بَرَآءَةٞ مِّنَ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦٓ إِلَى ٱلَّذِينَ عَٰهَدتُّم مِّنَ ٱلۡمُشۡرِكِينَ

বারআতুম মিনাল্লা-হি ওয়া রছূলিহীইলাল্লাযীনা ‘আ-হাত্তুম মিনাল মুশরিকীন।উচ্চারণ

সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষনা করা হলো আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে, যেসব মুশরিকের সাথে তোমরা চুক্তি করেছিলে তাদের সাথে। তাফহীমুল কুরআন

(হে মুসলিমগণ! এটা) আল্লাহ ও তার রাসূলের পক্ষ থেক সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা সেই সকল মুশরিকদের সাথে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে। মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে অব্যাহতি (ঘোষণা করা) হচ্ছে ঐ মুশরিকদের প্রতি যাদের সাথে তোমরা সন্ধি করেছিলে।*মুজিবুর রহমান

সম্পর্কচ্ছেদ করা হল আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে সেই মুশরিকদের সাথে, যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এটি সম্পর্কচ্ছেদ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে সেই সমস্ত মুশরিকদের সঙ্গে যাদের সঙ্গে তোমরা পারস্পরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা সে সব লোকের প্রতি মুশরিকদের মধ্য থেকে যাদের সাথে তোমরা চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে।আল-বায়ান

মুশরিকদের মধ্যেকার যাদের সঙ্গে তোমরা সন্ধিচুক্তি করেছিলে তাদের সাথে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পক্ষ হতে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেয়া হল।তাইসিরুল

এক অব্যাহতি আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের তরফ থেকে সেইসব বহুখোদাবাদীদের প্রতি যাদের সঙ্গে তোমরা সন্ধি করেছিলে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

এ সূরার ভূমিকায় আমি বলে এসেছি, ৫ রুকূ’র শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত এ ভাষণটি ৯ হিজরীতে এমন এক সময় নাযিল হয় যখন নবী (সা.) হযরত আবু বকরকে (রা.) হজ্জের জন্য রওয়ানা করে দিয়েছিলেন। তাঁর চলে যাওয়ার পর এটি নাযিল হলে সাহাবায়ে কেরাম নবী (সা.) এর কাছে আবেদন করেনঃ এটি হযরত আবু বকর (রা.) এর কাছে পাঠিয়ে দিন, তিনি হজ্জের সময় লোকদের এটি শুনিয়ে দেবেন। কিন্তু তিনি বলেন, এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির ঘোষণা আমার পক্ষ থেকে আমারই ঘরের একজনের করা উচিত। কাজেই তিনি হযরত আলীকে (রা.) এ কাজে নিযুক্ত করেন। এ সঙ্গে তাঁকে নির্দেশ দেন, হাজীদের সাধারণ সামাবেশে আল্লাহর এ বাণী শুনিয়ে দেবার পর নিম্নলিখিত চারটি কথাও যেন ঘোষণা করে দেন। এক, দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করে এমন কোন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না। দুই, এ বছরের পরে আর কোন মুশরিক হজ্জ করতে আসতে পারবে না। তিন, বাইতুল্লাহর চারদিকে উলঙ্গ অবস্থায় তাওয়াফ করা নিষিদ্ধ। চার, যাদের আল্লাহর রসূলের চুক্তি অক্ষুন্ন আছে অর্থাৎ যারা চুক্তি ভঙ্গ করেনি, চুক্তির সময়সীমা পর্যন্ত তা পূর্ণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে জানা থাকা দরকার, মক্কা বিজয়ের পর ইসলামী যুগে প্রথম হজ্জ অনুষ্ঠিত হয় ৮ হিজরীতে প্রাচীন পদ্ধতিতে। ৯ হিজরীতে মুসলমানরা এ দ্বিতীয় হজ্জটি সম্পন্ন করে নিজস্ব পদ্ধতিতে এবং অন্যদিকে মুশরিকরা করে তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে। এরপর ১০ হিজরীতে তৃতীয় হজ্জ অনুষ্ঠিত হয় খালেস ইসলামী পদ্ধতিতে। এটিই বিখ্যাত বিদায় হজ্জ। নবী ﷺ প্রথম দু'বছর হজ্জ করতে যাননি। তৃতীয় বছর শিরকের পুরোপুরি অবসান ঘটার পর তিনি হজ্জ আদায় করেন।

