إِذۡ يَقُولُ ٱلۡمُنَٰفِقُونَ وَٱلَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ غَرَّ هَـٰٓؤُلَآءِ دِينُهُمۡۗ وَمَن يَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِ فَإِنَّ ٱللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٞ

ইযইয়াকূলুল মুনা-ফিকূনা ওয়াল্লাযীনা ফী কুলূবিহিম মারদুন গারর হাউলাই দীনুহুম ওয়া মাইঁ ইয়াতাওয়াক্কাল ‘আলাল্লা-হি ফাইন্নাল্লা-হা ‘আঝীঝুন হাকীম।উচ্চারণ

যখন মুনাফিকরা এবং যাদের দিলে রোগ আছে তারা সবাই বলছিল, এদের দ্বীনই তো এদের মাথা বিগড়ে দিয়েছে। ৩৯ অথচ যদি কেউ আল্লাহর ওপর ভরসা করে তাহলে আল্লাহ‌ অবশ্যি বড়ই পরাক্রান্ত ও জ্ঞানী। তাফহীমুল কুরআন

(স্মরণ কর), মুনাফিক ও যাদের অন্তরে ব্যাধি ছিল, তারা যখন বলছিল, তাদের (অর্থাৎ মুসলিমদের) দীন তাদেরকে বিভ্রান্ত করেছে। #%৩৬%# অথচ কেউ আল্লাহর উপর ভরসা করলে, আল্লাহ তো পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।মুফতী তাকী উসমানী

যারা মুনাফিক, অন্তরে যাদের ব্যাধি রয়েছে তারা বলে, তাদের ধর্ম তাদেরকে বিভ্রান্ত করেছে। যে কেহ আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।মুজিবুর রহমান

যখন মোনাফেকরা বলতে লাগল এবং যাদের অন্তর ব্যাধিগ্রস্ত, এরা নিজেদের ধর্মের উপর গর্বিত। বস্তুতঃ যারা ভরসা করে আল্লাহর উপর, সে নিশ্চিন্ত, কেননা আল্লাহ অতি পরাক্রমশীল, সুবিজ্ঞ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

স্মরণ কর, মুনাফিক ও যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা বলে, ‘এদের দীন এদেরকে বিভ্রান্ত করেছে।’ কেউ আল্লাহ্ র ওপর নির্ভর করলে আল্লাহ্ তো পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যখন মুনাফিকরা ও যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা বলছিল, ‘এদেরকে এদের ধর্ম ধোকায় ফেলেছে’ এবং যে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে তবে তো আল্লাহ নিশ্চয় পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান।আল-বায়ান

স্মরণ কর, মুনাফিক্বরা আর যাদের অন্তরে রোগ আছে তারা বলে, ‘এই লোকগুলোকে তাদের দ্বীন ধোঁকায় ফেলে দিয়েছে’। (কিন্তু আসল ব্যাপার হল) কেউ যদি আল্লাহর উপর ভরসা করে তাহলে আল্লাহ তো প্রবল পরাক্রান্ত, মহাবিজ্ঞানী।তাইসিরুল

স্মরণ করো! কপটরা আর যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তারা বলে -- "তাদের ধর্মই তাদের বিভ্রান্ত করেছে।" বস্তুত যে কেউ আল্লাহ্‌র উপরে নির্ভর করে, তবে নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ মহাশক্তিশালী, পরমজ্ঞানী।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৯

অর্থাৎ মদীনার মুনাফীক গোষ্ঠি এবং বৈষয়িক স্বার্থ পূজায় ও আল্লাহর প্রতি গাফিলতির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিবর্গ, যুদ্ধের সাজ-সরঞ্জামহীন মুষ্টিমেয় লোকের একটি দলকে কুরাইশদের মত বিরাট শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রা করতে দেখে নিজেদের মধ্যে এ মর্মে বলাবলি করছিল যে, এরা আসলে নিজেদের ধর্মীয় আবেগে উন্মাদ হয়ে গেছে। এ যুদ্ধে এদের ধ্বংস অনিবার্য। কিন্তু এই নবী (সা.) এদের কানে এমন মন্ত্র ফুঁকে দিয়েছে, যার ফলে এরা বুদ্ধিভ্রষ্ট হয়ে গেছে এবং সামনে মৃত্যুগূহা দেখেও তার মধ্যে ঝাঁপিয়ে পড়ছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

