لَّوۡلَا كِتَٰبٞ مِّنَ ٱللَّهِ سَبَقَ لَمَسَّكُمۡ فِيمَآ أَخَذۡتُمۡ عَذَابٌ عَظِيمٞ

লাও লা-কিতা-বুমমিনাল্লা-হি ছাবাকা লামাছছাকুমফীমাআখাযতুম‘আযা-বুন‘আজীম।উচ্চারণ

আল্লাহর লিখন যদি আগেই না লেখা হয়ে যেতো, তাহলে তোমরা যা কিছু করেছো সেজন্য তোমাদের কঠোর শাস্তি দেয়া হতো। তাফহীমুল কুরআন

যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে লিখিত এক বিধান পূর্বে না থাকত, তবে তোমরা যে পথ অবলম্বন করেছ সে কারণে তোমাদের উপর বড় কোন শাস্তি আপতিত হত। #%৫০%#মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহর লিপি পূর্বেই লিখিত না হলে তোমরা যা কিছু গ্রহণ করেছ তজ্জন্য তোমাদের উপর কঠিন শাস্তি আপতিত হত।মুজিবুর রহমান

যদি একটি বিষয় না হত যা পূর্ব থেকেই আল্লাহ লিখে রেখেছেন, তাহলে তোমরা যা গ্রহণ করছ সেজন্য বিরাট আযাব এসে পৌছাত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আল্লাহ্ র পূর্ব বিধান না থাকলে তোমরা যা গ্রহণ করেছ তার জন্যে তোমাদের ওপর মহাশাস্তি আপতিত হত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আল্লাহর লিখন অতিবাহিত না হয়ে থাকলে, অবশ্যই তোমরা যা গ্রহণ করেছ, সে বিষয়ে তোমাদেরকে মহা আযাব স্পর্শ করত।আল-বায়ান

আল্লাহর লেখন যদি পূর্বেই লেখা না হত তাহলে তোমরা যা (মুক্তিপণ হিসেবে) গ্রহণ করেছ তজ্জন্য তোমাদের উপর মহাশাস্তি পতিত হত।তাইসিরুল

যদি আল্লাহ্‌র তরফ থেকে বিধান না থাকতো যা পূর্বেই উল্লেখ হয়েছে, তবে তোমরা যা গ্রহণ করতে যাচ্ছিলে সেজন্য তোমাদের উপরে পড়তো এক বিরাট শাস্তি।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

‘পূর্বে লিখিত বিধান’ দ্বারা কি বোঝানো হয়েছে? কতক মুফাসসির বলেন, পূর্বে ৩৩নং আয়াতে বর্ণিত বিধান, অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বর্তমানে আল্লাহ তাআলার কোনও আযাব না আসা। অন্যান্য মুফাসসিরগণ বলেন, কয়েদীদের মধ্য হতে কারও কারও তাকদীরে লেখা ছিল যে, তারা ইসলাম গ্রহণ করবে, এ আয়াতে তাকদীরের সেই লিখনকেই বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা সে ফায়সালার কারণে মুসলিমদেরকে শাস্তি দেননি এ কারণে যে, কয়েদীদের মধ্যে এমন কেউ কেউ এ ফায়সালার কারণে ইসলাম গ্রহণের সুযোগ পেয়েছে, যাদের ভাগ্যে ইসলাম লেখা ছিল। নয়ত নীতিগতভাবে এ ফায়সালা পছন্দনীয় ছিল না।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬৮. আল্লাহর পূর্ব বিধান না থাকলে(১) তোমরা যা গ্রহণ করেছ সে জন্য তোমাদের উপর মহাশাস্তি আপতিত হত।

(১) এখানে পূর্ব বিধান বলতে বুঝানো হয়েছে যে, পূর্ব থেকে এ উম্মাতের জন্য গণীমতের মাল ও ফিদিয়া গ্রহণ করা হালাল হওয়ার কথা আল্লাহর পক্ষ থেকে পূর্ব সিদ্ধান্ত ও ফয়সালা অর্থাৎ ‘কাদ্বা’ ও ‘কাদর’ হিসাবে লিখা না হত তবে তোমাদের উপর আযাব আসত। এ ব্যাখ্যা অনুসারে এখানে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ক্ষমা করার কারণ হিসাবে তার পূর্ব সিদ্ধান্ত ও ফয়সালাকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। (সা’দী, ইবন কাসীর)

কোন কোন মুফাসসির বলেনঃ এখানে ‘কিতাব' বলে বুঝানো হয়েছে যে, যদি আল্লাহর কাছে বদরে অংশগ্রহণকারীদের ক্ষমার ব্যাপারটি আগে নির্ধারিত না থাকত, তবে অবশ্যই তোমাদের উপর শাস্তি আপতিত হত। অথবা যদি এটা পূর্বেই লিখিত না থাকত যে, আপনি তাদের মাঝে থাকাকালীন আমি তাদেরকে শাস্তি দেব না, তবে অবশ্যই তাদেরকে শাস্তি পেয়ে বসত। অথবা যদি না জানা অপরাধের কারণে পাকড়াও করবে না এটা লিখা না থাকত, তবে অবশ্যই তাদের উপর শাস্তি আসত। অথবা যদি আমি এ উম্মতের কবীরা গোনাহ তাওবার মাধ্যমে ক্ষমা করব এটা লিখা না থাকত তবে অবশ্যই তাদের উপর শাস্তি আসত। (ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬৮) আল্লাহর পূর্ব বিধান (লিপিবদ্ধ) না থাকলে(1) তোমরা যা গ্রহণ করেছ, তার জন্য তোমাদের উপর মহাশাস্তি আপতিত হত।

(1) এ ব্যাপারে তাফসীরবিদদের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে যে, এই লিপিবদ্ধ বিধান কি ছিল? কেউ বলেন, তাতে গনীমতের মাল হালাল হওয়ার কথা লেখা ছিল। অর্থাৎ, যেহেতু লিপিবদ্ধ তকদীর এই ছিল যে, মুসলিমদের জন্য গনীমতের মাল হালাল হবে। এই জন্য তোমরা মুক্তিপণ নিয়ে এক বৈধ কাজ করেছ। যদি এমন না হত তাহলে মুক্তিপণ নেওয়ার কারণে তোমাদের উপর বড় ধরনের আযাব আসত। কেউ কেউ বলেছেন, তাতে বদর যুদ্ধে মুজাহিদদের জন্য ক্ষমা ঘোষণার কথা লিপিবদ্ধ ছিল। আবার কেউ কেউ বলেন, রসূল (সাঃ)-এর বর্তমানে আযাব না আসার কথা লিপিবদ্ধ ছিল ইত্যাদি।

(এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানার জন্য ফাতহুল ক্বাদীর দ্রষ্টব্য)