সূরা আনফালের ৫৮ আয়াতে একথা আলোচনা করা হয়েছে যে, কোন জাতির পক্ষ থেকে যখন তোমাদের খেয়ানত করার তথা অঙ্গীকার ভঙ্গ ও বিশ্বাসঘাতকতা করার আশঙ্কা দেখা দেয় তখন প্রকাশ্যে তার চুক্তি মুখের ওপর ছুঁড়ে দাও এবং তাকে এ মর্মে সতর্ক করে দাও যে, এখন তোমাদের সাথে আমাদের আর কোন চুক্তি নেই। এরূপ ঘোষণা ও বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে কোন চুক্তিবদ্ধ জাতির বিরুদ্ধে সামরিক কার্যক্রম শুরু করে দেয়া মূলত বিশ্বাসঘাতক তারই নামান্তর। এ নৈতিক বিধি অনুযায়ী চুক্তি বাতিল করার এ সাধারণ ঘোষণা এমনসব গোত্রের বিরুদ্ধে করা হয়েছে যারা অঙ্গীকার করা ও চুক্তিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সমসময় ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র পাকাতে এবং সুযোগ পেলেই সকল অঙ্গীকার ও চুক্তি শিকেয় তুলে রেখে শত্রুতায় লিপ্ত হতো। সে সময় যেসব গোত্র শিরকের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল তাদের মধ্য থেকে কিনানাহ ও বনী দ্বামরাহ এবং হয়তো আরো এক আধাটি গোত্র ছাড়া বাদবাকি সকল গোত্রের অবস্থা এ রকমই ছিল।

এ এ দায়িত্ব মুক্তি ও স্পর্কচ্ছেদ সংক্রান্ত ঘোষণার ফলে আরবে শিরক ও মুশরিকদের অস্তিত্বই যেন কার্যত আইন বিরোধী (Out of Law) হয়ে গেলো। এখন আর তাদের জন্য সারাদেশে কোন আশ্রয়স্থল রইল না। কারণ দেশের বেশীরভাগ এলাকা ইসলামী শাসন কর্তৃত্বের আওতাধীন হয়ে গিয়েছিল। এরা নিজেদের জায়গায় বসে অপেক্ষা করছিল, রোম ও পারস্যের পক্ষ থেকেই ইসলামী সালতানাত কখন বিপদের সম্মুখীন হবে অথবা নবী (সা.) কখন ইন্তেকাল করবেন। তখনই এরা অকস্মাৎ চুক্তি ভঙ্গ করে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু করে দেবে। কিন্তু আল্লাহ‌ তার ও তার রসূল ﷺ তাদের প্রতীক্ষিত সময় আসার আগেই তাদের পরিকল্পনার ছক উল্টে দিলেন এবং তাদের থেকে দায়িত্ব মুক্তির কথা ঘোষণা করে তাদেরকে তিনটি পথের একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করলেন। এক, তাদের যুদ্ধ করার জন্য তৈরী হতে হবে এবং ইসলামী শক্তির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে দুনিয়ার বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে হবে। দুই, তাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। তিন, তাদের ইসলাম গ্রহণ করতে হবে এবং দেশের বৃহত্তর অংশ আগেই যে শাসন ব্যবস্থার আওতাধীন চলে এসেছে তারই আয়ত্বে নিজেদেরকে ও নিজেদের এলাকাকে সোপর্দ করে দিতে হবে।

