۞مَا نَنسَخۡ مِنۡ ءَايَةٍ أَوۡ نُنسِهَا نَأۡتِ بِخَيۡرٖ مِّنۡهَآ أَوۡ مِثۡلِهَآۗ أَلَمۡ تَعۡلَمۡ أَنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ

মা-নানছাখ মিন আ-য়াতিন আও নুনছিহা- না’তি বিখাইরিম মিনহাআও মিছলিহা- আলাম তা‘লাম আন্নাল্লা-হা ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদীর।উচ্চারণ

আমি যে আয়াতকে ‘মানসুখ’ করি বা ভুলিয়ে দেই, তার জায়গায় আনি তার চাইতে ভালো অথবা কমপক্ষে ঠিক তেমনটিই। ১০৯ তাফহীমুল কুরআন

আমি যখনই কোনও আয়াত মানসূখ (রহিত) করি বা তা ভুলিয়ে দেই, তখন তার চেয়ে উত্তম বা সে রকম (আয়াত) আনয়ন #%৭৭%# করি। তোমরা কি জান না, আল্লাহ সকল বিষয়ে ক্ষমতা রাখেন?মুফতী তাকী উসমানী

আমি কোন আয়াতের হুকুম রহিত করলে কিংবা আয়াতটিকে বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তদনুরূপ আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জাননা যে, আল্লাহ সর্ব বিষয়ের উপরই ক্ষমতাবান?মুজিবুর রহমান

আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আমি কোন আয়াত রহিত করলে কিংবা বিস্মৃত হতে দিলে তা হতে উত্তম কিংবা তার সমতুল্য কোন আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ্ই সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমি যে আয়াত রহিত করি কিংবা ভুলিয়ে দেই, তার চেয়ে উত্তম কিংবা তার মত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।আল-বায়ান

আমি কোন আয়াত রহিত করলে কিংবা ভুলিয়ে দিলে, তাত্থেকে উত্তম কিংবা তারই মত আয়াত নিয়ে আসি, তুমি কি জান না যে, আল্লাহ প্রত্যেক বস্তুর উপর ক্ষমতাবান।তাইসিরুল

যে-সব আয়াত আমরা মনসুখ করি অথবা উহা ভুলিয়ে দিই, আমরা তার চাইতে ভালো অথবা তার অনুরূপ নিয়ে আসি। তুমি কি জান না যে আল্লাহ্ নিঃসন্দেহ সব-কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১০৯

