ওয়ামা-ক-নাল্লা-হু লিইউ‘আযযিবাহুম ওয়া আনতা ফীহিম ওয়ামা-ক-নাল্লা-হু মু‘আযযিবাহুম ওয়া হুম ইয়াছতাগফিরূন।উচ্চারণ
তুমিই যখন তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলে তখন আল্লাহ তাদের ওপর আযাব নাযিল করতে চাচ্ছিলেন না। আর এটা আল্লাহর রীতিও নয় যে, লোকেরা ক্ষমা চাইতে থাকবে এবং তিনি তাদেরকে আযাব দেবেন। ২৭ তাফহীমুল কুরআন
এবং (হে নবী!) আল্লাহ এমন নন যে, তুমি তাদের মধ্যে বর্তমান থাকা অবস্থায় তাদেরকে শাস্তি দেবেন এবং তিনি এমনও নন যে, তারা ইস্তিগফারে রত থাকা অবস্থায় তাদেরকে শাস্তি দেবেন। #%২০%#মুফতী তাকী উসমানী
(হে নাবী!) তুমি তাদের মধ্যে থাকা অবস্থায় তাদেরকে শাস্তি দেয়া আল্লাহর অভিপ্রায় নয়, আর আল্লাহ এটাও চাননা যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন।মুজিবুর রহমান
অথচ আল্লাহ কখনই তাদের উপর আযাব নাযিল করবেন না যতক্ষণ আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন। তাছাড়া তারা যতক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে আল্লাহ কখনও তাদের উপর আযাব দেবেন না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আল্লাহ্ এমন নন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকবে, অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন, আর আল্লাহ্ এমনও নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দিবেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর আল্লাহ এমন নন যে, তাদেরকে আযাব দেবেন এ অবস্থায় যে, তুমি তাদের মাঝে বিদ্যমান এবং আল্লাহ তাদেরকে আযাব দানকারী নন এমতাবস্থায় যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করছে।আল-বায়ান
তুমি তাদের মাঝে থাকা অবস্থায় আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিবেন না এবং যখন তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকবে এরূপ অবস্থায়ও আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিবেন না।তাইসিরুল
আর আল্লাহ্ তাদের শাস্তি দেবেন না যতক্ষণ তুমি তাদের মধ্যে রয়েছে। আর আল্লাহ্ এরূপ নন যে তিনি তাদের শাস্তিদাতা হবেন যখন তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে।মাওলানা জহুরুল হক
২৭
ওপরে তাদের যে বাহ্যিক দোয়ার উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে যে প্রশ্ন নিহিত ছিল এটি তার জওয়াব। এ জওয়াবে বলা হয়েছে, আল্লাহ মক্কী যুগে আযাব পাঠাননি কে? এর প্রথম কারণ ছিল, যতদিন কোন নবী কোন জনবসতিতে উপস্থিত থাকেন এবং সত্যের দাওয়াত দিতে থাকেন, ততদিন পর্যন্ত জনবসতির অধিবাসীদের অবকাশ দেয়া হয় এবং পূর্বাহ্ণে আযাব পাঠিয়ে তাদের সংশোধিত হবার সুযোগ কেড়ে নেয়া হয় না। এর দ্বিতীয় কারণ, যতদিন পর্যন্ত কোন জনবসতি থেকে এমন ধরনের লোকেরা একের পর এক বের হয়ে আসতে থাকে, যারা নিজেদের পূর্ববর্তী গাফিলতি ও ভুল কর্মনীতি সম্পর্কে সজাগ হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে থাকে এবং নিজেদের ভবিষ্যত কর্মনীতি ও আচার-আচরণ সংশোধন করে নেয়, ততদিন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জনবসতিকে মহান আল্লাহ অনর্থক ধ্বংস করে দেবেন, এটা মোটেই যুক্তিসঙ্গত নয়। তবে নবী যখন সংশ্লিষ্ট জনবসতির ব্যাপারে তার দায়িত্ব সর্বতোভাবে পালন করার পর নিরাশ হয়ে সেখান থেকে বের হয়ে যান অথবা তাঁকে বের করে দেয়া হয় কিংবা তাঁকে হত্যা করা হয় এবং জনবসতিটি তার কার্যধারার মাধ্যমে একথা প্রমাণ করে দেয় যে, সে নিজের মধ্যে কোন সৎ ও সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিকে দেখতে প্রস্তুত নয়, তখনই আযাবের আসল সময় এসে যায়।
