وَلِلَّهِ ٱلۡمَشۡرِقُ وَٱلۡمَغۡرِبُۚ فَأَيۡنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجۡهُ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ وَٰسِعٌ عَلِيمٞ

ওয়া লিল্লা-হিল মাশরিকু ওয়াল মাগরিবু ফাআইনামা-তুওয়াললূ ফাছাম্মা ওয়াজহুল্লা-হি ইন্নাল্লা-হা ওয়া-ছি‘উন ‘আলীম।উচ্চারণ

পূর্ব ও পশ্চিম সব আল্লাহর। তোমরা যেদিকে মুখ ফিরাবে সেদিকেই আল্লাহর চেহারা বিরাজমান। ১১৫ আল্লাহ বড়ই ব্যাপকতার অধিকারী এবং তিনি সবকিছু জ্ঞাত। ১১৬ তাফহীমুল কুরআন

পূর্ব ও পশ্চিম সব আল্লাহরই। সুতরাং তোমরা যে দিকেই মুখ ফেরাবে সেটা আল্লাহরই দিক। #%৮২%# নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বব্যাপী ও সর্বজ্ঞ।মুফতী তাকী উসমানী

আল্লাহরই জন্য পূর্ব ও পশ্চিম; অতএব তোমরা যে দিকেই মুখ ফিরাও সেই দিকেই আল্লাহর দিক; কেননা আল্লাহ (সর্বদিক) পরিবেষ্টনকারী, পূর্ণ জ্ঞানবান।মুজিবুর রহমান

পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহ্ র ই; এবং যেদিকেই তোমরা মুখ ফিরাও না কেন, সেদিকই আল্লাহ্ র দিক। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। সুতরাং তোমরা যে দিকেই মুখ ফিরাও, সে দিকেই আল্লাহর চেহারা। নিশ্চয় আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।আল-বায়ান

পূর্ব পশ্চিম আল্লাহরই, সুতরাং তোমরা যে দিকেই মুখ কর না কেন, সেদিকেই আছে আল্লাহর চেহারা, আল্লাহ সুবিস্তৃত, সর্বজ্ঞ।তাইসিরুল

আর আল্লাহ্‌রই পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল। অতএব যেদিকে তোমরা ফেরো সে-দিকেই আল্লাহ্‌র মুখ। নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ সর্বব্যাপক, সর্বজ্ঞাতা।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১১৫

অর্থাৎ আল্লাহ‌ পূর্বেরও নয়, পশ্চিমেরও নয়। তিনি সকল দিকের ও সকল স্থানের মালিক। কিন্তু নিজে কোন স্থানের পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই। কাজেই তাঁর ইবাদাতের জন্য কোন দিক বা স্থান নির্দিষ্ট করার অর্থ এ নয় যে, আল্লাহ‌ সেদিকে বা সে স্থানে থাকেন। কাজেই ইতিপূর্বে তোমরা ওখানে বা ঐ দিকে ফিরে ইবাদাত করতে আর এখন সেই জায়গা বা দিক পরিবর্তন করলে কেন –একথা নিয়ে ঝগড়া বা বিতর্ক করার কোন অবকাশ নেই।

১১৬

অর্থাৎ মহান আল্লাহ‌ সীমাবদ্ধ নন। তিনি সংকীর্ণ মন, সংকীর্ণ দৃষ্টি ও সংকীর্ণ হাতের অধিকারী নন। অথচ তোমরা আল্লাহকে তোমাদের মতো ভেবে এ রকম মনে করে রেখেছো। বরং তাঁর খোদায়ী কর্তৃত্ব বিশাল-বিস্তৃত এবং তাঁর দৃষ্টিকোণ ও অনুগ্রহ দানের ক্ষেত্র অত্যন্ত ব্যাপক। তাঁর কোন্‌ বান্দা কোথায় কোন্‌ সময় কি উদ্দেশ্যে তাঁকে স্মরণ করছে---একথাও তিনি জানেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