এ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের প্রকৃত ও যথার্থ যৌক্তিকতা অনুধাবন করার জন্য আমাদেরকে পরবর্তীকালে উদ্ভূত ইসলাম বর্জন আন্দোলনের দিকে ফেরাতে হবে। আলোচ্য ঘটনার দেড় বছর পরে নবী (সা.) ইন্তেকালের পরই দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ অশুভ তৎপরতা ও গোলযোগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠার ফলে ইসলামের নব নির্মিত প্রাসাদটি আকস্মিকভাবে নড়ে ওঠে। ৯ হিজরীর এ সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণার মাধ্যমে যদি শিরকের সংগঠিত শক্তিকে খতম করে না দেয়া হতো এবং সারাদেশে ইতিমধ্যেই সলামের নিয়ন্ত্রণে ক্ষমতা প্রধান্য বিস্তার না করতো, তাহলে হযরত আবু বকর (রা.) খিলাফত আমলের শুরুতেই মুরতাদ হওয়ার যে হিড়িক লেগে গিয়েছিল তার চেয়ে অনন্ত দশগুণ বেশী শক্তি নিয়ে বিদ্রোহ ও গৃহযুদ্ধের ভয়াবহ তাণ্ডব শুরু হয়ে যেতো। এ অবস্থায় ইসলামের ইতিহাসের চেহারাই হয়তো সম্পূর্ণ পাল্টে যেতো।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

পূর্বে এ সূরার পরিচিতিতে যে প্রেক্ষাপট বর্ণিত হয়েছে, এ আয়াতগুলি ভালোভাবে বুঝতে হলে সেটা জানা থাকা আবশ্যক। জাযিরাতুল আরবকে ইসলামের কেন্দ্রভূমি বানানোর লক্ষ্যে আল্লাহ তাআলা আদেশ নাযিল করেন যে, কিছু কালের অবকাশ দেওয়া হল। এরপর আর কোন মূর্তিপূজক আরব উপদ্বীপে নাগরিকের মর্যাদা নিয়ে অবস্থান করতে পারবে না। সুতরাং যে সামান্য সংখ্যক মুশরিক অদ্যাবধি ইসলাম গ্রহণ করেনি, এ আয়াতে তাদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এরা ছিল সেই সব লোক, যারা মুসলিমদেরকে কষ্ট দানের কোন পন্থা বাকি রাখেনি, সর্বদা তাদের উপর বর্বরোচিত জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাদেরকে জাযিরাতুল আরব ত্যাগ করার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে, সামনের আয়াতসমূহে বিস্তারিতভাবে তা আসছে। এ সকল মুশরিক ছিল চার রকমের। এক. এক তো হল সেই সকল মুশরিক, যাদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধ বন্ধের কোন চুক্তি হয়নি। এরূপ মুশরিকদেরকে চার মাসের সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তারা ইসলাম গ্রহণ করলে তো ভালো কথা। যদি তা না করে জাযিরাতুল আরবের বাইরে কোনও দেশে যেতে চায়, তবে তারও ব্যবস্থা করতে পারে। যদি এ দু’টো বিকল্পের কোনওটি গ্রহণ না করে, তবে এখনই তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া যাচ্ছে যে, তাদেরকে যুদ্ধের সম্মুখীন হতে হবে (তিরমিযী, হজ্জ অধ্যায়, হাদীস নং ৮৭১)। দুই. দ্বিতীয় প্রকার হল সেই সকল মুশরিকের, যাদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু তার জন্য নির্দিষ্ট কোনও মেয়াদ ধার্য করা হয়নি। তাদের সম্পর্কেও ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে যে, এখন থেকে সে চুক্তি চার মাস পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এর ভেতর তাদেরকেও প্রথমোক্ত দলের মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। সূরা তাওবার প্রথম ও দ্বিতীয় আয়াত এ দুই শ্রেণীর মুশরিক সম্পর্কেই। তিন. তৃতীয় প্রকারের মুশরিক হল তারা, যাদের সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুদ্ধবিরোধী চুক্তি সম্পন্ন করেছিলেন বটে, কিন্তু তারা সে চুক্তির মর্যাদা রক্ষা না করে বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় দিয়েছিল, যেমন হুদায়বিয়ায় কুরাইশ কাফেরদের সাথে এ রকম চুক্তি সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু তারা সে চুক্তি লংঘন করেছিল। তারই ফলশ্রুতিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা মুকাররমায় অভিযান চালিয়েছিলেন এবং বিজয় অর্জন করেছিলেন। তাদেরকে বাড়তি কোন সময় দেওয়া হয়নি, তবে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা যেহেতু হজ্জের সময় দেওয়া হয়েছিল, যা এমনিতেই সম্মানিত মাস, যখন যুদ্ধ-বিগ্রহ জায়েয নয় এবং এর পরের মহররমও এ রকমই একটি মাস, তাই স্বাভাবিকভাবেই মহররম মাসের শেষ পর্যন্ত তারা সময় পেয়ে গিয়েছিল। তাদেরই সম্পর্কে ৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে যে, সম্মানিত মাসসমূহ গত হওয়ার পরও যদি তারা ঈমান না আনে এবং জাযিরাতুল আরব ত্যাগও না করে, তবে তাদেরকে কতল করা হবে। চার. চতুর্থ প্রকারের মুশরিক তারা, যাদের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য এবং এর ভেতর তারা বিশ্বাস ভঙ্গও করেনি। ৪নং আয়াতে এদের সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তাদের চুক্তির মেয়াদ যত দিনই অবশিষ্ট আছে, তা পূরণ করতে দেওয়া হবে। এর মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে কোনও রকম ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। বনু কিনানার শাখা গোত্র বনু যাম্রা ও বনু মুদলিজের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ রকমই চুক্তি ছিল। তাদের দিক থেকে চুক্তিবিরোধী কোনও রকম তৎপরতাও পাওয়া যায়নি। তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আরও নয় মাস বাকি ছিল। সুতরাং তাদেরকে নয় মাস সময় দেওয়া হল। এ চারও প্রকারের ঘোষণাসমূহকে বারাআঃ বা সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা বলা হয়।

