أَلَهُمۡ أَرۡجُلٞ يَمۡشُونَ بِهَآۖ أَمۡ لَهُمۡ أَيۡدٖ يَبۡطِشُونَ بِهَآۖ أَمۡ لَهُمۡ أَعۡيُنٞ يُبۡصِرُونَ بِهَآۖ أَمۡ لَهُمۡ ءَاذَانٞ يَسۡمَعُونَ بِهَاۗ قُلِ ٱدۡعُواْ شُرَكَآءَكُمۡ ثُمَّ كِيدُونِ فَلَا تُنظِرُونِ

আলাহুম আরজুলুইঁ ইয়ামশূনা বিহা- আম লাহুম আইদিইঁ ইয়াবতিশূনা বিহা- আম লাহুম আ‘ইউনুইঁ ইয়ুবসিরূনা বিহা- আম লাহুম আ-যা-নুইঁ ইয়াছমা‘ঊনা বিহা- কুলিদ‘ঊ শুরকাআকুম ছুম্মা কীদূ নি ফালা-তুনজিরূন।উচ্চারণ

তাদের কি হাত আছে, যা দিয়ে তারা ধরতে পারে? তাদের কি চোখ আছে, যার সাহায্যে তারা দেখতে পারে? তাদের কি কান আছে, যা দিয়ে তারা শুনতে পারে? ১৪৮ হে মুহাম্মাদ! এদেরকে বলো, “তোমাদের বানানো শরীকদেরকে ডেকে নাও, তারপর তোমরা সবাই মিলে আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করো এবং আমাকে একদম অবকাশ দিয়ো না। তাফহীমুল কুরআন

তাদের কি পা’ আছে, যা দিয়ে তারা চলবে? অথবা তাদের কি হাত আছে, যা দিয়ে তারা ধরবে? অথবা তাদের কি চক্ষু আছে, যা দিয়ে দেখবে? অথবা তাদের কি কান আছে, যা দ্বারা তারা শুনবে? (তাদের) বলে দাও, তোমরা যে সকল দেবতাদেরকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করেছ, তাদেরকে ডাক তারপর আমার বিরুদ্ধে কোন চক্রান্ত কর এবং আমাকে একটুও অবকাশ দিয়ো না। #%১০৯%#মুফতী তাকী উসমানী

তাদের কি পা আছে যা দ্বারা চলছে? তাদের কি হাত আছে যদ্বারা কোন কিছু ধরে থাকে অথবা চক্ষু আছে যা দ্বারা দেখতে পায়? তাদের কি কর্ণ আছে যা দ্বারা শুনে থাকে? তুমি বলঃ আল্লাহর সাথে তোমরা যাদেরকে অংশী করছ তাদেরকে ডাক, তারপর (সকলে একত্রিত হয়ে) আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে থাক, আমাকে আদৌ কোন অবকাশ দিওনা।মুজিবুর রহমান

তাদের কি পা আছে, যদ্বারা তারা চলাফেরা করে, কিংবা তাদের কি হাত আছে, যদ্বারা তারা ধরে। অথবা তাদের কি চোখ আছে যদ্বারা তারা দেখতে পায় কিংবা তাদের কি কান আছে যদ্বারা শুনতে পায়? বলে দাও, তোমরা ডাক তোমাদের অংশীদারদিগকে, অতঃপর আমার অমঙ্গল কর এবং আমাকে অবকাশ দিও না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তাদের কি পা আছে যা দিয়ে এরা চলে ? তাদের কি হাত আছে যা দিয়ে এরা ধরে ? তাদের কি চোখ আছে, যা দিয়ে এরা দেখে ? কিংবা তাদের কি কান আছে যা দিয়ে এরা শোনে ? বল, তোমরা যাদেরকে আল্লাহ্ র শরীক করেছ তাদেরকে ডাক; তারপর আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর আর আমাকে অবকাশ দিও না; ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তাদের কি পা আছে যার সাহায্যে তারা চলে? বা তাদের কি হাত আছে যা দ্বারা তারা ধরে? বা তাদের কি চক্ষু আছে যার মাধ্যমে তারা দেখে? অথবা তাদের কি কান আছে যা দ্বারা তারা শুনে? বল, ‘তোমরা তোমাদের শরীকদের ডাক। তারপর আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর এবং আমাকে অবকাশ দিয়ো না’।আল-বায়ান

তাদের কি পা আছে যা দিয়ে তারা চলাফেরা করে? তাদের কি হাত আছে যা দিয়ে তারা ধরে? তাদের কি চোখ আছে যা দিয়ে তারা দেখে? তাদের কি কান আছে যা দিয়ে তারা শোনে? বল, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক করছ তাদেরকে আহবান কর, আর আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর এবং আমাকে অবকাশ দিও না।তাইসিরুল

তাদের কি পা আছে যা দিয়ে তারা চলতে পারে, অথবা তাদের কি হাত আছে যা দিয়ে ধরতে পারে, অথবা তাদের কি চোখ আছে যা দিয়ে দেখতে পারে, অথবা তাদের কি কান আছে যা দিয়ে তারা শুনতে পারে? বলো -- "ডাকো তোমাদের অংশীদারদের, তারপর আমার বিরুদ্ধে ফন্দি আটোঁ, আর আমাকে অবকাশ দিও না!মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৪৮