ইহুদিরা মুসলমানদের মনে যেসব সন্দেহ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাতো তার মধ্য থেকে একটি বিশেষ সন্দেহের জবাব এখানে দেয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ ছিল, পূর্ববর্তী কিতাবগুলো যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে থেকে থাকে এবং এ কুরআনও আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে, তাহলে ঐ কিতাবগুলোর কতিপয় বিধানের জায়গায় এখানে ভিন্নতর বিধান দেয়া হয়েছে কেন? একই আল্লাহর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিধান কেমন করে হতে পারে? আবার তোমাদের কুরআন এ দাবী উত্থাপন করেছে যে, ইহুদিরা ও খৃস্টানরা তাদেরকে প্রদত্ত এ শিক্ষার একটি অংশ ভুলে গেছে। আল্লাহ‌ প্রদত্ত শিক্ষা হাফেজদের মন থেকে কেমন করে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে? সঠিক অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে তারা এসব কথা বলতো না। বরং কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হবার ব্যাপারে মুসলমানদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে তারা এগুলো বলতো। এর জবাবে আল্লাহ বলেছেনঃ আমি মালিক। আমার ক্ষমতা সীমাহীন। আমি নিজের ইচ্ছে মতো যে কোন বিধান ‘মান্‌সুখ’ বা রহিত করে দেই এবং যে কোন বিধানকে হাফেজদের মন থেকে মুছে ফেলি। কিন্তু যে জিনিসটি আমি ‘মান্‌সুখ’ করি তার জায়গায় তার চেয়ে ভালো জিনিস আনি অথবা কমপক্ষে সেই জিনিসটি নিজের জায়গায় আগেরটির মতই উপযোগী ও উপকারী হয়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এটা আল্লাহ তাআলার শাশ্বত রীতি যে, তিনি প্রত্যেক যুগে সেই যুগের পরিস্থিতি অনুসারে শাখাগত বিধানাবলীতে রদ-বদল করে থাকেন। যদিও তাওহীদ, রিসালাত, আখিরাত ইত্যাদি দীনের মৌলিক আকীদাসমূহ সকল যুগে একই রকম থেকেছে, কিন্তু বাস্তব আমল ও কর্মগত যে সকল বিধান হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে দেওয়া হয়েছিল, হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের সময়ে তার কতককে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। হযরত রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমলে তার মধ্যে আরও বেশি রদ-বদল করা হয়েছে। এমনিভাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রথমে যখন নবুওয়াত দান করা হয়, তখন তাঁর দাওয়াতী কার্যক্রমের সামনে অনেকগুলো ধাপ ছিল, যা অতিক্রম করা ছাড়া সামনে অগ্রসর হওয়া সম্ভব ছিল না। সেই সঙ্গে মুসলিমদের সম্মুখেও নানা রকমের সঙ্কট বিদ্যমান ছিল। তাই আল্লাহ তাআলা বিধি-বিধান দানের ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক পন্থা অবলম্বন করেন। কখনও কোনও ক্ষেত্রে একটি বিধান দিয়েছেন। পরে আবার সেখানে অন্য বিধান এসে গেছে, যেমন কিবলার বিধানের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। সামনে ১১৫নং আয়াতে এর কিছুটা বিবরণ আসবে। শাখাগত বিধানাবলীতে এ জাতীয় তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনকে পরিভাষায় ‘নাসখ’ বলা হয় (যে বিধানকে পরিবর্তন করা হয় তাকে ‘মানসূখ’ এবং পরিবর্তে যা দেওয়া হয় তাকে ‘নাসিখ’ বলা হয়)। কাফিরগণ, বিশেষত ইয়াহুদীরা প্রশ্ন তুলেছিল যে, সকল বিধানই যখন আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তখন তার মধ্যে এসব রদ-বদল কেন? এ আয়াত তাদের সে প্রশ্নের উত্তরে নাযিল হয়েছে। উত্তরের সারমর্ম এই যে, আল্লাহ তাআলা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্বীয় হিকমত ও প্রজ্ঞা অনুযায়ী এসব রদ-বদল করে থাকেন। আর যে বিধানই মানসূখ বা রহিত করা হয় তদস্থলে এমন বিধান দেওয়া হয়, যা পরিবর্তিত পরিস্থিতির পক্ষে বেশি উপযোগী ও অধিকতর ভালো। অন্ততপক্ষে তা পূর্ববর্তী বিধানের সমান ভালো তো অবশ্যই হয়।

তাফসীরে জাকারিয়া

১০৬. আমরা কোন আয়াত রহিত করলে বা ভুলিয়ে দিলে তা থেকে উত্তম অথবা তার সমান কোন আয়াত এনে দেই(১)। আপনি কি জানেন না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

(১) এই আয়াতে কুরআনী আয়াত রহিত হওয়ার সম্ভাব্য সকল প্রকারই সন্নিবেশিত হয়েছে। অভিধানে ‘নস্‌খ’ শব্দের অর্থ দূর করা, লেখা, স্থান পরিবর্তন করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া। আয়াতে ‘নস্‌খ’ শব্দ দ্বারা বিধি-বিধান দূর করা - অর্থাৎ রহিত করাকে বুঝানো হয়েছে। এ কারণেই হাদীস ও কুরআনের পরিভাষায় এক বিধানের স্থলে অন্য বিধান প্রবর্তন করাকে ‘নস্‌খ’ বলা হয়। ‘অন্য বিধান’ টি কোন বিধানের বিলুপ্তি ঘোষণাও হতে পারে, আবার এক বিধানের পরিবর্তে অপর বিধান প্রবর্তনও হতে পারে। (ইবনে কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১০৬। আমি কোন আয়াত (বাক্য) রহিত করলে(1) অথবা ভুলিয়ে দিলে তা থেকে উত্তম কিংবা তার সমতুল্য কোন আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান?

