إِذۡ يُوحِي رَبُّكَ إِلَى ٱلۡمَلَـٰٓئِكَةِ أَنِّي مَعَكُمۡ فَثَبِّتُواْ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْۚ سَأُلۡقِي فِي قُلُوبِ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ ٱلرُّعۡبَ فَٱضۡرِبُواْ فَوۡقَ ٱلۡأَعۡنَاقِ وَٱضۡرِبُواْ مِنۡهُمۡ كُلَّ بَنَانٖ

ইযইঊহী রব্বুকা ইলাল মালাইকাতি আন্নী মা‘আকুম ফাছাব্বিতুল্লাযীনা আ-মানূ ছাউলকী ফী কুলূবিল্লাযীনা কাফারূররু‘বা ফাদরিবূফাওকাল আ‘না-কিওয়াদরিবূমিনহুম কুল্লা বানা-ন।উচ্চারণ

আর সেই সময়, যখন তোমার রব ফেরেশতাদেরকে ইঙ্গিত করেছিলেন এই বলেঃ “আমি তোমাদের সাথে আছি, তোমরা ঈমানদারদেরকে অবিচল রাখো, আমি এখনই এ কাফেরদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে দিচ্ছি। কাজেই তোমরা তাদের ঘাড়ে আঘাত করো এবং প্রতিটি জোড়ে ও গ্রন্থী-সন্ধিতে ঘা মারো।” ১০ তাফহীমুল কুরআন

(স্মরণ কর), যখন তোমার প্রতিপালক ফিরিশতাদেরকে ওহীর মাধ্যমে হুকুম দিলেন যে, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি। কাজেই তোমরা মুমিনদের পা স্থির রাখ, আমি কাফেরদের মনে ভীতি সঞ্চার করব। সুতরাং তোমরা তাদের ঘাড়ের উপর আঘাত কর এবং তাদের আঙ্গুলের জোড়াসমূহেও আঘাত কর।মুফতী তাকী উসমানী

স্মরণ কর, যখন তোমার রাব্ব মালাক/ফেরেশতার নিকট প্রত্যাদেশ করলেনঃ আমি তোমাদের সাথে আছি। সুতরাং তোমরা ঈমানদারদের সুপ্রতিষ্ঠিত ও অবিচল রাখ, আর যারা কাফির, আমি তাদের হৃদয়ে ভীতি সৃষ্টি করে দিব। অতএব তোমরা তাদের স্কন্ধে আঘাত হান, আর আঘাত হান তাদের অঙ্গুলিসমূহের প্রতিটি জোড়ায়।মুজিবুর রহমান

যখন নির্দেশ দান করেন ফেরেশতাদিগকে তোমাদের পরওয়ারদেগার যে, আমি সাথে রয়েছি তোমাদের, সুতরাং তোমরা মুসলমানদের চিত্তসমূহকে ধীরস্থির করে রাখ। আমি কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দেব। কাজেই গর্দানের উপর আঘাত হান এবং তাদেরকে কাট জোড়ায় জোড়ায়।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

স্মরণ কর, তোমাদের প্রতিপালক ফেরেশতাগণের প্রতি প্রত্যাদেশ করেন, ‘আমি তোমাদের সঙ্গে আছি, সুতরাং মু’মিনগণকে অবিচলিত রাখ।’ যারা কুফরী করে আমি তাদের হৃদয়ে ভীতির সঞ্চার করব ; সুতরাং তোমরা আঘাত কর তাদের কাঁধে ও আঘাত কর তাদের প্রত্যেক আঙ্গুলের অগ্রভাগে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

স্মরণ কর, যখন তোমার রব ফেরেশতাদের প্রতি ওহী প্রেরণ করেন যে, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের সাথে আছি। সুতরাং যারা ঈমান এনেছে তোমরা তাদেরকে অনড় রাখ’। অচিরেই আমি ভীতি ঢেলে দেব তাদের হৃদয়ে যারা কুফরী করেছে। অতএব তোমরা আঘাত কর ঘাড়ের উপরে এবং আঘাত কর তাদের প্রত্যেক আঙুলের অগ্রভাগে।আল-বায়ান

স্মরণ কর যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদের প্রতি ওয়াহী পাঠিয়েছিলেন, ‘আমি তোমাদের সঙ্গেই আছি; অতএব মু’মিনদেরকে তোমরা দৃঢ়পদ রেখ’। অচিরেই আমি কাফিরদের দিলে ভীতি সঞ্চার করব, কাজেই তাদের স্কন্ধে আঘাত হান, আঘাত হান প্রত্যেকটি আঙ্গুলের গিঁটে গিঁটে।তাইসিরুল

