وَٱلَّذِينَ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَا وَلِقَآءِ ٱلۡأٓخِرَةِ حَبِطَتۡ أَعۡمَٰلُهُمۡۚ هَلۡ يُجۡزَوۡنَ إِلَّا مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ

ওয়াল্লাযীনা কাযযাবূবিআ-য়া-তিনা-ওয়া লিকাইল আ-খিরতি হাবিতাতআ‘মালুহুম হাল ইউজঝাওনা ইল্লা-মা-ক-নূইয়া‘মালূন।উচ্চারণ

আমার নিদর্শনসমূহকে যারাই মিথ্যা বলছে এবং আখেরাতের সাক্ষাতের কথা অস্বীকার করেছে, তাদের সমস্ত কর্মকাণ্ড ব্যর্থ হয়ে গেছে। ১০৫ যেমন কর্ম তেমন ফল-এছাড়া লোকেরা কি আর কোন প্রতিদান পেতে পারে? তাফহীমুল কুরআন

যারা আমার নিদর্শনসমূহ ও আখিরাতের সম্মুখীন হওয়াকে অস্বীকার করেছে, তাদের কর্মসমূহ নিষ্ফল হয়ে গেছে। তাদেরকে তো কেবল তারা যা কিছু করত তারই বদলা দেওয়া হবে। #%৭৫%#মুফতী তাকী উসমানী

যারা আমার নিদর্শনসমূহ ও আখিরাতের সাক্ষাত মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তাদের সমূদয় ‘আমল বিনষ্ট হয়ে যায়, তারা যা করে তদনুযায়ী তাদেরকে প্রতিফল দেয়া হবে।মুজিবুর রহমান

বস্তুতঃ যারা মিথ্যা জেনেছে আমার আয়াতসমূকে এবং আখেরাতের সাক্ষাতকে, তাদের যাবতীয় কাজকর্ম ধ্বংস হয়ে গেছে। তেমন বদলাই সে পাবে যেমন আমল করত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যারা আমার নিদর্শন ও আখিরাতের সাক্ষাৎকে অস্বীকার করে তাদের কার্য নিষ্ফল হয়। তারা যা করে তদনুযায়ীই তাদেরকে প্রতিফল দেওয়া হবে।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যারা আমার আয়াতসমূহ ও আখিরাতের সাক্ষাতকে অস্বীকার করেছে তাদের কর্মসমূহ বিনষ্ট হয়ে গেছে। তারা যা করে তদনুযায়ী তাদের প্রতিদান দেয়া হবে।আল-বায়ান

যারা আমার নিদর্শনগুলোকে আর আখেরাতের সাক্ষাৎকে মিথ্যে জেনে অস্বীকার করে তাদের ‘আমালগুলো নিস্ফল। তারা যা করত সে অনুযায়ী প্রতিফল ছাড়া তারা কী আর আশা করতে পারে?তাইসিরুল

আর যারা মিথ্যারোপ করেছিল আমাদের নির্দেশাবলীতে ও পরকালের মুলাকাতের সন্বন্ধে, তাদের ক্রিয়াকলাপ বৃথা হয়েছে। তাদের কি প্রতিফল দেয়া হবে যা তারা করে যাচ্ছিল তার বিপরীতে?মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১০৫