উপরে যে তিনটি সম্প্রদায়ের কথা বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে কিবলা নিয়েও বিরোধ ছিল। কিতাবীগণ বায়তুল মুকাদ্দাসকে কিবলা মনে করত আর মুশরিকগণ বাইতুল্লাহকে। মুসলিমগণও বাইতুল্লাহর দিকে ফিরে সালাত আদায় করত আর এটা ইয়াহুদীদের অপছন্দ ছিল। মুসলিমদেরকে একটি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বাইতুল মুকাদ্দাসকে কিবলা বানানোর হুকুম দেওয়া হলে ইয়াহুদীরা এই বলে সন্তোষ প্রকাশ করল যে, দেখ মুসলিমগণ আমাদের কথা মানতে বাধ্য হয়ে গেছে। তারপর আবার বাইতুল্লাহকে চূড়ান্তরূপে কিবলা বানিয়ে দেওয়া হল। দ্বিতীয় পারার শুরুতে ইনশাআল্লাহ এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে। এ আয়াত দৃশ্যত সেই সময় নাযিল হয়েছিল যখন মুসলিমগণ বাইতুল মুকাদ্দাসের দিকে ফিরে সালাত আদায় করত। জানানো উদ্দেশ্য, কোনও দিকই সত্তাগতভাবে কোনও রকম মর্যাদা ও পবিত্রতার ধারক নয়। পূর্ব ও পশ্চিম সবই আল্লাহর সৃষ্টি এবং তাঁরই হুকুম বরদার, আল্লাহ তাআলা কোনও এক দিকে সীমাবদ্ধ নন। তিনি সর্বত্র উপস্থিত। সুতরাং তিনি যে দিকেই মুখ করার হুকুম দেন, বান্দার কাজ সে হুকুম তামিল করা। এ কারণেই কোনও লোক যদি এমন স্থানে থাকে, যেখানে কিবলা ঠিক কোন দিকে তা নির্ণয় করা সম্ভব হয় না, সে ব্যক্তি নিজ অনুমানের ভিত্তিতে যে দিককে কিবলা মনে করে সালাত আদায় করবে তার সালাত সহীহ হয়ে যাবে। এমনকি পরে যদি জানা যায় সে যে দিকে ফিরে সালাত আদায় করেছে কিবলা সে দিকে ছিল না, তবু তার সালাত পুনরায় আদায় করার প্রয়োজন নেই। কেননা সে ব্যক্তি নিজ সাধ্য অনুযায়ী আল্লাহ তাআলার হুকুম তামিল করেছে। বস্তুত কোনও স্থান বা কোনও দিক যে মর্যাদাসম্পন্ন হয়, তা আল্লাহ তাআলার হুকুমের কারণেই হয়। সুতরাং কিবলা নির্দিষ্টকরণের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা যদি নিজ হুকুম পরিবর্তন করে থাকেন, তবে তাতে কোনও সম্প্রদায়ের হার-জিতের কোনও প্রশ্ন নেই। এ রদ-বদল মূলত এ বিষয়টা স্পষ্ট করার জন্যই করা হচ্ছে যে, কোনও দিকই সত্তাগতভাবে পবিত্র ও কাঙ্খিত নয়। মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ তাআলার হুকুম পালন। ভবিষ্যতে আল্লাহ তাআলা যদি পুনরায় বাইতুল্লাহর দিকে ফেরার হুকুম দেন, তবে তা বিস্ময় বা আপত্তির কোনও কারণ হওয়া উচিত নয়।

তাফসীরে জাকারিয়া

১১৫. আর পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই; সুতরাং যেদিকেই তোমরা মুখ ফিরাও না কেন, সেদিকই আল্লাহর দিক(১)। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।(২)

(১) وَجْهُ اللَّهِ শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর চেহারা। মুসলিমদের আকীদা বিশ্বাস হলো এই যে, আল্লাহর চেহারা রয়েছে। তবে তা সৃষ্টির কারও চেহারার মত নহে। কিন্তু এ আয়াতের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো - সকল দিকই যেহেতু আল্লাহর সুতরাং মুসল্লী পূর্ব ও পশ্চিম যেদিকেই মুখ ফিরাক না কেন সেদিকেই আল্লাহর কিবলা রয়েছে। কেউ কেউ এ আয়াতটিকে আল্লাহ্ তা'আলার সিফাত মুখমণ্ডল বা চেহারা সাব্যস্ত করার জন্য দলীল হিসেবে পেশ করে থাকেন। মূলতঃ এ আয়াতটিতে ‘ওয়াজহ’ শব্দটি দিক বা কেবলা বুঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। তাই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ এ আয়াতটিকে সিফাতের আয়াতের মধ্যে গণ্য করাকে ভুল আখ্যায়িত করেছেন। (দেখুন - মাজমু ফাতাওয়াঃ ২/৪২৯, ৩/১৯৩, ৬/১৫-১৬)