স্মরণ করো! তোমার প্রভু ফিরিশ্‌তাদের কাছে প্রেরণা দিলেন -- "আমি নিশ্চয়ই তোমাদের সাথে আছি, কাজেই যারা ঈমান এনেছে তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত করো। আমি অচিরেই তাদের অন্তরে ভীতি সঞ্চার করবো যারা অবিশ্বাস পোষণ করে, অতএব ঘাড়ের উপরে আঘাত করো আর তাদের থেকে সমস্ত প্রত্যঙ্গ কেটে ফেলো।"মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১০

কুরআন থেকে আমরা যে নীতিগত কথাগুলো জানতে পারি তার ভিত্তিতে আমরা মনে করি, যুদ্ধ ক্ষেত্রে ফেরেশতারা হয়তো প্রত্যক্ষভাবে লড়াই করেননি এবং তরবারি হাতে নিয়ে সরাসরি মারামারি-কাটাকাটিতে অংশও নেননি। সম্ভবত তারা এভাবে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল যে, কাফেরদের ওপর মুসলমানরা যে আঘাত হানছিল তা ফেরেশতাদের সহযোগিতায় সঠিক জায়গায় পড়ছিল এবং প্রতিটি আঘাত হচ্ছিল চূড়ান্ত ও মারাত্মক। অবশ্যি সঠিক ব্যাপার আল্লাহই ভাল জানেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

১২. স্মরণ করুন, যখন আপনার রব ফিরিশতাদের প্রতি ওহী প্রেরণ করেন যে, “নিশ্চয় আমি তোমাদের সাথে আছি, সুতরাং তোমরা মুমিনদেরকে অবিচলিত রাখ। যারা কুফর করেছে অচিরেই আমি তাদের হৃদয়ে ভীতির সঞ্চার করব; কাজেই তোমরা আঘাত কর তাদের ঘাড়ের উপরে এবং আঘাত কর তাদের প্রত্যেক আঙ্গুলের অগ্রভাগে এবং জোড়ে।(১)

(১) আলোচ্য আয়াতে আরেকটি নেয়ামতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে; যা বদরের সমরাঙ্গনে মুসলিমদেরকে দেয়া হয়েছে। তা হলো, আল্লাহ্ তা'আলা যেসব ফিরিশতাকে মুসলিমদের সাহায্যের জন্য পাঠিয়েছিলেন তাদের সম্বোধন করে বলা হয়েছেঃ আমি তোমাদের সঙ্গে রয়েছি, তোমরা ঈমানদারদিগকে সাহস যোগাতে। আমি এখনই কাফেরদের মনে ভীতির সঞ্চার করে দিচ্ছি। তোমরা কাফেরদের গর্দানের উপর অস্ত্রের আঘাত হান; তাদের হত্যা কর দলে দলে। এভাবে ফিরিশতাদেরকে দুটি কাজের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

প্রথমতঃ মুসলিমদের সাহস বৃদ্ধি করবে। এ কাজটি ফিরিশতাগণ কর্তৃক মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হয়ে দলবৃদ্ধি করে কিংবা তাদের সাথে মিলে যুদ্ধ করার মাধ্যমেও হতে পারে এবং নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে মুসলিমদের অন্তরসমূহকে সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করেও হতে পারে। তাদের উপর দ্বিতীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয় যে, ফিরিশতাগণ নিজেরাও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবেন এবং কাফেরদের উপর আক্রমণও করবেন। সুতরাং এ আয়াতের দ্বারা একথাই প্রতীয়মান হয় যে, ফিরিশতাগণ উভয় দায়িত্বই যথাযথ সম্পাদন করেছেন। (ইবন কাসীর; সা’দী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১২) স্মরণ কর, যখন তোমাদের প্রতিপালক ফিরিশতাগণের প্রতি প্রত্যাদেশ করেন, নিশ্চয় আমি তোমাদের সাথে আছি। সুতরাং তোমরা বিশ্বাসীগণকে অবিচলিত রাখ। যারা অবিশ্বাস করে, আমি অচিরেই তাদের হৃদয়ে আতঙ্ক প্রক্ষেপ করব।(1) সুতরাং তাদের ঘাড়ের উপর আঘাত কর এবং আঘাত কর তাদের সর্বাঙ্গে।(2)

(1) এখানে মহান আল্লাহ ফিরিশতা দ্বারা এবং বিশেষভাবে নিজ পক্ষ হতে যেভাবে বদরে মুসলিমদের সাহায্য করেছেন তার বর্ণনা রয়েছে।

(2) بنان হাত ও পায়ের আঙ্গুলের অগ্রভাগ। অর্থাৎ, তাদের হাত-পায়ের আঙ্গুল কেটে দিলে তারা অসহায় হয়ে পড়বে। আর এভাবে তারা হাত দ্বারা তরবারি চালাতে ও পা ছাড়া পালাতে সক্ষম হবে না। (অথবা উদ্দেশ্য তাদের সর্বাঙ্গে আঘাত কর।)