এখানে একটি কথা পরিষ্কারভাবে বুঝে নিতে হবে। শিরক আশ্রিত ধর্মগুলোয় তিনটি জিনিস আলাদা আলাদা পাওয়া যায়, এক, যেসব মূর্তি, ছবি বা নিদর্শনকে পূজা করা হয় এবং যেগুলোকে কেন্দ্র করে সমগ্র পূজা কর্মটি অনুষ্ঠিত হয়। দুই, যেসব ব্যক্তি, আত্মা বা ভাবদেবীকে আসল মাবুদ গণ্য করা হয় এবং মূর্তি, ছবি ইত্যাদির মাধ্যমে যেগুলোর প্রতিনিধিত্ব করা হয়। তিন, এসব মুশরিকী পূজা অনুষ্ঠানাদির গভীরে যেসব আকীদা বিশ্বাস কার্যকর থাকে। কুরআন বিভিন্ন পদ্ধতিতে এ তিনটি জিনিসের ওপর আঘাত হেনেছে। তবে এখানে তার সমালোচনার লক্ষ্য হচ্ছে প্রথম জিনিসটি। অর্থাৎ মুশরিকরা যেসব মূর্তির সামনে পূজার অনুষ্ঠানাদি সম্পন্ন করে এবং যাদের সামনে নিজেদের আবেদন-নিবেদন ও নজরানা পেশ করে, তাদেরকেই এখানে সমালোচনার বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

মক্কার কাফেরগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভয় দেখিয়েছিল, আপনি যে আমাদের দেবতাদের সম্পর্কে এমন সব কথা বলেন, যা দ্বারা বোঝা যায় তাদের কোন ক্ষমতা নেই, এ কারণে তারা আপনাকে শাস্তি দেবে (নাউযুবিল্লাহ)। এ আয়াতে তারই উত্তর দেওয়া হচ্ছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৯৫. তাদের কি পা আছে যা দিয়ে ওরা চলে? তাদের কি হাত আছে যা দিয়ে ওরা ধরে? তাদের কি চোখ আছে যা দিয়ে ওরা দেখে? কিংবা তাদের কি কান আছে যা দিয়ে ওরা শুনে? বলুন, তোমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক করেছ তাদেরকে ডাক তারপর আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর এবং আমাকে অবকাশ দিও না।(১)

(১) এখানে আল্লাহ ছাড়া তারা যাদের আহবান করে, যাদের ইবাদত করে, যাদের প্রতি তাদের আশা-আকাঙ্খা ও ভয়-ভীতি পোষণ করে, তাদের অপারগতা ও অসহায়তা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদের আহবান করে থাক, তাদের কি পাকড়াও করার মত সত্যিকারের হাত আছে? নাকি তাদের সত্যিকারের চোখ আছে যে, তারা দেখবে? নাকি তাদের সত্যিকারের কান আছে যে তারা তোমাদের আহবান শুনবে? মানুষের কাছে যে সমস্ত শক্তি আছে তাদের কাছে তো তাও নেই। যদি এগুলো তোমাদের কোন কাজেই না আসে, তোমাদের আহবানেও সাড়া না দেয়, তারা তোমাদের মতই বান্দা বরং তোমরা তাদের থেকেও পরিপূর্ণ, তাহলে কিসের ভিত্তিতে তোমরা তাদের ইবাদত কর? তোমরা ও তোমাদের উপাস্যরা একত্রিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর, আমাকে কোন প্রকার অবকাশ দিও না। দেখতে পাবে যে, তোমরা আমার কোন ক্ষতি পৌছাতে সক্ষম নও। (সা’দী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৯৫) তাদের কি চলার পা আছে? তাদের কি ধরার হাত আছে? তাদের কি দেখার চোখ আছে? কিংবা তাদের কি শোনার কান আছে?(1) বল, ‘তোমরা তোমাদের ঐ অংশীদেরকে ডাক, অতঃপর আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর এবং আমাকে অবকাশ দিয়ো না। (2)

(1) অর্থাৎ, তাদের নিকট এখন এসবের কিছুই নেই। মুত্যুর সাথে সাথেই দেখা, শোনা, ধরা ও চলার শক্তি শেষ হয়ে গেছে। এখন তাদের দিকে সম্পৃক্ত কাঠ বা পাথর নির্মিত মূর্তি অথবা গম্বুজ, আস্তানা ও খানকা রয়েছে; যা তাদের কবরের উপর বানানো হয়েছে। আর এভাবেই বিনা পুঁজির (মৃত বুযুর্গের) ব্যবসা রমরমা হয়ে আছে। কবি বলেন, ‘আগার চে পীর হ্যায় আদম, জওয়াঁ হ্যাঁয় লাত অ মানাত।’ অর্থাৎ, আদম যদিও বুড়িয়ে গেছেন, যুবক আছে লাত ও মানাত!

(2) অর্থাৎ, যদি তোমরা তোমাদের দাবীতে সত্য হও যে, তারা তোমাদের সহযোগী সাহায্যকারী, তাহলে তাদেরকে বল, তারা আমার বিরুদ্ধে কোন চক্রান্ত করুক।