয়ের পর হিজরী ৯ সনে যে হজ্জ অনুষ্ঠিত হয়, তাকেই এ ঘোষণার জন্য বেছে নেওয়া হল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে এ হজ্জে শরীক হননি। তিনি হযরত আবু বকর (রাযি.) কে হজ্জের আমীর বানিয়ে পাঠিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি সম্পর্কচ্ছেদের উপরিউক্ত বিধানসমূহ ঘোষণা করার জন্য হযরত আলী (রাযি.)কে প্রেরণ করেন। এর কারণ ছিল এই যে, সে কালে আরবে রেওয়াজ ছিল কেউ কোনও চুক্তি করার পর তা বাতিল করতে চাইলে সরাসরি তার নিজেকেই তা ঘোষণা করতে হত অথবা তার কোন নিকটাত্মীয়ের দ্বারা ঘোষণা দেওয়াতে হত। তখনকার সেই রেওয়াজ হিসেবেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী (রাযি.)কে প্রেরণ করেছিলেন (আদ-দুররুল মানছুর, ৪ খণ্ড, ১১৪ পৃষ্ঠা, বৈরুত ১৪২১ হিজরী)। প্রকাশ থাকে যে, প্রত্যেক হজ্জকেই আল-হাজ্জুল আকবার বা বড় হজ্জ বলে। এটা বলা হয় এ কারণে যে, উমরাও এক রকমের হজ্জ, তবে সেটা ছোট হজ্জ আর তার বিপরীতে হজ্জ হল বড় হজ্জ। মানুষের মধ্যে একটা কথা প্রচলিত আছে যে, কোনও বছর হজ্জ যদি জুমুআর দিন হয়, তবে তা আকবারী হজ্জ (বড় হজ্জ) হয়। বস্তুত এর কোনও ভিত্তি নেই। এ কথা অনস্বীকার্য যে, জুমুআর দিন হজ্জ হলে দু’টি ফযীলত একত্র হয়, কিন্তু তাই বলে সেটাকেই আকবারী হজ্জ সাব্যস্ত করা ঠিক নয়। বরং যে-কোনও হজ্জই আকবারী হজ্জ, তা যে দিনেই অনুষ্ঠিত হোক।
৩. আর মহান হজের দিনে(১) আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে মানুষের প্রতি এটা এক ঘোষণা যে, নিশ্চয় মুশরিকদের সম্পর্কে আল্লাহ দায়মুক্ত এবং তার রাসূলও। অতএব, তোমরা যদি তাওবাহ কর তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর তোমরা যদি মুখ ফিরাও তবে জেনে রাখ যে, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না এবং কাফেরদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সুসংবাদ দিন।
(১) এখানে মহান হজের দিনে বলতে কি বুঝানো হয়েছে তা নিয়ে মুফাসসিরগণের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস, উমর, আবদুল্লাহ ইবন ওমর এবং আবদুল্লাহ ইবন যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু আনহুম প্রমুখ সাহাবা বলেনঃ এর অর্থ আরাফাতের দিন। (ইবন কাসীর) কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীস শরীফে এরশাদ করেছেন “হজ হল আরাফাতের দিন”। (তিরমিযী: ৮৮৯) পক্ষান্তরে আলী, আবদুল্লাহ ইবন আবি আওফা, মুগীরা ইবন শুবাহ, ইবন আব্বাসসহ সাহাবায়ে কিরামের এক বড় দল এবং অনেক মুফাসসির বলেন, এর অর্থ কোরবানীর দিন বা দশই যিলহজ। (ইবন কাসীর) এর সপক্ষে বেশ কিছু সহীহ হাদীস রয়েছে। যেমন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরবানীর দিন প্রশ্ন করেছিলেন, “এটা কোন দিন? লোকেরা চুপ ছিল এমনকি মনে করেছিল যে, তিনি হয়ত: অন্য কোন নামে এটাকে নাম দিবেন, শেষ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, এটা কি বড় হজের দিন নয়?” (বুখারী ৪৪০৬; মুসলিম: ১৬৭৯) ইমাম সুফিয়ান সওরী রাহিমাহুল্লাহ এবং অপরাপর ইমামগণ এ সকল উক্তির সমস্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে বলেন, হজের দিনগুলো হজ্জে আকবরের দিন। এতে আরাফাত ও কোরবানীর দিনগুলোও রয়েছে। (ইবন কাসীর)
(৩) মহান হজ্জের দিনে(1) আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ হতে মানুষের প্রতি এ এক ঘোষণা যে, আল্লাহর সাথে অংশীবাদীদের কোন সম্পর্ক নেই এবং তাঁর রসূলের সাথেও নয়। যদি তওবা কর, তাহলে তোমাদের কল্যাণ হবে, আর তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তাহলে জেনে রাখ যে, তোমরা আল্লাহকে হীনবল করতে পারবে না। আর অবিশ্বাসীদেরকে মর্মন্তুদ শাস্তির সুসংবাদ দাও।
(1) সহীহায়ন (বুখারী, মুসলিম) ও অন্যান্য হাদীসগ্রন্থে প্রমাণিত যে, মহান বা বড় হজ্জ বলতে কুরবানীর (১০ই যিলহজ্জ) দিনকে বোঝানো হয়েছে। (বুখারী ৪৬৫৫, মুসলিম ৯৮২, তিরমিযী ৯৫৭নং) এই দিনে মিনাতে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা শুনানো হয়। ১০ই যুলহজ্জকে বড় হজ্জের দিন এই জন্য বলা হয় যে, এই দিনে হজ্জের সব থেকে অধিক ও গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলী আদায় করা হয়ে থাকে। আর সাধারণতঃ লোকেরা উমরাহকে ‘হাজ্জে আসগার’ (ছোট হজ্জ) বলত। এই জন্য উমরাহ থেকে পৃথক করার জন্য হজ্জকে ‘হাজ্জে আকবার’ (বড় হজ্জ) বলা হয়। পক্ষান্তরে জনসাধারণের মাঝে এই কথা প্রসিদ্ধ আছে যে, জুমআর দিনে হজ্জের (আরাফাতের) দিন পড়লে তা বড় হজ্জ (বা আকবরী হজ্জ) হয়। কিন্তু এ কথার কোন দলীল নেই, এ হল ভিত্তিহীন কথা।