۞وَإِذۡ نَتَقۡنَا ٱلۡجَبَلَ فَوۡقَهُمۡ كَأَنَّهُۥ ظُلَّةٞ وَظَنُّوٓاْ أَنَّهُۥ وَاقِعُۢ بِهِمۡ خُذُواْ مَآ ءَاتَيۡنَٰكُم بِقُوَّةٖ وَٱذۡكُرُواْ مَا فِيهِ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ

ওয়া ইযনাতাকনাল জাবালা ফাওকাহুম কাআন্নাহূজু ল্লাতুওঁ ওয়া জান্নূ আন্নাহূওয়াকি‘উম বিহিম খুযূমাআ-তাইনা-কুম বিকুওওয়াতিওঁ ওয়াযকুরূমা-ফিহি লা‘আল্লাকুম তাত্তাকূন।উচ্চারণ

তাদের কি সেই সময়টার কথা কিছু মনে আছে যখন আমি পাহাড়কে হেলিয়ে তাদের ওপর ছাতার মত এমনভাবে বিস্তৃত করে দিয়ে ছিলাম, যে তারা ধারণা করেছিল, তা বুঝি তাদের ওপর পতিত হবে? সে সময় আমি তাদেরকে বলেছিলাম, তোমাদেরকে আমি যে কিতাব দিচ্ছি তাকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং তাতে যা কিছু লেখা আছে তা স্মরণ রাখো, আশা করা যায়, তোমরা ভুল পথ অবলম্বন করা থেকে বাঁচতে পারবে। ১৩২ তাফহীমুল কুরআন

এবং (স্মরণ কর) যখন আমি পাহাড়কে তাদের উপর এভাবে তুলে ধরেছিলাম, যেন সেটি একখানি শামিয়ানা, #%৯৬%# এবং তারা মনে করেছিল সেটি তাদের উপর পতিত হবে। (তখন আমি হুকুম দিয়েছিলাম) আমি তোমাদেরকে যে কিতাব দিয়েছি, তা আঁকড়ে ধর, ও তাতে বর্ণিত বিষয়সমূহ স্মরণ রাখ, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার।মুফতী তাকী উসমানী

যখন আমি বানী ইসরাঈলের উপর পাহাড়কে স্থাপন করি, ওটা ছিল কোন একটি ছায়ার ন্যায়, তারা তখন মনে করেছিল যে, ওটা তাদের উপর পড়ে যাবে। তোমাদেরকে যা দিয়েছি তা দৃঢ়ভাবে শক্ত হাতে ধারণ কর এবং ওতে যা রয়েছে তা স্মরণ রেখ। আশা করা যায় যে, তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হবে।মুজিবুর রহমান

আর যখন আমি তুলে ধরলাম পাহাড়কে তাদের উপরে সামিয়ানার মত এবং তারা ভয় করতে লাগল যে, সেটি তাদের উপর পড়বে, তখন আমি বললাম, ধর, যা আমি তোমাদের দিয়েছি, দৃঢ়ভাবে এবং স্মরণ রেখো যা তাতে রয়েছে, যেন তোমরা বাঁচতে পার।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

স্মরণ কর, আমি পর্বতকে তাদের ঊর্ধ্বে উত্তোলন করি, আর এটা ছিল যেন এক চন্দ্রাতপ। তারা মনে করল, এটা তাদের ওপর পড়ে যাবে। বললাম, ‘আমি যা দিলাম তা দৃঢ়ভাবে ধারণ কর আর ওতে যা আছে তা স্মরণ কর, যাতে তোমরা তাক্ওয়ার অধিকারী হও।’ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর স্মরণ কর, যখন আমি তাদের উপর পাহাড় তুলে ধরলাম, যেন তা একখন্ড মেঘ এবং তারা মনে করল যে, নিশ্চয় তা তাদের উপর পড়বে। ‘আমি তোমাদের যা দিয়েছি, তা শক্তভাবে ধর এবং তাতে যা আছে তা স্মরণ কর, যেন তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার।’আল-বায়ান

