ইন্নাল্লাযীনা কাফারূইউনফিকূনা আমওয়া-লাহুম লিয়াসুদ্দূ‘আন ছাবীলিল্লা-হি ফাছাইউনফিকূনাহা-ছু ম্মা তাকূনু‘আলাইহিম হাছরতান ছুম্মা ইউগলাবূনা ওয়াল্লাযীনা কাফারূইলা-জাহান্নামা ইউহশারূন।উচ্চারণ
যারা সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করেছে তারা নিজেদের ধন-সম্পদ আল্লাহর পথ রোধ করার জন্য ব্যয় করেছে এবং এখনো আরো ব্যয় করতে থাকবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ প্রচেষ্টা তাদের অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তারপর তারা বিজিত হবে। আর এ কাফেরদেরকে ঘেরাও করে জাহান্নামের দিকে আনা হবে। তাফহীমুল কুরআন
যারা কুফর অবলম্বন করেছে, তারা আল্লাহর পথে (মানুষকে) বাঁধা দেওয়ার জন্য নিজেদের অর্থ-সম্পদ ব্যয় করে। #%২২%# এর পরিণাম হবে এই যে, তারা অর্থ-সম্পদ ব্যয় করতে থাকবে, অতঃপর সেসব তাদের মনস্তাপের কারণ হয়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত তারা পরাভূত হবে। আর যারা কুফরী করে, তাদেরকে (আখিরাতে) জাহান্নামে নিয়ে একত্র করা হবে। মুফতী তাকী উসমানী
নিশ্চয়ই কাফিরেরা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে নিবৃত্ত করার উদ্দেশে তাদের ধন সম্পদ ব্যয় করে, তারা তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করতেই থাকবে, অতঃপর ওটাই শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য দুঃখ ও আফসোসের কারণ হবে এবং তারা পরাভূতও হবে। আর যারা কুফরী করে তাদেরকে জাহান্নামে একত্রিত করা হবে।মুজিবুর রহমান
নিঃসন্দেহে যেসব লোক কাফের, তারা ব্যয় করে নিজেদের ধন-সম্পদ, যাতে করে বাধাদান করতে পারে আল্লাহর পথে। বস্তুতঃ এখন তারা আরো ব্যয় করবে। তারপর তাই তাদের জন্য আক্ষেপের কারণ হয়ে এবং শেষ পর্যন্ত তারা হেরে যাবে। আর যারা কাফের তাদেরকে দোযখের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আল্লাহ্ র পথ হতে লোককে নিবৃত্ত করার জন্যে কাফিররা তাদের ধনসম্পদ ব্যয় করে, তারা ধন-সম্পদ ব্যয় করতেই থাকবে; তারপর এটা তাদের মনস্তাপের কারণ হবে; এর পর তারা পরাভূত হবে আর যারা কুফরী করে তাদেরকে জাহান্নামে একত্র করা হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে, তারা নিজদের সম্পদসমূহ ব্যয় করে, আল্লাহর রাস্তা হতে বাধা প্রদান করার উদ্দেশ্যে। তারা তো তা ব্যয় করবে। অতঃপর এটি তাদের উপর আক্ষেপের কারণ হবে এরপর তারা পরাজিত হবে। আর যারা কুফরী করেছে তাদেরকে জাহান্নামে সমবেত করা হবে।আল-বায়ান
যে সব লোক সত্যকে মেনে নিতে অস্বীকার করেছে তারা আল্লাহর পথ হতে (লোকেদেরকে) বাধা দেয়ার জন্য তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে থাকে, তারা তা ব্যয় করতেই থাকবে, অতঃপর এটাই তাদের দুঃখ ও অনুশোচনার কারণ হবে। পরে তারা পরাজিতও হবে। যারা কুফরী করে তাদেরকে (অবশেষে) জাহান্নামের পানে একত্রিত করা হবে।তাইসিরুল
নিঃসন্দেহ যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তারা তাদের ধনসম্পত্তি খরচ করে আল্লাহ্র পথ থেকে বাধা দেবার জন্যে। তারা এটা খরচ করবেই, তারপর এটি হবে তাদের জন্য মনস্তাপের কারণ, তারপর তাদের পরাজিত করা হবে। আর যারা অবিশ্বাস পোষণ করে তাদের জাহান্নামের দিকে একত্রিত করা হবে, --মাওলানা জহুরুল হক
বদর যুদ্ধের পর কুরাইশের যে সকল মোড়ল জীবিত ছিল, তারা আরও বড় যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল এবং সে লক্ষ্যে তারা চাঁদা গ্রহণ করতে শুরু করেছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত নাযিল হয়েছে।
৩৬. নিশ্চয় যারা কুফরী করেছে, তারা আল্লাহর পথ থেকে লোকদেরকে নিবৃত্ত করার জন্য তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, অচিরেই তারা তা ব্যয় করবে; তারপর সেটা তাদের আফসোসের কারণ হবে, এরপর তারা পরাভূত হবে।(১) আর যারা কুফরী করেছে তাদেরকে জাহান্নামে একত্র করা হবে।