(1) نَسخ (নসখ) এর আভিধানিক অর্থ হল, নকল করা। কিন্তু শরীয়তের পরিভাষায় তা হল, কোন বিধানকে রহিত করে তার পরিবর্তে অন্য বিধান অবতীর্ণ করা। আর এই রহিতকরণ বা পরিবর্তন হয়েছে আল্লাহরই পক্ষ থেকে। যেমন, আদম (আঃ)-এর যুগে সহোদর ভাই-বোনদের আপোসে বিবাহ বৈধ ছিল। পরবর্তীকালে তা হারাম করা হয়। এইভাবে কুরআনেও আল্লাহ কিছু বিধানকে রহিত করে তার পরিবর্তে নতুন বিধান অবতীর্ণ করেছেন। এর সংখ্যার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। শাহ ওলীউল্লাহ 'আল-ফাউযুল কাবীর' নামক কিতাবে এর সংখ্যা পাঁচ বলেছেন। এই রহিতকরণ তিন প্রকারের হয়েছেঃ যথা

(ক) সাধারণভাবে বিধান রহিতকরণঃ অর্থাৎ, কোন বিধান (আয়াতসহ) রহিত করে তার স্থলে অন্য বিধান (ও আয়াত) অবতীর্ণ করা হয়েছে।

(খ) তেলাঅত ব্যতিরেকে বিধান রহিত করা। অর্থাৎ, প্রথম বিধানের আয়াতগুলো কুরআনে বিদ্যমান রাখা হয়, তার তেলাঅতও হয় আবার দ্বিতীয় বিধানও যা পরে অবতীর্ণ করা হয় তাও কুরআনে বিদ্যমান থাকে। অর্থাৎ, 'নাসেখ' (রহিতকারী) এবং 'মানসুখ' (রহিতকৃত) উভয় আয়াতই বিদ্যমান থাকে।

(গ) কেবল তেলাঅত রহিত করা। অর্থাৎ, নবী করীম (সাঃ) ঐ আয়াতকে কুরআনের মধ্যে শামিল করেননি, কিন্তু তার বিধানের উপর আমল বহাল রাখা হয়েছে। যেমন,

 {وَالشّيْخُ وَالشَّيخَةُ إِذَ زَنَيَا فَارْجُمُوْهُمَا الْبَتَّةَ} বৃদ্ধ (বিবাহিত) পুরুষ ও বৃদ্ধা (বিবাহিতা) নারী যদি ব্যভিচার করলে, তাদেরকে অবশ্য অবশ্যই পাথর মেরে হত্যা কর। (মুআত্তা ইমাম মালিক) আলোচ্য আয়াতে 'নাসখ' এর প্রথম দুই প্রকারের বর্ণনা রয়েছে। (مَا نَنْسَخْ مِنْ آيَةٍ) শব্দে দ্বিতীয় প্রকারের এবং (أَوْ نُنْسِهَا) শব্দে প্রথম প্রকারের নসখের কথা বলা হয়েছে। (نُنْسِهَا) (আমি ভুলিয়ে দিই)এর অর্থ হল, তার বিধান ও তেলাঅত দুটোই উঠিয়ে নিই। যেন আমি তা ভুলিয়ে দিলাম এবং নতুন বিধান নাযিল করলাম। অথবা নবী করীম (সাঃ)-এর হৃদয় থেকেই আমি তা মিটিয়ে দিয়ে একেবারে বিলুপ্ত করে দিলাম। ইয়াহুদীরা তাওরাতের বাক্য রহিত হওয়াকে অসম্ভব মনে করত। ফলে কুরআনের কিছু আয়াত রহিত হওয়ার কারণে তার উপরও আপত্তি উত্থাপন করল। মহান আল্লাহ তাদের খন্ডন করে বললেন, যমীন ও আসমানের রাজত্ব তাঁরই হাতে। তিনি যা উচিত মনে করেন তা-ই করেন। যে সময় যে বিধান লক্ষ্য ও কৌশলের দিক দিয়ে উপযুক্ত মনে করেন, সেটাকেই তিনি বহাল করেন এবং যেটাকে চান রহিত ঘোষণা করেন। এটা তাঁর মহাশক্তির এক নিদর্শন। পূর্বের কিছু ভ্রষ্টলোক (যেমন, আবূ মুসলিম আসফাহানী মুতাযেলী) এবং বর্তমানের কিছু লোক ইয়াহুদীদের মত 'নসখ' মানতে অস্বীকার করেছে। তবে সঠিক কথা তা-ই যা পূর্বের আলোচনায় সুস্পষ্ট হয়েছে। 'নসখ'সুসাব্যস্ত হওয়ারই আকীদা রাখতেন পূর্বের সলফগণ।