তাফসীরে জাকারিয়া

১. এটা সম্পর্কচ্ছেদ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে, সে সব মুশরিকদের সাথে, যাদের সাথে তোমরা পারস্পারিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে।(১)

(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবম হিজরীতে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুকে হজের আমীর করে পাঠানোর পরে এ আয়াতসমূহ নিয়ে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে পাঠালেন। তিনি কুরবানীর দিন এগুলোকে মানুষের মধ্যে ঘোষণা করলেন। এর সাথে আরও ঘোষণা ছিল যে, এরপর আর কোন লোক উলঙ্গ হয়ে তাওয়াফ করবে না। কোন মুশরিক হজ করবে না। মুমিন ছাড়া কেউ জান্নাতে যাবে না। এভাবে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু সেটা বলতেন, যখন অপারগ হতেন, তখন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন। (ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১) তোমরা যে অংশীবাদীদের সাথে সন্ধি স্থাপন করেছিলে, আল্লাহ ও রসূলের পক্ষ হতে তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা হল। (1)

(1) মক্কা বিজয়ের পর ৯ হিজরীতে রসূল (সাঃ) আবু বাকর, আলী এবং অন্যান্য সাহাবা (রাঃ)গণকে কুরআনের এই আয়াতসমূহ ও বিধান দিয়ে মক্কা পাঠালেন, যাতে তাঁরা তা প্রকাশ্যভাবে ঘোষণা করে দেন। তাঁরা নবীর আদেশ মোতাবেক ঘোষণা করলেন যে, কোন ব্যক্তি উলঙ্গ হয়ে কা’বা ঘরের তাওয়াফ করবে না। বরং আগামী বছর থেকে কোন মুশরিককে বাইতুল্লাহর হজ্জের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে না। (বুখারীঃ নামায ও হজ্জ অধ্যায়, মুসলিমঃ হজ্জ অধ্যায়)