স্মরণ কর, আমি যখন পাহাড়কে বানী ইসরাঈলদের উপর তুলে ধরলাম তা যেন একটা সামিয়ানা। তারা ভাবল, ওটা তাদের উপর বুঝি পতিত হবে। (এমত অবস্থায় তাদেরকে বললাম) ‘তোমাদেরকে যা দিলাম তা শক্তভাবে ধারণ কর আর তাতে যা আছে তা মনে রেখ, যাতে তোমরা তাক্বওয়া লাভ করতে পার’।তাইসিরুল

আরোও স্মরণ করো! আমরা তাদের উপরে পর্বতকে কম্পিত করলাম তা যেন হয়েছিল একটি আচ্ছাদন, আর তারা ভেবেছিল যে এ নিশ্চয়ই তাদের উপরে ভেঙ্গে পড়েছে, "আমরা তোমাদের যা দিয়েছি তা দৃঢ়ভাবে আকঁড়ে ধরো, আর তাতে যা রয়েছে তা স্মরণ রেখো, যাতে তোমরা ধর্মভীরুতা অবলন্বন করো"।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৩২

মূসা আলাইহিস সালামকে অঙ্গীকারনামা খোদিত শিলালিপি গুলো দেবার সময় সিনাই পাহাড়ের পাদদেশে যে ঘটনাটি ঘটেছিল সেদিকে এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে। বাইবেলে নিম্নোক্ত ভাষায় এ ঘটনাটি বর্ণনা দেয়া হয়েছেঃ

"পরে মূসা আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করিয়ে দেয়ার জন্য লোকদেরকে শিবির থেকে বাইরে আনলেন। আর তারা পর্বতের তলায় দাঁড়ালো। তখন সমস্ত সিনাই পর্বত ওপর থেকে নীচে পর্যন্ত ধোঁয়ায় পরিপূর্ণ হয়ে গেল। কারণ মহান আল্লাহ‌ অগ্নিশিখার মধ্য দিয়ে তার ওপর নেমে এলেন। আর ভাঁটির ধোঁয়ার মত ধোঁয়া ওপরে উঠছিল এবং গোটা পর্বত ভীষণভাবে কাঁপছিল।” (যাত্র পুস্তক ১৯: ১৭-১৮)

এভাবে আল্লাহ‌ কিতাবের বিধান মেনে চলার জন্য বনী ইসরাঈলীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নেন। এ অঙ্গীকার নিতে গিয়ে বাইরে তাদের জন্য একটি বিশেষ পরিবেশ সৃষ্টি করেন, যাতে আল্লাহর প্রতাপ-প্রতিপত্তি, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ব এবং এ অঙ্গীকারের গুরুত্ব তাদের মনে পুরোপুরি অনুভূত হয় এবং বিশ্বজাহানের সার্বভৌম ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিকারী শাহেনশাহের সাথে অঙ্গীকার ও চুক্তি সম্পাদন করাকে তারা যেন মামুলি ব্যাপার মনে করতে না পারে। এ থেকে এ ধারণা করা ঠিক হবে না যে, তারা আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করতে প্রস্তুত ছিল না, ভয় দেখিয়ে জোর জবরদস্তি করে তাদেরকে অঙ্গীকারাব্ধ হতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। আসল ব্যাপার হচ্ছে, তারা সবাই ছিল মু’মিন। সিনাই পাহাড়ের পাদদেশে তারা গিয়েছিল অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে। কিন্তু আল্লাহ‌ তাদের সাথে মামুলীভাবে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হবার পরিবর্তে এ অঙ্গীকারের অনুভূতি তাদের মনে ভালভাবে বদ্ধমূল করার চেষ্টা করেন। অঙ্গীকার করার সময় কোন মহাশক্তিধর সত্তার সাথে তারা অংগীকার করছে এবং তাঁর সাথে অঙ্গীকার ভঙ্গ করার পরিণাম কি হতে পারে, তা যেন তারা অনুভব করতে পারবে, এটাই ছিল আল্লাহর অভিপ্রায়।