কোন কোন মুফাসসির (فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ) আয়াতকে এই নফল সালাতেরই বিধান বলে সাব্যস্ত করেছেন। কিন্তু স্মরণ রাখা দরকার যে, এই বিধান সে সমস্ত যানবাহনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, যাতে সওয়ার হয়ে চলার সময় কেবলার দিকে মুখ করা কঠিন। পক্ষান্তরে যেসব যানবাহনে সওয়ার হলে কেবলার দিকে মুখ করা কঠিন নয়, যেমন রেলগাড়ী, সামুদ্রিক জাহাজ, উড়োজাহাজ ইত্যাদিতে নফল সালাতেও কেবলার দিকেই মুখ করতে হবে। তবে সালাতরত অবস্থায় রেলগাড়ী অথবা জাহাজের দিক পরিবর্তন হয়ে গেলে এবং আরোহীর পক্ষে কেবলার দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার অবকাশ না থাকলে সে অবস্থায়ই সালাত পূর্ণ করবে। এমনিভাবে কেবলার দিক সম্পর্কে সালাত আদায়কারীর জানা না থাকলে, রাতের অন্ধকারে দিক নির্ণয় করা কঠিন হলে এবং বলে দেয়ার লোক না থাকলে সেখানেও সালাত আদায়কারী অনুমান করে যেদিকেই মুখ করবে, সেদিকই তার কেবল বলে গণ্য হবে। (তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন)

(২) এখানে কেবলামুখী হওয়ার সম্পূর্ণ স্বরূপ বর্ণনা করে দেয়া হয়েছে যে, এর উদ্দেশ্য (নাউযুবিল্লাহ) বায়তুল্লাহ অথবা বায়তুল- মুকাদ্দাসের পূজা করা নয়। সমস্ত সৃষ্টিজগত তার কাছে অতি ছোট। এরপরও বিভিন্ন তাৎপর্যের কারণে বিশেষ স্থান অথবা দিককে কেবলা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। আয়াতের শেষে মহান আল্লাহর দুটি গুরুত্বপূর্ণ গুণবাচক নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমে বলা হয়েছে, তিনি وَاسِعٌ এ শব্দটির দুটি অর্থ রয়েছে। এক, প্রাচুর্যময়; অর্থাৎ তাঁর দান অপরিসীম। তিনি যাকে ইচ্ছা তার কর্মকাণ্ড দেখে বিনা হিসেবে দান করবেন। পূর্ব বা পশ্চিম তাঁর কাছে মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। তিনি দেখতে চাইছেন যে, কে তার কথা শুনে আর কে শুনে না। দুই, وَاسِعٌ শব্দটির দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, সর্বব্যাপী। অর্থাৎ তিনি যেহেতু সবদিক ও সবস্থান সম্পর্কে পূর্ণ খবর রাখেন সুতরাং তাঁর জন্য কোন কাজটি করা হল সেটা তিনি ভাল করেই জানেন। সে অনুসারে তিনি তার বান্দাকে পুরস্কৃত করবেন। এ অর্থের সাথে পরে উল্লেখিত দ্বিতীয় গুণবাচক নাম عَلِيْمٌ শব্দটি বেশী উপযুক্ত।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১১৫। পূর্ব ও পশ্চিম (সর্বদিক) আল্লাহরই। সুতরাং যে দিকেই মুখ ফেরাও, সে দিকই আল্লাহরই দিক (মুখমন্ডল)। (1) নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বদিক পরিবেষ্টনকারী, সর্বজ্ঞ।

(1) হিজরতের পর মুসলিমরা বায়তুল মুক্বাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামায পড়ত। ফলে এ নিয়ে তাদের মনে ব্যথা ছিল। ঠিক সেই সময়ে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়। কেউ বলেন, এ আয়াত তখন অবতীর্ণ হয়েছিল, যখন বায়তুল মুক্বাদ্দাস থেকে পুনরায় কাবার দিকে মুখ করে নামায পড়ার নির্দেশ হয় এবং এ ব্যাপারে ইয়াহুদীরা বিভিন্ন রকমের মন্তব্য করে। আবার কেউ বলেছেন, এর অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হল, সফরে বাহনের উপর নফল নামায পড়ার অনুমতি দান। অর্থাৎ, সওয়ারীর মুখ যেদিকেই থাকুক না কেন সেদিকে মুখ করেই নামায পড়া যাবে। কখনো কয়েকটি কারণ একত্রে জমায়েত হয়ে যায় এবং সেই সমস্ত কারণের (শরীয়তী) বিধান বর্ণনায় একটিই আয়াত নাযিল হয়ে থাকে। আর তখন এই শ্রেণীর আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ বর্ণনার পশ্চাতে একাধিক বর্ণনা বর্ণিত হয়। কোন বর্ণনায় একটি কারণ তুলে ধরা হয়, আবার অপর এক বর্ণনায় অন্য একটি কারণ তুলে ধরা হয়। আলোচ্য আয়াতটিও সেই শ্রেণীভুক্ত। (আহসানুত তাফাসীর থেকে সংগৃহীত সার-সংক্ষেপ)