অর্থাৎ শিরক ও কুফরের কারণে তারা তো এরই উপযুক্ত ছিল যে, শাস্তি অবতীর্ণ করে তাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। কিন্তু দু’টি কারণে তাদের উপর শাস্তি অবতীর্ণ করা হয়নি। একটি কারণ এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা মুকাররমায় তাদের মধ্যেই রয়েছেন। আর তাঁর বর্তমানে শাস্তি নাযিল হতে পারে না। কেননা আল্লাহ তাআলা কোনও জাতির উপর তাদের নবীর বর্তমানে শাস্তি নাযিল করেন না। নবী যখন তাদের মধ্য হতে বের হয়ে যান তখনই শাস্তি নাযিল করা হয়ে থাকে। তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রহমাতুল লিল আলামীন বানিয়ে পাঠানো হয়েছে। তাই তাঁর বরকতে ব্যাপক আযাব আসবে না। দ্বিতীয় কারণ হল, মক্কা মুকাররমায় বহু মুসলিম ইস্তিগফার ও ক্ষমা প্রার্থনায় রত আছে, তাদের ইস্তিগফারের বরকতে আযাব থেমে রয়েছে। কোনও কোনও মুফাসসির আয়াতটির ব্যাখ্যা করেছেন যে, খোদ মুশরিকগণও তাওয়াফকালে ‘গুফরানাকা-গুফরানাকা’ ‘তোমার ক্ষমা চাই, তোমার ক্ষমা চাই’ বলত, যা ইস্তিগফারেরই এক পদ্ধতি। যদিও কুফর ও শিরকের কারণে তারা এ ইস্তিগফার দ্বারা আখিরাতের আযাব থেকে বাঁচতে পারবে না, কিন্তু আল্লাহ তাআলা কাফেরদের পুণ্যের বদলা ইহজগতেই দিয়ে দেন। তাই তাদের ইস্তিগফারের ফায়দাও তারা দুনিয়ায় পেয়ে গেছে আর তা এভাবে যে, ছামুদ, আদ প্রভৃতি জাতির উপর যেমন ব্যাপক শাস্তি অবতীর্ণ হয়েছিল, মক্কার কাফেরদের উপর সে রকম ব্যাপক শাস্তি অবতীর্ণ করা হয়নি।
৩৩. আর আল্লাহ এমন নন যে, আপনি তাদের মধ্যে থাকবেন অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন এবং আল্লাহ এমনও নন যে, তারা ক্ষমা প্রার্থনা করবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন।(১)
(১) এখানে কারা ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করবে এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে। কোন কোন মুফাসসির বলেনঃ এখানে কাফেরদেরকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। কারণ তারা উক্ত কথা বলার পরে লজ্জিত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়েছিল। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে তারা কাবা ঘরের তাওয়াফ করার সময় বলত, ‘গোফরানাকা, গোফরানাক’। (আইসারুত তাফসীর) অথবা, তাদের মাঝে ঐ সমস্ত লোকদেরকে এ আয়াতে উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যারা ঈমান আনবে বলে আল্লাহ তা'আলা তার ইলমে গায়েবে নির্ধারিত করেছেন। (ইবন কাসীর)
অপরপক্ষে, কোন কোন মুফাসসির বলেনঃ এখানে ঐ সমস্ত ঈমানদারদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যারা মক্কায় অসহায় অবস্থায় জীবন-যাপন করছিলেন; হিজরত করতে সমর্থ হননি। তারা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছিলেন। (ইবন কাসীর) এ আয়াতটি উদ্দেশ্য করে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আল্লাহ আমাদেরকে দুটি নিরাপত্তা দিয়েছিলেন। যার একটি চলে গেছে। (অর্থাৎ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু) কিন্তু আরেকটি রয়ে গেছে। (অর্থাৎ ইস্তেগফার) (মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ১/৫৪২) অনুরূপ বর্ণনা ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেও রয়েছে।
অন্য এক হাদীসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইবলিস তার রবকে উদ্দেশ্য করে বললঃ আপনার সম্মান ও ইজ্জতের শপথ করে বলছি, যতক্ষণ বনী আদমের দেহে প্রাণ থাকবে ততক্ষণ আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে থাকব। ফলে আল্লাহ বললেনঃ আমি আমার সম্মান-প্রতিপত্তির শপথ করে বলছিঃ আমি তাদেরকে ক্ষমা করতে থাকব যতক্ষণ তারা আমার কাছে ক্ষমা চাইতে থাকবে। (মুসনাদে আহমাদঃ ৩/২৯, মুস্তাদরাকে হাকেমঃ ৪/২৬১)
(৩৩) আল্লাহ এরূপ নন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকা অবস্থায় তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন(1) এবং তিনি এরূপ নন যে, তাদের ক্ষমা প্রার্থনা করা অবস্থায় তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন। (2)
(1) অর্থাৎ নবীর বিদ্যমান থাকা অবস্থায় জাতির উপর আযাব আসে না। এই দিক দিয়ে নবী (সাঃ)-এর বিদ্যমানতা তাদের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার কারণ ছিল।
(2) এর অর্থ তারা ভবিষ্যতে ইসলাম গ্রহণ করে ক্ষমা প্রার্থনা করবে। অথবা তাওয়াফ করার সময় মুশরিকরা ‘গুফরানাকা রাব্বানা গুফরানাক’ (তোমার ক্ষমা চাই প্রভু! তোমার ক্ষমা চাই) বলত।