মুসলিমগণ যখন সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় কাফেরদের অত বড় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল, তখন মুনাফিকগণ বলতে লাগল, নিজেদের দীনের ব্যাপারে এরা বড় ধোঁকার মধ্যে রয়েছে। মক্কার লোকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মত শক্তি এদের কোথায়? (এর জবাবে আল্লাহ তাআলা বলছেন, তারা আদৌ ধোঁকায় পড়েনি। প্রকৃত পক্ষে তারা আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। আর যারা তাঁর উপর নির্ভর করে, তিনি অবশ্যই তাদের সাহায্য করেন। ফলে শত্রুসৈন্য যত প্রবলই হোক তারা তাদেরকে পরাস্ত করতে পারে না -অনুবাদক।)

তাফসীরে জাকারিয়া

৪৯. স্মরণ কর, যখন মুনাফেক ও যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তারা বলছিল, এদের দ্বীন এদের বিভ্রান্ত করেছে। বস্তুতঃ কেউ আল্লাহর উপর নির্ভর করলে আল্লাহ তো প্রবল পরাক্রান্ত ও প্রজ্ঞাময়।(১)

(১) বদরের ময়দানে মুষ্টিমেয় এই মুসলিমরা যে এহেন বিরাট শক্তিশালী বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়তে এসেছে, তাদেরকে তাদের দ্বীনই প্রতারণায় ফেলে মৃত্যুর মুখে এসে দাঁড় করিয়েছে, এটাকেই মুনাফিকরা ধোঁকা বলছে। কারণ, তারা ঈমানদারগণকে সংখ্যায় কম দেখে মনে করেছিল যে, তারা নিশ্চিত মারা পড়বে। (ইবন কাসীর) আল্লাহ্ তাআলা তাদের উত্তরে বলেছেন যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ও ভরসা করে, জেনে রাখ, সে কখনো অপমানিত ও অপদস্ত হয় না। কারণ আল্লাহ্ তা'আলা সবকিছুর উপর পরাক্রমশালী। তার কৌশলের সামনে সবার জ্ঞান-বুদ্ধিই বিকল হয়ে যায়। তিনি প্রজ্ঞাময়, হিকমতওয়ালা। তিনি জানেন কে সহযোগিতা পাওয়ার উপযুক্ত, আর কে অপমানিত হওয়ার উপযুক্ত। সে অনুসারে তিনি সম্মানিত বা অপমানিত করে থাকেন (ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৪৯) স্মরণ কর, যখন মুনাফিক্ব (কপট) ও যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে(1) তারা বলতে লাগল, ‘এদের ধর্ম এদেরকে প্রতারিত করেছে।’(2) আর যে আল্লাহর উপর নির্ভর করে, (সে বিজয়ী হয়।) নিশ্চয় আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (3)

(1) ‘যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে’ থেকে উদ্দেশ্য হল সেই নও মুসলিমগণ যাঁরা প্রথম প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং মুসলিমদের সাফল্যের ব্যাপারে তাদের সন্দেহ ছিল। অথবা এ থেকে উদ্দেশ্য মুশরিকদল। আর এটাও হতে পারে যে, এ থেকে মদীনায় বসবাসকারী ইয়াহুদীদল উদ্দেশ্য।

(2) অর্থাৎ, এদের সংখ্যা তো দেখ! আর যুদ্ধসামগ্রীর যা অবস্থা তাও তো প্রকাশ। অথচ এরা মুকাবিলা করতে চলেছে মক্কার মুশরিকদের সাথে; যারা এদের তুলনায় সংখ্যায় অনেক বেশী এবং তাদের আছে নানান ধরনের যুদ্ধের সাজ-সরঞ্জাম ও উপকরণ। মনে হয় যে, এদের দ্বীন এদেরকে ধোঁকায় ফেলেছে। এই মোটা কথাও ওদের মগজে ধরে না?!

(3) আল্লাহ তাআলা বলেন, ওই দুনিয়াদারদের কাছে সেই ঈমানদারদের ঈমান, মনোবল ও অবিচলতার কি অনুমান হতে পারে, যাদের ভরসা এক আল্লাহর উপর, যিনি মহাপরাক্রমশালী। অর্থাৎ, তাঁর প্রতি ভরসাকারীকে তিনি অসহায় অবস্থায় ছেড়ে দেন না। আর তিনি প্রজ্ঞাময়ও; তাঁর প্রত্যেক কর্ম প্রজ্ঞা ও হিকমতে পরিপূর্ণ; যা পূর্ণরূপে অনুভব করতে মানুষের জ্ঞান অপারগ।