(১) এ ঘটনার বিবরণ মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক রাহিমাহুল্লাহর বর্ণনা মতে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে উদ্ধৃত রয়েছে যে, বদরের যুদ্ধের পরাজয়ের পর অবশিষ্ট আহত মক্কাবাসী কাফেররা যখন মক্কায় গিয়ে পৌছল, তখন যাদের পিতা-পুত্র এ যুদ্ধে নিহত হয়েছিল, তারা বাণিজ্যিক কাফেলার আমীর আবু সুফিয়ানের কাছে উপস্থিত হয় এবং বলে যে, আপনি তো জানেন, এ যুদ্ধটি বাণিজ্যিক কাফেলার হেফাজতকল্পে করা হয়েছ, যার ফলে জান-মালের এহেন ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
কাজেই আমরা চাই, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে আমাদের কিছু সাহায্য করা হোক, যাতে আমরা ভবিষ্যতে মুসলিমদের থেকে এর প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পারি। তারা এ দাবী মেনে নিয়ে তাদেরকে এক বিরাট অঙ্কের অর্থ দিয়ে দেয় যা তারা বদর যুদ্ধের প্রতিশোধ নেয়ার জন্য ওহুদ যুদ্ধে ব্যয় করে এবং তাতেও শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়। ফলে পরাজয়ের গ্লানির সাথে সাথে অর্থ অপচয়ের অতিরিক্ত অনুতাপ যোগ হয়ে যায়।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই আয়াতে এই ঘটনার পূর্বেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এর পরিণতি সম্পর্কে অবহিত করে দেন। বলা হয়, যারা কাফের তারা নিজেদের ধন-সম্পদ আল্লাহর দ্বীন থেকে মানুষকে বাধা দান করার কাজে ব্যয় করতে চাইছে। অতএব, তার পরিণতি হবে এই যে, নিজেদের ধনসম্পদও ব্যয় করে বসবে এবং পরে এ ব্যয়ের জন্য তাদের অনুতাপ হবে। অথচ শেষ পর্যন্ত তাদেরকে পরাজয়ই বরণ করতে হবে। বস্তুতঃ ওহুদের যুদ্ধে ঠিক তাই ঘটেছে; সঞ্চিত ধন-সম্পদও ব্যয় করে ফেলেছে এবং পরে যখন পরাজিত হয়েছে, তখন পরাজয়ের গ্লানির সাথে সাথে ধন-সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার জন্য অতিরিক্ত অনুতাপ ও দুঃখ পোহাতে হয়েছে। (ইবন কাসীর)
তাফসীরকার দাহহাক এ আয়াতের বিষয়বস্তুকে বদর যুদ্ধের ব্যয়সংক্রান্ত বলেই অভিহিত করেছেন। (ইবন কাসীর) কারণ, বদর যুদ্ধে এক হাজার জওয়ানের বাহিনী মুসলিমদের মোকাবেলা করতে গিয়েছিল। তাদের খাবার-দাবার এবং অন্যান্য যাবতীয় ব্যয়ভার মক্কার বার জন সর্দার নিজেদের দায়িত্বে নিয়ে নিয়েছিল। বলাবাহুল্য, এক হাজার লোকের যাতায়াত ও খানা-পিনা প্রভৃতিতে বিরাট অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছিল। কাজেই নিজেদের পরাজয়ের সাথে সাথে অর্থ ব্যয়ের জন্যও বিপুল অনুতাপ ও আফসোস হয়েছিল। হাফেয ইবন কাসীর ও ইমাম তাবারীর মতে, ঘটনাটি উহুদ বা বদরের সাথে সম্পৃক্ত হলেও এর ভাষা ব্যাপক। এর দ্বারা কাফেরদের যাবতীয় ব্যয়ই উদ্দেশ্য। তাদের ব্যয়ের কোন ভবিষ্যত নেই। তারা শুধু আফসোসই করবে। (তাবারী; ইবন কাসীর)
(৩৬) নিশ্চয়ই যারা অবিশ্বাসী, আল্লাহর পথ হতে লোককে নিবৃত্ত করার জন্য তারা তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে। সুতরাং তারা ধন-সম্পদ ব্যয় করতেই থাকবে, অতঃপর তা তাদের মনস্তাপের কারণ হবে। এরপর তারা পরাভূত হবে। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদেরকে জাহান্নামে একত্রিত করা হবে। (1)
(1) যখন মক্কার কুরাইশদের বদরে পরাজয় ঘটল এবং পরাজিত সেনা মক্কায় পৌঁছল, এদিকে আবু সুফিয়ানও বাণিজ্য কাফেলা নিয়ে মক্কায় এসে পৌঁছল, তখন যাদের পিতা, পুত্র বা ভাই নিহত হয়েছিল তারা আবূ সুফিয়ান ও যারা বাণিজ্যের শরীকান ছিল তাদের নিকট গিয়ে আপিল করল যে, এই কাফেলার সকল সম্পদ মুসলিমদের নিকট থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ব্যয় হোক। মুসলিমরা আমাদের প্রচুর ক্ষতি করেছে। এতএব প্রতিশোধমূলক যুদ্ধ অত্যন্ত জরুরী। মহান আল্লাহ এই আয়াতে তাদের বা তাদের মত চরিত্রের অধিকারী লোকেদের ব্যাপারে বলেন, নিঃসন্দেহে কাফেররা অন্যদেরকে আল্লাহর রাস্তায় বাধা দানের জন্য সম্পদ খরচ করবে। ফলে তাদের ভাগ্যে আফসোস ও দুঃখ ছাড়া আর কিছু থাকবে না। আর পরকালে তাদের স্থান হবে জাহান্নাম।