এখানে এসে বনী ইসরাঈল জাতিকে সম্বোধনের পালা শেষ হয়ে যায়। পরবর্তী রুকূ'গুলোতে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে বক্তব্য পেশ করা হয়েছে। বিশেষ করে নবী ﷺ যাদেরকে সরাসরি ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলেন, তাদেরকে লক্ষ্য করে বক্তব্য রাখা হয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এ ঘটনাটি সূরা বাকারা (২ : ৬৩) ও সূরা নিসায় (৪ : ১৫৪) গত হয়েছে। সূরা বাকারায় যে আয়াতে এ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, তার টীকায় আমরা এর সারসংক্ষেপ উল্লেখ করেছি। সেখানে আমরা একথাও বলেছি যে, আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে আয়াতের তরজমা এ রকমও করা সম্ভব যে, আমি তাদের উপর পাহাড়কে এমন তীব্রভাবে দোলাতে থাকলাম, যদ্দরুণ তাদের মনে হচ্ছিল সেটি উৎপাটিত হয়ে তাদের উপর পতিত হবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৭১. আর স্মরণ করুন, যখন আমরা পর্বতকে তাদের উপরে উঠাই, আর তা ছিল যেন এক শামিয়ানা। তারা মনে করল যে, সেটা তাদের উপর পড়ে যাবে।(১) (বললাম,) আমরা যা দিলাম তা দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং তাতে যা আছে তা স্মরণ কর, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হও।

(১) অন্য আয়াতেও আল্লাহ তা’আলা সেটা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, “আর তাদের অঙ্গীকার গ্রহণের জন্য তুর পর্বতকে আমরা তাদের উপর উত্তোলন করেছিলাম।” (সূরা আন-নিসা ১৫৪) ঘটনাটি হচ্ছে এই যে, বনী-ইসরাঈলদেরকে যখন তাওরাত দেয়া হলো, তারা সেটা গ্রহণ করতে দ্বিধা করতে লাগল। তখন আল্লাহ্ তাআলা তুর পাহাড়কে সমূলে সামিয়ানার মত তাদের উপর তুলে ধরলেন এবং বললেন, যা দেয়া হয়েছে সেগুলোকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করার ঘোষণা দাও, নতুবা তোমাদের উপর ছেড়ে দেব। (তাবারী) কোন কোন বর্ণনায় এসেছে তখন তারা সিজদায় পতিত হয়। তবে তারা তাদের বাম চক্ষুর পার্শ্বে সিজদা করে অপর চক্ষু দিয়ে উপরের দিকে তাকাতে থাকে। এখনও প্রত্যেক ইয়াহুদী অনুরূপ সিজদা করে থাকে। (ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৭১) এবং আরো স্মরণ কর, আমি পর্বতকে তাদের ঊর্ধ্বে স্থাপন করি, আর তা ছিল যেন একখন্ড ছায়াদার মেঘ। তারা মনে করল যে, ঐটি তাদের উপর পড়ে যাবে। (বললাম,) আমি যা দিলাম তা দৃঢ়ভাবে ধারণ কর এবং ওতে যা আছে তা স্মরণ কর, যাতে তোমরা সাবধান হও। (1)

(1) এটি সেই সময়ের ঘটনা, যখন মূসা (আঃ) তাদের নিকট তাওরাত নিয়ে এলেন ও তার আদেশ-নিষেধ পড়ে শোনালেন, তখন তারা অভ্যাস মত তার উপর আমল করতে অস্বীকৃতি জানাল এবং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল। যার ফলে মহান আল্লাহ পাহাড়কে তাদের উপর তুলে ধরলেন যে, তোমাদেরকে পাহাড় চাপা দিয়ে শেষ করে দেওয়া হবে। যার ভয়ে তারা তাওরাতের উপর আমল করার অঙ্গীকার করল। কেউ কেউ বলেন, পাহাড় তাদের উপর তোলার ঘটনা তাদেরই দাবী অনুসারে ঘটেছিল। যখন তারা বলেছিল, আমরা তাওরাতের উপর তখনই আমল করব যখন মহান আল্লাহ আমাদের মাথার উপর পাহাড়কে তুলে দেখাবেন। তবে প্রথম কথাটিই বেশি সঠিক বলে মনে হয়। (আর আল্লাহই অধিক জানেন।) এখানে সাধারণ পাহাড় তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে, পাহাড়ের কোন নাম নেওয়া হয়নি। কিন্তু এর পূর্বে সূরা বাক্বারার ৬৩ ও ৯৩নং আয়াতে দুই জায়গায় এই ঘটনার উল্লেখ হয়েছে এবং সেখানে পরিষ্কারভাবে ত্বূর পাহাড়ের কথাই বলা হয়েছে।