ব্যর্থ হয়ে গেছে অর্থাৎ ফলদায়ক হয়নি এবং তা অলাভজনক ও অর্থহীন হয়ে পড়েছে। কারণ আল্লাহর দরবারে মানুষের সমস্ত প্রচেষ্টা ও কর্ম সফল হওয়া নির্ভর করে দু’টি বিষয়ের ওপর। এক, সেই প্রচেষ্টা ও কর্মটি অনুষ্ঠিত হতে হবে শরীয়তের আইনের আওতাধীনে। দুই, দুনিয়ার পরিবর্তে আখেরাতের সাফল্য হবে সেই প্রচেষ্টা ও কর্মের লক্ষ্য। এ শর্ত দু’টি পূর্ণ না হলে অনিবার্যভাবেই সমস্ত কৃতকর্ম পণ্ড বা বৃথা হয়ে যাবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর হেদায়াত গ্রহণ করে না বরং তা থেকে মুখ ফিরিয়ে বিদ্রোহাত্মক পদ্ধতিতে দুনিয়ায় কাজ করে, সে কোনক্রমেই আল্লাহর কাছে কোন প্রকার প্রতিদানের আশা করার অধিকার রাখে না। আর যে ব্যক্তি দুনিয়ার জন্যই সব কিছু করে এবং আখেরাতের জন্য কিছুই করে না, সোজা কথায় বলা যায়, আখেরাতে তার কোন সুফল লাভের আশা করা উচিত নয় এবং সেখানে তার কোন ধরনের সুফল লাভ করার কোন কারণও নেই। আমার মালিকানাধীন জমিকে কোন ব্যক্তি যদি আমার অনুমোদন ছাড়াই আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে থাকে তাহলে আমার পক্ষ থেকে শাস্তি পাওয়া ছাড়া সে আর কিসের প্রত্যাশা করতে পারে? আর সেই জমির ওপর অন্যায়ভাবে নিজের দখলী স্বত্ব বহাল রাখার সময় যদি এ সমস্ত কাজ সে নিজে এ উদ্দেশ্যেই করে থাকে যে, যত দিন আসল মালিক তার অন্যায় ধৃষ্টতাকে প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে ততদিন পর্যন্ত সে এ দ্বারা লাভবান হতে থাকবে এবং জমি পুনরায় মালিকের দখলে চলে যাওয়ার পর সে আর তা থেকে লাভবান হবার আশা করবে না বা লাভবান হতে চাইবে না। তাহলে এ ধরনের অবৈধ দখলদারের কাছ থেকে নিজের জমি ফেরত নেবার পর কি কারণে আমি আবার নিজের উৎপন্ন ফসলের কিছু অংশ অনর্থক তাকে দিতে থাকবো?

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

উপরে যে বলা হয়েছে, ‘পৃথিবীতে যারা অন্যায়ভাবে অহংকার প্রকাশ করে, তাদেরকে আমি আমার নিদর্শনাবলী হতে বিমুখ করে রাখব’, এর দ্বারা কারও মনে এই খটকা জাগতে পারত যে, আল্লাহ তাআলা নিজেই যখন তাদেরকে নিজের নিদর্শনসমূহ হতে ফিরিয়ে রেখেছেন, তখন তাদের কী অপরাধ? এই খটকার নিরসন করা হয়েছে এই বাক্য দ্বারা। বলা হচ্ছে যে, কেউ যখন নিজ ইচ্ছাক্রমে কুফরকেই ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়, তখন আমি সেই পথই তার জন্য স্থির করে দেই, যা সে স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে নিয়েছে। সে যেহেতু আমার নিদর্শনসমূহ থেকে ফিরে থাকতেই চাচ্ছিল, তাই আমি তাকে তার ইচ্ছার বিপরীতে অন্য কিছু করতে বাধ্য করি না। বরং তাকে তার ইচ্ছানুসারে বিমুখ করেই রাখি। সুতরাং সে যে শাস্তি ভোগ করে, তা তার নিজ কর্মেরই কারণে ভোগ করে, যা সে স্বেচ্ছায় ক্রমাগত করে যাচ্ছিল।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৪৭. আর যারা আমাদের নিদর্শন ও আখেরাতের সাক্ষাতে মিথ্যারোপ করেছে তাদের কাজকর্ম বিফল হয়ে গেছে। তারা যা করে সে অনুযায়ীই তাদেরকে প্রতিফল দেয়া হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৪৭) যারা আমার নিদর্শনসমূহ ও পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা বলে, তাদের কার্য নিষ্ফল হবে। তারা যা করবে সেই অনুযায়ীই তাদেরকে প্রতিফল দেওয়া হবে।(1)

(1) এই আয়াতে যারা আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা ভাবে ও পরকালকে অবিশ্বাস করে তাদের পরিণাম ব্যক্ত করা হয়েছে। যেহেতু তাদের কর্মের বুনিয়াদ ন্যায় ও হক নয় বরং অন্যায় ও বাতিলের উপর, সেই জন্য তাদের (কর্ম আপাতদৃষ্টিতে ভালো হলেও) আমলনামায় কেবল পাপই লিখিত হবে; যার কোন মূল্যই মহান আল্লাহর নিকট নেই। পরন্তু তাদের অন্যায়ের প্রতিফল সেখানে অবশ্যই দেওয়া হবে।